বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করতে সিদ্ধান্ত হয়।

 

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

 

তিনি বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।

 

এর আগে একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে বিএসএফকে জমি না দেয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

গেল শনিবার শপথগ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের বৈঠক ঘিরে রোববার থেকেই বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নবান্ন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সবরকম নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

 

এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল ঝাড়খন্ড থেকে। ঘাতকদের সন্ধানে এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের একটি দল।

 


ব্যারাকপুরে নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন পরিচালক ও সাবেক বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি জানিয়ে দেন, এবার তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না।

 

৪ এপ্রিলের ভোটের ফলে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আসে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে লড়াই করেও এবার জয় পাননি রাজ। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

 

২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও পরিচালনা করেছিলেন রাজ।

 

হারার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, জীবনে তিনি যেমন সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তেমনি বিধায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে জানান তিনি।

 

নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।

 

ভোটের দিন ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্লোগান ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

 

পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও আলোচনায় আসে। যেখানে তিনি স্বামীকে জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং মনোবল ভেঙে না পড়ার বার্তা দেন।

নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টের।

 

বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি একটি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই তেলের দাম কমতে শুরু করে। বুধবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নেমে আসে।

 

তবে, ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি গ্রহণ না করলে আরও বেশি মাত্রার বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর থেকে আবারও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

 

এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিলো।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজ বাড়ির সামনে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার (৬ মে) এই ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ি এবং কার্তুজ উদ্ধার হলেও নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে পুলিশ।

 

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এর সূত্র অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চন্দ্রনাথ রথ যখন মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন আততায়ীরা তার গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে চন্দ্রনাথের পাশাপাশি তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হন।

 

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি পেটে লাগে। অন্যদিকে, চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নব-নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং এবং বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন।

 

তাদের দাবি, বিজেপিকে ভয় দেখাতেই এই ‘টার্গেট কিলিং’ করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

গাড়ির ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে শুভেন্দু অধিকারীর পিএকে গুলি

 

হাম সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি ইউনূস সরকার। সম্প্রতি একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া।

 

প্রশ্ন: প্রতিবছর ইউনিসেফ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশুকে টিকা দিতে সহায়তা করে, যাতে তারা সুস্থভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও ইউনিসেফ প্রতিবছর লাখো শিশুর জন্য এই কাজ করছে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সহায়তা করছে। বাংলাদেশে গণটিকাদানের এই সাফল্য কতটা?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: ১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ তাদের কাজের কেন্দ্রে টিকাদানকে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি শিশু সে যেখানেই থাকুক, যেন জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে ব্যাপক কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকে একত্র করে। বাংলাদেশে এই অংশীদারত্ব বড় বড় সাফল্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং ধারাবাহিকভাবে টিকাদানের উচ্চ হার। ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে ইউনিসেফ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং এইচপিভি ও টিসিভি টিকার মতো নতুন টিকা চালু করতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ) কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদান যুক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, তথ্যভিত্তিক কৌশল, কমিউনিটির আস্থা, ইউনিসেফসহ অংশীদারদের সমন্বিত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ গণটিকাদান দ্রুত সম্প্রসারণ করে প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে পেরেছে।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর পেছনে সময়মতো হামের টিকাদানের ব্যর্থতার প্রশ্নটি আসছে বারবারই। সম্প্রতি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকার দেশে টিকা আনতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং তারা টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিও পরিবর্তন করেছিল।’ তাহলে কি অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই টিকাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এনেছিল?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: বিশ্বব্যাপী টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ শতাধিক দেশে প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়ে আসছে, যার ফলে সময়মতো, সাশ্রয়ী এবং সমতাভিত্তিকভাবে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। দুঃখজনকভাবে, এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে, যাতে তীব্র সংকট মোকাবিলা করা যায়। এর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় রাখা সম্ভব হয়।

 

তবে কিছু টিকার ক্ষেত্রে এর আগেই মজুত শেষ হয়ে যায় এবং কিছু টিকার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।

 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হামের সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

 

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। শুরুতে ‘বিষাক্ত তরমুজ’ খেয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুক্রবার (১ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই রহস্যজনক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।গত শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ দোখাডিয়া (৪৫) তার পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে মাটন পোলাওয়ের মাধ্যমে নৈশভোজ সম্পন্ন করেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয় আবদুল্লাহ, তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব (১৩) ও আয়েশার (১৬)।

 

মৃতদেহগুলোর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছেন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় যা দেখা যায় না, এখানে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু ঘটেছে। দেখা গেছে, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে।

 

তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। অত্যন্ত শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে এলো, তা নিয়ে গোয়েন্দারা ধন্দে আছেন। এটি কি কোনো চিকিৎসার অংশ ছিল, নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার বা পরিকল্পিত হত্যার ছক সবগুলো দিক খতিয়ে দেখছে পুরাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো পাওয়া যায়নি। ওই রাতে মাটন পোলাও খেলেও তারা সুস্থ ছিলেন।

 

মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

 

পুলিশ পরিবারের মানসিক অবস্থা, কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের প্রয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

 

ইতোমধ্যেই পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মুম্বাইয়ের এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও কৌতূহল—উভয়ই বিরাজ করছে।

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন, ভিডিও কলে পরিবারকে দেখানো হয় মরদেহ

ইতালিতে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দেশটির লেইজ শহরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হত্যার পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন, যা ঘটনায় আরও শোকাবহ মাত্রা যোগ করে।

নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। তারা দেলু ফকিরের সন্তান। হুমায়ুন ফকির দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। তার ছোট ভাই নয়ন ফকির ২০২৩ সালে বড় ভাইয়ের সহায়তায় ইতালিতে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফকিরের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ছোট ভাই নয়ন এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়ন ফকিরকে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পশ্চিম সোনারং গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খু*ন: ভিডিও কলে পরিবারকে দেখাল নিথর দেহ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করতে সিদ্ধান্ত হয়।

 

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

 

তিনি বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।

 

এর আগে একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে বিএসএফকে জমি না দেয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

গেল শনিবার শপথগ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের বৈঠক ঘিরে রোববার থেকেই বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নবান্ন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সবরকম নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

 

এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল ঝাড়খন্ড থেকে। ঘাতকদের সন্ধানে এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের একটি দল।

 

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৪১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ জন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১৮ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৯৩৭ জন।

 

১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৮০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন।

হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

আগামী দিনে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আগামীতে বাজারের ওপর সরকারের একটা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং বাজার অবজেক্টিভলি ম্যানিপুলেশন ফ্রি থাকবে। সেজন্য কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমটি হচ্ছে নির্বাচিত কিছু পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি করবো। দ্বিতীয়টি হলো, আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি এআই মডেলের আওতায় নিয়ে আসবো, যাতে সরকার পুরো ব্যবস্থাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায়। বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ টিসিবির কার্ড সুবিধার আওতায় রয়েছে। এবার আরও ২০ লাখ মানুষকে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, গত সরকার পতনের পর আমরা দেখেছি ১ কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখই প্রশ্নবিদ্ধ বা ভুয়া ছিল। তাই প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিশ্চিত করতে নতুনভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যক্তি বা দল নয়, পুলিশকেই আইনের রক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

 

সোমবার (১১ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে; এ নিয়ে কারও মধ্যে কোনও সন্দেহ ও সংশয় থাকার কারণ নেই।

 

এসময় সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, পুলিশের সমস্যা সমাধান করতে চায় সরকার, কিন্তু বিগত দিনে অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণে ঋণের বোঝা বেড়েছে। পুলিশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, মানুষকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে কাজ করছে তার সরকার। তবে অভিযোগ করেন, চারগুন বেশি দামে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেই ঋণের বোঝা পড়েছে জনগণের উপর।

 

পুলিশ সপ্তাহের এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশিং কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

দুর্নীতি-সন্ত্রাসে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, অপরাধী হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা এবং সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে। বরং তা এগিয়ে নেয়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

 

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জুবাইদা রহমান বলেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়া দরকার।

 

তিনি আরও বলেন, নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।

পরিবার থেকে সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: জুবাইদা রহমান

বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আমরা বাড়াতে চাচ্ছি। আমাদের কিছু বডিওর্ন ক্যামেরা আছে, ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে তদন্ত-অপারেশন সব কার্যক্রম রেকর্ডের রাখতে পারি সে ব্যবস্থা নেব।’

 

জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বলপ্রয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে, মানবাধিকারের বিষয়টি এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ কার্যক্রম বন্ধ বা কমাতে গেলে বা প্রসিকিউশন টিমকে সহযোগিতা করতে গলে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য কৌশলে যা যা করতে হয় মানবাধিকার সমুন্নত রেখে সে রকম সব কার্যক্রম চালান।’

 

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা এখনো সুনাম অর্জন করতে পারিনি।’

 

এখানে আমাদের দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত’ উল্লেখ করে ট্যুরিস্ট পুলিশকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ও পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’

 

বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিং আর কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

 

ব্যক্তিগত সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে। বাহিনীর শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যাতে বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। চেইন অব কমান্ড যারা ব্রেক করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না।

 

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

 

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

 

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও নারী অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক বলে মত দেন বিচারকরা।

 

রায়ে আরও বলা হয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ আইনগতভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আদালত এ নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালত নিজেই তদারকি করতে পারবেন।

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

এবার পদত্যাগ করলেন ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন মোনামি

সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লিখেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রোক্টর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি।

 

তিনি লেখেন, শিক্ষকতা পেশার সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি কখনো।

 

তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের ফোন পাওয়ার পর দায়িত্বটি নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!

 

তিনি আরও লেখেন, একে তো নতুন বাংলাদেশ অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার ওপর আমার ডিপার্ট্মেন্টের বড় ভাই -স্যার, আমি মানা করব!???

 

সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, গত দুটি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছে, কিভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।

 

তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।

 

নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করব না। আমি জানিও না ট বি ট্রু।

 

তিনি লেখেন, আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সঙ্গে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।

 

জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, জুলাই এবং জুলাই পরবর্তী এমন সময় আর সিচুয়েশন আদোও এই দেশে আর আসবে কিনা আমি জানিনা। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, প্রবাব্লি, করবেও নাহ।

 

নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, আমার দলের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করা আমার জন্য পরম সম্মানের বিষয় ছিল। আমাদের নতুন প্রোক্টর এবং তাদের দলকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে দলটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

এবার পদত্যাগ করলেন ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন মোনামি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন রূপ দিতে চায়, যা হবে সত্যিকারভাবে জনবান্ধব। পুলিশ প্রশাসন হলো সরকারের আয়না। দুর্নীতি-সন্ত্রাসের ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করুন।

 

সোমবার (১১ মে) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারও জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। এটি অতীতেও বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে এবং পৃথিবীর সব দেশেও এটি প্রমাণিত। ঠিক একইভাবে জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্যই চিরস্থায়ী নয়।

 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ চেষ্টা করলে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে একধাপ এগিয়ে যাবে দেশ। পুলিশ সদস্যদের বহুমুখী দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের যে কোনো জায়গায় কাজ করার মানসিকতা জরুরি। এ সময় পেশাদারত্বের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ না করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, জুলাই সনদ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে সরকার। সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতির মূলনীতি। জনগণ কীভাবে সরকারকে দেখে বা মূল্যায়ন করে তা অনেকটাই নির্ভর করে পুলিশের ভূমিকার ওপর। তাই বাহিনীর সদস্যদের মানবিকতার গুণগুলো রপ্ত করতে হবে।

দুর্নীতি-সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করুন: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীতে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। হামলায় আহত বাবা ও বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকার জন্য অনলাইনে সংগ্রহ করা ছুরি দিয়ে ঘরের মধ্যে নিজের মাকে আঘাত করে ছেলে রাফি (২২)। এ সময় পাশের রুম থেকে মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা এগিয়ে এলে তাকে এবং পরে তাদের বাঁচাতে বাইরে থেকে বাবা মোস্তফা ভূঁইয়া ছুটে এলে তিন জনকেই ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে সে।

 

এরপর স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে লাকী আক্তার (৫৫) মৃত্যুবরণ করেন। সদ্য প্রবাস ফেরত আহত মোস্তফা ভূঁইয়া (৬৫) ও আলিম শিক্ষার্থী মিথিলা ভূঁইয়াকে (১৮) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাতেই পুলিশ ঘাতক মোহাম্মদ রাফিকে গ্রেপ্তার ও হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

 

দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মা দিবসেই ছেলের ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d