ইয়াছিন মোড়ল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শিবপুর মৌজায় প্রায় তিন বছর ধরে জমি কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। ভূমি অফিসের সার্ভারে মৌজাটি দেখা না যাওয়ায় জমির মালিকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। জমি বিক্রি, নামজারি ও ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ভূমিমালিকেরা।
শিবপুর মৌজার মোট আয়তন শূন্য দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার। মৌজাটিতে ১১-১৩টি পরিবারের বসবাস। বাকি জমির বড় অংশই কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয় এখানকার জমিতে।
স্থানীয় ভূমিমালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে শ্যামনগর পৌরসভার শিবপুর মৌজা ভূমি অফিসের সার্ভারে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ওই মৌজার জমি কেনাবেচা ও নামজারি কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকারি সার্ভারে মৌজাটি না থাকায় ভূমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না জমির মালিকেরা।
শ্যামনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রাজীব রায় চৌধুরী জানান, ২০২৪ সাল থেকে শ্যামনগর পৌরসভার শিবপুর মৌজা ভূমি সার্ভারে দেখা যাচ্ছে না। তবে মৌজাটি উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ভূমি সার্ভারে দেখা যায়। কিন্তু এতে শ্যামনগরের জমির মালিকদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
জমি বিক্রির প্রয়োজন হলেও সার্ভারে মৌজা না থাকায় জমির নামজারিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।
শিবপুর মৌজার ভূমিমালিক ও রামজীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিবর রহমান গাজী জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। এ কারণে তিনি জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভূমি সার্ভারে শিবপুর মৌজা দেখা না যাওয়ায় জমির নামজারি করতে পারছেন না। এতে প্রয়োজনের সময় জমি বিক্রি করতে না পেরে সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত রোববার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে সার্ভারে শিবপুর মৌজা না থাকায় জমির মালিকদের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত মৌজাটি সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করে ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Leave a Reply