রকিবুল হাসান তোতা, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় শিশুদের করোনা সচেনতা কথা শুনে ১০ শিশুকে মাস্ক উপহার দিলেন দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত কুমার সিংহ। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলায় কঠোর লকডাউন পালনের লক্ষে ভ্রাম্যমান আদালত গড়ি নিয়ে আমি উপজেলার গোপালপুর রাস্তা দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। এসময় গোপারপুর গ্রামে পৌঁছালে আবির(৬) ও মাহমুদ(৭) নামে ২ জন শিশু বাংলায় ওরা জোরে জোরে বলছে ” ম্যাজিস্ট্রেট” নে দৌড় দে না হলে ধরে নিয়ে যাবে। একথা বলার পর ওরা দৌড় দিয়ে বাড়ির দিকে চলে যায়। কথা গুলো আমার কানে যাওয়ায় ওদের কে ডাকলাম। কিন্তু ওরা না শুনে নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে ফিরে দাড়ালো। এবার খেয়াল করলাম ওদের দুজনের কারো মুখে মাস্ক নেই। তখন বুঝলাম মাস্ক না পরার কারনে বুধবার দুদিন আগে এখানে ৯ জনকে জরিমানা করাটা এরা জানে। তাই গাড়ি দেখে দৌড়ে পালানো।
আমি অভয় দিলাম কিন্তু ওরা আসবেনা।পরে পাশের দুজন অভিভাবকদের চেষ্টায় ওরা আসলো। এসেই ওরা মাস্ক না পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে । আমার কাছে ক্ষমা চাইলো এবং ভবিষ্যতে কোন কারণ ছাড়া বের হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলো বের হলে মাস্ক পরে বের হবে। আমি ওদের কথা শুনছি আর মনে মনে হাসছি। এরপর আমি কথা বলা শুরু করলাম। তোমাদের তো মাস্ক না পরার জন্য ডাকিনি। তোমরা কেন দৌড়াচ্ছিলে তাই জানার জন্য ডাকলাম।ওরা একজন ওয়ানে ও একজন টুতে পড়ে। ওরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এরপর ওদের কে ২ টি করে মাস্ক দিলাম দেখি ওরা নিজেরাই পরে নিল। বুঝলাম ওদের মাস্ক পড়ার অভ্যাস আছে। এরপর দেখি আশেপাশে ওর মত আরো ৮ জন চলে এসেছে মাস্ক নেবার জন্য। ওদের সবাই কে মাস্ক দিলাম।
ওরা খুব খুশি। আবির বললো আংকেল একটা ছবি তোলা যাক। আমি ছবি তুললাম এবং ওদের দেখালাম। বেজায় খুশিএরা! এবার প্রত্যেক কে জিজ্ঞাসা করলাম -মাস্ক না পরলে কি হয়।শফিক(৭) নামে শিশু বললো -করোনা ধরে। ওরা সকলেই মাস্ক পরে ও ভবিষ্যতে পরবে।আবির, সফিকসহ আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সচেতন -এটাই আশার কথা। ওদের থেকে আমাদের মতো বড়দের অনেক কিছু শেখার আছে।
Leave a Reply