পথচারি ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ইউএনও আজিম উদ্দিন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পথচারি ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ইউএনও আজিম উদ্দিন

পথচারি ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ইউএনও আজিম উদ্দিন

 

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ফরিদপুর)প্রতিনিধি:

গতকাল ৮তম রমজানে ইফতারের কিছুক্ষণ আগে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্টান্ডে ইফতার নিয়ে হাজির ইউএনও আজিম উদ্দিন। অনেকেই ইফতার করতে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। হঠাৎ সরকারি গাড়িতে শতাধিক প্যাকেট ইফতার নিয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার দক্ষিন পাড় বাসস্টান্ড এলাকায় হাজির হন ইউএনও আজিম উদ্দিন।নিজ হাতে রিকশাচালক, অটোচালক ও ভ্যানচালক, ছিন্নমূল মানুষ এবং পথচারীদের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও কোমল পানীয় বিতরণ করেন প্রতিটি প্যাকেটে ইফতার হিসেবে ছিল কলা, আপেল, খেজুর, মুড়ি, জিলাপি, ছোলা বুট, বেগুনি ও পিঁয়াজু। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ইফতার পেয়ে খুশি হন সেখানকার লোকজন।

পথচারি ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ইউএনও আজিম উদ্দিন
পথচারি ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ইউএনও আজিম উদ্দিন

তারা জানায়, করোনার কারণে তারা কর্মহীন, তাই টাকার অভাবে পানি খেয়েই হয়তো আজ ইফতার করতে হত।তাছাড়া উপজেলার সব হোটেল-রেস্তোরাও বন্ধ। তাই তারা ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন বলেন, রমজান মাস মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতের মাস, তাই আমরা নিজেদের খাবার থেকে কিছুটা খাবার এসব অসহায় মানুষের জন্য বিলিয়ে দিলে ওরা উপকৃত হবে।

 

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে অনেক লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রমজান মাসে কর্মহীন ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। তিনি সমাজের বিত্তবান লোকদের যার যার সাধ্য অনুসারে অসহায় লোকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এসময় সহকারি কমিশনার(ভূমি)সজিব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশু (৮) বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আফতাব ওরফে তরিকুল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশে সোপর্দ করে তারা। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এই হীন অপরাধের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের তথ্যমতে, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিকেলে তার দাদির আকস্মিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়ির পাশের বাজারে তরিকুল ডাক্তারের ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আর কোনো ক্রেতা বা অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তরিকুল ওই অবুঝ মেয়েটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের একটি গোপন রুমে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নাকাটি অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তার মা-বাবাকে এই পৈশাচিক ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ওই চিকিৎসকের দোকান ঘেরাও করে তাকে গণধোলাই দেয়।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিকেলে আমার ছোট মেয়েটি ওষুধ আনতে গেলে তরিকুল ডাক্তার এই জঘন্য ও পৈশাচিক কাণ্ড ঘটায়। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুততম বিচার চাই।’

 

এদিকে ঘটনার পরপরই রাতেই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটিকে পৈশাচিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আরও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া এবং উচ্চতর ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য ভিকটিমকে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত ডাক্তারি ও মেডিকেল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

 

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির র‌্যাম ভেঙে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

এর আগে, শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের পাশাপাশি পরিবহন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), হেলপার শাকিব হোসেন (২২) এবং সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮)।

 

শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী থেকে প্রায় ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে। প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের নামিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে ফেরিতে উঠে অপর প্রান্তের র‌্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার সময় বাসের হেলপার দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হলেও চালক বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দলের সহায়তায় বাসটি নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেরিটি ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক হয়।

 

এদিকে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ঘটনার পরদিনই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাস ডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩

সরকারি বনের জমিতে অবৈধভাবে ঘর বাড়ি নির্মান, নিরব ভূমিকায় বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা ।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাড়ইপাড়া এলাকায় দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সরকারি বনের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীরা জানান এই এলাকায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস কইরা আসতেছি আমাদের বাড়িঘর নেই সরকারি বনের জায়গার ওপর ঘরবাড়ি করে থাকতে হইলে বোন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। যদি না দেই বিট কর্মকর্তার লোকজন এসে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয় আমরা গরীব দুঃখী অসহায় মানুষ যাব কোথায়। অন্যদিকে আর এক জন ভুক্তভোগি টাকা নেওয়ার ব্যাপারে যদি কেউ জানে তাহলে এই ঘর  আবারো ভেঙ্গে দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

 

‎‎অভিযোগকারীরা জানান, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি সরকারি বনের জমি দখল করে

ডাঃ সোহান নামের এক ব্যাক্তি

পাঁচতলা ফাউন্ডেশন করে বাড়ি নির্মান করছেন। সরেজমিনে ডাঃ সোহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,

কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা, এবং সার্ভেয়ার আওলাদ হোসেন, সফিপুর ভূমি অফিসের নায়েব কাজ করতে বলেছে বলে জানান।

 

বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে ডাঃ সোহান জানান । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম কে গণমাধ্যম কর্মী ফোন করলে তিনি বলেন আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি বনের জমিতে অবৈধভাবে ঘর বাড়ি নির্মান, নিরব ভূমিকায় বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।

 

এর আগে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স বাসটি সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে, ফেরি কবরী কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পার্শ্বের র‍্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে থাকা সহকারী সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটিসহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে ওপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরিঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ৭নং ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান এসবি পরিবহণের বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যরা বাসটি থেকে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন।

 

যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

 

বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন বলেন, বাসটিতে মোট ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ছিল ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে আমরা বেঁচে যাই।

 

চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেই। এর আগে বাসের ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যান। এছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোনো লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। পরে স্থানীয়রা আমাকে নৌকাযোগে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস, এসিল্যান্ড মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহণ সংশ্লিষ্টসহ সব যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করব, এভাবেই ফেরিতে উঠা-নামার আগে বাস থেকে সবাই নেমে যাবেন।

পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার

রাজধানীর সড়কে এআই দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সফলতা এসেছে দাবি করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক সমাবেশে যোগ দিয়ে এই কথা জানান তিনি।

 

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি, যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন তারাও এগিয়ে আসবেন। আমরা বলছি না একদিনেই পারব, আমরা তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কর‍তে চাই। আমরা সবাই মিলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করব।

 

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের পর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কোনো লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মা ও ছেলেসহ সিএনজিচালিত অটোরকিশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- অটোরিকশাচালক মাহবুব (৪৫), অটোরিকশা যাত্রী জোসনা বেগম (৪০) ও তার শিশুপুত্র আশরাফুল (৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন জোসনার স্বামী কাউসার (৫০) ও তার মেয়ে আদিবা (৪)। তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাদের বাড়ি জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে।

 

পুলিশ জানায়, সকালে কসবা থেকে অটোরিকশায় করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সরাইল-বিশ্বরোড যাচ্ছিলেন কাউসার। পথিমধ্যে বিয়াল্লিশহর এলাকায় পেছন দিক থেকে একটি মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অটোরিকশার যাত্রীরা। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনজের মৃত্যু হয়।

 

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপচালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা যায়নি।

অটোরিকশায় পিকআপের ধাক্কা, মা-ছেলেসহ নিহত ৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশু (৮) বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আফতাব ওরফে তরিকুল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশে সোপর্দ করে তারা। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এই হীন অপরাধের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের তথ্যমতে, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিকেলে তার দাদির আকস্মিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়ির পাশের বাজারে তরিকুল ডাক্তারের ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আর কোনো ক্রেতা বা অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তরিকুল ওই অবুঝ মেয়েটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের একটি গোপন রুমে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নাকাটি অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তার মা-বাবাকে এই পৈশাচিক ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ওই চিকিৎসকের দোকান ঘেরাও করে তাকে গণধোলাই দেয়।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিকেলে আমার ছোট মেয়েটি ওষুধ আনতে গেলে তরিকুল ডাক্তার এই জঘন্য ও পৈশাচিক কাণ্ড ঘটায়। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুততম বিচার চাই।’

 

এদিকে ঘটনার পরপরই রাতেই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটিকে পৈশাচিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আরও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া এবং উচ্চতর ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য ভিকটিমকে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত ডাক্তারি ও মেডিকেল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

 

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।

 

যেভাবে এগিয়েছে মামলা : ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২ টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওইদিনও মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন চার্জশিটভূক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন করেন। এসময় সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান তিনি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি আসামি সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা। অপর আসামি স্বপ্নার শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার আপরাধের শাস্তি চান। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার ধার্য করেন।

 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই শিশুটির সাথে যা হয়েছে এর বর্ণনা শুনে পুরো দেশের মানুষ স্তব্ধ। এ নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা সবার চাওয়া। যারা সাক্ষী দিয়েছে তারা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আপ্লূত হয়েছেন। আদালতে ও এজলাসের বাইরে উপস্থিত সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে অঝোরে কেঁদেছেন।

 

প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি মনে করি সরকার এখানে যথেষ্ট আন্তরিক। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তীতে বিচার শুরু প্রক্রিয়া যৌক্তিকভাবে দ্রুততম সময়ে হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই সমাপ্ত করা গেছে। এখানে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্ব-প্রণোদিত অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস, ওয়ার্ড ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

আজ শনিবার (৬ জুন) কলেজের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিটি হলো— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা।

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন ডাক্তারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।

 

এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি অবিলম্বে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এই ছাত্র ধর্মঘট ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

৬ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের টানা ছুটি শেষে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ১৬ দিনের বিরতির পর আজ রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হবে নিয়মিত পাঠদান। এতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর শ্রেণিকক্ষে ফিরছে শিক্ষার্থীরা।

 

‎‎ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার (৭ জুন) থেকে। ‎

 

‎অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসার আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে আরও দেরিতে। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৪ জুন (রবিবার) থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষ খুলবে।

 

গত ২৪ মে ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাসের পরেই ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ পান। ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।

 

এদিকে, ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মাসের লম্বা ছুটি পেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) থেকে শুরু হবে।

 

তবে রাজশাহীসহ বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল রবিবার থেকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ফিরছেন। তাদের ছুটি শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার থেকে। ‎

দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-কলেজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির র‌্যাম ভেঙে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

এর আগে, শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের পাশাপাশি পরিবহন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), হেলপার শাকিব হোসেন (২২) এবং সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮)।

 

শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী থেকে প্রায় ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে। প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের নামিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে ফেরিতে উঠে অপর প্রান্তের র‌্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার সময় বাসের হেলপার দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হলেও চালক বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দলের সহায়তায় বাসটি নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেরিটি ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক হয়।

 

এদিকে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ঘটনার পরদিনই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাস ডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আজও শনিবার (৬ জুন) দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ১০০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

 

একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে রুখে দিচ্ছে এমন অপতৎপরতা। শেষ পর্যন্ত নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, হিলি, মেহেরপুর ও লালমনিরহাটে পুশইনকৃত মানুষদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

 

ভোরে মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ির হাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে এপারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবির বাধায় পণ্ড হয় পুশইনের চেষ্টা।

 

আর ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিহত করে বিজিবির সদস্যরা। পরে পতাকা বৈঠকে বিষয়টি অস্বীকার ও সীমান্তে শূন্য রেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

এদিকে, দিনাজপুর হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও চলে বিএসএফের চেষ্টা। ৫ জনকে ভোরে এপারে ঠেলে দিতে গেলে, তা রুখে দেয় বিজিবি। অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

 

একইভাবে লালমনিরহাটের ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

গতকাল শুক্রবার সকালে নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতেই ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন। তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।

 

এছাড়াও গতরাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জন। খবর পেয়ে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে তাদেরকে হেফাজতে নেয় বিজিবি। এরপর তাদেরকে পুশব্যাক করানো হয়।

সীমান্তে থামছে না বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিচ্ছে বিজিবি

সরকারি বনের জমিতে অবৈধভাবে ঘর বাড়ি নির্মান, নিরব ভূমিকায় বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা ।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাড়ইপাড়া এলাকায় দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সরকারি বনের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীরা জানান এই এলাকায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস কইরা আসতেছি আমাদের বাড়িঘর নেই সরকারি বনের জায়গার ওপর ঘরবাড়ি করে থাকতে হইলে বোন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। যদি না দেই বিট কর্মকর্তার লোকজন এসে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয় আমরা গরীব দুঃখী অসহায় মানুষ যাব কোথায়। অন্যদিকে আর এক জন ভুক্তভোগি টাকা নেওয়ার ব্যাপারে যদি কেউ জানে তাহলে এই ঘর  আবারো ভেঙ্গে দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

 

‎‎অভিযোগকারীরা জানান, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি সরকারি বনের জমি দখল করে

ডাঃ সোহান নামের এক ব্যাক্তি

পাঁচতলা ফাউন্ডেশন করে বাড়ি নির্মান করছেন। সরেজমিনে ডাঃ সোহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,

কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা, এবং সার্ভেয়ার আওলাদ হোসেন, সফিপুর ভূমি অফিসের নায়েব কাজ করতে বলেছে বলে জানান।

 

বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে ডাঃ সোহান জানান । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম কে গণমাধ্যম কর্মী ফোন করলে তিনি বলেন আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি বনের জমিতে অবৈধভাবে ঘর বাড়ি নির্মান, নিরব ভূমিকায় বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।

 

এর আগে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স বাসটি সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে, ফেরি কবরী কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পার্শ্বের র‍্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে থাকা সহকারী সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটিসহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে ওপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরিঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ৭নং ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান এসবি পরিবহণের বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যরা বাসটি থেকে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন।

 

যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

 

বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন বলেন, বাসটিতে মোট ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ছিল ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে আমরা বেঁচে যাই।

 

চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেই। এর আগে বাসের ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যান। এছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোনো লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। পরে স্থানীয়রা আমাকে নৌকাযোগে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস, এসিল্যান্ড মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহণ সংশ্লিষ্টসহ সব যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করব, এভাবেই ফেরিতে উঠা-নামার আগে বাস থেকে সবাই নেমে যাবেন।

পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার

রাজধানীর সড়কে এআই দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সফলতা এসেছে দাবি করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক সমাবেশে যোগ দিয়ে এই কথা জানান তিনি।

 

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি, যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন তারাও এগিয়ে আসবেন। আমরা বলছি না একদিনেই পারব, আমরা তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কর‍তে চাই। আমরা সবাই মিলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করব।

 

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের পর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কোনো লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মা ও ছেলেসহ সিএনজিচালিত অটোরকিশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- অটোরিকশাচালক মাহবুব (৪৫), অটোরিকশা যাত্রী জোসনা বেগম (৪০) ও তার শিশুপুত্র আশরাফুল (৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন জোসনার স্বামী কাউসার (৫০) ও তার মেয়ে আদিবা (৪)। তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাদের বাড়ি জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে।

 

পুলিশ জানায়, সকালে কসবা থেকে অটোরিকশায় করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সরাইল-বিশ্বরোড যাচ্ছিলেন কাউসার। পথিমধ্যে বিয়াল্লিশহর এলাকায় পেছন দিক থেকে একটি মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অটোরিকশার যাত্রীরা। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনজের মৃত্যু হয়।

 

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপচালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা যায়নি।

অটোরিকশায় পিকআপের ধাক্কা, মা-ছেলেসহ নিহত ৩

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩