
বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য আরও একবার অপূর্ণ রইল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিলো পর্তুগাল। তবে এটি নিয়ে আক্ষেপে পুড়তে চান না পর্তুগিজ সুপারস্টার। তার কাছে বরং ২০১৬ সালের ইউরো ট্রফিই বিশ্বকাপের সমান।
ডালাস স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছে পর্তুগাল। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে যেন নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন রোনালদো। প্রথমার্ধে গোলকিপার উনাই সিমনের বরাবর একটি শট ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি।
পরে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের স্টপেজ টাইমে মিকেল মেরিনোর গোলে নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়। একইসঙ্গে বেজে যায় পর্তুগাল ও রোনালদোর বিদায়ঘণ্টা। এই ম্যাচের আগেই রোনালদো বলেছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ।
তাই সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারে ফিফা বিশ্বকাপ জিততে না পারার অপূর্ণতা রয়েই গেল রোনালদোর। তবে তিনি নিজে অবশ্য এটি নিয়ে আক্ষেপ করতে রাজি নন। স্পেনের কাছে হারের পর মিক্সড জোনে তাই ২০১৬ সালের ইউরো জেতার কথা মনে করিয়ে দিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
“পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং সেই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রায় ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালের ইউরো, ২০১৯ সালের ইউয়েফা নেশনস লিগ ও ২০২৫ সালের ইউয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা জিতেছেন রোনালদো। তবে বিশ্বকাপে তার সুখস্মৃতি নেই বললেই চলে।
২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনাল খেলাই এই টুর্নামেন্টে রোনালদোর সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর আর কখনও সেমি-ফাইনালেও উঠতে পারেনি পর্তুগাল। আরও একটি ব্যর্থ বিশ্বকাপ মিশনের পর রোনালদো তাই অন্য তিন ট্রফির কথাই বললেন জোর দিয়ে।
“আগামীকাল আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানোর (অভিষেকের) আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি।”
এসময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, পর্তুগালের কাছে এটিই শেষ ম্যাচ ছিল কিনা? উত্তরে কোনো বার্তা দেননি রোনালদো।
“আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
Leave a Reply