মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

 

আশিকুরের ছোট ভাই জানান, দুপুর পর্যন্ত তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। পরে আশিকুর নিজের মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে যান। মোবাইলটিতে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে আশিকুরের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নিয়ে গেছে। সে এখন কোথায় আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

 

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

 

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরর্মেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেজিলেশনস ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়ন ভূমিকা রাখছে। শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ,ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

এর আগে মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা যেতে পারে। ঘটনাটি আমিও দেখেছি। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘটনাটি সত্য।

 

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

 

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন গোলাম সাকলায়েন। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ পরীমনি ডিবির কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের মধুমতি ভবনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে গ্রেফতারের পর পরীমনি অকপটে স্বীকার করেন সবকিছু।

পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালতে তার আইনজীবী এই আবেদন করেন, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি হয়।এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরার লাশ উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এরপর ইকরার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।মামলার পর জাহের আলভী দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। তবে উচ্চ আদালতের পরামর্শ ও নির্দেশনায় দেশে ফিরে অবশেষে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন। এর আগে এই মামলায় তার মা নাসরিন সুলতানাও আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।

 

আদালতে জাহের আলভী নিজের পক্ষে দাবি করেছেন যে তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা। নিজের একমাত্র শিশু সন্তান এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে জামিনের আর্জি জানিয়েছেন।

অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক তৈরি কারখানায় পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ‘ড্রেসম্যান লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করেন শ্রমিকেরা। কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে অনেকের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

 

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করেন। ধীরে ধীরে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

কারখানার শ্রমিক জাহিদ, মাজেদুল ও তন্নি আক্তার জানান, প্রতিনিয়ত তারা কারখানার সাপ্লাই থেকে পানি পান করেন। আজও সেখান থেকেই পানি পান করার কিছুক্ষণ পর সবার মধ্যেই এমন অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ২ শতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে ফ্লোরে পড়ে যায়, অনেকেই বমি করেন, অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেককেই কারখানার ভেতরেও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ড্রেসম্যান লিমিটেডের কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্রমিকেরা পানিতে ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা আমরা পাইনি।’

 

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বহু শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না। একের পর এক রোগী আসছেন। আমরা যথাক্রমে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।

 

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পানি পান করে কিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ শতাধিক শ্রমিক

দেশে কাঁঠাল ব্যবহার করে শিঙাড়া, সমুচা, কাবাবসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তার মতে, এসব পণ্যের পুষ্টিমানও বেশ সমৃদ্ধ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘এই কাঁঠালের কাবাব বা সবজির ফুড ভ্যালু হাই। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ যোগাযোগ করেছে আমাদের থেকে কাঁঠাল নিয়ে এ ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য।

 

তিনি বলেন, দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজন কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন, যা কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আম-আনারস-কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। এই বছর কাঁঠাল রপ্তানি আরো অনেক বেড়ে যাবে। আমরা চায়নার সঙ্গে একটা কন্ট্রাক্টে আসছি।

 

রপ্তানি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আম, আনারস ও কাঁঠাল ইতোমধ্যে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। চলতি বছরে কাঁঠাল রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষির বরাদ্দ কমেনি, বরং আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর বাইরে প্রণোদনা ও উন্নয়ন বাজেটও রয়েছে। যারা বরাদ্দ কমেছে বলে বলছেন, তারা হয়তো সঠিক হিসাব করেননি।

 

 

কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিঙাড়া-সমুচা-কাবাব, রপ্তানির আশা মন্ত্রীর

গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পূর্ব কাজীপাড়ার কামারের গলির একটি সাততলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ এই লাশ উদ্ধার করে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে বাইরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। বাড়ির মালিক তখন কাফরুল থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর তারা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং বিছানার ওপর রাবেয়ার অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান।

 

নিহত রাবেয়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। তিনি শ্যাওড়াপাড়া ট্রমা ইনস্টিটিউটের নার্সিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

পুলিশ আরও জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে স্বামী আশিকুজ্জামানের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন রাবেয়া। স্বজনদের তথ্যমতে, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল।

 

এই ঘটনার বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘প্রাথমিক তথ্যমতে ১৪ জুন রাতে আশিকুজ্জামান বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও অন্যান্য আলামত বিবেচনায় এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং নিখোঁজ স্বামীকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।’

রাজধানীতে নার্সিং ছাত্রীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরর্মেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেজিলেশনস ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়ন ভূমিকা রাখছে। শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ,ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দি। একইসঙ্গে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আইসা মান্দি বলেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

মূলত সিমন মারচিনিয়াকের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির ট্যাকলটি অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাটি খেলার অংশ এবং রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

 

এ বিষয়ে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও ম্যাচ শেষে বলেন, তাদের দল কিছু ভুল করেছে, যা মেসির মতো খেলোয়াড়কে আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে।

 

যদিও ট্যাকল প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

 

আশিকুরের ছোট ভাই জানান, দুপুর পর্যন্ত তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। পরে আশিকুর নিজের মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে যান। মোবাইলটিতে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে আশিকুরের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নিয়ে গেছে। সে এখন কোথায় আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

 

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

 

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সব বাস একক কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকদের সমন্বয়ে একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মান, অভিন্ন রঙ, বৈধ ফিটনেস এবং প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজ এড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে।

 

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলবে এবং কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না।

 

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়কে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বাস মালিকরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

 

 

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

এর আগে মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা যেতে পারে। ঘটনাটি আমিও দেখেছি। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘটনাটি সত্য।

 

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

 

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন গোলাম সাকলায়েন। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ পরীমনি ডিবির কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের মধুমতি ভবনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে গ্রেফতারের পর পরীমনি অকপটে স্বীকার করেন সবকিছু।

পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অভিন্ন (একই) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার আমরা অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি, দেখি কী হয়। প্রতিটি বোর্ডের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে, মূলত সেই উদ্দেশ্য থেকেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।

 

পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আপৎকালীন পরিস্থিতির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় দুর্যোগ হলে তা মোকাবিলার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশ্নপত্র যথাসময়ে আগেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। যেকোনো সমস্যা এড়াতে আমাদের আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

২ জুলাই থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

অনেক দিক থেকে দেখলে, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দোষ নয়।

 

যখন বছরের পর বছর আপনাকে বলা হয় আপনি এখনো আগের মতোই সেরা, যখন কোচ আপনাকে নিয়মিত একাদশে রাখেন, যখন হাজারো দর্শক শুধুমাত্র আপনাকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে আসে, তখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে বিশ্বাস হারানো কঠিন। বরং স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে, সেই পুরোনো জাদু এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

 

কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত অনুভূতির নয়, বাস্তবতার খেলা। আর বাস্তবতা বলছে, রোনালদো আর আগের রোনালদো নন।

 

হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার আরেকটি নির্মম স্মারক। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাঠে থেকেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। এমন নয় যে তিনি ভয়াবহ খেলেছেন। বরং সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—তিনি যেন খেলাতেই ছিলেন না।

 

পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল বিরতির পর পাওয়া দুটি সুযোগ। দুটিই কাছের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। প্রথমটি কঠিন সুযোগ ছিল, দ্বিতীয়টিতে তিনি বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেস আরও ভালো অবস্থানে শট নিতে পারতেন।

 

ফক্স স্পোর্টসে ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছিলেন, “দলের গোল দরকার। গোলটা তোমাকেই করতে হবে এমন নয়।”

 

ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট—রোনালদো যেন দলের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের গোলের হিসাবেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

 

এরপর ম্যাচে তার অবদান প্রায় শূন্য। একসময় যেসব ক্রসে তিনি অবিশ্বাস্য উচ্চতায় লাফিয়ে হেড করতেন, সেসব পরিস্থিতিতেও এবার তাকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। একটি দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ভেসে এলে তিনি লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। শেষ পর্যন্ত সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেন চান্সেল এমবেমবা।

 

একসময় প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিলেন রোনালদো। এখন তিনি বেশি পরিচিত নিজের অতীতের জন্য।

 

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, তিনি এখনো প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি বলেছিলেন, রোনালদোর অফসাইড অবস্থানে থাকা অনেক সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, সেই ফাঁকা জায়গা তৈরি করলেও রোনালদো নিজে আর আগের মতো হুমকি হয়ে উঠতে পারছেন না।

 

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউও ম্যাচ শেষে পরোক্ষভাবে সেটিই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, রোনালদো আর আগের মতো দৌড়ান না এবং বয়সের প্রভাব তার খেলায় স্পষ্ট।

 

তবু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যে ম্যাচে আমাদের গোল দরকার, সেখানে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”

 

সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল—‘ইতিহাস’।

নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

 

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান।

 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

 

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

 

 

 

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩