পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

 

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

 

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্যনিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

 

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।


থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানের পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান–এর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

 

সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তৃষা লেখেন, “ভালোবাসা সবসময় সোচ্চার”—সেই সঙ্গে নিজের কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে ফের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

 

গত ১০ মে চেন্নাইয়ে শপথ অনুষ্ঠানে থালাপতির সঙ্গে তার মায়ের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে বিজয়ের প্রথম ভাষণের সময় তৃষাকে আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। অনুষ্ঠানে থালাপতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই থালাপতি বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। ২০০৪ সালের ‘ঘিল্লি’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘লিও’ পর্যন্ত একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন।

 

২০২৪ সালে থালাপতির জন্মদিনে তৃষার একটি পোস্টও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে তিনি তাকে “সবচেয়ে ভালো মানুষ” বলে উল্লেখ করেছিলেন।

 

এদিকে থালাপতি বিজয় ও তার স্ত্রী সঙ্গীতা সর্ণালিঙ্গমের মধ্যে বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতিও এ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

থালাপতির শপথের পর অভিনেত্রী তৃষার রহস্যময় বার্তা

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করতে সিদ্ধান্ত হয়।

 

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

 

তিনি বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।

 

এর আগে একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে বিএসএফকে জমি না দেয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

গেল শনিবার শপথগ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের বৈঠক ঘিরে রোববার থেকেই বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নবান্ন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সবরকম নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

 

এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল ঝাড়খন্ড থেকে। ঘাতকদের সন্ধানে এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের একটি দল।

 

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ

ব্যারাকপুরে নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন পরিচালক ও সাবেক বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি জানিয়ে দেন, এবার তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না।

 

৪ এপ্রিলের ভোটের ফলে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আসে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে লড়াই করেও এবার জয় পাননি রাজ। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

 

২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও পরিচালনা করেছিলেন রাজ।

 

হারার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, জীবনে তিনি যেমন সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তেমনি বিধায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে জানান তিনি।

 

নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।

 

ভোটের দিন ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্লোগান ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

 

পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও আলোচনায় আসে। যেখানে তিনি স্বামীকে জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং মনোবল ভেঙে না পড়ার বার্তা দেন।

নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টের।

 

বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি একটি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই তেলের দাম কমতে শুরু করে। বুধবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নেমে আসে।

 

তবে, ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি গ্রহণ না করলে আরও বেশি মাত্রার বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর থেকে আবারও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

 

এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিলো।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজ বাড়ির সামনে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার (৬ মে) এই ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ি এবং কার্তুজ উদ্ধার হলেও নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে পুলিশ।

 

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এর সূত্র অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চন্দ্রনাথ রথ যখন মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন আততায়ীরা তার গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে চন্দ্রনাথের পাশাপাশি তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হন।

 

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি পেটে লাগে। অন্যদিকে, চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নব-নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং এবং বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন।

 

তাদের দাবি, বিজেপিকে ভয় দেখাতেই এই ‘টার্গেট কিলিং’ করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

গাড়ির ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে শুভেন্দু অধিকারীর পিএকে গুলি

 

হাম সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি ইউনূস সরকার। সম্প্রতি একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া।

 

প্রশ্ন: প্রতিবছর ইউনিসেফ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশুকে টিকা দিতে সহায়তা করে, যাতে তারা সুস্থভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও ইউনিসেফ প্রতিবছর লাখো শিশুর জন্য এই কাজ করছে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সহায়তা করছে। বাংলাদেশে গণটিকাদানের এই সাফল্য কতটা?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: ১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ তাদের কাজের কেন্দ্রে টিকাদানকে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি শিশু সে যেখানেই থাকুক, যেন জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে ব্যাপক কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকে একত্র করে। বাংলাদেশে এই অংশীদারত্ব বড় বড় সাফল্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং ধারাবাহিকভাবে টিকাদানের উচ্চ হার। ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে ইউনিসেফ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং এইচপিভি ও টিসিভি টিকার মতো নতুন টিকা চালু করতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ) কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদান যুক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, তথ্যভিত্তিক কৌশল, কমিউনিটির আস্থা, ইউনিসেফসহ অংশীদারদের সমন্বিত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ গণটিকাদান দ্রুত সম্প্রসারণ করে প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে পেরেছে।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর পেছনে সময়মতো হামের টিকাদানের ব্যর্থতার প্রশ্নটি আসছে বারবারই। সম্প্রতি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকার দেশে টিকা আনতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং তারা টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিও পরিবর্তন করেছিল।’ তাহলে কি অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই টিকাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এনেছিল?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: বিশ্বব্যাপী টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ শতাধিক দেশে প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়ে আসছে, যার ফলে সময়মতো, সাশ্রয়ী এবং সমতাভিত্তিকভাবে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। দুঃখজনকভাবে, এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে, যাতে তীব্র সংকট মোকাবিলা করা যায়। এর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় রাখা সম্ভব হয়।

 

তবে কিছু টিকার ক্ষেত্রে এর আগেই মজুত শেষ হয়ে যায় এবং কিছু টিকার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।

 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হামের সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

 

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

 

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্যনিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

 

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার দায়ে ৪ ছাত্রের সিট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক বহিরাগতসহ ৫ জনকে পুলিশে সোপর্দ করার পর ইতোমধ্যে ১৫ দিন কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন তারা। এর মধ্যে দুইজন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পদধারী নেতা।

 

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এর মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বহিরাগত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল রাতে মেডিকেল কলেজটির মসজিদের গলি থেকে ৩৫ ব্যাচের ছাত্র শাহরিয়ার পলক উলঙ্গ অবস্থায় এক বহিরাগতের সঙ্গে আটক হন। তাকে জেরা করা অবস্থায় তিনি ক্যাম্পাসে থাকা আরো কিছু সমকামীর পরিচয় প্রকাশ করেন। এর মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই দিন (২৩ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

২৩ এপ্রিল হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র সমকামীতায় আসক্ত শিক্ষার্থীদের কাফরুল থানা পুলিশের নিকট সপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে দুপুরে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধন্ত মোতাবেক তাদের ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ সাময়িক ভাবে বাতিল করা হলো।

 

একজন শিক্ষক জানান, ওই চার শিক্ষার্থীকে জেরা করলে তাদের মোবাইল থেকে ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসে। মূলত তারা সমকামী নেতা এবং পুরুষ সমকামী (গে) কমিউনিটির প্রধান। প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

 

এ ছাড়া ওই চার শিক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরও সমকামিতায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, আটকের পর আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ যৌনচর্চায় ব্যাবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এমনকি হোস্টেলের ছাত্রদের খালি গায়ে থাকা অবস্থায় ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করারও প্রমাণ মিলেছে।

 

এদিকে এ ঘটনায় আটক একজন শিক্ষার্থী এইডস আক্রান্ত বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ওই শিক্ষার্থী এমন কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে আসেন। এ ছাড়া তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে আসে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমকামিতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আটক ও সিট বাতিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান।

 

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতোমধ্যে তাদের কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করেছি। তবে তাদের ছাত্রত্ব থাকবে।

হোস্টেলে সমকামিতা: দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল সাপোর্টারদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখর আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ

 

প্রতিবেদনে: ওমর ফারুক

 

খেলাধুলা মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। সেই ধারাবাহিকতায় আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জমজমাট ও প্রাণবন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টে অংশ নেয় আর্জেন্টিনা সাপোর্টার দল ও ব্রাজিল সাপোর্টার দল।

 

কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রিয় দুই ফুটবল পরাশক্তির সমর্থকদের অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, উল্লাস ও আনন্দ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

উক্ত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুমন কুমার বিশ্বাস এবং বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ শাখার সভাপতি শেখ শামসাদ হোসেন আবিদ।

 

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এমন আয়োজন তরুণদের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে এবং মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়রা দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য।

 

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সবশেষে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল সাপোর্টারদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখর আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ

জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদ।

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘সেবাই পরমানন্দ’—এই নীতিকে সামনে রেখে পরিষদের বর্তমান কার্যক্রমে এসেছে ব্যাপক গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশান সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ এখন অনেক দ্রুত ও ভোগান্তিহীনভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা যাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে পরিষদের প্রতিটি শাখা এখন অনেক বেশি সজাগ। দ্রুত সেবা প্রদান: ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে অনলাইন সেবা নিশ্চিত করা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: প্রতিটি নাগরিক যাতে সঠিক নিয়ম মেনে সেবা পায়, তা তদারকি করা।

উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড: রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা।

সামাজিক নিরাপত্তা: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সরকারি অনুদান প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।

“আমরা সাভার সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সাধারণ গ্রাহকরা সেবায় সন্তুষ্টি জানিয়ে বলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, আগের তুলনায় বর্তমানে পরিষদের পরিবেশ অনেক বেশি জনবান্ধব। দাপ্তরিক কাজের জন্য এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় না।

 

সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যালয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হতে নিজেদের প্রতিনিয়ত নিয়োজিত রাখছে। আগামী দিনে এই সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেন,, ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা খুশদিল আলম সাগর।

জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদ।

🌧️ খুলনার আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ, সন্ধ্যা নামতেই শুরু ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি

 

📅 বুধবার | ১৩ মে ২০২৬

✍️ প্রতিবেদনে: ওমর ফারুক

 

খুলনার আকাশে বুধবার বিকেল থেকেই দেখা যায় হঠাৎ ঘন কালো মেঘের আনাগোনা। দিনের শেষ ভাগে রোদের তীব্রতা কমে এসে পুরো আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে।

 

বৃষ্টির সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া। হঠাৎ এমন আবহাওয়ার পরিবর্তনে নগরজীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। অফিসফেরত মানুষ ও পথচারীরা পড়েন বিপাকে। অনেককে রাস্তার পাশে দোকান কিংবা ভবনের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

 

স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর এমন বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এলেও ঝড়ো হাওয়ায় আতঙ্কও ছড়ায় অনেকের মধ্যে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় রাস্তায় থাকা মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো খুলনাতেও এমন বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খুলনার আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ, সন্ধ্যা নামতেই শুরু ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের মূল্য গত বছরের তুলনায় দুই টাকা বাড়িয়ে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

 

এছাড়া ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

 

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ দাম জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছানো হবে। এজন্য ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় এই লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদরাসায় চামড়া সংরক্ষণ হবে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

 

গরুর পাশাপাশি খাসি ও বকরির চামড়ার দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, আগামী কোরবানি ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার লোকদের ডেকে এনে প্রশিক্ষণ দেবেন। তারা কোরবানির পরে চামড়া সংরক্ষণ করবেন।

কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলো সরকার

দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী ২-৩ দিনে আরও বাড়তে পারে।

 

বুধবার (১৩ মে) আবহাওয়া অধিদফতরের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস তথ্যে এটি জানানো হয়েছে।

 

এ তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা কুশিয়ারার পানি আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ২৪ ঘন্টায় নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তা ৩ দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

 

তথ্যে আরও বলা হয়েছে, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদী সমূহের পানি সমতলে আগামী ২ দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতলে আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

এদিকে, পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ঢুকছে গাজীর ভিটা ও ভূবন কূড়া এলাকায়। ভোড়াঘাট নদীর পানিতে তলিয়েছে আশপাশের লোকালয় ও কৃষিজমি। ভেঙে গেছে দুই ইউনিয়নের কাচা দুটি সড়ক। পানি প্রবেশ বন্ধ না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

 

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

শ্রীপুরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ

 

মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা)

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাগুরার শ্রীপুরে দুই দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় ‘পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে এই আয়োজন করা হয়।

 

‘বসতবাড়িতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন কৌশল’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে কৃষকদের নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

 

দ্বিতীয় দিনের সমাপনী ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,খামারবাড়ির উপপরিচালক জনাব মো: তাজুল ইসলাম।

 

এছাড়াও বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক, (পিপি) জনাব মো: আজম উদ্দীন, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর ও তার দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি ও উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে থেকে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহনকারি কৃষকবৃন্দ।

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শ্রীপুর, মাগুরার আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষক প্রশিক্ষণ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ ও ১৩ মে ২০২৬ তারিখে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান স্থাপনের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

 

উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃষকরা এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি সহায়তায় চারা গ্রহণ করেন।

মুজাহিদ

শ্রীপুর প্রতিনিধি

শ্রীপুরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ব্রাজিল। এই মধ্যে প্রাথমিক দলও ঘোষণা করেছে দলটির কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন নেইমার। দীর্ঘ চোটের পর মাঠে ফিরলেও তার ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দল নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নাম বা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়—ফিটনেস ও ফর্মের ভিত্তিতেই গড়া হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াড।

 

আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ব্রাজিল। এর আগে ফিফার কাছে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা পাঠানো হয়েছে, যেখানে নেইমারের নামও রয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে হলে তাকে শতভাগ ফিট ও ম্যাচ ফিটনেসে থাকতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমার নিঃসন্দেহে অসাধারণ প্রতিভা এবং ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে চোট ও শারীরিক অবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার উন্নতি করেছে এবং নিয়মিত খেলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।

 

ব্রাজিল কোচ আরও জানান, নেইমার শুধু সমর্থকদের কাছেই নয়, ড্রেসিংরুমেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড়। তবে দল গঠনের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, প্রয়োজন হবে বাস্তব মূল্যায়ন। খেলোয়াড়দের মতামত স্বাভাবিক বিষয় হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচ হিসেবেই তিনি নেবেন।

 

তিনি বলেন, দলের ভেতরের পরিবেশ ইতিবাচক এবং কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। খেলোয়াড় হিসেবে কার পারফরম্যান্স কেমন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

নেইমারের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, শেষ কয়েকটি ম্যাচে নেইমারের ফিটনেস ও গতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে প্রতিটি ম্যাচ ও পরিস্থিতি আলাদা, তাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

 

সবশেষে ব্রাজিল কোচ জানান, নেইমারকে দলে রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্তে কোনো চাপ নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে পেশাদার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, নিখুঁত দল গঠন করা সম্ভব নয়, তবে লক্ষ্য থাকবে এমন একটি স্কোয়াড তৈরি করা যেখানে ভুলের পরিমাণ সর্বনিম্ন থাকে।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কঠোর অবস্থানে আনচেলত্তি, চাপে নেইমার!

হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করছি, যারা ভ্যাকসিন পায়নি বা টার্গেটেড এরিয়ার বাইরে যেসব শিশুরা আছে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাতে একটা বাচ্চাও হাম টিকা থেকে বাদ না পড়ে।

 

তিনি জানান, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ধীরে ধীরে সংক্রমন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত দুই সরকার টিকা সংগ্রহ, টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। সরকার এখন হাম নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্তের পর যাদের গাফিলতির প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পোলিও ভ্যাকসিনও দেওয়া শুরু করবো। এটাতেও কোনো অসুবিধা হবেনা। আগামী জুন মাসের মধ্যে আমরা ভিটামিন ‘এ’ সম্পূর্ণ পেয়ে যাবো এবং বছরে দুইবার করে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়ার কার্যক্রমও আমরা চালিয়ে যাবো।

হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d