
শ্যামনগরের গাবুরায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পানিতে, ঘেরে কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক আহত ১
সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,
“দৈনিক আমাদের দেশ”
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখায় হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটির তারে জড়িয়ে মোঃ সাইদুল ইসলাম (৪) নামে এক মাছের ঘের মালিক মারাত্মক আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৬, রাত আনুমানিক ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামে নিজের মাছের ঘেরে কাজ করতে যান সাইদুল ইসলাম। ঘের পানিতে নামার সাথে সাথেই হেলে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সাথে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিদ্যুতের একটি খুঁটি হেলে পড়ে ছিল। খুঁটি হেলে যাওয়ায় বিদ্যুতের তারগুলো ঘের পানির খুব কাছে ঝুলে ছিল। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি শ্যামনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মারাত্মক আহত অবস্থায় সাইদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সাইদুলের পরিবার জানায়, এখনো তিনি সংকটমুক্ত হননি।
এদিকে একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন “দৈনিক আমাদের দেশ” পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে খাগড়াঘাট গ্রামে। আমার বাড়ির উপর দিয়েই মেন লাইনের একটি খুঁটি প্রায় দেড় হাত হেলে আছে। তারগুলো বাড়ির ছাদের এত কাছে ঝুলছে যে হাত দিয়েই ধরা যায়। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে শ্যামনগর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বরাবর মৌখিক অভিযোগ করলে লোক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সাইদুলের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আল্লাহ না করুক, যে কোনো মুহূর্তে আমার বাড়ি সহ আশেপাশের আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, পল্লী বিদ্যুতের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও তারগুলো অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
Leave a Reply