মোঃ শহিদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল) বিশেষ প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইল জেলায় অসংখ্য খামার ও কৃষক পর্যায়ে কোরবানির জন্য প্রায় দেড় লাখ গরু প্রস্তুত আছে। করোনা পরিস্থিতিতে হাট না বসানোর কারণে ক্রেতা মিলছে না। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অনলাইন হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঈদুল আযহা’র আগে ৩-৪দিন হাট বসানোর অনুমতির আশায় বুক বেঁধেছেন খামারী ও কৃষকেরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় ছোট-বড় ৬ শতাধিক গরুর খামার রয়েছে। খামারগুলোতে ৯৫ হাজার ২০০ কোরবানির পশু বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও জেলার কৃষক পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
করোনার কারণে দেশে কঠোর লকডাউন চলমান থাকায় জেলার গরুর হাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলার গরুর হাট হিসেবে বিখ্যাত ৩-৪টি হাটের ইজারাদাররা ব্যক্তি উদ্যোগে হাট বসানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জেলা-উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় হাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোরবানির হাট বসানোর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইজারাদাররা।
এদিকে, অনলাইন কেনাকাটায় উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোরবানিকে সামনে রেখে ১৩টি অনলাইন পশুর হাট পেইজ খোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজে খোলা এসব হাটগুলোর মধ্যে জেলার ১২টি উপজেলায় ১২টি এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ০১টি রয়েছে। এসব পেইজে বৃহস্পতিবার(৮- জুলাই) পর্যন্ত ০৩ হাজার ৬৮১টি পশুর বিবরণ সহ ছবি আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩২টি কোরবানির পশু সরকারি অনলাইনে বিক্রয় করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বৃহৎ খামার” চকদার গরুর খামার” এর মালিক মোঃ দুলাল হোসেন চকদার জানান, এ বছর কোরবানির জন্য ১০০টি ষাঁড় ও বলদ পালন করেছি। এর মধ্যে ৪০টি বলদ ও ৬০টি ষাঁড় গরু রয়েছে। করোনার কারণে এবার তিনি অনলাইনে গরু বিক্রয়ের জন্য জোর দিয়েছেন। তিনি ফেসবুক পেইজ খুলে গরুর ছবি আপলোড দিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করেছেন। এতে তিনি ভালো সাড়াও পেয়েছেন। প্রতিদিনই অনলাইনে লোকজন যোগাযোগ করছেন, পাইকাররাও ফেসবুক দেখে স্বশরীরে যোগাযোগ করে আসছেন। তিনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬টি ষাঁড় ও বলদ বিক্রয় করেছেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর হাট ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী গরুর হাটের ইজারাদার মোঃ লিটন মন্ডল জানান, স্থানীয় নানা জটিলতার কারণে বৃহত্তম এই হাটটি ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। বৃহস্পতিবার হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম। এছাড়াও কঠোর লকডাউনের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতারা আসতে পারছেন না। গত বছর হাট ইজারা নিয়ে বেশ লোকসান গুনতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে গোবিন্দাসী গরুর হাট অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ রানা মিয়া জানান, কঠোর লকডাউনের কারণে হাট-বাজার বন্ধ রয়েছে। কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে জেলা প্রশাসন ও প্রাণি সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে ০১টি এবং জেলার ১২টি উপজেলায় ১২টি, মোট ১৩টি ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। ওই সব পেইজে খামারী ও সাধারণ কৃষকদের অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন।
সরকারি নির্দেশনা পেলে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a Reply