আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা

আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দিলেও আলোচনার স্থান নিয়ে শর্ত দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে নয়, যন্তর মন্তর কিংবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বৈঠক হতে হবে। খবর এনডিটিভির।

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, বুধবার (২২ জুলাই) থেকেই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার আন্দোলনকারীদের সুবিধাজনক যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আপনাদের সুবিধাজনক যেকোনো সময় সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আলোচনা জেপি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে হতে পারে। আমরা অহমিকা বা মর্যাদার লড়াইয়ে বিশ্বাস করি না। আলোচনায় আমি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা উপস্থিত থাকব। ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

 

তবে সরকারের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে নয়, যন্তর মন্তর অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে হবে। এমন পরিবেশেই অর্থবহ সংলাপ সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

 

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা ও কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বেড়েছে।

 

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালালেও, আলোচনার স্থান নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সমাধান কবে আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত।


পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

বেলুচিস্তানের রুক্ষ, ধূসর পাহাড়শ্রেণির পটভূমিতে যখন একটি ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় সামরিক পোশাক পরিহিতা এক নারীকে চারপাশে সারিবদ্ধ সশস্ত্র নারী যোদ্ধা, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, কণ্ঠে অবিচল আত্মবিশ্বাস তখন সে দৃশ্য নিছক একটি প্রচার-ভিডিও থেকে অনেক বেশি কিছু হয়ে ওঠে। তা হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, একটি ঘোষণা, এবং একই সঙ্গে একটি ইতিহাসের নতুন পাতার সূচনা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাঁকে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনের একজন কমান্ডার হিসেবে, যুদ্ধনাম ‘সাদো’ নাম শাইনাজ বালোচ। ধারণা করা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র আন্দোলনে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এতটা প্রকাশ্য ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হয়েছেন।

 

তাঁর এই আবির্ভাব নিছক আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বেলুচিস্তানে নাগরিক প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটি ভিন্ন স্রোত ক্রমশ একে অপরের কাছাকাছি এসে মিলিত হচ্ছে। একদিকে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র মতো নাগরিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে আছেন মেহরাং বালোচ ও সাম্মি দীন বালোচের মতো নাম, যাঁরা জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। আর ঠিক এই দুই স্রোতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন শাইনাজ বালোচ একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী, যিনি বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাধারণ কর্মী থেকে সরাসরি এক অস্ত্রধারী কমান্ডারের ভূমিকায় উত্তরিত হয়েছেন।

 

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানের লড়াইকে বাইরের দুনিয়া দেখেছে এক সংকীর্ণ চোখে কখনো গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, কখনো পশ্চাৎপদতা, কখনো-বা বহিঃশক্তির চক্রান্ত হিসেবে। আর নারীদের বেলায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও সংকীর্ণ তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী, কেবল শোকার্ত মা-বোন হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে বারবার। শাইনাজ বালোচের আবির্ভাব সেই বহু পুরনো বয়ানকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেকে কান্নার প্রতিমূর্তি হতে দিতে রাজি নন। বরং নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সংগ্রামের গতিপথ নির্ধারণে সক্রিয় এক কুশীলব হিসেবে।

 

নিচের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তাঁর সেই বিরল সাক্ষাৎকারের মূল বক্তব্য এক নারীর ভাবনার জগৎ, যিনি নাগরিক সক্রিয়তা থেকে সশস্ত্র নেতৃত্বে পা রেখেছেন, ঠিক এমন এক মুহূর্তে, যখন বেলুচিস্তানের সংঘাত পৌঁছে গেছে নতুন এক তীব্রতায়।

 

★ ‘বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি’, নেতৃত্বের দর্শনগত ভিত্তি

 

শাইনাজ বালোচ তাঁর নেতৃত্বে ওঠার পথকে কোনো একক ঘটনার ফল বলে মানতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, এটি এক দার্শনিক উত্তরণ হেগেলের বিচ্ছিন্নতা-উত্তরণের (Entfremdung) ধারণার প্রতিধ্বনি। তাঁর যুক্তি, মানুষ নিজের প্রকৃত সত্তা খুঁজে পায় না নিঃসঙ্গতায়, বরং ইতিহাসের বৃহৎ প্রবাহে নিজেকে স্থাপন করার মধ্য দিয়েই। দখলদারিত্ব তাঁর কাছে কোনো বাহ্যিক আঘাত নয় এটি জন্ম থেকেই মানুষের ভেতরে বাস করা এক কাঠামোগত বাস্তবতা। তাঁর কথায়, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে টিকে থাকাটাই এক ধরনের আত্ম-বিচ্ছিন্নতা, আর প্রকৃত চেতনার জন্ম হয় সেই সত্য উপলব্ধির মুহূর্তে। তাই তাঁর কাছে অস্ত্র হাতে তোলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গে চূড়ান্ত পুনর্মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বেলুচিস্তানের মুক্তি সম্ভব নয় যদি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ কেবল ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকে। নারীরা এই সংগ্রামে আসছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা পূরণে, বরং নিজেদের হারানো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধারের তাগিদে।

 

★ নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না

 

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন গুম, নির্যাতন, প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেন। তাঁর দাবি, বেলুচ নারীরা কোনোদিনই আন্দোলনের প্রান্তবর্তী চরিত্র ছিলেন না, সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র উভয় পরিসরেই তাঁরা গঠন করেছেন প্রতিরোধের মূল কাঠামো। তিনি এমন এক বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা নারীর অস্ত্র হাতে তোলাকে সবসময় ব্যক্তিগত শোক বা ট্রমার ফল বলে সরলীকরণ করে। তাঁর ভাষায়, তাঁর সিদ্ধান্ত এসেছে সচেতন, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় থেকে, কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়। নাগরিক আন্দোলন যেমন বিওয়াইসি রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আনে, তেমনি তিনি মনে করেন কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে একটি সুসজ্জিত সামরিক কাঠামোর পতন ঘটানো যায় না।

 

★ নারী যোদ্ধার উত্থান, তিনটি মাত্রা

 

মজিদ ব্রিগেডের ফিদায়ী অভিযানে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শাইনাজ তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রথমত, রাজনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ রাষ্ট্র তাঁর ভাষায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে সশস্ত্র প্রতিরোধ আর ঐচ্ছিক নয়, অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ভেতরেই ঘটেছে এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর সমাজের সেকেলে, পিতৃতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলনের চাপে, যা নারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আগেই ঘরের ভেতরে মুক্ত করেছে। তৃতীয়ত, তরুণ নারীদের বাড়তে থাকা শিক্ষার হার ও রাজনৈতিক সচেতনতা। তাঁর মতে, একজন নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে দুটি বার্তা বহন করে রাষ্ট্রের প্রতি, যে তার দমননীতি ব্যর্থ হয়েছে; আর নিজের সমাজের প্রতি, যে জাতীয় মুক্তি অসম্পূর্ণ থাকবে লিঙ্গ মুক্তি ছাড়া।

 

★ আমাকে সবসময় বলা হয় নারী কমান্ডার

 

সবচেয়ে ক্ষুরধার প্রশ্নটি ছিল আত্মঘাতী অভিযানে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে এটি কি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত, নাকি হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বাধ্যবাধকতা? শাইনাজ এই প্রশ্নকেই একধরনের পক্ষপাত বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর যুক্তি, একজন পুরুষ যোদ্ধা যখন উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে যোগ দেয়, তাকে দেখা হয় আদর্শবাদী সৈনিক হিসেবে, কিন্তু একজন নারীর একই সিদ্ধান্তে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় বহিরাগত প্রভাব, মানসিক দুর্বলতা কিংবা জবরদস্তি। তাঁর ভাষায় ‘একজন পুরুষ কমান্ডারকে শুধু কমান্ডার বলা হয়, আমাকে বলা হয় নারী কমান্ডার।’ তিনি দাবি করেন, তাঁদের সংগঠনে যোদ্ধা নির্বাচন হয় দীর্ঘ আদর্শিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে, আবেগ বা প্রতিশোধের তাড়নায় নয়।

 

★ নাগরিক আন্দোলন বনাম অস্ত্র, প্রতিযোগিতা নয়, ধারাবাহিকতা

 

বিওয়াইসি-র মতো অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে শাইনাজের অবস্থান স্পষ্ট তিনি এই দুই পথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই চেতনার দুটি ভিন্ন প্রকাশ বলে বর্ণনা করেন। তবে ফ্রাঁৎস ফানোঁর বরাত দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন ঔপনিবেশিকতা যুক্তির ভাষা বোঝে না, তা কেবল সংগঠিত শক্তির সামনেই নতিস্বীকার করে। নাগরিক মিছিল ও ধরনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও মনে করেন, রাষ্ট্র এই প্রতিবাদগুলোকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা বা দমন করে চলেছে।

বৈধতা, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ এবং ভূরাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেলুচ প্রশ্নকে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রায়শই বৈশ্বিক শোষণ ও দখলদারিত্বের সহযোগী, তাই তাদের সনদের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা জাতীয় মুক্তি আন্দোলনগুলোকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তনের পথ বৈশ্বিক বিবেকের কাছে আবেদন নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করা।

 

★আমি কমান্ডার, এইটুকুই যথেষ্ট

 

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশে শাইনাজ কথা বলেন এক নারী কমান্ডার হিসেবে তাঁর নিজস্ব অবস্থান নিয়ে। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ‘প্রতিনিধিত্বের বোঝা’-র ধারণা তাঁর ভাষায়, পুরুষ সহযোদ্ধাদের কখনো পরিবারের সম্মিলিত শোকের ভার বহন করতে হয় না, অথচ নারীর কাছে সেই প্রত্যাশা থেকেই যায়। তিনি চান এমন এক বেলুচিস্তান, যেখানে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যাশাগুলোর অস্তিত্বই থাকবে না। তাঁর কাছে বিজয়ের অর্থ কেবল একটি নতুন সীমানা বা ক্ষমতার হাতবদল নয় বরং ন্যায়বিচার, লিঙ্গসাম্য ও সম্পদের যৌথ মালিকানার ওপর দাঁড়ানো এক নতুন সমাজব্যবস্থা, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় নির্ধারিত হবে যুদ্ধ বা দারিদ্র্যের ইতিহাস দিয়ে নয়, বরং তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা দিয়ে।

 

★ সম্পাদকীয় নোট

 

বেলুচিস্তানের সংঘাত প্রবেশ করেছে এক নতুন, তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। এতদিন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি মূলত নিবদ্ধ ছিল বিওয়াইসি এবং মেহরাং বালোচ, সাম্মি দীন বালোচের মতো নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর, সশস্ত্র বিদ্রোহের ভেতরকার পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত থেকে গেছে। শাইনাজ বালোচের প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংঘাতের এক লক্ষণীয় বাঁক নির্দেশ করে।

 

এই লেখাটি একটি সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক প্রতিবেদনের ভাবানুবাদ ও সাহিত্যিক উপস্থাপনা মাত্র। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎকারদাতা নিজের তা কোনোভাবেই এই লেখার অনুবাদক বা কোনো প্রকাশনার নীতিগত অবস্থান নয়।

 

একটি সশস্ত্র আন্দোলনকে বোঝার চেষ্টা তার পদ্ধতিকে সমর্থন করা নয়, বরং তা সাংবাদিকতার এক মৌলিক দায়িত্ব, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।

পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, এই বিবরণের পাশাপাশি রাষ্ট্র, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘ ও জটিল সংঘাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা গড়ে তোলার জন্য।

 

অনুবাদ ও উপস্থাপনা, জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

সূর্য ডুবে গেলেও রাজপথের উত্তাপ আর প্রতিবাদের আগুন নিভে যায়নি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সারাদিন মধ্য দিল্লি দখল করে রাখা আন্দোলন রাতেও থামেনি। সোমবার (২০ জুলাই) কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তারক্ষীর বাঁধায় পিছু হঠতে বাধ্য হয় তারা, কয়েক ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা আবারও জড়ো হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

 

বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের কণ্ঠে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে পুরো জন্তর মন্তর এলাকা মুখর দেখা যায়। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জনপথ রোডে উল্টে পড়া দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। নিচে জড়ো হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী জোরালো করতালিকা, বাঁশি এবং তালি দিয়ে তাদের সঙ্গে সুর মেলান। আরেক পাশে অনেকে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘লড়েঙ্গে, জিতেঙ্গে।’

 

দ্র প্রিন্ট বলছে, দৃশ্যটি ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সম্পূর্ণ বিপরীত, যখন একই বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশের বলপ্রয়োগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। হট্টগোলের মাঝে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলেন, ‘কতজনকে মারবে? আমরা বাড়ি ফিরে যাব না।’

 

জিন্দাবাদ’ এবং ‘নেহি চলেগি, নেহি চলেগি’ স্লোগানের মাঝে বিক্ষোভকারীরা ভারতের জাতীয় পতাকা নাড়াচ্ছেন এবং বি আর আম্বেদকরের ছবি ধরে রাখছেন।

 

তাদের মধ্যে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে একটি বেঞ্চে শুয়ে আছেন ২০ বছর বয়সি ভিডিও এডিটর মোহাম্মদ আয়ান। ইন্ডিয়া গেটের কাছে মিছিলে যোগ দেওয়ার পর পুলিশ চড়াও হলে টিয়ারশেল তার মাথায় আঘাত করে। চিকিৎসা নেওয়ার পর আয়ান সোজা আবারও জন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘অল্প কিছুদূর হেঁটেছিলাম, তার পরই পুলিশ জনতার ওপর চড়াও হয়। আমি দৌড়েছিলাম, কিন্তু আহত হই। একটি কাঁদানে গ্যাসের শেল আমার মাথায় আঘাত করে। আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি আমার বাবার বয়সের মানুষকে মার খেতে ও আহত হতে দেখেছি।’

 

তার চলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, ‘আজ পাশে না দাঁড়ালে কে দাঁড়াবে? সরকার জানুক তারা বাড়ি ফিরে যাবেন না, এখানেই অবস্থান করবেন। আমরা ফিরে যাচ্ছি না।’

 

অনেক বিক্ষোভকারীর কাছে সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপের প্রভাব কর্তৃপক্ষ যা চেয়েছিল তার ঠিক উল্টো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মউ থেকে আসা দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর বয়সি ছাত্র শ্রেয়াংশ চন্দ্র ভাস্কর জানান, এটি ছিল তার সপ্তমবারের মতো এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া। তিনি জানতেন যে সোমবার তাকে সেখানে থাকতেই হবে।

 

মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ও পোস্টার ধরে রাখা মানুষের সাগরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি জানেন কেন এত মানুষ ফিরে এসেছে?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ আমরা আর ভয় পাই না। জবাবদিহি চাওয়ার জন্য যারা আমাদের শাস্তি দেয়, তাদের আমরা ভয় পাই না। আমরা এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব।’

 

শ্রেয়াংশ বলেন, ‘যে মুহূর্তে পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করল এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ল, সেই মুহূর্তেই ভয় শেষ হয়ে গেছে।’ শ্রেয়াংশ আবার ভিড়ের দিকে ইঙ্গিত করার আগে একটু থামেন। আবার তিনি শুরু করেন, ‘আপনি কি জানেন এই মানুষগুলো কী করছিল? আমরা আহতদের রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম।’

স্লোগানে স্লোগানে মুখর দিল্লি, রাতভর অবস্থান আন্দোলনকারীদের

ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

 

সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

 

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা

 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

 

সিজেপির বিক্ষোভ

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

 

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

 

তবে ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান থামাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যরাসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে সিজেপির সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।

 

বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন। আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী।

 

সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির বিক্ষোভস্থল থেকে মিছিল নিয়ে তারা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বেশকিছু স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুবক) সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

 

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে নামে এক ব্যক্তি সিজেপি গঠন করেন, যা অতি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সমর্থন লাভ করে।

 

এর আগে গত শনিবার পুলিশ অনশনরত ৫৯ বছর বয়সি প্রখ্যাত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় আজ সোমবারের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়।

বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নতুন পরিস্থিতির আলোকে সরকারে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিস বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি কোর্ট পুলিশ অফিস পরিদর্শন করে বার্ষিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং কর্মকর্তা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার কোর্ট পুলিশ অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র, মালিকানা, আলামত সংরক্ষণাগার এবং ফোর্সদের ব্যারাক পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কোর্ট কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তাদের সুবিধা- অসুবিধা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পেশাদারিত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) জ্যোতিময় ঘোষ , সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (প্রবি) মোঃ আব্দুল্লাহ। আল মাসুদ খান, নীলফামারী কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ কোর্ট পুলিশ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিস বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ইউনিট প্রধান হলেন শহিদুল ইসলাম

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, কারাবন্দিত্ব ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ’-এর নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। তিনি মোহনা টেলিভিশন এর নওগাঁ প্রতিনিধি (অনলাইন) , বার্তা২৪.কম এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও বাংলা এডিশনের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন,এছাড়াও তিনি জাতীয় দৈনিক এদিন পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর গত ৫৭ বছরে দেশে সংঘটিত ৪৩ জন পেশাদার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডসহ আহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের একটি প্রাথমিক তালিকা দীর্ঘ ছয় মাসের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেলের প্রধান সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী আবির।

 

সংগঠনটি আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে কার্যক্রম শুরু করবে। সেলের প্রধান মোহাম্মদ আলী আবিরের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, আইনি সহায়তা প্রদান, মামলা সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

এদিকে সংগঠনের চেয়ারম্যান অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত কয়েক মাস ধরে এ কার্যক্রমের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানি ও হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নওগাঁ জেলার সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।”

 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম পূর্বশর্ত। দেশের প্রতিটি জেলায় দায়িত্বশীল ও সাহসী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করব। নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নওগাঁ জেলায় সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।” তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ইউনিট প্রধান হলেন শহিদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

২৫/জুলাই/২০২৬ইং: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও

“জুলাই সনদ”দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে “জুলাই ম্যারাথন ও আদম্য জুলাই-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার

(২৫/জুলাই/২০২৬) সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী শহর শাখার উদ্যোগে শহরের ডালপট্টি এলাকা থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহর শাখার সভাপতি সেলিমুদ্দিনের সভাপতিিত্বে ও সেক্রেটারী সোহাগ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা সভাপতি আহমাদ রায়হান।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ছাত্রশিবিরের “জুলাই ম্যারাথন“অনুষ্ঠিত 

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ও পরীক্ষার ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারির সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর পর বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ পরীক্ষা কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনসহ দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষা চলাকালে কক্ষের জানালা দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।

 

এ নিয়ে পরীক্ষা শেষে ছাত্রদল নেতা ফাহাদের সঙ্গে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ফাহাদ ও সাবেক এমপির ছেলে আকাশ উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে নিয়োগ পরীক্ষা কক্ষের ভিডিও ধারণ নিয়ে ফাহাদের সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের কথা-কাটাকাটি হয়, একপর্যায়ে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

 

এ ঘটনায় ফাহাদ ও রাকিব উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন। রাকিব বলেন, ফাহাদ একজন বিতর্কিত সভাপতি, যিনি দলীয় পদবি ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাঁর ওপর হামলা চালান বলে দাবি করেন রাকিব। অন্যদিকে ফাহাদের দাবি, রাকিব অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেন।

 

সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কারও অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাবেক এমপির ছেলে কক্ষে অবস্থান করেন এবং তাঁর সহযোগী ছাত্রদল নেতা ফাহাদ বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করেন, যা পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি নামের তালিকা ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন সাবেক এমপির ছেলে রাইয়ান আকাশ। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষার হলে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর আগেই উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, সাবেক এমপির ছেলে আকাশ ও ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষা শুরুর পর এমপিপুত্র আকাশ পরীক্ষার কক্ষে ঢোকেন এবং বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করে অন্য পরীক্ষার্থীদের বিরক্ত করেন ফাহাদ।

 

অবৈধভাবে পরীক্ষার হলে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপির ছেলে আকাশ বলেন, পরীক্ষার সময় তিনি হলে উপস্থিত ছিলেন, তবে বেশিক্ষণ ছিলেন না, অল্প সময়ের জন্য ছিলেন।

 

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, তাঁরা কোনো তালিকা ইউএনওকে দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে এবং ইউএনও জানিয়েছেন, পরীক্ষা নিরপেক্ষ হবে—এটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, কোনো সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হবে না; পরীক্ষায় যাঁরা ভালো করবেন, তাঁদেরই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রদলের মারামারি

পটুয়াখালী শহরের নবাবপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাজেদ আল খতিব (৭৩) নামে এক সিরীয় বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ ও সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ছিলেন।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খাবার দিতে আসা ব্যক্তি তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে তিনি পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে জানান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে খাটের ওপর মাজেদ আল খতিবকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি এর আগেই মারা গেছেন।

 

বাড়ির মালিক কে এম শাহাদাত খান বলেন, মাজেদ আল খতিব দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং নিয়মিত তার পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। শুক্রবার দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

 

মাজেদের শালিকা ও সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য তানিয়া আক্তার জানান, মাজেদ আল খতিব তার আপন বড় ভগ্নিপতি ছিলেন। জেলা শহরের নবাবপাড়া এলাকায় আব্দুল্লাহ ক্লিনিকের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি এখানে বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যে তিনি সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। ২০০৬ সালের দিকে মাজেদ আল খতিবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তানিয়াই ভগ্নিপতির দেখাশোনা করতেন বলে জানান তানিয়া।

 

তিনি আরও জানান, শুক্রবার বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনতে বলা হলে তানিয়া রাতে খাবার নিয়ে বাসায় পৌঁছান। এ সময় বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলেন না তানিয়া। পরে বাড়ির মালিকের সহায়তায় সদর থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে মাজেদ আল খতিবের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

 

মৃত মাজেদের ছেলে হাসান আল খতিব (৪৩) জানান, তার বাবা সিরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসেন এবং কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর পটুয়াখালীতে বসবাস শুরু করেন।

 

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে ছিলাম না। তাই প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’

 

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার ছেলে ইতোমধ্যে পটুয়াখালীতে পৌঁছেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাড়া বাসায় মিলল সিরীয় বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়ে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পরপর দুটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. আলমগীর নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে উপজেলার সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত আলমগীর (৫৫) উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে একটি হোটেল পরিচালনা করতেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীরের স্ত্রী সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়তে মসজিদে যান তিনি। পরে হাসপাতালে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়লে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

তবে চালককে পাওয়া যায়নি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ও জানান তিনি।

স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজে গিয়েছিলেন স্বামী, ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন সুধাসদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কের ওই ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত যুবকের নাম মো. শাকিল। তর বয়স ২০ বছর। তিনি মোহাম্মদপুরের ঝিগাতলা শিবপুরটালি অফিস এলাকার বাসিন্দা সেকান্দার আলী মাতুব্বরের ছেলে।

 

ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়াদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা স্থানীয় লোকজনের মুখে জানতে পারি, ধানমন্ডি সুধাসদনে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

 

এসআই ওয়াদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দিলে তারা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪০, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়েরের দোয়া প্রার্থনা ।

 

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়ের।

 

অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকার কোটা পাড়া বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়েরের দোয়া প্রার্থনা ।

পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনাটি বিএনপির পুর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

 

তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা হয়েছে। সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় দায়ী করে থানার ওসিকে ফ্যাসিস্টের দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

‎শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

 

নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ করে বলেন, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মসজিদ কমিটির অনুমতি ও তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি সেখানে ইমামতি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে মসজিদে ঢুকে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা করেছে।

সময় ‎তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে থানা গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে, গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার খুতবার ঠিক আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। তিনি দ্বিতীয় খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এঘটনায় সাঁথিয়াজুড়ে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই মসজিদে হামলা হয়েছে: এমপি মোমেন

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d