শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।


আগামী ৫ সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা প্রয়োজন, তা এখনও নেই। শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ যত্নও নিতে হবে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই কর্মসূচিই বর্তমান সরকার আবার বাস্তবায়ন করছে।

 

তিনি আরও বলেন, এসব গাছ বড় হলে মানুষ নির্মল বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে। এলাকা ও দেশকে আরও সুন্দর করে তুলতে হলে বেশি বেশি গাছ রোপণ এবং সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।

 

এর আগে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে একদিনের সফরে বরিশালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল ৬টার পর গুলশানে তার বাসভবন থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল ১০টার দিকে তিনি বরিশালে পৌঁছান।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় বৃক্ষরোপণ এবং ত্রিশ গোডাউন-সংলগ্ন সাগরদী এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। এছাড়া বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে এটিই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ও দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ রোববার (১২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান।

 

তিনি জানান, বৈঠকে বলা হয় চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

 

এছাড়া ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

 

শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

 

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে, যা থেকে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এটি দৈনিক প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য।

 

তিনি বলেন, এছাড়া এ প্রকল্প থেকে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদন করা হবে। এ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

 

এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

 

প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন।

 

শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ঢাকা মেডিকেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

 

‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

 

গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

 

লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

 

স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

 

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

 

সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

 

বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

 

পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয় এ তথ্য।

 

এতে বলা হয়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১ টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এছাড়া দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত

আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন তত্তাবধায়ক সরকার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে৷ তবে কোন ফরমেটে হবে, সেটি বিভিন্ন অংশীজনের সাথে কথা বলে ঠিক করা হবে।

 

এসময় তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে, জুলাই চার্টাডকে যেনো মুখ্য বিবেচনায় রাখা হয় সে কথা মাথায় রেখে পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের আলোকে সংবিধানের সংশোধনী বিল আনা হবে। সেক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচনা থাকবে জুলাই চার্টাড।

আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন বগুড়া জেলার বাসিন্দা মানিক মিয়া।

 

অভিযোগে মানিক মিয়া দাবি করেন, হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

মানিক মিয়ার ভাষ্য, বারবার যোগাযোগ করেও তিনি সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারী।

বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ নিহত ২।

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এক মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহতরা হলেন, মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আনোয়ার প্রভু (৫৫) এবং তাঁর ছেলে নিমাই (২৩)।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশের পাটখেতে পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তাঁর ছেলে নিমাই। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই আকস্মিক বজ্রপাত হলে বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। একসঙ্গে বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

 

জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কবিন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাট কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে আনোয়ার প্রভু ও তাঁর ছেলে নিমাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

 

একসঙ্গে বাবা-ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ না করার বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ নিহত ২

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। তার মেয়ে কানাডার নাগরিকত্বধারী। তার বোন ও তাদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। যার জন্য আপনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ এ দেশের নাগরিক নন।’

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা মহাসড়কে আয়োজিত ‘দেশ গড়ায় জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বর্তমান সরকার এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে ৬০০ জনেরও কর্মসংস্থান করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ৫ আগস্টের পর বড় বড় সাইনবোর্ড হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এ তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো ধারা না থাকায় সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই সৃষ্টি হতো না।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুন। তার বিচার হোক। আগামীকালই দেশে ফিরুন, আমরা সেটাই চাই।

যাদের জন্য জয় বাংলা স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন

ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, আজিমপুরসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

এর আগে সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুর ১টা পর্যন্ত, ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের কোনো জমায়েত বা অবস্থান দেখা যায়নি। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন করা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

তবে পুলিশ ও বিজিবি সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই, দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর মুহূর্তেই ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, পরীক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

উত্তরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা- ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে আলোচনায় এক ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। তার দাবি, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এতটাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে যে নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত সময়েও কোনো দলই জয়সূচক ব্যবধান গড়ে তুলতে পারবে না। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত জ্যোতিষী জর্জিও আরমাস সম্প্রতি এই মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি অতীতে চিলির কোলো-কোলো, পেরুর আলিয়ানজা লিমা, প্যারাগুয়ের অলিম্পিয়া, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্স, রেসিং ক্লাব এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরেও বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

 

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে আরমাস ২০২৫ সালের ২৮ জুন করা একটি পুরোনো পোস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে এবং দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পুরোনো সেই পোস্ট উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে। কত আগেই বলেছিলাম! দিবুকে প্রস্তুত থাকতে হবে; আমরা টাইব্রেকারে যাচ্ছি।’

 

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেননি আরমাস। তার মতে, দুই দলই শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান এবং কে জিতবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।

 

অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ও চলতি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আরমাস বলেন, ‘আমাদের লিওর সেরা ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে জ্যোতিষীর চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)।

 

এর আগে, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে জানান ওসি।

 

শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়। অপরদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাওনা টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এক ছাত্রীর মা। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮)। হামলায় তাঁর মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী মা প্রিয়া বেগমকে (২৫) স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রিয়া বেগমের সন্তানকে মাসে দেড় হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাস ধরে পড়াচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি টিউশনির পাওনা টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। সোমবার সকালে পড়ানো শেষ করে চলে আসার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে দা নিয়ে সিঁথির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

 

দরজায় জোড়া ছিটকিনি লাগানো থাকায় শিক্ষিকা সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তাঁর সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর মাথায় ১০টি কোপ লাগে, যেখানে চিকিৎসকদের ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তাঁর হাতের সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিঁথির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপ দেওয়ার পর আমি দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। প্রিয়া কোপানোর সময় আমার গলার ও হাতের দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বলছিল—‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস কেন? স্বর্ণ দে’।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এটি হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট করার একটি পরিকল্পিত হামলা। অভিযুক্ত প্রিয়া এলাকায় আগেও এ ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ

ম্যাচের শুরুর দিকেই পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স। এরপর যেন আর দিশা খুঁজে পেল না বর্তমান রানার্স-আপরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল করে তাদের বিদায় করে দিল স্পেন। আর ম্যাচ শেষে রেফারির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

 

ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ফ্রান্স। ম্যাচে বলতে গেলে স্পেনের সামনে পাত্তাই পায়নি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মিডফিল্ডের পূর্ণ দখল নিজেদের কাছে রেখে ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করেছে স্পেন।

 

ম্যাচ শেষে তাই নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নেন দেশম। তবে অনেক কথার ভিড়ে ৩৫ বছর বয়সী ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফ্রান্সের কোচ। তার মতে, এত বড় ম্যাচ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন না এল সালভাদরের এই রেফারি।

 

“রেফারিং নিয়ে… আমাদের হারের পর যদি আমি কিছু বলি, তবে আমাকে ক্রাই বেবি মনে হবে। কিন্তু আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি, এই রেফারি কি একটি সেমি-ফাইনাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন? চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি দারুণ ছিলেন। কিন্তু মূল রেফারি?”

 

পেনাল্টির বিষয়টি ছিল, তবে শুধু সেটিই নয়, সবকিছু মিলিয়েই এমনটা মনে হয়েছে। আজকের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই, তবে আপনারা নিজেদেরই প্রশ্ন করে দেখুন।”এছাড়া পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও জানিয়ে রাখেন ফ্রান্সের কোচ।

 

“আমি শুধু যে আজ হেরেছি বলেই এ কথা বলছি তা নয়। এমন আরও বেশ কিছু পরিস্থিতি ছিল। এছাড়া কিছু পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তও ছিল।”

 

তবে যোগ্যতর দল হিসেবে স্পেন জেতায় প্রতিপক্ষকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেও ভোলেননি দেশম।

 

 

“খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, কিন্তু আমাদের সৎ হতে হবে: আমরা টেকনিক্যাল দিক থেকে পিছিয়ে ছিলাম। হারের মূল কারণ হলো, আমরা পারফরম্যান্সের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি।”

 

“আমরা এমন কিছু টেকনিক্যাল ভুল করেছি এবং ভুল পাস দিয়েছি যা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারত। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা। আমরা এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলব। আমরা যা অর্জন করেছি, আমি তার সবটুকু মুছে ফেলতে চাই না, তবে এই ম্যাচে স্পেন

 

 

ম্যাচ হেরে রেফারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ফ্রান্স কোচের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d