আজ পরীক্ষা দিচ্ছেন সেই আনিসা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আজ পরীক্ষা দিচ্ছেন সেই আনিসা

আজ পরীক্ষা দিচ্ছেন সেই আনিসা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থী আনিসা। মায়ের অসুস্থতার কারণে দেরিতে কেন্দ্রে আসায় এইচএসসির প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে পারেননি। তবে আজ রোববার (২৯ জুন) বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি।শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আনিসার বাড়িতে আমাদের কলেজের সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক কামরুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি মেয়েটির বাসায় গিয়েছিলেন। খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যেসময় কামরুল ইসলাম সেখানে গিয়েছিলেন, তখন আনিসার মা একটি রুমে ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে তাকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে উনি আর কথা বলেননি। তবে ওই ছাত্রীর মা এখন বেশ সুস্থ বলে জেনে এসেছেন আমাদের শিক্ষক।’ পরীক্ষায় আনিসার অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, রোববারের পরীক্ষায় সে যথারীতি অংশ নেবে। পরবর্তী সব পরীক্ষায়ও সে যথাসময়ে কেন্দ্রে গিয়ে অংশ নেবে।’আনিসার মায়ের কী হয়েছিল এবং কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল- এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রী দাবি করেছে যে, তার মা অসুস্থ ছিল এবং তার মাকে সে স্থানীয় সেলিনা ক্লিনিকে ভর্তি করেছিল। তবে আমাদের কাছে তার মাকে আসলেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কি না, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।’ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বোর্ড থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কথা হয়েছিল। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ আনিসার সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আনিসা আমাদের কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। টেস্ট পরীক্ষায় সে দুই বিষয়ে ফেল করেছিল। তারপরও তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেই মেয়েটা এসএসসি পাস করেছিল। সে মোটামুটি একটা রেজাল্ট করেছিল।’


রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে দুটি তাজা বোমা পাওয়া গেছে। যা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

 

শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতাটির বোতামে চাপ দিলেই ডিভাইসটি যেন বিস্ফোরিত হয়, এমন করে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাপলা চত্ত্বরের দিকে একটি রথযাত্রা যাচ্ছিল। তখন রথযাত্রার একজন তাদেরকে রাস্তায় একটি ছাতা পড়ে থাকার তথ্য দেয়। তারা ছাতাটি ধরতেই ভেতরে লাল আলো জ্বলতে দেখেন। ছাতাটি সেখানে রেখে পুলিশকে খবর দেন আনসার সদস্যরা। পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে ৭টা ৫০ মিনিটে একটি বোম এবং অপরটি ৮টা ১০ মিনিটে নিস্ক্রিয় করে।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও একাধিকবার মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তা অমান্য করে সেখানে বর্জ্য ফেলছিলেন। ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

 

জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

 

এ কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে বর্ষাকালে মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডিসির নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল রুটে বেয়ারিং প্যাডের ২৩.২৮ শতাংশ বা ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৪৬টি পিয়ার হেড এবং অন্তত ২০টি বক্স গার্ডারে ফাটল শনাক্ত হয়েছে।

 

স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটির প্রতিবেদনে এসব ত্রুটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয় এমআরটি লাইন-৬ এখন একাধিক কাঠামোগত ও পরিচালনগত ত্রুটি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

 

কমিটির ভাষায়, এসব ত্রুটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি ‘যৌগিক ঝুঁকি প্রোফাইল’ তৈরি করেছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এসব ত্রুটির পেছনে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নির্মাণত্রুটি কিংবা নকশাগত দুর্বলতা—সবই সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত ত্রুটির মূল কারণ নির্ণয় কিংবা পূর্ণাঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় একটি বেয়ারিং প্যাড নিচে পড়ে পথচারীর মৃত্যুর ঘটনার পর হাইকোর্ট ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডিএমটিসিএল ৯ সদস্যের একটি স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটি গঠন করে। চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত মে মাসে জমা দেওয়া হয়।

কমিটির পরিদর্শনে দেখা গেছে, ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ। ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিলারে ট্রেন চলাচলের সময় বেয়ারিং প্যাডে অস্বাভাবিক ধাক্কা লাগছে এবং ৪২৩ নম্বর পিলারে একটি বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

 

বেয়ারিং প্যাডের পাশাপাশি ৪৬টি পিলার হেড এবং ২০টি বক্স গার্ডারে ফাটল শনাক্ত হয়েছে।

 

কোথাও কোথাও কংক্রিট খসে পড়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ৩৪১ নম্বর পিলারের ফাটল নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বড় হওয়ায় সেটিকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে কমিটি। অথচ এসব ফাটলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ক্র্যাক গেজ স্থাপন কিংবা অনুমোদিত প্রকৌশল পদ্ধতিতে মেরামতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিটির মতে, এ ধরনের অবহেলা ভবিষ্যতে কাঠামোগত ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

অডিটে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক কম্পন, ঝাঁকুনি, ট্র্যাকের ত্রুটি এবং বেয়ারিং প্যাডের সমস্যার কারণে মেট্রো রেলের যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল নকশা অনুযায়ী ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ১০টি অংশে টেম্পোরারি স্পিড রেস্ট্রিকশন (টিএসআর) জারি রয়েছে। এসব স্থানে ট্রেন ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করছে। কোনো কোনো অংশে প্রকৃত গতি নেমে আসছে মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত। কমিটির পর্যবেক্ষণ, মূল সমস্যার সমাধান না করে শুধু গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্থায়ী সমাধান নয়।

 

পরিচালনগত সমস্যার মধ্যেও সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ট্রেনের আন্ডারশুটিং। অস্বাভাবিক ব্রেকিংয়ের কারণে ট্রেন নির্ধারিত স্টপিং পয়েন্টের আগেই থেমে যাচ্ছে। ফলে ট্রেনের দরজা ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের পড়ে যাওয়া বা আটকে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যার কারণে এরই মধ্যে পাঁচটি ট্রেনসেট রাজস্বভিত্তিক পরিচালনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনের চাকার ক্ষয়, সম্ভাব্য ফাটল, দরজা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে ক্রমাগত বৈদ্যুতিক স্পার্কিংকেও বড় নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডিপো এলাকায় ট্র্যাক বসে যাওয়ার সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

 

অডিটে আরো উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে এখনো পুরো মেট্রো রেলে কোনো কার্যকর রিয়াল-টাইম স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। ফলে পিলারের ফাটল, বেয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতি, ট্র্যাক বসে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক কম্পনের মতো বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার সুযোগ নেই।

 

এ বিষয়ে অডিট কমিটির সদস্য এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, বর্তমানে বেয়ারিং প্যাডে ব্র্যাকেট বসানো, গতি কমিয়ে ট্রেন চালানো কিংবা অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণের মতো পদক্ষেপগুলো মূলত সাময়িক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা; এগুলো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এ অবস্থায় কমিটি জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকির বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন, ফাটল পর্যবেক্ষণে ক্র্যাক গেজ স্থাপন, পূর্ণাঙ্গ ডাইনামিক ভাইব্রেশন পরীক্ষা, ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটি দূরীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে স্মার্ট স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল ত্রুটি ব্যবস্থাপনা এবং স্বাধীন সেফটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনেরও আহবান জানিয়েছে কমিটি।

মেট্রোরেলের ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল। অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিফলন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, জলাবদ্ধ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

সাভারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে সাভারে রাজপথে সাভার পৌর যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম আরিফ।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও কার্যক্রম প্রতিহত করতে সাভারের রাজপথে অবস্থান নিয়েছে সাভার পৌর যুবদল।

 

আজ (২৩ জুন) সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রধান সড়কে যুবদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার পৌর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাভার পৌর ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ আশরাফুল ইসলাম আরিফ, সাভার থানা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোঃ রাকিব আহম্মেদ, সহ আরো অনেকেই। এ সময় আশরাফুল ইসলাম আরিফ

জানান, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ যেন নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তারা মাঠ পর্যায়ে পাহারায় রয়েছেন। সাভারের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এই অবস্থান ও সর্তক পাহারা অব্যাহত থাকবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

কর্মসূচিতে সাভার পৌর যুবদল , ছাত্রদল সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে সাভারে রাজপথে সাভার পৌর যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম আরিফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মানিকগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এস এ কবির জিন্নাহ।

 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট জহিরুল আলম খান লোদী, সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, আব্দুল বাতেন,মোঃ মোতালেব হোসেন,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার, কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সালাম বাদল, যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক আহমেদ দিপু, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এডভোকেট জিন্নাহ খান, ছাত্র দলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

অনুষ্ঠান শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মানিকগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

বিএসপিআই সূত্র জানায়, ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা মূলত দুটি ফোরামে বিভক্ত। এর একটি ফোরাম গঠিত হয়েছে কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে। আরেকটি অন্য সব জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে। গতকাল রাতে সংঘর্ষে জড়ানো দুটি পক্ষ মূলত ওই দুই ফোরামের। তবে কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে কী ছিল, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

আহত ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন কক্সবাজার জেলার। তারা হলেন হোসেন নুর আবিদ, মোস্তফা ওবায়দুল, তাকবির হাবিব, আরাফাত আবির ও মো. ইমরান। আর অন্যরা ভিন্ন ভিন্ন জেলার। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল তৌসিফ, আল আমিন, আদিত্য রায়, মো. হাসান খন্দকার, মেহেরাব হোছাইন, মো. মোস্তাকিম ও তারেক হোছাইন।

 

সংঘর্ষের পর রাতেই বিএসপিআই কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি সত্যি। ঘটনাটি তদন্তে অটোমোবাইল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।’

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাতেই কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।’

 

ইনস্টিটিউটের হোস্টেল সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

রাঙামাটিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

 

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও পক্ষ থেকে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন বিএসবিআরএ এর পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কারও গাফিলতি বা দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এদিকে শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শনে যান শিল্প সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, জাহাজটিতে ২১.৯ পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইডের অস্তিত্ব পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, যা খুব বিষাক্ত।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে নিহত ৯ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের পর হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় হিরোন মটরস শোরুম সংলগ্ন ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সারডুবি এলাকার জহুরুল (৫০) এবং সিঙ্গিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৫৪৮২ নম্বরের ট্রাকটি হাতীবান্ধার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বড়খাতা হয়ে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে টেনেছেঁচড়ে বেশ কিছু দূর নিয়ে গিয়ে সড়কের পাশে থাকা ‘হিরোন মটরস’ মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে পড়ে।

এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। শো-রুমে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। অটোরিকশায় থাকা এক নারীসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে টেনেহিঁচড়ে শো-রুমে ঢুকে পড়লো ট্রাক, নিহত ২

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও অনৈতিক ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ির হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক ব্যক্তি হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০)। তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর রহমানকে মারধর করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে আটকে রাখেন। পরে কয়েকজন তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন।

 

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম জানান, মাদ্রাসার সুপারের ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। বাবার মোবাইলে কিছু অনৈতিক ভিডিও দেখে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভিডিওগুলো ইব্রাহিমকে দেয় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান ইব্রাহিম।

 

অভিযোগকারী কিশোরীর ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করে আসছিলেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন। তার অভিযোগ, তাকে অচেতন করে অনৈতিকভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো তার নয় এবং অন্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও। তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ছাত্রীর মাসিক শুরু হওয়ার পর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া জানান, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল এবং গত দেড় বছরে এ নিয়ে অন্তত তিনটি সালিস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাবার মোবাইলের অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল করলো ছেলে, স্থানীয়দের গণপিটুনি

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টায় দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিনেত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একজনের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা নেয়া হচ্ছে । পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। প্রসঙ্গত, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।

রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নাটোরের লালপুরে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে লালপুর থানা ছাত্রদল।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বহিষ্কৃতরা হলেন—মো. জাহিদ হোসেন (৩২), মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (৩৫) ও মো. মামুন আলী (২৫)।

 

লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু রায়হান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সজীবুল হৃদয় ও মানবজমিনের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. রাশেদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তিন কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ কোনো কর্মকাণ্ড করলে ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বহিষ্কার আদেশে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিক সজিবুল ইসলাম হৃদয় ও রাশেদুল ইসলাম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় উপজেলা ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার

বিএনপি সরকার যতদিন সরকারে আছে ততদিন শিক্ষকদের আর অবসর ভাতার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার বকেয়া ভাতার জট খুলেন। সরকারের এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদেরকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

 

শিক্ষকদের হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়। আজ আমরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের টাকা পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।তারেক রহমান বলেন, টাকা পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা অত সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বিমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, শিক্ষকদের এই তহবিল দুটিও তা থেকে রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি করে এবং দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে এই বিশাল অর্থের সংকুলান করেছে।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী দেন, শিক্ষকদের কল্যাণে বেগম জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী ‌কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিস্তারে, বিশেষ করে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার ভূমিকা আজ বিশ্বজুড়ে রোল মডেল।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রচলিত নিয়মে পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা ভূমিকা রাখবেন।

 

সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ দ্রব্য জব্দ করেছে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মেহেদী হাসান।

 

তিনি জানান, বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং আন্ত:নগর এক্সপ্রেস, মেইল ও লোকাল ট্রেনে এইসব অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা ৪১ কেজি, হেরোইন ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম, ইয়াবা ৫২৮ পিস, নেশাজাতীয় ইনজেকশন (এ্যাম্পল) ১ হাজার ১২৬ পিস, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ৪০২ পিস, কোডিনযুক্ত এসকপ ৬৪০ বোতল, ফেন্সিডিল ১৫০ বোতল, দেশিয় মদ ১৩ বোতল, কোডিন ফসফেট ৩০ বোতল এবং ৩০ বোতল কোডিনযুক্ত এমকে ড্রিল।

 

এ সময় রেলওয়ে পুলিশের পাকশী জেলার পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের মধ্যে সাধারণত রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ, টিকিট কালোবাজারি ও অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মাহাতাব আলী ও রুহুল আমিন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক ও পাকশী রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে পৌনে ৪ কোটি টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় একদল সেনা সদস্য।

 

হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, তিন ছেলে কামাল, জামাল ও রাসেল, ভাগিনা ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের ১৭ সদস্যকে। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

 

তখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল দেশ। বাকশাল গঠন করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় শাসন। নিষিদ্ধ হয়েছিল বাকি সব দল।

 

এ বিষয়ে চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারাই আবার তাকে হত্যা করলেন। তো এখানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে। ওই সরকার যদি একটা গণঅভ্যুত্থান হতে পারত, তাহলে ও ন্যায্যতা পেত। কিন্তু আপনি একদিন সকালবেলা একটা বাড়িতে ঢুকে আপনি হত্যা করে আসলেন।

 

তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক বলেন, সপরিবারে উৎখাত করা এরকম ঘটনা কিন্তু মধ্যযুগের একটি ঘটনা। যারা ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এই কাজটা করেছে। এটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ঘটনাটার পরিণতিতে আমরা আসিনি।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করে। ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এর মধ্যে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৫১ বছর আজ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d