৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্ত-খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্ত-খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্ত-খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ছয় বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

 

ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বোর্ডার এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় বড় গর্তে গাছের ডাল পুঁতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংস্কারের পর থেকে বোর্ডার এলাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কোথাও বিটুমিন উঠে গেছে, কোথাও ঢালাই নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও বিটুমিন ও ঢালাই উঠে এক জায়গায় জমে ‘টিলা’র মতো উঁচু অংশ তৈরি হয়েছে।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামের অনেক পরিবহণ চাঁদপুর হয়ে চলাচল করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ওপর প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন নির্ভরশীল। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চাঁদপুর থেকে নোয়াখালী যেতে স্বাভাবিকভাবে যেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এখন প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

মোটরসাইকেল চালক জায়েদ হোসেন বলেন, রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে লক্ষ্মীপুর সদরের দালাল বাজার পর্যন্ত সড়কের যে অবস্থা, একজন যাত্রীর লক্ষ্য থাকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু এখন সেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

 

ট্রাকচালক মাহমুদ হোসেন বলেন, রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। বড় বড় হাইড্রোলিক ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঢালাই দেওয়া হয়নি। এ কারণে দিনে গাড়ি চালিয়ে রাতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

 

কক্সবাজারগামী জোনাকি পরিবহণের চালক মো. রুবেল বলেন, জায়গায় জায়গায় এমন অবস্থা যে গাড়িতে প্রচণ্ড ঝাঁকি লাগে। কখন গাড়ি উলটে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এতে গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়, গাড়ির বেয়ারিং নষ্ট হয়ে যায়। শরীরেও মারাত্মক ক্ষতি হয়। ফলে টানা দুই দিনও গাড়ি চালাতে পারি না।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত সড়কটির গর্তে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

 

সিএনজিচালক মো. বেলাল হোসেন বলেন, সড়কটি চার লেন করা হলে খুব ভালো হয়। ছোট গাড়িগুলো চালানোই যাচ্ছে না। রায়পুর, দালাল বাজার, জকশিন ও হাজিরপাড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে।

 

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই সড়কের বোর্ডার অংশের দুই কিলোমিটার সংস্কার করা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে অবসান হয়েছে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির। সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এখন কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন গড়ে তোলা হয়েছে।

 

গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন দেখা গেছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি জানান, ২০০টি ইলেকট্রনিক বাস আনা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে সংস্কার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজও অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে।

 

মাহদী আমিন আরও বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসে সরকার সবার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।

৬ মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে: মাহদী আমিন

বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদল হিসেবে আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করছে। তিনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের মানুষদের ন্যূনতম রাজনৈতিক পরিসরও দেওয়া হবে না।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত-শিবিরকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে আজকে আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিয়েছে জামায়াত-শিবির।’

 

তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা বিরোধীদলকে সবসময় মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল হয়েই আওয়ামী লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে ন্যূনতম স্পেস দেবে না।’

 

গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা গণঅধিকার পরিষদকে যারা জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, সেসব নেতাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে।’

 

জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন ‘সতর্ক’ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবির কতটা ভয়ংকর, এখন অন্তত গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে এবং এর প্রেক্ষিতে সারাদেশে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানাই।’

 

গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আশা করি, গণঅধিকার পরিষদের আর কেউ টকশো কিংবা বক্তব্যে আর কখনো জামায়াতি বয়ানে বক্তব্য দেবে না।’

 

জামায়াতের মহাসচিবের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, ‘দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের সেক্রেটারি জেনারেল গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আজকে যে জঘন্য বক্তব্য দিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

 

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, গণঅধিকার পরিষদ তখন রাজপথে ছিল।’

 

জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে! কিন্তু ইতিহাস তো বদলানো যায় না।’

বিরোধীদল হয়েই আ.লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকায় মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য নিয়ে আসা ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে ফেলেছিলেন মো. তাজুল ইসলাম (৬৫)। পরে সেই টাকা রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে তাকে ফেরত দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশ।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কাউতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মোড়ে আসেন। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধ করে চলে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকার ব্যাগটি সড়কে পড়ে যায়। তবে বিষয়টি তিনি তখন বুঝতে পারেননি।

 

এদিকে কাউতলী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নরুল আমিন রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

 

কিছুক্ষণ পর টাকা হারানোর বিষয়টি টের পেয়ে তাজুল ইসলাম কাউতলী এলাকায় এসে ব্যাকুল হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরা তার কাছে টাকার পরিমাণ, নোটের মূল্যমান ও ব্যাগের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার করা টাকার পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।

 

পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থিত লোকজনের সামনে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১০০টি নোটে থাকা মোট ৫০ হাজার টাকা তাজুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলাম। আমার সব টাকা রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল, প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি, এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার টাকা পেয়েছেন। তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পর তারা আমাকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ আছে। তাদের কারণেই আমি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট হয়ে যেত।

 

ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমান বলেন, টাকার ব্যাগটি পাওয়ার পর এটিএসআই নরুল আমিন বিষয়টি আমাকে জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। টাকা হারানোর বিষয়টি জানিয়ে তাজুল ইসলাম আমাদের কাছে এলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মেয়ের বিয়ের বাজারের ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে পেলেন ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায়

প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামোকে অপর্যাপ্ত ও শ্রমিকবান্ধব নয় বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন (SSF)। একই সঙ্গে বর্তমান বাজার দর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিও জানায় সংগঠনটি।

 

সম্প্রতি সময়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ শ্রমিক ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য ২০২৬ সালের খসড়া নিম্নতম মজুরি সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে শ্রমিকপক্ষ থেকে গুরুতর উদ্বেগ ও জোরালো আপত্তি জানাচ্ছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন।

 

SSF-এর মতে, প্রস্তাবিত মজুরি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন শ্রমিকের মজুরি শুধু কর্মঘণ্টার বিনিময়ে প্রদেয় অর্থ নয়; বরং শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

ফেডারেশন মনে করে, নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মালিকপক্ষের সক্ষমতাকে বিবেচনা করলে চলবে না। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাজারদর, জাতীয় আয়, উৎপাদনশীলতা, শিল্পের সক্ষমতা এবং শ্রমিকের মৌলিক চাহিদাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

 

বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের বয়সের কারণে তাদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজের ধরন, দায়িত্ব ও উৎপাদনে অবদানের ভিত্তিতে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। বয়সের অজুহাতে কোনো শ্রমিককে ন্যায্য শ্রমমূল্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

 

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান দাবি সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো,

১. বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

২. শ্রমিক ও তার পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে জীবনযাপন উপযোগী মজুরি (Living Wage) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

৩. তরুণ শ্রমিকদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য ও কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।

৫. এমন পর্যায়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন পূর্ণকালীন শ্রমিক আইনি কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেও দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য না হন।

৬. প্রস্তাবিত খসড়া সুপারিশ পুনর্মূল্যায়ন করে শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডে আনুষ্ঠানিক শুনানির পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন বিশ্বাস করে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই শিল্প সম্পর্কের অপরিহার্য শর্ত। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও আরও ত্বরান্বিত হবে।

 

ফেডারেশন আশা করে, নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকপক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত ও শ্রমিকবান্ধব নিম্নতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে।

প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের

শ্যামনগরে জুলাই মাসে পুলিশের অভিযান, পাঁচ লাখ টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৩

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানা পুলিশ জুলাই মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শ্যামনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানার উপপরিদর্শকসহ পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ৭০৩ পিস ইয়াবা এবং ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০ টাকা মূল্যের ১৮৩ বোতল কোরেক্স ফেনসিডিল।

 

এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি নম্বরবিহীন কালো রঙের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ও মোটরসাইকেলসহ জব্দ করা মোট সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬০ টাকা।

 

উপজেলার কাশিমাড়ী, সোয়ালিয়া, আটুলিয়া, নকিপুর, বল্লার টোপ, বংশীপুর, মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশন এলাকা, নওয়াবেঁকী, কৈখালী পরাণপুর, নুরনগর ও মাদিয়া সহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।

 

এসব ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বরগুলো হলো: ১, ১৬, ১৮, ২৭, ৩০, ৩১, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪, ৪৫ ও ৪৬।

 

অভিযান পরিচালনা করেন শ্যামনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্বাস আলী, খন্দকার আনোয়ার হোসেন, অনিরুদ্ধ রায়, আসাদুজ্জামান নূর, মোহাম্মদ বিপ্লব হোসেন, চিরঞ্জিত গাইন এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কৈখালী ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ *সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী* বলেন, “মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, সামাজিক ও যুবসংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

শ্যামনগরে জুলাই মাসে পুলিশের অভিযান, পাঁচ লাখ টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৩।

নওগাঁয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা ৮০টি হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ৮০টি হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর

 

 

নওগাঁয় উদ্ধার হওয়া হারানো মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিচ্ছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে হারিয়ে যাওয়া ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া এসব মোবাইল ফোন যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত জুলাই ২০২৬ মাসে জেলা পুলিশের আইসিটি শাখা, ক্রাইম শাখা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

 

মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় মোবাইলের মালিকরা জেলা পুলিশের এই জনহিতকর উদ্যোগের জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

 

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। বলা যায়, মোবাইল ফোন এখন মানুষের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জেলা পুলিশের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিভিন্নভাবে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি।

 

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

১৬-৮-২০২৭

নওগাঁয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা ৮০টি হারানো মোবাইল, প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ছয় বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

 

ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বোর্ডার এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় বড় গর্তে গাছের ডাল পুঁতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংস্কারের পর থেকে বোর্ডার এলাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কোথাও বিটুমিন উঠে গেছে, কোথাও ঢালাই নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও বিটুমিন ও ঢালাই উঠে এক জায়গায় জমে ‘টিলা’র মতো উঁচু অংশ তৈরি হয়েছে।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামের অনেক পরিবহণ চাঁদপুর হয়ে চলাচল করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ওপর প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন নির্ভরশীল। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চাঁদপুর থেকে নোয়াখালী যেতে স্বাভাবিকভাবে যেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এখন প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

মোটরসাইকেল চালক জায়েদ হোসেন বলেন, রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে লক্ষ্মীপুর সদরের দালাল বাজার পর্যন্ত সড়কের যে অবস্থা, একজন যাত্রীর লক্ষ্য থাকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু এখন সেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

 

ট্রাকচালক মাহমুদ হোসেন বলেন, রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। বড় বড় হাইড্রোলিক ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঢালাই দেওয়া হয়নি। এ কারণে দিনে গাড়ি চালিয়ে রাতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

 

কক্সবাজারগামী জোনাকি পরিবহণের চালক মো. রুবেল বলেন, জায়গায় জায়গায় এমন অবস্থা যে গাড়িতে প্রচণ্ড ঝাঁকি লাগে। কখন গাড়ি উলটে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এতে গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়, গাড়ির বেয়ারিং নষ্ট হয়ে যায়। শরীরেও মারাত্মক ক্ষতি হয়। ফলে টানা দুই দিনও গাড়ি চালাতে পারি না।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত সড়কটির গর্তে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

 

সিএনজিচালক মো. বেলাল হোসেন বলেন, সড়কটি চার লেন করা হলে খুব ভালো হয়। ছোট গাড়িগুলো চালানোই যাচ্ছে না। রায়পুর, দালাল বাজার, জকশিন ও হাজিরপাড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে।

 

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই সড়কের বোর্ডার অংশের দুই কিলোমিটার সংস্কার করা হবে।

৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্ত-খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

বরিশালের বাবুগঞ্জে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে আড়িয়াল খাঁ নদে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। নদীতীরবর্তী আতঙ্কিত মানুষ গাছপালা কেটে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার আগেই সেগুলো ভেঙে নদীতে ভেসে যাচ্ছে। বসতভিটা ও সম্পদ হারিয়ে বিলাপ করছেন ভাঙনকবলিত মানুষ।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে চোখের পলকে ১০টি বসতঘর, ফসলি জমি ও গাছপালাসহ সড়কের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একদিনে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা ও ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরের মানুষ।

 

শনিবার থেকে এ অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়েছে। চোখের পলকে ভেঙে যাচ্ছে বসতঘর, গাছপালা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

রহমতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, রোববার সন্ধ্যায় চোখের পলকে আড়িয়াল খাঁ নদে লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়কের অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একদিনে নদীভাঙনে মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ অনেকের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

 

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ভাঙন রোধে এসব এলাকায় দ্রুত কাজ করা হবে।

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে একদিনে ১০টি বাড়ি বিলীন

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

 

অর্থের অভাবে যখন তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণ হাজংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিবারণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিবারণ হাজং। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

নিবারণের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একদিকে শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

 

রোববার রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু চিকিৎসা করানোতেই নয়, নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা, গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

অগ্নিদগ্ধ নিবারণ হাজংয়ের পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে অবসান হয়েছে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির। সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এখন কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন গড়ে তোলা হয়েছে।

 

গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন দেখা গেছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি জানান, ২০০টি ইলেকট্রনিক বাস আনা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে সংস্কার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজও অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে।

 

মাহদী আমিন আরও বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসে সরকার সবার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।

৬ মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে: মাহদী আমিন

কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কয়েকজন সামান্য আহত হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।

 

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার নিশান মোড় থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সুহাইল’ নামের বাসটি বটতৈল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নিশান মোড় থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয়। বটতৈল এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। পরে বিভাজকে সজোরে ধাক্কা লাগে।

এ সময় বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর পেছনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও ডাবল ডেকার বাসের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। তারা নারী শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। পরে তাদের অন্য বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হলেও শিক্ষার্থী কম থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস চালানোর সময় চালকদের আরও সতর্কতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালানো উচিত। ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে সবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসের সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার খবর শুনেছি। এটি আমাদের ভাড়াকরা বাস। ওই বাসের পেছনেই আমাদের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাস ছিলো, তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেছে। কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে বলে জেনেছি তবে কেও গুরুতর আহত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে।

সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা ইবির বাসের, প্রাণে বাঁচলেন ২৫ শিক্ষার্থী

ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করতে গিয়ে সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

 

মসজিদের ইমাম আতাউল্লাহ প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেন। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর আর ওঠেননি তিনি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

 

হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের ওই বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। নামাজ পড়ানো ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নম্র স্বভাব ও সুন্দর আচরণের জন্য মুসল্লিদের কাছে তিনি ছিলেন পছন্দের মানুষ।

 

এক প্রতিবেশী বলেন, আতাউল্লাহ খুবই শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। তাকে কখনও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। এভাবে হঠাৎ তার মৃত্যু হবে, তা কেউ ভাবেননি।

 

মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, আতাউল্লাহ তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত। ছোট ছোট সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।

 

আতাউল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মুসল্লি, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়ি ও মসজিদে ভিড় করেন অনেকে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আসরের নামাজের পর তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ফজরের নামাজের সিজদায় গিয়ে আর উঠলেন না ইমাম

বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদল হিসেবে আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করছে। তিনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের মানুষদের ন্যূনতম রাজনৈতিক পরিসরও দেওয়া হবে না।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত-শিবিরকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে আজকে আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিয়েছে জামায়াত-শিবির।’

 

তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা বিরোধীদলকে সবসময় মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল হয়েই আওয়ামী লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে ন্যূনতম স্পেস দেবে না।’

 

গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা গণঅধিকার পরিষদকে যারা জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, সেসব নেতাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে।’

 

জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন ‘সতর্ক’ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবির কতটা ভয়ংকর, এখন অন্তত গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে এবং এর প্রেক্ষিতে সারাদেশে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানাই।’

 

গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আশা করি, গণঅধিকার পরিষদের আর কেউ টকশো কিংবা বক্তব্যে আর কখনো জামায়াতি বয়ানে বক্তব্য দেবে না।’

 

জামায়াতের মহাসচিবের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, ‘দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের সেক্রেটারি জেনারেল গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আজকে যে জঘন্য বক্তব্য দিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

 

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, গণঅধিকার পরিষদ তখন রাজপথে ছিল।’

 

জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে! কিন্তু ইতিহাস তো বদলানো যায় না।’

বিরোধীদল হয়েই আ.লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকায় মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য নিয়ে আসা ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে ফেলেছিলেন মো. তাজুল ইসলাম (৬৫)। পরে সেই টাকা রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে তাকে ফেরত দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশ।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কাউতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মোড়ে আসেন। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধ করে চলে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকার ব্যাগটি সড়কে পড়ে যায়। তবে বিষয়টি তিনি তখন বুঝতে পারেননি।

 

এদিকে কাউতলী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নরুল আমিন রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

 

কিছুক্ষণ পর টাকা হারানোর বিষয়টি টের পেয়ে তাজুল ইসলাম কাউতলী এলাকায় এসে ব্যাকুল হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরা তার কাছে টাকার পরিমাণ, নোটের মূল্যমান ও ব্যাগের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার করা টাকার পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।

 

পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থিত লোকজনের সামনে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১০০টি নোটে থাকা মোট ৫০ হাজার টাকা তাজুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলাম। আমার সব টাকা রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল, প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি, এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার টাকা পেয়েছেন। তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পর তারা আমাকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ আছে। তাদের কারণেই আমি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট হয়ে যেত।

 

ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমান বলেন, টাকার ব্যাগটি পাওয়ার পর এটিএসআই নরুল আমিন বিষয়টি আমাকে জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। টাকা হারানোর বিষয়টি জানিয়ে তাজুল ইসলাম আমাদের কাছে এলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মেয়ের বিয়ের বাজারের ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে পেলেন ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায়

প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামোকে অপর্যাপ্ত ও শ্রমিকবান্ধব নয় বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন (SSF)। একই সঙ্গে বর্তমান বাজার দর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিও জানায় সংগঠনটি।

 

সম্প্রতি সময়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ শ্রমিক ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য ২০২৬ সালের খসড়া নিম্নতম মজুরি সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে শ্রমিকপক্ষ থেকে গুরুতর উদ্বেগ ও জোরালো আপত্তি জানাচ্ছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন।

 

SSF-এর মতে, প্রস্তাবিত মজুরি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন শ্রমিকের মজুরি শুধু কর্মঘণ্টার বিনিময়ে প্রদেয় অর্থ নয়; বরং শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

ফেডারেশন মনে করে, নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মালিকপক্ষের সক্ষমতাকে বিবেচনা করলে চলবে না। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাজারদর, জাতীয় আয়, উৎপাদনশীলতা, শিল্পের সক্ষমতা এবং শ্রমিকের মৌলিক চাহিদাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

 

বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের বয়সের কারণে তাদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজের ধরন, দায়িত্ব ও উৎপাদনে অবদানের ভিত্তিতে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। বয়সের অজুহাতে কোনো শ্রমিককে ন্যায্য শ্রমমূল্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

 

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান দাবি সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো,

১. বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

২. শ্রমিক ও তার পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে জীবনযাপন উপযোগী মজুরি (Living Wage) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

৩. তরুণ শ্রমিকদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য ও কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।

৫. এমন পর্যায়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন পূর্ণকালীন শ্রমিক আইনি কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেও দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য না হন।

৬. প্রস্তাবিত খসড়া সুপারিশ পুনর্মূল্যায়ন করে শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডে আনুষ্ঠানিক শুনানির পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন বিশ্বাস করে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই শিল্প সম্পর্কের অপরিহার্য শর্ত। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও আরও ত্বরান্বিত হবে।

 

ফেডারেশন আশা করে, নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকপক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত ও শ্রমিকবান্ধব নিম্নতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে।

প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের

শ্যামনগরে জুলাই মাসে পুলিশের অভিযান, পাঁচ লাখ টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৩

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানা পুলিশ জুলাই মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শ্যামনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানার উপপরিদর্শকসহ পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ৭০৩ পিস ইয়াবা এবং ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০ টাকা মূল্যের ১৮৩ বোতল কোরেক্স ফেনসিডিল।

 

এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি নম্বরবিহীন কালো রঙের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ও মোটরসাইকেলসহ জব্দ করা মোট সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬০ টাকা।

 

উপজেলার কাশিমাড়ী, সোয়ালিয়া, আটুলিয়া, নকিপুর, বল্লার টোপ, বংশীপুর, মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশন এলাকা, নওয়াবেঁকী, কৈখালী পরাণপুর, নুরনগর ও মাদিয়া সহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।

 

এসব ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বরগুলো হলো: ১, ১৬, ১৮, ২৭, ৩০, ৩১, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪, ৪৫ ও ৪৬।

 

অভিযান পরিচালনা করেন শ্যামনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্বাস আলী, খন্দকার আনোয়ার হোসেন, অনিরুদ্ধ রায়, আসাদুজ্জামান নূর, মোহাম্মদ বিপ্লব হোসেন, চিরঞ্জিত গাইন এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কৈখালী ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ *সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী* বলেন, “মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, সামাজিক ও যুবসংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

শ্যামনগরে জুলাই মাসে পুলিশের অভিযান, পাঁচ লাখ টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৩।

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d