বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ১৭৭/২এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ শিশু, ১১ নারী ও ৫ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়।

 

চৌকা বিওপির হাবিরদার আশরাফ আলি জানান, পুশইন ঘটনার টের পেয়ে আমরা প্রতিরোধ করি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টার দিকে ২০/২৫জন বিএসএফ আবারও তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়র তাদেরকে ধাওয়া করলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আমরা সীমান্তে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বিশ্বকাপে পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের বস কার্লো আনচেলোত্তি।

 

ছাব্বিশ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে ফিট হতে নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলেন নেইমার। তবে হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি কার্লো আনচেলত্তি। এই ফুটবলারকে ছাড়া খেললেও হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলসাওরা।

 

এদিকে, দলে ফিরলেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিচ্ছিলেন না নেইমার। ফিটনেস ফিরে পেতে হালকা দৌড় ও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তিনি।

 

এবার ম্যাচের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছেন মেডিকেল টিমের কাছ থেকে। তাই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যাবে তার পায়ের জাদু। রোববার দলের সাথে পূর্নাঙ্গ অনুশীলনে তিনি যোগ দিচ্ছেন এই সেলেসাও তারকা।

ব্রাজিল শিবিরে সুখবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরছেন নেইমার

গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ জনরায় পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা এবং বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার (১৯ জুন) বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আমরা সেই ভোটাধিকারের লড়াই চালিয়ে যাব। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি যদি দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করে, তবে সরকারের পতনধ্বনি বাজতে সময় লাগবে না।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষ ও অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “গোপালগঞ্জের উন্নয়নের মডেল এখন বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তবে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, তা অধরাই থেকে যাবে।”

 

বিএনপির বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করে তারা হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আরাম-আয়েশে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, এখন সন্তানদের ঠিকাদারি কাজ দিয়ে যে নোংরা রাজনীতি জন্ম দিচ্ছেন, তা জনগণ মেনে নেবে না।”

 

বাগেরহাটে শেখ পরিবারের রাজত্বের সমাপ্তি ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাগেরহাটের ঐতিহ্যের ধারক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যেখানে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেখানেই তা নিশ্চিত করা এনসিপির লক্ষ্য। এ সময় তার সাথে এনসিপির বাগেরহাট জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জে এক সম্মেলনে বলেছেন, আপনারা ত্বকী হত্যার বিচার পেয়েছেন? শুধু রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ এখানে উপহার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলতেন, ‘খেলা হবে’। এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’। এখন এখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তাড়া করছে। চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। বিএনপির নেতারা বলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজ লেলিয়ে রেখেছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মদের বিপণন ও উৎপাদনকারীর কেবল হাতবদল হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।

 

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না। সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। যারা আজ শহিদ পরিবার ও পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস করে কথা বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন।

 

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইঞ্জিনিয়ারিং সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা নারায়ণগঞ্জে ১১-দলীয় জোটকে একটি আসনে জয়ী করেছেন। ভোট গ্রহণ যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সুষ্ঠু হতো, তাহলে বাকি আসনগুলোতেও জোটের বিজয় হতো। কারণ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে— সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’।

 

জামায়াতে ইসলামীর আমীর উল্লেখ করেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের পক্ষে প্রথমে বিএনপি ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেবেন।’ একবারই তিনি প্রথম এবং শেষবারের মতো একথা বলেছেন। এরপর জনগণ ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট দিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এর কী মূল্য দিলেন? তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, সেজন্য একথা বলেছি।’ এটা লজ্জার। একটি সংগঠনের শীর্ষস্থান থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে? মানুষ কেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আমরা সেই রাজনীতি করিনি, করবও না।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। জনগণ তা মেনে নেবে না। তরুণদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশ শাসন করলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধেক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়।

এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’: জামায়াত আমীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বসবাসের ক্ষেত্র পরিধি দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। তবুও মানুষের জীবনের পথ চলায় অতীত স্মৃতিগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। অতীত স্মৃতিগুলোকে জীবনের সঙ্গী করেই মানুষের পথচলা সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধময় হয়ে ওঠে। সাতক্ষীরায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর খুবই জনপ্রিয়। পরিবারের পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতার বংশ পরম্পরায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বর্তমানে তুলনামূলক খুব কমই মাটির ঘরে বসবাস করে। তবে এখনো সাতক্ষীরা জেলার কিছু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু কিছু মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করছে। মাটির ঘরে বসবাসরত এমন পরিবার বর্তমান সময়ে খুব কমই চোখে পড়ে।

সাতক্ষীরায় কিছু মানুষ এখনো মাটির ঘরে বসবাস করছেন পরিবারের স্মৃতি আঁকরে ধরে। তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির ঘরে বসবাস করছেন এ সংখ্যা খুবই কম। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের পূর্বপুরুষগণ মাটির ঘরেই বসবাস করতো। মাটির ঘর মূলত গ্রামের মানুষের কাছে ‘কোঠা ঘর’ নামেই বেশ প্রচলিত ছিল। মাটির ঘরেই কেটে গেছে রহিমা খাতুনের প্রায় এক জীবন। এখনো স্বামীর রেখে যাওয়া সেই মাটির ঘরই তার জগৎ। তার সাজানো গোছানো সংসারের সবকিছুর মধ্যে মাটির ঘরটিই যেনো তার কাছে শান্তিনীড়। রহিমা খাতুনের (৬৮) ভাষ্য মতে, প্রায় ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মাটির ঘরে বসবাস করছেন। এই মাটির ঘরটিই তার সুখ দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু।

ঠিক একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে সাতক্ষীরায় কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মুড়াগাছায় গ্রামের সেলিনা বেগমের (৬০) সারা জীবন ধরেই মাটির ঘরে বসবাস করে আসছে। এখনো তিনি তার জীবনের শেষ সময়টুকু মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে পার করছেন। জীবনের সকল সুখ দুঃখের আলো ছায়ার সঙ্গী যেনো এই মাটির ঘর। তার মেয়ে বলেন ‘‘মাটির ঘরটিই হলো আমার মায়ের কাছে আনন্দ বেদনার সঙ্গী।’’

কিন্তু মাটির ঘরগুলোর সেই রূপ-সৌন্দর্য খুব একটা অনুভব করা যায় না। কেউ কেউ হয়তো পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঘরগুলো এখনো রেখে দিয়েছেন। কিছু কিছু ঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো ঘরে বসবাস করছেন এখনো। তবে বেশির ভাগই ঘরই এখন পরিবারের স্বজনদের স্মৃতি অটুট রাখতে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এক সময় প্রচুর মাটির ঘর দেখতে পাওয়া যেত। তখন একমাত্র ঠিকানা ছিল মাটির ঘর। ঘরগুলো মজবুত, টেকসই ও বসবাসের উপযোগী ছিল। ঘরগুলোর পুরুত্ব ছিল অনেক। এই ঘর তৈরিতে ব্যবহার হতো তুষ, চুনা ও মাটি। মাটির সঙ্গে ভালোভাবে তুষ ও চুনাকে মিশিয়ে তারপর কাঠের তৈরি খুঁটিগুলোর উপর দিয়ে মাটি লেপে লেপে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হতো ঘর। রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক জি এম রাজু আহমেদ বলেন, ‘‘বাপ-দাদার আমল থেকেই মাটির ঘরে আমরা বসবাস করতাম। তবে বর্তমানে টিনের ঘরে বাস করি। বাপ-দাদার স্মৃতি রক্ষার্থে মাটির ঘর রেখে দিয়েছি। ভেঙ্গে নতুন ঘর দেইনি। ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মাটির ঘরে বসবাস করেছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম আমার বাবা মাটির ঘরেই বসবাস করত। তীব্র গরমের দিনে মাটির ঘর প্রচন্ড শীতল থাকে।’’ এক কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকেই দেখে আসছিবাবা-মা মাটির ঘরে বসবাস করতো। আমাদের পারিবারিক ও সংসারের সকল সুখ-দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘর। যখন ঈদের সময় ঘনিয়ে আসতো তখন আম্মা-আব্বাকে দেখতাম সম্পূর্ণ মাটির ঘরটি পুনরায় লেপে দিত। প্রতিবছরের ঈদের আনন্দের সাথে মাটির ঘরের নিখুঁত চাকচিক্যপূর্ণ অপরুপ দৃশ্য আমাদের ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তুলতো।’’

সাংবাদিক কাজী মারুফ হোসেন বলেন, ‘‘মাটির ঘর আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আগেকার দিনে যখন টিনের ঘর এবং দালান কোঠার প্রচলন ছিল না তখন মাটির ঘরেই মানুষ বসবাস করতো। আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রবাহমান জীবনের গতিধারায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হল মাটির ঘর। বর্তমানে মাটির ঘর তেমন একটা খুব চোখে না পড়লেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় মাটির ঘরেই এখনো কেউ কেউ বসবাস করছে। গ্রামাঞ্চলে মাটির ঘরে বসবাসরত মানুষের মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে জীবনের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি মিশে রয়েছে।’’

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা ব্যারেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডালিয়া- পাগলাপীর সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য মাওলানা আস্তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মোখলেছার রহমান, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল কাদিম, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংবাদিক কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের দুইজন সদস্য তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এর কয়েক ঘণ্টা পর তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সংসদে কথা উঠাতে হবে। কি কারনে উজানে ভারী বর্ষণ ছাড়াই তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ল। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্যই মামলা করতে হবে। তা না হলে ভারতকে সামলানো যাবে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধু নয়। তিনি আরো বলেন তিস্তা নদী কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই কোটি লোক উপকৃত হবে। নদী শাসন হবে, নদী সুশৃংখল হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রংপুর-বগুড়া অঞ্চলের জনপদ উপকৃত হবে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে সর্বপরি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ১৭৭/২এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ শিশু, ১১ নারী ও ৫ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়।

 

চৌকা বিওপির হাবিরদার আশরাফ আলি জানান, পুশইন ঘটনার টের পেয়ে আমরা প্রতিরোধ করি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টার দিকে ২০/২৫জন বিএসএফ আবারও তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়র তাদেরকে ধাওয়া করলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আমরা সীমান্তে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে নেমে বাবা-ছেলেসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলেন- বাবা বাবুল হাদিমা(৪৮), তার ছেলে নেইমার, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক(২৬) ও বোন জামাই গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধারের জন্য বাবুল হাদিমার ছেলে নেইমার সেপটিক ট্যাংকে নামে। কিন্তু তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার মামা রতন সাংমা সেপটিক ট্যাংকে নামেন। একইভাবে গ্রাবিয়াল এবং শেষে রতন।

 

একে একে সেপটিক ট্যাংকে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক জানান, পুরোনো সেপটিক ট্যাংকটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩