নওগাঁর শৈলগাছীতে দিনদুপুরে ছিনতাই: পাঠক্ষেত থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ১ ছিনতাইকারি আটক - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নওগাঁর শৈলগাছীতে দিনদুপুরে ছিনতাই: পাঠক্ষেত থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ১ ছিনতাইকারি আটক

নওগাঁর শৈলগাছীতে দিনদুপুরে ছিনতাই: পাঠক্ষেত থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ১ ছিনতাইকারি আটক

নওগাঁর শৈলগাছীতে দিনদুপুরে ছিনতাই: পাঠক্ষেত থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ১ ছিনতাইকারি আটক

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ সদর শৈলগাছী ইউনিয়নের পিন্টুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় এক বিকাশ কর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনতা ও পুলিশের তৎপরতায় ধাওয়া দিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত এক ছিনতাইকারী সন্ত্রাসী কে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাশ কোম্পানির এক প্রতিনিধি ব্যবসায়িক কাজে পিন্টুর মোড় থেকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকাশ কোম্পানির প্রতিনিধির মাথায় চাকু দিয়ে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

 

ছিনতাইয়ের পর অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী ও আশপাশের লোকজনের চিৎকারে স্থানীয় জনগণ এগিয়ে আসেন। এলাকাবাসী চারপাশ ঘিরে ফেললে ছিনতাইকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাস্তার পাশে একটি পাটক্ষেত তল্লাশি করে স্থানীয় এলাকাবাসী এক আসামীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে এই সন্ত্রাসী ছিনতাইকারী চক্রের বাকি সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীদের সহায়তায় আটককৃত আসামীকে পুলিশ হেফাজতে দেয়।

 

আহত বিকাশ কর্মীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া বাকি জড়িত আসামিদেরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলমান আছে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং- ০৫-৮-২০২৬


গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে গাইবান্ধা শহরের পৌর পার্কে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক ,পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন। এরপর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইনডোর স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতাপাঠ করা হয়।

 

এতে উপস্থিত ছিলেন, সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম সাকাসহ জেলার সাত উপজেলার শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাগন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

 

আলোচনা সভায় ৫ আগষ্টের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দ্রুত জুলাই সনদ ও গনভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার প্রতি আহবান জানান।

 

আলোচনা শেষে জেলার ৬ জন শহীদ পরিবারের ও ২৪৬ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মননা স্মারক প্রদান ও তাদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়াও দিবসটি পালন ঘিরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঅঙ্কন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। উভয়ের পালটাপালটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

 

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন তবে, মারাত্মক নয়। দেড়ঘণ্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির

জনগণের ম্যান্ডেট সরকার গঠন করেছে। মোঃ আল আমিন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

 

লেখক মোঃ আল আমিন প্রচার সম্পাদক সাভার সরকারি কলেজ ছাত্রদল।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গঠনমূলকভাবে কাজ করা আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

 

ছাত্রদল বিশ্বাস করে—শিক্ষাঙ্গন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্ব বিকাশ, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাই ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সকল ছাত্রসংগঠনের সম্মিলিত দায়িত্ব। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা কিংবা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

কিন্তু একটি সংগঠন বারবার দাবি করে যে, তারা কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নয় এবং কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী হিসেবেও কাজ করে না। তাদের এই দাবিকে সম্মান জানিয়েই একটি যৌক্তিক প্রশ্ন সামনে আসে—যদি তারা সত্যিই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়, তাহলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি, সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরির অভিযোগ কেন বারবার উঠছে? এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কার স্বার্থ এবং কোন উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা কাজ করছে?

 

রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা অথবা ক্যাম্পাসকে সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত করা কখনোই সুস্থ ছাত্ররাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আবাসন ও পরিবহন সংকট সমাধান, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।

 

ক্যাম্পাসে রাজনীতি থাকবে, মতের ভিন্নতা থাকবে, বিতর্ক থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু সেই রাজনীতি হতে হবে যুক্তিনির্ভর, সহনশীল, শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব। কোনো সংগঠন যদি নিজেদের অরাজনৈতিক বা নির্দলীয় বলে দাবি করে, তাহলে তাদের কার্যক্রম, অবস্থান ও উদ্দেশ্যও হওয়া উচিত স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক। দাবি ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হবে।

 

আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাঙ্গন কোনো গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মঞ্চ নয়। ক্যাম্পাস হবে শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র। এখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু ভিন্নমতের প্রতি সম্মানও থাকতে হবে। মতের প্রতিযোগিতা হবে যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে—সংঘাত, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নয়।

 

শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, শিক্ষাঙ্গনের শান্তি এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির স্বার্থে সব রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের উচিত দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, সহনশীল এবং জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করা। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

প্রশ্ন একটাই—যদি কোনো রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিক সম্পর্ক না-ই থাকে, তাহলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগের পেছনে কার স্বার্থ এবং কোন এজেন্ডা কাজ করছে?

 

শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি নয়, সত্য ও স্বচ্ছতা চায়। তারা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। তারা অস্থিতিশীলতা নয়, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চায়। তাই সময়ের দাবি হলো—দাবি ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাঙ্গনের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির  জনগণের ম্যান্ডেট সরকার গঠন করেছে।

মানিকগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।

 

 

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জের জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

 

 

এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামির রশিদ খান, পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান সিরাজ, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, এলজিইডির কর্মকর্তা, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬-এর তাৎপর্য তুলে ধরে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান এবং একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মানিকগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে একদিনে ভারত থেকে ৪৬৭ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৯টি ট্রাকে এসব মরিচ দেশে আসে।

 

ভোমরা কাস্টমস স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে ৩৯ ট্রাকে ৪৬৭ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব কাঁচামরিচ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হবে।

 

এর আগে সোমবার ভোমরা বন্দর দিয়ে ৯১ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। ফলে দুই দিনে এ বন্দর দিয়ে মোট ৫৫৮ মেট্রিক টন ভারতীয় কাঁচামরিচ এসেছে।

 

এদিকে আমদানি শুরুর পর দেশের বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। দেশি মরিচের দাম ৩০০-৩৫০ টাকা থেকে কমে এখন ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছে। আর ভারতীয় কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে।

 

 

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ঢুকলো আরও ৪৬৭ টন কাঁচামরিচ

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ (স্বাধীনতা) প্রকল্পের আওতায় একটি হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট, ২০২৬) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বার্গারগঞ্জ রেস্টুরেন্টে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

​ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ঢাকা বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’।

​অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের আইটি ও কমিউনিকেশন অফিসার এবং স্বাধীনতা প্রকল্পের ফোকাল মো. নুরে আলম। ফ্যাসিলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য জেসিকা শেখ জেবা ওলতিফা আক্তার পুতুল।

 

​অরিয়েন্টেশনে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভুল তথ্য (Misinformation), অপতথ্য (Disinformation) ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় করণীয়, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ফ্যাক্ট-চেকিং কৌশল, ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ​এতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৩০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান শিকদার জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রসারের লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

অংশগ্রহণকারী জহিরুল ইসলাম তুষার বলেন,”

অরিয়েন্টেশনে আমরা তরুণরা ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি এবং ভবিষ্যতেও প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি।”

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারীতে নানা আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস পালন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

০৫/আগস্ট/২০২৬ইং

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে নীলফামারীতে ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জুলাই শহীদদের শ্রদ্ধায় পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নীলফামারী শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামানের সভাপতিিত্বে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ। সভায় জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথিগণ। এর আগে সকালে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শহীদদের শ্রদ্ধায় পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সরকারি বিভিন্ন দফতর, রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে। এছাড়া বিকেলে ৩৬ জুলাই চত্বরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারীতে নানা আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস পালন 

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে

যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।। কুয়ালালামপুরে ৫ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ হাইকমিশন,

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত “জুলাইয়ের চিঠি এবং ছাদ আকাশের গল্প” শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুটি প্রদর্শন করা হয়।

 

পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ -এর তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার জনাব মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণঅভ্যুত্থানে আহত সহ সকল অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’কে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন ।তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেন। হাইকমিশনার গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন ।

 

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যথাক্রমে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট; জনাব তালহা মাহমুদ, সহ সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট , মো: জসিম উদ্দিন, সভাপতি,যুবদল,মালয়েশিয়া ইউনিট, এস এম রহমান তনু, সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দল, মালয়েশিয়া ইউনিট, শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম,আহবায়ক, জাসাস,মালয়েশিয়া ইউনিট,মো: ইউসুফ আলী, কো-অর্ডিনেটর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম, জনাব ফয়সাল শেখ, সিনিয়র সহ সভাপতি, গণ অধিকার পরিষদ, জনাব আলম মো: রওশন, সদস্য সচিব, এনসিপি ডায়াসপোরা আলায়েন্স, জনাব আমিনুল ইসলাম রতন, প্রবাসী সাংবাদিক, সাইদুর রহমান ফরাজী, প্রধান নির্বাহী, সিবিএল মানি ট্রান্সফার এবং শিক্ষার্থী জার্জিস আলম ও আদিবা আহমেদ।

 

আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক,রিক্সাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী,গৃহবধু,নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকগণ বাংলাদেশর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহবান জানান।

 

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়র দুইজন ছাত্র সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় ।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

০৫/আগস্ট/২৬ইংঃ ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬ টা থেকে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান মঙ্গলবার রাত থেকে বিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এরপর সকাল ৬ টা থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। হঠাৎ করে তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী নীলফামারির ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। নিম্নঅঞ্চল ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে বানের পানি। হলে এসব গ্রামের মানুষজনের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তার পানি সকাল থেকে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ব্যারেজের সবকটি

জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ।

মোঃ শাওন মিয়া ( পীরগঞ্জ, রংপুর)

 

রংপুরের পীরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. নুরুল আমীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মাহামুদুন নবী পলাশ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দেশ গঠনে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের

রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে গাইবান্ধা শহরের পৌর পার্কে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক ,পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন। এরপর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইনডোর স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতাপাঠ করা হয়।

 

এতে উপস্থিত ছিলেন, সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম সাকাসহ জেলার সাত উপজেলার শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাগন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

 

আলোচনা সভায় ৫ আগষ্টের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দ্রুত জুলাই সনদ ও গনভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার প্রতি আহবান জানান।

 

আলোচনা শেষে জেলার ৬ জন শহীদ পরিবারের ও ২৪৬ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মননা স্মারক প্রদান ও তাদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়াও দিবসটি পালন ঘিরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঅঙ্কন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন।

(more…)

সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। উভয়ের পালটাপালটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

 

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন তবে, মারাত্মক নয়। দেড়ঘণ্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৫

সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন। প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব, আমিও নামব।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লিখেন।

 

পোস্টে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই- এই দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল এবং সেই যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার রুদ্ররোষে তাদের সমূলে উৎখাত হতে হয়েছে। একবার নয়, অন্তত দু’বার। কেন হয় এমন?’

 

আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের খুঁজে বের করা দরকার। কিন্তু আমার ধারণা এটি তারা করবে না। এই দলটির ডিএনএ-র মধ্যে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার কোনো স্থান নেই।

তারা ৩২ নম্বরকে ভাবে বাংলাদেশ, শেখ পরিবারকে ভাবে বাংলাদেশের মালিক, আর মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার লাইসেন্স। এই মানসিকতাই তাদের জুলুম ও দমন-পীড়ন চালানোর সীমাহীন দুঃসাহস জুগিয়েছে।’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাদেরও ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এমন সীমাহীন অনাচার করার আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং স্পর্ধা অন্য কোনো দলের মধ্যে আমি দেখিনি।’

 

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী উৎফুল্ল হচ্ছেন। হোন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রাখবেন আওয়ামী লীগ ফিরবে না তাতে। বরং হাজারো মানুষকে হত্যার এবং আরও বহুগুণ মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার বিচার না হলে, প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব। আমিও নামব।’

 

পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল যোগ করেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মৃত্যুভয়কে জয় করেই বেঁচে আছি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন, সেদিন চলে যাব। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না। জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের নাম। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন।’

প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব, আমিও নামব: আসিফ নজরুল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘তারা বলে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি। দেশে আসুক। ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।’

 

বুধবার (০৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে দলটির অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচারণার জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা তো আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, অর্থ পাচার, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—কোনো কিছু নিয়েই তাদের লজ্জাবোধ নেই। আবার বলে, ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুক, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি যুদ্ধ করব।’

 

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

 

গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭১ সালের জনযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। একইভাবে জুলাইয়ের এই আন্দোলনও ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন গণতন্ত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ন থাকবে।’

 

তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

 

এদিকে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। সংশ্লিষ্টরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকা অনভিপ্রেত।

 

তিনি বলেন, ‘বিদেশিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে এ ধরনের ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে “ভুয়া, ভুয়া” বলে চিৎকার করা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য শুভ নয়।’

ডিসেম্বরে তারা দেশে এলে ‘রাজপথে দেখা হবে’ ইনশাআল্লাহ: রাষ্ট্রপতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি।

 

এদেরই পূর্বসূরিগণ ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

এইসব ইতিহাস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষন করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগষ্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান ও সংরক্ষিত থাকবে।

 

তিনি বলেন, যাঁরা এই জাদুঘরে নিজেদের ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র, শিল্পকর্ম জাদুঘরের জন্য প্রদান করেছেন, তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

 

সরকার প্রধান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।

 

একইসঙ্গে জাদুঘরে রাখা বিষয়াবলী সম্পর্কে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায়ও উপস্থাপিত হলে বিশ্বের ভিন্নভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন পর্যায়ক্রমে অবশই প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয় আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবংহ বিশ্বাসযোগ্য। সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।

 

তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থান কোনো একক ব্যক্তি গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়… এই অভ্যূত্থানের মহা নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

 

আমি প্রায়শঃই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ সালের গণ অভ্যূত্থান ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভোলেনি একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরকেও জনগণ ভুলবেনা।

 

সরকার প্রধান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে যথানিয়মে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়ায়সহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

 

বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার আন্তরিক।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহিদদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

একইসঙ্গে গণভোটের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।

 

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরী করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পরিস্থিতিতে তৈরী করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কিনা সেটি ভেবে দেখার আহবান জানান সরকার প্রধান।

বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d