
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির
জনগণের ম্যান্ডেট সরকার গঠন করেছে। মোঃ আল আমিন।
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
লেখক মোঃ আল আমিন প্রচার সম্পাদক সাভার সরকারি কলেজ ছাত্রদল।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গঠনমূলকভাবে কাজ করা আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
ছাত্রদল বিশ্বাস করে—শিক্ষাঙ্গন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্ব বিকাশ, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাই ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সকল ছাত্রসংগঠনের সম্মিলিত দায়িত্ব। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা কিংবা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
কিন্তু একটি সংগঠন বারবার দাবি করে যে, তারা কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নয় এবং কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী হিসেবেও কাজ করে না। তাদের এই দাবিকে সম্মান জানিয়েই একটি যৌক্তিক প্রশ্ন সামনে আসে—যদি তারা সত্যিই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়, তাহলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি, সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরির অভিযোগ কেন বারবার উঠছে? এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কার স্বার্থ এবং কোন উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা কাজ করছে?
রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা অথবা ক্যাম্পাসকে সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত করা কখনোই সুস্থ ছাত্ররাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আবাসন ও পরিবহন সংকট সমাধান, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।
ক্যাম্পাসে রাজনীতি থাকবে, মতের ভিন্নতা থাকবে, বিতর্ক থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু সেই রাজনীতি হতে হবে যুক্তিনির্ভর, সহনশীল, শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব। কোনো সংগঠন যদি নিজেদের অরাজনৈতিক বা নির্দলীয় বলে দাবি করে, তাহলে তাদের কার্যক্রম, অবস্থান ও উদ্দেশ্যও হওয়া উচিত স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক। দাবি ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাঙ্গন কোনো গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মঞ্চ নয়। ক্যাম্পাস হবে শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র। এখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু ভিন্নমতের প্রতি সম্মানও থাকতে হবে। মতের প্রতিযোগিতা হবে যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে—সংঘাত, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নয়।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, শিক্ষাঙ্গনের শান্তি এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির স্বার্থে সব রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের উচিত দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, সহনশীল এবং জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করা। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশ্ন একটাই—যদি কোনো রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিক সম্পর্ক না-ই থাকে, তাহলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগের পেছনে কার স্বার্থ এবং কোন এজেন্ডা কাজ করছে?
শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি নয়, সত্য ও স্বচ্ছতা চায়। তারা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। তারা অস্থিতিশীলতা নয়, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চায়। তাই সময়ের দাবি হলো—দাবি ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাঙ্গনের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
Leave a Reply