টাঙ্গাইলে মেডিনোভার ভুল রিপোর্টে রোগীর ভোগান্তি \ মহাবিপাকে ভুক্তভোগী

টাঙ্গাইলে মেডিনোভার ভুল রিপোর্টে রোগীর ভোগান্তি \ মহাবিপাকে ভুক্তভোগী

 

 

মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী

জেলা প্রতিনিধি টাংগাইলঃ

 

টাঙ্গাইল শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড ক্লিনিকের ভুল রিপোর্টে এক রোগীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছিলেন। ওই ভুলের বিপরীতে সঠিক রিপোর্টের জন্য একই রোগীকে আরো তিনটি হাসপাতালে পরীক্ষা করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তাকে। ওই রোগী হলেন, ঢাকা ট্রিবিউনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল নোমান।

 

জানা যায়, গত ৬ই এপ্রিল রোজ মঙ্গলবার শারীরিক সমস্যা অনুভব করাতে তিনি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড টাঙ্গাইল শাখায় বুকের এক্সরে করান। ওই এক্সরেতে তার লাঞ্চে পানি জমেছে বলে রিপোর্টে দেখানো হয়। পরদিন বুধবার (৭ এপ্রলি) বিকেলে নোমান রিপোর্টটি সোনিয়া ক্লিনিকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নুরুল আমিন মিঞাকে দেখান। ডা. নুরুল আমিন মিঞা ওই রিপোর্ট দেখে লাঞ্চে পানি জমার বিষয়টি সাংবাদিক নোমানকে জানান। তিনি নোমানের লাঞ্চ থেকে পানি রেব করার সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) নোমান সোনিয়া ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে এন্যানেস্থশিয়া, পেইন এবং ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সোনিয়া নার্সিং হোমের কনসালটেন্ট ডা. এন.কে. আলম তার লাঞ্চ থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে পানি বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু একাধিকবার পুশ করেও তার লাঞ্চ থেকে পানি বের হয়নি। পরে চিকিৎসক এন.কে. আলম সাংবাদিক নোমানের লাঞ্চে পানি না পেয়ে হতবাক হয়ে যান। চিকিৎসক এন.কে. আলম আরও নিশ্চিত হবার জন্য সোনিয়া ক্লিনিকে নোমানের আল্ট্রা করান। আল্ট্রা রিপোটেও লাঞ্চে পানি ধরা পড়েনি। পরে বিষয়টি চিকিৎসক এন.কে. আলম ডা. নুরুল আমিনকে জানালে তিনি সোনিয়া ক্লিনিকে শুধু ডান কাত করে এক্সরে করতে বলেন। পরে সেই এক্সরে রিপোর্টেও তার লাঞ্চে কোনো পানি ধরা পড়েনি। এতে করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নুরুল আমিন মিঞা অবাক হন। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত শনিবার (১০ এপ্রিল) আবার জাতীয় সব হাসপাতালে এক্সরে করালে সে রিপোর্টেও পানি ধরা পড়ে না। কিন্ত মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড টাঙ্গাইল শাখা থেকে তার লাঞ্চে পানি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত ভাবেই জানানো হয়। বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য নোমান বুধবার (১৩ এপ্রিল) আরেকটি ক্লিনিকে এক্সরে করান। সেই রির্পোটেও লাঞ্চে কোন পানি পাওয়া যায়নি। মেডিনোভার হাসপাতালে কর্মরত রিপোর্টদাতার ভুলের কারণে সাংবাদিক নোমান বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই রিপোর্টের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়।

 

এ ব্যাপারে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, মেডিনোভা হাসপাতালের ভুল রিপোর্টের কারণে আমি চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভুল রিপোর্টের কারণে আমার শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। এমন ভুলের কারণে আমার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো। এ ঘটনায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড টাঙ্গাইল শাখার কর্তৃপক্ষ ও ভুল রিপোর্টদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল সোমবার টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নুরুল আমিন মিঞা সর্বশেষ রির্পোটগুলো দেখে জানান, ‘আপনার লাঞ্চে কোন পানি নেই। আপনার সব কিছু ঠিকই আছে’

 

সোনিয়া ক্লিনিকের চিকিৎসক এনকে আলম বলেন, যথারীতি নিয়মে ওইদিন নোমানের লাঞ্চ থেকে পানি বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু লাঞ্চ থেকে তার কোন পানি বের হচ্ছে না। কিন্তু মেডিনোভার রিপোর্টে পানি রয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে আমরা তার আল্ট্রা করাই। আল্ট্রাতেও তার কোন পানি পাওয়া যায়নি।

 

সাংবাদিক নোমানের সাথে থাকা তার সহর্কমী জাতীয় দৈনিক প্রভাতী খবরের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি রবিন তালুকদার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃক্ষজনক। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সেই সাথে দ্রুত প্রশাসনের হস্তকেক্ষপ কামনা করছি।

 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নুরুল আমিন মিঞা বলেন, আমার কাছে আসা রোগীর মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে করানো এক্স্রে সুস্পষ্টভাবেই পানি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এই রির্পোটের বিষয়ে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের উপযুক্ত জবাবদিহিতা থাকলেও থাকতে পারে।

 

এ ব্যাপারে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড টাঙ্গাইল শাখার ম্যানেজার হায়দার বলেন, বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার রির্পোটটি কয়েকজন প্রফেসরকে দেখানো হয়েছে। তারা কোন রির্পোটে কোন ভুল পাননি। রির্পোটটি সঠিক বলেও তিনি দাবি করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‎বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার ২০২৫-২৬ কার্যবর্ষের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসেন কে  সভাপতি এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে
কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিতে বলা হয়েছে।

‎নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো. ইমন হোসেন বলেন,”এই দায়িত্ব আমার কাছে কেবল একটি পদ নয়- এটি একটি দায়িত্বের প্রতিজ্ঞা। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি তরুণ লেখকের কলমে লুকিয়ে আছে পরিবর্তনের শক্তি, জাগরণের আগুন, আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আমি চাই তরুণ কলাম লেখকদের কলম হোক হাতিয়ার – স্বপ্নের,সাফল্যের, প্রতিবাদেরও, যেখানে শব্দ জন্ম দেবে চিন্তার, আর চিন্তা জাগাবে মানবতা। আমাদের লক্ষ্য শুধু লেখা নয়—সমাজে আলোর বীজ বপন করা। আমার বিশ্বাস  তরুণ কলাম লেখক ফোরাম হবে সেই মঞ্চ, যেখানে তরুণের ভাবনা মিলবে দেশের হৃদস্পন্দনের সাথে, আর কলম হবে পরিবর্তনের পতাকা।”

সাধারণ সম্পাদক জান্নাতি খাতুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, কলমের রাজ্যে আজ নতুন সূর্যের উদয়। দায়িত্ব নয়, এটি এক বিশ্বাস—চিন্তার প্রদীপ জ্বেলে ফোরামকে স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছে দেওয়া।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—প্রতিটি শব্দে জাগবে সত্য, প্রতিটি লেখায় ফুটবে প্রজ্ঞার ফুল। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এখন হবে এক অগ্নিশিখা—যেখানে কলম হবে তরবারি, চিন্তা হবে বিপ্লবের অঙ্গীকার”।

প্রসঙ্গত, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের পরামর্শ দেওয়া, পত্রিকায় লেখা প্রকাশে সহযোগিতাসহ লেখালেখি বিষয়ক সভা, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোবিপ্রবি শাখার নেতৃত্বে ইমন-জান্নাতি

 

মেহেদী হাসান:

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার এর আয়োজন  সম্পন্ন হয়েছে।

১০ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ঐতিহ্যবাহী নকিপুর জমিদার বাড়ি মাঠ প্রাঙ্গণে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে, এলাকার সাধারণ কৃষকদের বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদের জন্য এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

 

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, খুলনা কৃষ ইনস্টিটিউট দৌলতপুরের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ জনাব এস এম ফেরদৌস হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জামাল ফারুক।উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফকিরহাট। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগরের সুযোগ্য কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হুদা এবং উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ, শ্যামনগর উপজেলা শাখার অন্যতম নেতা জনাব হাজী আশরাফুজ্জামান। উক্ত অনুষ্ঠান সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র শেখ সিরাজুল ইসলাম মিলন।অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, প্রভাষক সামিউল ইমাম আজম মনির, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু কৃষ্ণান্দ মুখার্জী, বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক এ মাজিজুল হক, বাবু রনজিত দেবনাথ, শেখ মেহেদী হাসান, এস এম তরিকুল ইসলাম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে, বক্তারা বলেন এলাকার একমাত্র মিষ্টি পানির খালটি সাধারণ কৃষকদের বোরো মৌসুমে সেচের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মানুষ তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে এই খালটি নেট পাটা দিয়ে লোনা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে খালটিতে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রেখেছে। যাহার ফলে ৬০০-৭০০ জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকদের দাবি অনতিবিলম্বে খালটি অবমুক্ত করা সহ খালটিতে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে,দেশের কৃষি খাত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত  

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d