
প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনে।
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি কাঠামোকে অপর্যাপ্ত ও শ্রমিকবান্ধব নয় বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন (SSF)। একই সঙ্গে বর্তমান বাজার দর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সম্প্রতি সময়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ শ্রমিক ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য ২০২৬ সালের খসড়া নিম্নতম মজুরি সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে শ্রমিকপক্ষ থেকে গুরুতর উদ্বেগ ও জোরালো আপত্তি জানাচ্ছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন।
SSF-এর মতে, প্রস্তাবিত মজুরি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন শ্রমিকের মজুরি শুধু কর্মঘণ্টার বিনিময়ে প্রদেয় অর্থ নয়; বরং শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
ফেডারেশন মনে করে, নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মালিকপক্ষের সক্ষমতাকে বিবেচনা করলে চলবে না। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাজারদর, জাতীয় আয়, উৎপাদনশীলতা, শিল্পের সক্ষমতা এবং শ্রমিকের মৌলিক চাহিদাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের বয়সের কারণে তাদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজের ধরন, দায়িত্ব ও উৎপাদনে অবদানের ভিত্তিতে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। বয়সের অজুহাতে কোনো শ্রমিককে ন্যায্য শ্রমমূল্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান দাবি সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো,
১. বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
২. শ্রমিক ও তার পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে জীবনযাপন উপযোগী মজুরি (Living Wage) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
৩. তরুণ শ্রমিকদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য ও কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।
৫. এমন পর্যায়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন পূর্ণকালীন শ্রমিক আইনি কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেও দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য না হন।
৬. প্রস্তাবিত খসড়া সুপারিশ পুনর্মূল্যায়ন করে শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডে আনুষ্ঠানিক শুনানির পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন বিশ্বাস করে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই শিল্প সম্পর্কের অপরিহার্য শর্ত। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও আরও ত্বরান্বিত হবে।
ফেডারেশন আশা করে, নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকপক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত ও শ্রমিকবান্ধব নিম্নতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে।
Like this:
Like Loading...
Related
Leave a Reply