বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ জনরায় পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা এবং বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার (১৯ জুন) বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আমরা সেই ভোটাধিকারের লড়াই চালিয়ে যাব। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি যদি দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করে, তবে সরকারের পতনধ্বনি বাজতে সময় লাগবে না।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষ ও অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “গোপালগঞ্জের উন্নয়নের মডেল এখন বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তবে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, তা অধরাই থেকে যাবে।”

 

বিএনপির বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করে তারা হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আরাম-আয়েশে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, এখন সন্তানদের ঠিকাদারি কাজ দিয়ে যে নোংরা রাজনীতি জন্ম দিচ্ছেন, তা জনগণ মেনে নেবে না।”

 

বাগেরহাটে শেখ পরিবারের রাজত্বের সমাপ্তি ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাগেরহাটের ঐতিহ্যের ধারক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যেখানে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেখানেই তা নিশ্চিত করা এনসিপির লক্ষ্য। এ সময় তার সাথে এনসিপির বাগেরহাট জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রাজধানী শাহবাগ থানা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতের নাম- মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮)।

 

শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) বিকাল আনুমানিক ৪টায় শাহবাগ থানাধীন একটি হোটেলের নিচতলায় বসে মো. এরশাদ আকন্দ নিজেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয়ের নিকটাত্মীয় পরিচয় দেন। তিনি বাদী জনৈক ছেলেকে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

 

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টায় টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মো. এরশাদ আকন্দকে গ্রেফতার করে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ডিভাইস ও মোবাইল সহকারে হলে অবস্থান করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়।

 

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে ও কেন্দ্রের বাহিরে ঢাকা কলেজে মূল ফটক থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দন্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী অন্তত ১৬ জনকে ১ থেকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষায় সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে পাঠিয়েছে। এরপর বাহিরে থেকে সেই উত্তর আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হল যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়ছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সপর্দ করা হয়েছে। আটকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এরপর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চার কিশোরী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে পরে জানা যায়, ওই চার কিশোরী নিজেদের পরিচিত চার যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে ওই চার যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় চার বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

ঘটনার পর শ্যামনগরজুড়ে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বান্ধবীর একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রা, আর তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীর কাছে নাটক সাজিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়েকে জিন-পরি নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকও করিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার হয়েছে। ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।

 

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সাগর হোসেন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে বিক্রি করে দেন। দত্তক হিসেবে ক্রেতা ছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫) দম্পতি। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও অন্তত তিনজন ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, সন্তানকে বিক্রির সময় সাগর প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি ওই দম্পতির সামনে অন্য এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই তিনি সন্তান বিক্রি করছেন।

 

অন্যদিকে নিজের আসল স্ত্রী তানজিলা খাতুনের কাছে বাচ্চার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ‘জিনে নেওয়ার’ গল্প ফাঁদেন এবং জিনের মাধ্যমেই বাচ্চা ফেরত আনা হবে আশ্বাস দিয়ে ২১ দিন অতিবাহিত করেন।

 

পরে বাচ্চার খোঁজ না পেয়ে তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে জানান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি ও কেনাবেচায় সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, তাদের আরও দুটি সন্তান আছে। তৃতীয় সন্তান জন্মের ১৩ মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দুই শিশু জন্মের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে পড়ে তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, ‘যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সব বাস একক কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকদের সমন্বয়ে একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মান, অভিন্ন রঙ, বৈধ ফিটনেস এবং প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজ এড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে।

 

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলবে এবং কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না।

 

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়কে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বাস মালিকরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

 

 

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

 

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান।

 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

 

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

 

 

 

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

“পঞ্চগড় জেলাকে আপনাদের কাঙ্খিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই-নবাগত পুলিশ সুপার”

 

রিপোর্টঃমোখলেছুর রহমান চৌধুরী (পঞ্চগড়-ব্যুরো প্রধান)

 

পঞ্চগড়ে নবাগত সম্মানীত পুলিশ সুপার মোঃআবু সাঈমের সঙ্গে অত্র জেলার সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত 18/06/26 (বৃহঃপতিবার) বিকেলে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় নবাগত পুলিশ সুপার মোঃআবু সাঈম মহোদ্বয় সাংবাদিকের সাথে পরিচিতি পর্বে অংশ নেন এবং সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নয়ন,জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পেশাদায়িত্ব,সেবা ও সততা এই তিন মূলনীতিকে সামনে রেখে সমগ্র পঞ্চগড় বাসির নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন,পঞ্চগড়ে শান্তি শৃংখলা রক্ষা,অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ।অত্র পঞ্চগড় জেলার গণমাধ্যম কর্মীরা শান্তি পূর্ণ জেলা পঞ্চগড় গড়ার জন্য নানা রকম প্রশ্ন ও পরামর্শ দেন।নবাগত পুলিশ সুপার এসব প্রশ্নের উত্তর দেন পরামর্শগুলো আমলে নেন।এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিফাত রাব্বান,ফরহাদ হোসাইন সহ অর্ধশত গণমাধ্যম কর্মী অত্র মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চগড় জেলাকে আপনাদের কাঙ্খিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই-নবাগত পুলিশ সুপার”

গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ জনরায় পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা এবং বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার (১৯ জুন) বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আমরা সেই ভোটাধিকারের লড়াই চালিয়ে যাব। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি যদি দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করে, তবে সরকারের পতনধ্বনি বাজতে সময় লাগবে না।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষ ও অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “গোপালগঞ্জের উন্নয়নের মডেল এখন বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তবে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, তা অধরাই থেকে যাবে।”

 

বিএনপির বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করে তারা হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আরাম-আয়েশে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, এখন সন্তানদের ঠিকাদারি কাজ দিয়ে যে নোংরা রাজনীতি জন্ম দিচ্ছেন, তা জনগণ মেনে নেবে না।”

 

বাগেরহাটে শেখ পরিবারের রাজত্বের সমাপ্তি ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাগেরহাটের ঐতিহ্যের ধারক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যেখানে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেখানেই তা নিশ্চিত করা এনসিপির লক্ষ্য। এ সময় তার সাথে এনসিপির বাগেরহাট জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহতের সঙ্গে থাকা তরুণীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ঘটনার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজু আহম্মেদ ওরফে লাল চাঁন (৩২), সজীব মৃধা (২৮) ও জিহাদ মিয়া (২১)।

 

 

শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

 

 

তিনি বলেন, গত ১৬ জুন রাতে তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) নামে এক যুবক বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মাওয়া যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের উপর অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী লামিয়া আক্তার। তারা বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

 

 

এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে পবনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে লামিয়া আক্তারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

 

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত পবনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে।

 

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা নিয়মিত চুনকুটিয়া বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় আড্ডা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করতেন। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে তারা ছিনতাইয়ের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নিতেন।

 

 

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ছুরিকাঘাতে যুবক হত্যা, ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জে এক সম্মেলনে বলেছেন, আপনারা ত্বকী হত্যার বিচার পেয়েছেন? শুধু রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ এখানে উপহার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলতেন, ‘খেলা হবে’। এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’। এখন এখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তাড়া করছে। চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। বিএনপির নেতারা বলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজ লেলিয়ে রেখেছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মদের বিপণন ও উৎপাদনকারীর কেবল হাতবদল হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।

 

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না। সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। যারা আজ শহিদ পরিবার ও পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস করে কথা বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন।

 

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইঞ্জিনিয়ারিং সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা নারায়ণগঞ্জে ১১-দলীয় জোটকে একটি আসনে জয়ী করেছেন। ভোট গ্রহণ যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সুষ্ঠু হতো, তাহলে বাকি আসনগুলোতেও জোটের বিজয় হতো। কারণ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে— সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’।

 

জামায়াতে ইসলামীর আমীর উল্লেখ করেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের পক্ষে প্রথমে বিএনপি ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেবেন।’ একবারই তিনি প্রথম এবং শেষবারের মতো একথা বলেছেন। এরপর জনগণ ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট দিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এর কী মূল্য দিলেন? তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, সেজন্য একথা বলেছি।’ এটা লজ্জার। একটি সংগঠনের শীর্ষস্থান থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে? মানুষ কেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আমরা সেই রাজনীতি করিনি, করবও না।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। জনগণ তা মেনে নেবে না। তরুণদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশ শাসন করলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধেক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়।

এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’: জামায়াত আমীর

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগরের নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন দলটির এক পদপ্রত্যাশী নারী কর্মী।

 

তার দাবি, সংগঠনের পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে নগরের একটি অভিজাত হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুজা উদ্দিন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী এসব অভিযোগ করেন।

 

তিনি বলেন, সাংগঠনিক বৈঠকের কথা বলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলের বারে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নারীশক্তির কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনা হবে জানিয়ে পূর্বপরিচিত সাদিয়া আফরিন তাকে নগরের পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, হোটেলের শীর্ষতলায় অবস্থিত বারে সুজা উদ্দিন কয়েকজনের সঙ্গে বসে আছেন।

 

তিনি অভিযোগ করে, সেখানে বসার পর সুজা উদ্দিন তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করেন। তার কাছে সুজাকে মদ্যপ বলেও মনে হয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের পানীয় নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে সুজা উদ্দিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দেন। কিছুক্ষণ পর সাদিয়া চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান। এরপর সুজা উদ্দিন তাকে কয়েকবার পাশে গিয়ে বসতে বলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি ছিল অশালীন এবং যৌন হয়রানিমূলক।

 

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

 

তার দাবি, প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সুজা উদ্দিন তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে হুমকিসদৃশ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।

 

হোটেল থেকে বের হওয়ার পর সাদিয়া আফরিনকে ফোন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তিনি তাকে বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এটাই রাজনৈতিক কালচার।’

 

এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১৭ জুন চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান অভিযোগকারী।

 

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, ‘এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাদিয়া আফরিনের ফোন নম্বর সচল থাকলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

তরুণীকে মদের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

যে কোনো মূল্যে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে। এজন্য একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পাটওয়ারী বলেন, গণভোটের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে সংস্কারের জন্য, কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিএনপি সরকারকে বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কসহ আরও অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ করবে এনসিপি।

 

 

যে কোনো মূল্যে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)।

 

স্থানীয়রা জানান, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচের সময় খোকন চন্দ্র ঘোষের ছেলে রাহুল মোটরের বিদ্যুতের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-ছেলের মৃত্যু

স্ত্রীকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনরোষের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা। 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে ও নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

 

জানা গেছে, দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন ফিরোজ আহম্মেদ। তবে রিভার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

 

দুই মাস আগে এই দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত ১৪ জুন রিভার বাবা-মা তাদের বিয়ে মেনে নিয়ে শাকিলের বাড়িতে যান এবং মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গত বুধবার বাবার বাড়ি থেকেই শাকিলকে তালাকনামা পাঠান রিভা।

 

স্থানীয় লোকজন জানান, তালাকের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় শাকিলের সঙ্গে আসা যুবকরা বাড়ির লোকজনকে মারধর করে রিভাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে শাকিল ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

শাকিলের স্ত্রী আরফিন আলমগীর রিভা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করতেন। শাকিল আমার গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান হওয়ার পরও আমাকে নির্যাতন সইতে হয়েছে। বাবা-মা মেনে না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আগে শাকিলের বাড়িতে ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমি তাকে তালাক দিই। এই খবর পেয়ে সে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজন মারধর শুরু করে। প্রাণভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

 

নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ভাগ শিমলা গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। তবে সেখানে গিয়ে শাকিল বা তার সহযোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

স্ত্রীকে জোর করে আনতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

রাজধানী শাহবাগ থানা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতের নাম- মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮)।

 

শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) বিকাল আনুমানিক ৪টায় শাহবাগ থানাধীন একটি হোটেলের নিচতলায় বসে মো. এরশাদ আকন্দ নিজেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয়ের নিকটাত্মীয় পরিচয় দেন। তিনি বাদী জনৈক ছেলেকে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

 

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টায় টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মো. এরশাদ আকন্দকে গ্রেফতার করে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ডিভাইস ও মোবাইল সহকারে হলে অবস্থান করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়।

 

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে ও কেন্দ্রের বাহিরে ঢাকা কলেজে মূল ফটক থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দন্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী অন্তত ১৬ জনকে ১ থেকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষায় সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে পাঠিয়েছে। এরপর বাহিরে থেকে সেই উত্তর আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হল যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়ছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সপর্দ করা হয়েছে। আটকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এরপর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩