যে শিশুদের আত্মারা তাড়িয়ে বেড়াবে ইসরায়েলকে
যে শিশুদের আত্মারা তাড়িয়ে বেড়াবে ইসরায়েলকে

যে শিশুদের আত্মারা তাড়িয়ে বেড়াবে ইসরায়েলকে

Oplus_131072

একজন আবু সাঈদের আত্মা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। তাঁর সঙ্গে অন্য আত্মারা মিলে তাদের বিতাড়িত করেছে দেড় দশকের মসনদ থেকে।
২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় আগুনে আত্মাহুতি দেওয়া ক্ষুদ্র বিক্রেতা তরুণ মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা আরবকে। সূচনা করে আরব বসন্তের। সরকারের পতন হয় তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া ও ইয়েমেনে। আন্দোলনের বড় ধাক্কা লাগে বাহরাইনে; আলজেরিয়া, জর্ডান, মরক্কো, কুয়েত ও ওমানও বাদ যায়নি এই বসন্তের ছোঁয়া থেকে। সিরিয়া বয়ে বেড়িয়েছে দেড় দশকের গৃহযুদ্ধ। নিষ্পত্তি হয়, বাশার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে।
এই ভূমিকার উদ্দেশ্য হলো, আত্মারা যে লোকচক্ষুর অন্তরালের বিষয় নয়, তারা যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা বোঝানো। অর্থাৎ নিপীড়নের মাধ্যমে কোনো আত্মাকে দেহ থেকে তাড়িয়ে দিলেও তা জায়গা করে নেয় জীবন্ত অনেক আত্মার মধ্যে। সুপ্ত থাকে ইতিহাসের পাতায়। আলোচনা হয় পাঠচক্রে, আদর্শবাদীদের সভায়। এভাবে লোকান্তরের আত্মারা আবার রসদ হয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে বিদ্রোহে-বিপ্লবে।
আসুন ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের আত্মাদের নিয়ে একটু কথা বলি। গাজার আকাশে যখন ইসরায়েলের বোমার শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়, তখন সেখানকার শিশুদের কান্না সেই শব্দকে ছাপিয়ে যায়। শিশুর চোখে যখন ভয়, ক্ষুধা ও ব্যথার ছাপ স্পষ্ট হয়, তখন মানবতার মুখে কলঙ্ক লাগে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০টি শিশু নিহত বা আহত হচ্ছে। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি সংখ্যা একটি জীবন্ত স্বপ্নের অপমৃত্যু। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাসে ২৯ শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি খাদ্যাভাবে মারা গেছে। অন্যদিকে ২৩ মে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার আগের দুই দিনে গাজায় অনাহারে মারা গেছেন ২৯ শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। এর থেকে অনুমান করা যায়, গাজায় খাদ্যাভাবে-অনাহারে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা অনেক। ধারণা করতে পারেন, যে গ্রহে প্রতিদিন টনে টনে রান্না করা খাবার অপচয় হচ্ছে, সেই গ্রহে একটি শিশু ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাদ্য-পানির অভাবে ছটফট করতে করতে মারা যাচ্ছে!
গাজার আকাশে যখন ইসরায়েলের বোমার শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়, তখন সেখানকার শিশুদের কান্না সেই শব্দকে ছাপিয়ে যায়। শিশুর চোখে যখন ভয়, ক্ষুধা ও ব্যথার ছাপ স্পষ্ট হয়, তখন মানবতার মুখে কলঙ্ক লাগে।
খাদ্য ও ওষুধের সংকটে গাজার শিশুরা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। নথিবদ্ধ হিসাবমতে, সেখানে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৫৭টি শিশু অপুষ্টির কারণে মারা গেছে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর নাগাদ সেখানে ৭১ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে। বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে প্রকাশিত শিশুদের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই, তারা যে বেঁচে আছে। কঙ্কালসার বাচ্চাগুলোকে দেখলে মনে হয়, প্লাস্টিকের এলিয়েনের বাচ্চারূপী কোনো পুতুল বিছানায় পড়ে আছে!

গাজায় আহত শিশুদের মধ্যে অনেকেই চিরস্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার। ২০২৪ সালের এক হিসাবে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি শিশু বিস্ফোরক অস্ত্রের কারণে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। ফলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন। এই শিশুদের অনেকেই হাত বা পা হারিয়েছে, কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি হারিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকের হিসাব, ইসরায়েলি নিষ্ঠুরতার ফলে গাজায় কমপক্ষে ৩৮ হাজার শিশু এতিম হয়েছে। তাদের কেউ মায়ের কোল হারিয়েছে, কেউ বাবার স্নেহ; কেউ আবার উভয়কেই। এই শিশুরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে নেই নিরাপত্তা, নেই ভালোবাসা। গাজায় ইসরায়েল যা করছে তা হলো, ‘মৃত্যুর রাজনীতি’ বা থানাটোপলিটিকস। এটি মিশেল ফুকোর বায়ো-পাওয়ার বা ‘জীবনশক্তির রাজনীতি’র বিকাশধর্মী রূপ। গাজার শিশুদের জীবন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে দখলদার আরেকটি ‘রাষ্ট্র’ দিয়ে উপেক্ষিত, প্রান্তিক ও লয়প্রাপ্ত। সেখানে চলছে নেক্রোপলিটিকস। অর্থাৎ সেখানে দখলদার রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কে বাঁচবে আর কে মরবে। গাজার ক্ষেত্রে ক্যামেরুনীয় রাজনৈতিক তাত্ত্বিক জোসেফ-অ্যাচিল এমবেম্বের নেক্রোপলিটিকসের আলোচনা আরও বিশদভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে। এমবেম্বে আফ্রিকান প্রেক্ষাপটে নেক্রোপলিটিকসের যে ধারণা দিয়েছিলেন, তা গাজায় আরও উগ্রভাবে দেখা যাচ্ছে। গাজার শিশুরা এমন এক জনগোষ্ঠী, যাদের অস্তিত্বই ইসরায়েলের দৃষ্টিতে হুমকি। অর্থাৎ তারা গাজার একেকটি শিশুর মধ্যে একেকজন ইয়াহিয়া সিনওয়ার বা মোহাম্মদ দেইফকে দেখতে পাচ্ছে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিডিয়া গাজার শিশুদের মৃত্যু ও যন্ত্রণাকে ‘নতুন স্বাভাবিকতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আসলে একধরনের মতাদর্শিক হেজিমনি, যেখানে নির্যাতিতের দিকটা চাপা পড়ে যায়। নির্যাতিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একটি সংখ্যায় রূপ নেয় মাত্র। গাজার শিশুরা এই আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বলি, তাদের মৃত্যু যেন ‘শোকহীন জীবন’ বা আনগ্রিয়েভেবল লাইভস’। এটি মার্কিন দার্শনিক জুডিথ পামেলা বাটলারের গ্রিয়েভেবিলিটি ধারণার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। বাটলার মনে করেন, সব মৃত্যু সমানভাবে শোকযোগ্য বা গ্রিয়েভেবল নয়। কারণ, আমাদের সমাজে কোন জীবনকে মূল্যবান ধরা হয় আর কোনটিকে ধরা হয় না, তার ওপর ভিত্তি করে শোক প্রকাশিত হয়।

ফরাসি আলজেরীয় দার্শনিক জ্যাক দেরিদার মতে, প্রতিটি বিপ্লবের পেছনে অতীতে অবিচারের শিকার মানুষের আত্মা থাকে, যারা ন্যায্যতার দাবি রেখে যায়। যারা বর্তমানকে প্রভাবিত করে ও ভবিষ্যতের ন্যায়বিচারের দাবি তোলে। জুডিথ বাটলার বলেন, আনগ্রিয়েভেবল লাইভস—যাদের জন্য আমরা শোক করি না, তারা মৃত্যুর পরও রাজনৈতিকভাবে জীবিত থাকে। কারণ, তাদের মৃত্যু রাষ্ট্র বা সমাজের ওপর অভিযোগপত্র হয়ে থাকে। জার্মান দার্শনিক ওয়াল্টার বেঞ্জামিন বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি দমনকৃত মানুষ বিচারের দাবি রেখে যায় ভবিষ্যতের ওপর। অর্থাৎ গাজার হতাহত মানুষেরা ভবিষ্যতে যে ইসরায়েলের জন্য যম হয়ে আসবে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। পশ্চিমা পুরো শক্তি নিয়েও দখলদার ইসরায়েল গত ১৯ মাসে সেখানে যুদ্ধনীতিতে জয়ী হতে পারেনি। ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এখনো তাদের প্রতিরোধ করে যাচ্ছেন স্বাধিকার আন্দোলনের যোদ্ধারা।

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘যদি পৃথিবীতে কোনো নরক থাকে, তবে তা গাজার শিশুদের জীবন। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।’ আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলকে কতটা জবাবদিহি করতে হবে বা এই জবাবদিহিতে কী লাভ হবে, তা আমাদের জানা নেই। তবে গাজার হাজার হাজার শিশুর আত্মা যে আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েলকে তাড়িয়ে বেড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা কথা বলাই যায়, নিরস্ত্র মানুষের তাড়া বড় ভয়ংকর। এই তাড়া শোষকের ঘুম ও ঘাম দুটোই কেড়ে নেয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‎বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার ২০২৫-২৬ কার্যবর্ষের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসেন কে  সভাপতি এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে
কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিতে বলা হয়েছে।

‎নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো. ইমন হোসেন বলেন,”এই দায়িত্ব আমার কাছে কেবল একটি পদ নয়- এটি একটি দায়িত্বের প্রতিজ্ঞা। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি তরুণ লেখকের কলমে লুকিয়ে আছে পরিবর্তনের শক্তি, জাগরণের আগুন, আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আমি চাই তরুণ কলাম লেখকদের কলম হোক হাতিয়ার – স্বপ্নের,সাফল্যের, প্রতিবাদেরও, যেখানে শব্দ জন্ম দেবে চিন্তার, আর চিন্তা জাগাবে মানবতা। আমাদের লক্ষ্য শুধু লেখা নয়—সমাজে আলোর বীজ বপন করা। আমার বিশ্বাস  তরুণ কলাম লেখক ফোরাম হবে সেই মঞ্চ, যেখানে তরুণের ভাবনা মিলবে দেশের হৃদস্পন্দনের সাথে, আর কলম হবে পরিবর্তনের পতাকা।”

সাধারণ সম্পাদক জান্নাতি খাতুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, কলমের রাজ্যে আজ নতুন সূর্যের উদয়। দায়িত্ব নয়, এটি এক বিশ্বাস—চিন্তার প্রদীপ জ্বেলে ফোরামকে স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছে দেওয়া।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—প্রতিটি শব্দে জাগবে সত্য, প্রতিটি লেখায় ফুটবে প্রজ্ঞার ফুল। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এখন হবে এক অগ্নিশিখা—যেখানে কলম হবে তরবারি, চিন্তা হবে বিপ্লবের অঙ্গীকার”।

প্রসঙ্গত, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের পরামর্শ দেওয়া, পত্রিকায় লেখা প্রকাশে সহযোগিতাসহ লেখালেখি বিষয়ক সভা, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোবিপ্রবি শাখার নেতৃত্বে ইমন-জান্নাতি

 

মেহেদী হাসান:

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার এর আয়োজন  সম্পন্ন হয়েছে।

১০ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ঐতিহ্যবাহী নকিপুর জমিদার বাড়ি মাঠ প্রাঙ্গণে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে, এলাকার সাধারণ কৃষকদের বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদের জন্য এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

 

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, খুলনা কৃষ ইনস্টিটিউট দৌলতপুরের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ জনাব এস এম ফেরদৌস হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জামাল ফারুক।উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফকিরহাট। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগরের সুযোগ্য কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হুদা এবং উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ, শ্যামনগর উপজেলা শাখার অন্যতম নেতা জনাব হাজী আশরাফুজ্জামান। উক্ত অনুষ্ঠান সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র শেখ সিরাজুল ইসলাম মিলন।অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, প্রভাষক সামিউল ইমাম আজম মনির, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু কৃষ্ণান্দ মুখার্জী, বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক এ মাজিজুল হক, বাবু রনজিত দেবনাথ, শেখ মেহেদী হাসান, এস এম তরিকুল ইসলাম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে, বক্তারা বলেন এলাকার একমাত্র মিষ্টি পানির খালটি সাধারণ কৃষকদের বোরো মৌসুমে সেচের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মানুষ তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে এই খালটি নেট পাটা দিয়ে লোনা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে খালটিতে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রেখেছে। যাহার ফলে ৬০০-৭০০ জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকদের দাবি অনতিবিলম্বে খালটি অবমুক্ত করা সহ খালটিতে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে,দেশের কৃষি খাত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত  

 

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির প্রার্থীতার বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী নারী শিক্ষার্থীকে শিবির নেতা কর্তৃক প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা সারাদেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুতের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের  লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ  মিছিল  শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নেতাকর্মীদের বক্তৃতার মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আনুমানিক হাজারের অধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখ যায়।
এসময়  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের  সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম,  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার গালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খন্দকার,   যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজান ইসলাম, মাসুদ রানা, আরিফুল ইসলাম, নূরজামাল, আল রোহান, বাতেন সরকার, শফিকুল ইসলাম, জাহিদ কামাল,  দপ্তর সম্পাদক তর্কি ইয়াছির,  সহ সকল  পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান দেয়, ❝নারী অধিকার রক্ষা করতে, ছাত্রদল সজাগ থাকবে। দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার। শিবির আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার। নারী হেনস্থার আস্তানা, এ বাংলায় হবে না।❞
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে যে সংগঠন, তা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫ আগস্টের পর একটি গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের সাথে মিলিত হয়ে কাজ চালিয়েছে। সেই কারণে তারা তাদের কমিটি প্রকাশ করে না। বর্তমানে তারা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে নারীদের হেনস্তা করছে এবং গুপ্তভাবে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, জামাত-শিবির গুপ্তভাবে রাজনীতি করে তাদের ফায়দা হাসিল করতে পারবে না।
ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, পরিচয় গোপন করে এমন চরিত্রহীনা রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান থাকবে আপনাদের প্রতি (গুপ্ত বাহিনীর)। পাশাপাশি, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (৭১) বিশ্বাস করে না, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারে না। আপনারা গুপ্তভাবে রাজনীতি করবেন না, প্রকাশ্যে আসুন। আপনাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেও আপনারা ফেক আইডি দিয়ে প্রতিহত করেন। এই ফেক আইডির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করি, আমার পরিচয় আছে। আপনিও রাজনীতি করলে আপনার পরিচয় প্রকাশ্যে আনুন। আমরা সবাই ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি। আবার একসাথে থেকে আগামী বাংলাদেশ গড়ব। তবে আপনাদের প্রতি একটা অনুরোধ রাখবো, সাইবার বুলিং ও অনলাইন রাজনীতি থেকে সরে আসুন।

নারী নিপীড়নের গোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d