
নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকাসক্ত নাতির সঙ্গে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার জন্য এলাকাজুড়ে মাইকিং করিয়েছেন এক দাদা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান ব্যাপারীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
মাইকিংয়ে বলা হয়, দাদা করম আলী ব্যাপারীর পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে, নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কেউ যেন বাকিসহ কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন না করেন বা তাকে টাকা ধার না দেন। এই সতর্কতার পরও কেউ লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন জানান, মাহাবুব বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে দাদার ওপর দায় চাপাতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়েই দাদা করম আলী এমন ব্যতিক্রমী সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন।
মাহাবুবের ওপর মাদকের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করলেও, অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

নওগাঁয় কলেজের ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার
মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল
বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের পর নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হন। পথে এটিম মাঠের গলি দিয়ে জনৈক ইমরুল কায়েসের বাসার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাতনামা আরোহী তাকে যৌন হয়রানি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।
এরপর ডিবি পুলিশের একটি দল টানা পাঁচ দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবক ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। পরে নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী দমন করবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মোবাইল নং – ০১৭২৪২৫৫৭০৬
২৪-৮-২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশব্যাপী ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের কারণে দলটির বিগড়ত আমলের কানসাট বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) । রবিবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ দলীয় নাহিদ ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি মাসেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং রেকর্ড হয়েছে যা গ্রাম ও মফস্বলে দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। বিতরণ কোম্পানিগুলোর সিস্টেম লসের দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি এবং দুই বছর মূল্যবৃদ্ধি না করার অঙ্গীকার সত্ত্বেও মাত্র তিন মাসের মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
সরকারের জ্বালানি সংকট ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংকটের সমাধান না করে বিদ্যুৎ বিভাগ উল্টো ভুতুড়ে বিল নিয়ে ‘অপপ্রচার’ তথা জনগণের প্রতিবাদের জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। পরে গণপ্রতিরোধের মুখে সে বিবৃতি সংশোধন করতে বাধ্য হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎখাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে পলাতক ও দণ্ডিত শেখ হাসিনার লুটপাটের আয়োজন ছিল জনগণের অর্থলুটের এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। আজকের দিন পর্যন্ত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও সরকারকে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত এক দশকে শুধু ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে সরকারের এখন পর্যন্ত কাঠামোগত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নাই। ফলে জনগণের অর্থের অপচয় এখনো চলমান।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। কিন্তু কেবল পনেরো বছরের দুঃশাসন ও বিধ্বস্ত অবস্থার ওপর দায় চাপিয়ে কি নিজেদের অক্ষমতা, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা ঢাকা যাবে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও একই রকম বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। কিন্তু সে সময় আমরা এমন রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং দেখিনি। ফলে সরকারের এই বক্তব্য স্রেফ দায়সারা। বিএনপি সরকারের এই রেকর্ড লোডশেডিং জনগণকে তাদের পূর্ববর্তী আমলের কানসাট বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে পল্লী বিদ্যুত সমিতির সামনে টানা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সংগঠিত একটি গণআন্দোলন। যেখানে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ দুর্ভোগের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ থেকে ৩১ জন নিহত হন। সেময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় ছিলো। এই আন্দোলনকে ইতিহাসে কানসাট আন্দোলন বা কানসাট বিদ্রোহ বলা হয়। সেসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান সরকারের জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসিয়ে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ও চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান, লিটু মিয়াসহ আরও কয়েকজন টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ইজারাকৃত জায়গা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়নি। তাই ইজারার টাকা ওঠানোর জন্য বেইলি ব্রিজের পাশে তুরাগ নদের তীরে অস্থায়ীভাবে কিছু দোকান বসানো হয়েছে।’
সরেজমিনে টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ও ফুটপাত দখল করে কাপড়, নার্সারি, কাঁচা শাকসবজি, জুতা, মাছ, শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে। স্থানীয় দোকানিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০টি দোকান রয়েছে। দোকানভেদে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ক্যাসেট শামীম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাপড় দোকানি আসহান, শাহেদ ও শাহিন শাহসহ কয়েকজন জানান, নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তবে কত টাকা দিতে হবে, তা দোকানের ধরন ও অবস্থানভেদে নির্ধারণ করা হয়।
ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে টঙ্গীবাজারের প্রবেশমুখে যানজট ও জনজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক হাট বসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে তুরাগ নদের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ দিয়ে পথচারী, রিকশা, ভ্যান ও মালবাহী ছোট যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
পথচারী মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিআরটি উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টকর। এ কারণে তুরাগ নদের ওপরের বেইলি ব্রিজ দিয়ে টঙ্গীবাজারে যাই। কিন্তু ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শত শত দোকান বসায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অটো রিকশাচালক শাকের, ইসমাইল, আরজু ও আল-আমিন বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোয় মানুষের ভিড়ের মধ্যে মালামাল নিয়ে টঙ্গীবাজার থেকে আব্দুল্লাহপুর কিংবা আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীতে যাতায়াত করা কঠিন। রোববার সাপ্তাহিক হাটের দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’
টঙ্গীবাজার এলাকায় সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের টঙ্গী উপ-বিভাগীয় কার্যালয়, টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), এটলাস হোন্ডা, বাংলাদেশ ব্লেড ও বাটা শু কোম্পানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা রয়েছে। ঢাকা, উত্তরা, আশুলিয়া, কামারপাড়া, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন বেইলি ব্রিজ ব্যবহার করেন। ফলে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান, লিটু মিয়াসহ আরও কয়েকজন টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ইজারাকৃত জায়গা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়নি। তাই ইজারার টাকা ওঠানোর জন্য বেইলি ব্রিজের পাশে তুরাগ নদের তীরে অস্থায়ীভাবে কিছু দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’
টঙ্গীবাজারের ইজারাদার ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল সিকদার বসু বলেন, ‘প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে টঙ্গীবাজার ও আশপাশের এলাকার বাজার আমরা ইজারা নিয়েছি। বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে এক থেকে দেড়শ ছোট দোকান বসানো হয়েছে। এখন সবাই বিআরটি উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করে। নিচ দিয়ে তেমন গাড়িঘোড়া চলাচল করে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়ক মেরামতের কাজ শুরু করলে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হবে।’

আমার জীবনের শেষ সম্বল টাও শেষ হয়ে গেলো’—গত বুধবার হবু স্ত্রী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর সঙ্গে একটি ছবি তুলে ক্যাপশনে এমনটাই লিখেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অদিত কর। সেটিই ছিল তাদের প্রথম কাপল ছবি। পরদিনই রংপুরে নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান প্রার্থীসহ তার বাবা, মা ও ছোট ভাই। বিয়ের তারিখও এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছিল অদিত ও প্রার্থীর।
ঘটনার পর অদিত কর স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বল টাও শেষ হয়ে গেলো। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বললো সেদিন আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই। চলো আজকে তুলি। চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।’
নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অদিত নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানান, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েও কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনায় চরম হতবাক ও বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন অদিত।
ওই বন্ধু ফেসবুকে লেখেন, ‘অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত (ট্রমাটাইজড), তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতে পারছি না। কিছুদিন আগেই অদিতের বাবা মারা গেছেন, আর এখন চিরতরে হারিয়ে গেল তার হবু স্ত্রীও।’
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
পুলিশ কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখতে পান। মাদক সেবন ও সেখানে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের বকাঝকা করেন।
পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় দুই যুবক। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার বাঁচার চেষ্টা ও শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রার্থী চক্রবর্তীকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে আসামিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ পেঁচিয়ে ধরে জোরে টান দেয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে। পরে ঘরে থাকা ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করে তারা।
পুলিশের দাবি, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। ভবিষ্যতে সে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে। পরে সেখানে বসেই আবার ইয়াবা সেবন করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এরপর তারা বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার বের করে। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। তাই আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে কোনটি আসল স্বর্ণ, তা শনাক্ত করে নেয় সে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। বের হওয়ার আগে তারা ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামে রাখা খেজুর খায়। এ ছাড়া মাদকের প্রভাব কমানোর জন্য ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে। শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান শ্যালিকা। সেখানে গিয়ে দেখেন বাড়ি তালাবদ্ধ। জানালা দিয়ে দেখেন এলোমেলো ঘর। বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার পর নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন।

বেনাপোলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়ে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছ মারা যাওয়ার দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।
ঘের মালিকদের দাবি, দিনে-রাতে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর শার্শার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। খামার মালিকদের হিসাবে, ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাছগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।
ইতোমধ্যে মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।
খামার মালিক আলফাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাছের খাদ্য বাবদ বাকিতে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়েছি। এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
অন্য খামারি ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’
আরও দেখুন: জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপে মাস্টার্সে সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা
রপ্তানি প্রক্রিয়াও ব্যাহত
খামার সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এই মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণেই ভূমিকা রাখে না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।
তাদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নরসিংদীর বেলাবোতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এহসান উল্লাহ পিয়ালকে (৩২) গ্রেফতার করেছে বেলাবো থানা পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বেলাবো বাজারের সোনালী ব্যাংকসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত এহসান উল্লাহ পিয়াল নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের নিলক্ষীয়া নামাপাড়া গ্রামের মৃত জহিরুল হক (ওরফে উল্লাহ) ও মোসা. খাদিজা বেগমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেলাবো থানায় দায়ের করা ১৬ নম্বর মামলায় পিয়ালকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বেলাবো থানার ওসি এসএম আমানউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্দিষ্ট মামলায় পিয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।


Leave a Reply