সাতক্ষীরায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, কথিত গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়দানকারী, নৌবাহিনী থেকে বরখাস্ত ও কোর্ট মার্শাল হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। দেবহাটা থানার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরায় বসবাসকারী সাহেব আলীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলায় সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। আটককৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) দেবহাটা থানার চন্ডিপুর গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক ও চন্ডিপুর কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক করিম উল্লাহ ও ফরিদা পারভীনের ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা দাবি ও আদায়ের ঘটনার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, কথিত গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়দানকারী, আলোচিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী কালীগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের সহযোগী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি আইনে মামলা হয়েছে।

দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরায় বসবাসকারী সাহেব আলী বাদী হয়ে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বাদী সাহেব আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীসহ আরও ২-৩ জনকে আসামি করে গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও বনিবনা না হওয়ার কারণে ৬-৭ মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাক দেওয়া স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের মেলামেশার ছবি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে বাদী চেয়ারম্যানের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে ২০ অক্টোবর আবার ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত আছে বলে বাদী দাবি করেছেন। বাদী সাহেব আলী আরও অভিযোগ করেন, প্রথমে ৫ লাখ টাকা, পরে ৩ লাখ এবং একপর্যায়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে সমঝোতার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেইলিং অব্যাহত রাখে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নৌবাহিনী থেকে বরখাস্ত ও কোর্ট মার্শালে চাকরিচ্যুত হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। পরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে বিভিন্ন ভিডিওর ফাঁদে ফেলে জেলাজুড়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার অনিয়ম-দুর্নীতির ধুয়া তুলে ঠিকাদার ও জনপদ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ছবি ব্ল্যাকমেইলিং করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছিলেন। জেলাজুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, বালুমহল, নির্মাণাধীন রাস্তার ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত কয়েক মাস আগে কৃষ্ণনগরে ৩ অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ ৪ ডাকাত ধরা পড়ে। ডাকাতদের কাছে অস্ত্র বিক্রেতা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা, অস্ত্র ও মাদক কারবারি নাসিরের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রতিবেদনের ওই সাংবাদিককে জড়িয়ে ডাকাতদের সঙ্গে ছবি বানিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নিজস্ব আইডি থেকে প্রচার করে। উক্ত ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে কালিয়াগঞ্জ থানায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাদক ব্যবসায়ী নাসিরের নামে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াগঞ্জ থানায় ১৫২১ নং একটি জিডি করা হয়। যেটি বর্তমানে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সাতক্ষীরায় তদন্তাধীন ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রক্রিয়াধীন আছে। বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকলেও তার সহযোগী সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের পরোয়ানভুক্ত আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান। তাকে ছাড়ানোর জন্য একটি রাজনৈতিক মহলকে দিনভর দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩