তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)।

 

এর আগে, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে জানান ওসি।

 

শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়। অপরদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।


বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন বগুড়া জেলার বাসিন্দা মানিক মিয়া।

 

অভিযোগে মানিক মিয়া দাবি করেন, হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

মানিক মিয়ার ভাষ্য, বারবার যোগাযোগ করেও তিনি সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারী।

বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। তার মেয়ে কানাডার নাগরিকত্বধারী। তার বোন ও তাদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। যার জন্য আপনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ এ দেশের নাগরিক নন।’

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা মহাসড়কে আয়োজিত ‘দেশ গড়ায় জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বর্তমান সরকার এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে ৬০০ জনেরও কর্মসংস্থান করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ৫ আগস্টের পর বড় বড় সাইনবোর্ড হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এ তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো ধারা না থাকায় সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই সৃষ্টি হতো না।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুন। তার বিচার হোক। আগামীকালই দেশে ফিরুন, আমরা সেটাই চাই।

যাদের জন্য জয় বাংলা স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন

ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, আজিমপুরসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

এর আগে সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুর ১টা পর্যন্ত, ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের কোনো জমায়েত বা অবস্থান দেখা যায়নি। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন করা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

তবে পুলিশ ও বিজিবি সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই, দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর মুহূর্তেই ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, পরীক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

উত্তরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

 

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

 

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‌‌দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে গতিশীল করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-এই চারজনকেই পরিবর্তন করা উচিত।

 

 

 

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সরব আলোচনা। এর মধ্যে এই দাবিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৪ মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে এরই মধ্যে দেশের সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠেছে।

 

এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, এইচএসসি ও সমমানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।

 

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগকে আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি এবং এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই।

 

‘‘২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখা ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সকল পরীক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে মর্মে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে আজ সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

 

‘‘তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

‘‘অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’’

 

পরীক্ষা স্থগিত হবে না, ৫৯ জেলার এইচএসসি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করেছেন বগুড়া জেলার বাসিন্দা মানিক মিয়া।

 

অভিযোগে মানিক মিয়া দাবি করেন, হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

মানিক মিয়ার ভাষ্য, বারবার যোগাযোগ করেও তিনি সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারী।

বিদেশে নেওয়ার নামে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতিকার চাইলেন বগুড়ার মানিক মিয়া

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ নিহত ২।

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এক মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহতরা হলেন, মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আনোয়ার প্রভু (৫৫) এবং তাঁর ছেলে নিমাই (২৩)।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশের পাটখেতে পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তাঁর ছেলে নিমাই। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই আকস্মিক বজ্রপাত হলে বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। একসঙ্গে বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

 

জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কবিন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাট কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে আনোয়ার প্রভু ও তাঁর ছেলে নিমাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

 

একসঙ্গে বাবা-ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ না করার বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ নিহত ২

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। তার মেয়ে কানাডার নাগরিকত্বধারী। তার বোন ও তাদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। যার জন্য আপনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ এ দেশের নাগরিক নন।’

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা মহাসড়কে আয়োজিত ‘দেশ গড়ায় জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বর্তমান সরকার এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে ৬০০ জনেরও কর্মসংস্থান করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ৫ আগস্টের পর বড় বড় সাইনবোর্ড হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এ তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো ধারা না থাকায় সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই সৃষ্টি হতো না।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুন। তার বিচার হোক। আগামীকালই দেশে ফিরুন, আমরা সেটাই চাই।

যাদের জন্য জয় বাংলা স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন

ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, আজিমপুরসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

এর আগে সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুর ১টা পর্যন্ত, ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের কোনো জমায়েত বা অবস্থান দেখা যায়নি। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন করা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

তবে পুলিশ ও বিজিবি সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই, দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর মুহূর্তেই ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, পরীক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

উত্তরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা- ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে আলোচনায় এক ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। তার দাবি, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এতটাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে যে নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত সময়েও কোনো দলই জয়সূচক ব্যবধান গড়ে তুলতে পারবে না। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত জ্যোতিষী জর্জিও আরমাস সম্প্রতি এই মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি অতীতে চিলির কোলো-কোলো, পেরুর আলিয়ানজা লিমা, প্যারাগুয়ের অলিম্পিয়া, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্স, রেসিং ক্লাব এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরেও বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

 

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে আরমাস ২০২৫ সালের ২৮ জুন করা একটি পুরোনো পোস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে এবং দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পুরোনো সেই পোস্ট উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে। কত আগেই বলেছিলাম! দিবুকে প্রস্তুত থাকতে হবে; আমরা টাইব্রেকারে যাচ্ছি।’

 

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেননি আরমাস। তার মতে, দুই দলই শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান এবং কে জিতবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।

 

অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ও চলতি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আরমাস বলেন, ‘আমাদের লিওর সেরা ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে জ্যোতিষীর চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)।

 

এর আগে, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে জানান ওসি।

 

শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়। অপরদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাওনা টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এক ছাত্রীর মা। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮)। হামলায় তাঁর মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী মা প্রিয়া বেগমকে (২৫) স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রিয়া বেগমের সন্তানকে মাসে দেড় হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাস ধরে পড়াচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি টিউশনির পাওনা টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। সোমবার সকালে পড়ানো শেষ করে চলে আসার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে দা নিয়ে সিঁথির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

 

দরজায় জোড়া ছিটকিনি লাগানো থাকায় শিক্ষিকা সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তাঁর সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর মাথায় ১০টি কোপ লাগে, যেখানে চিকিৎসকদের ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তাঁর হাতের সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিঁথির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপ দেওয়ার পর আমি দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। প্রিয়া কোপানোর সময় আমার গলার ও হাতের দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বলছিল—‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস কেন? স্বর্ণ দে’।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এটি হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট করার একটি পরিকল্পিত হামলা। অভিযুক্ত প্রিয়া এলাকায় আগেও এ ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ

ম্যাচের শুরুর দিকেই পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স। এরপর যেন আর দিশা খুঁজে পেল না বর্তমান রানার্স-আপরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল করে তাদের বিদায় করে দিল স্পেন। আর ম্যাচ শেষে রেফারির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

 

ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ফ্রান্স। ম্যাচে বলতে গেলে স্পেনের সামনে পাত্তাই পায়নি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মিডফিল্ডের পূর্ণ দখল নিজেদের কাছে রেখে ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করেছে স্পেন।

 

ম্যাচ শেষে তাই নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নেন দেশম। তবে অনেক কথার ভিড়ে ৩৫ বছর বয়সী ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফ্রান্সের কোচ। তার মতে, এত বড় ম্যাচ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন না এল সালভাদরের এই রেফারি।

 

“রেফারিং নিয়ে… আমাদের হারের পর যদি আমি কিছু বলি, তবে আমাকে ক্রাই বেবি মনে হবে। কিন্তু আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি, এই রেফারি কি একটি সেমি-ফাইনাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন? চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি দারুণ ছিলেন। কিন্তু মূল রেফারি?”

 

পেনাল্টির বিষয়টি ছিল, তবে শুধু সেটিই নয়, সবকিছু মিলিয়েই এমনটা মনে হয়েছে। আজকের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই, তবে আপনারা নিজেদেরই প্রশ্ন করে দেখুন।”এছাড়া পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও জানিয়ে রাখেন ফ্রান্সের কোচ।

 

“আমি শুধু যে আজ হেরেছি বলেই এ কথা বলছি তা নয়। এমন আরও বেশ কিছু পরিস্থিতি ছিল। এছাড়া কিছু পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তও ছিল।”

 

তবে যোগ্যতর দল হিসেবে স্পেন জেতায় প্রতিপক্ষকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেও ভোলেননি দেশম।

 

 

“খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, কিন্তু আমাদের সৎ হতে হবে: আমরা টেকনিক্যাল দিক থেকে পিছিয়ে ছিলাম। হারের মূল কারণ হলো, আমরা পারফরম্যান্সের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি।”

 

“আমরা এমন কিছু টেকনিক্যাল ভুল করেছি এবং ভুল পাস দিয়েছি যা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারত। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা। আমরা এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলব। আমরা যা অর্জন করেছি, আমি তার সবটুকু মুছে ফেলতে চাই না, তবে এই ম্যাচে স্পেন

 

 

ম্যাচ হেরে রেফারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ফ্রান্স কোচের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d