সারাবাংলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বাসা থেকে ফারজানা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি সেজেগুজে ছিলেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (০২ আগস্ট) ভোরে পৌর শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফারজানা বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখলা গ্রামের সোলামুড়া এলাকার খলিল মিয়ার মেয়ে।

 

প্রায় ৫ মাস ধরে তিনি মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাসার ডাইনিংরুমে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফারজানাকে ঝুলতে দেখা যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় দেখা যায়, মৃত্যুর আগে তিনি সেজেগুজে ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

ফারজানার বাবা খলিল মিয়া বলেন, গত শুক্রবার তিনি মেয়েকে দেখতে গিয়ে ৫০ টাকা দিয়ে এসেছিলেন। রোববার সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। বাসার লোকজন তার মৃত্যুর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

তার অভিযোগ, মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

 

সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

মৃ/ত্যুর আগে কেন সেজেছিলেন ফারজানা?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বাসা থেকে ফারজানা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি সেজেগুজে ছিলেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর বিস্তারিত

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার নির্ধারিত ছয় মাস প্রতি কেজি মাত্র ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন।

 

আজ সোমবার (০৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, গত ১ আগস্ট থেকে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। মূলত কর্মাভাবকালীন সময়ে প্রান্তিক পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে বছরের দুটি মেয়াদে-আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে এপ্রিল-মোট ছয় মাস এই চাল বিতরণ করা হবে।

 

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টির মান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সে লক্ষ্যে ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগী পরিবারের মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল (ফোর্টিফায়েড রাইস) বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাকি ২৪৭টি উপজেলার ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগী পাচ্ছেন সাধারণ চাল।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিত্যপণ্য রাখতে সারাদেশে খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রমও সমানতালে চলছে। দেশের ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

 

বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ধানের পরিমাণ ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন (ধানকে চালে রূপান্তর করে হিসাবভুক্ত)।

 

বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমও জোরদার রাখা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার করার পাশাপাশি সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও জনকল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

১৫ টাকায় ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন ৫৫ লাখ পরিবার

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার নির্ধারিত ছয় বিস্তারিত

গাইবান্ধায় জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল হটাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (২ আগষ্ট) দুপুরে জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি।

 

পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক, জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল নবী টিটুলসহ অন্যরা।

 

এদিকে মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের নানা অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির মুল ফটকের সামনে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মন্ত্রী গিয়ে মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত দীর্ঘ সতেরো বছরে স্বাস্থ্য খাতকে অবহেলা করা হয়েছে। আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে ৫ মাস হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি ডাক্তারদের নিয়মানুবর্তীতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি বন্ধ করার। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটিতে নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে। সব কিছু নোট করে নিয়েছি। ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৯ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মিত ভবনটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বলেন, জনবল ও ভবনটির যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত পরিমান ঘাটতি রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ভবনটির যাবতীয় যন্ত্রপাতি সরবারহ ও জনবল নিয়োগ দিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

 

এর আগে সকাল ১১টার দিকে মন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে করেন। এসময় সরকারি ওষুধ সাধারণ রোগিদের না দেওয়ার অপরাধে উপ-সহাকরী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী ও মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান নামে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।

গাইবান্ধায় জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গাইবান্ধায় জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী   শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল হটাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (২ আগষ্ট) দুপুরে বিস্তারিত

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশন ১০ শয্যার

আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন

 

স্টাফ রিপোর্ট

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার

(২ আগস্ট) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের নিকটে নতুন এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আলফারুক আব্দুল লতিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা সুলতানা লিনা, অ্যানেস্হেসিওলজিস্ট ডা. আতিয়ার রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অব) ডা.মো. আব্দুল মজিদ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট

(গাইনি ও অবস্) ডা. মনিরুজ্জামান মনি, মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. জাইরিন তাবাচ্ছুমসহ

আরও অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল

লতিফ বলেন, “নীলফামারীর মানুষের সুচিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের নতুন এ হাসপাতাল নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবা ও

ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংসদ সদস্য নিজেই হাসপাতালটির সফলতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশন ১০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন 

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশন ১০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন   স্টাফ রিপোর্ট মাইদুল ইসলাম নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিস্তারিত

  • রাজধানীর কলাবাগানে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানিয়েছে নিহতের পরিবার। মূলত গ্রামে বিয়েবাড়িতে হওয়া তর্কের জের ধরে ঢাকার বাসায় আবারও একই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী শিপন তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রী (২১) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। যা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা রিদয় ইসলাম শিপন স্বীকার করেছেন।

রোববার (০২ আগস্ট) সকালে কাঠালবাগানের আল আমিন মসজিদের ৫৫/২ সড়কের বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুনের পর শিপন নিজেই থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। এরপর তারা গিয়ে সে বাসা থেকে মেয়ের এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করে।

 

এ ঘটনায় নিহত ফারজানা আক্তার রাত্রীর বাবা ফারুক হোসেন জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গেল শুক্রবারের আগের শুক্রবার মা ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত পরশু শুক্রবার ছিল তার (ফারুকের) ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আগের দিন সেখানে গিয়েছিলেন শিপন। তবে বিয়ের দিন সকালে ফারজানা ও তার স্বামী শিপনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু বাসায় এসে আজ কী ঘটেছিল, তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে তিনি বাসায় ঢুকে দেখতে পান, মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রী ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। পরে মেয়ে ফারজানার মরদেহ ফেলে রেখেই তিনি ফিরোজা বেগমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যান। এরপর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেই আটক হওয়া স্বামী শিপন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে স্ত্রীর আজ সকালে পুরোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের সময় তার শাশুড়ি এসে মেয়ের সঙ্গে তর্কে যোগ দেন এবং তার পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এতে শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি এনে প্রথমে স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় শাশুড়ি বাধা দিতে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। তবে স্ত্রী এ ঘটনার পর মারা গেলেও শাশুড়ি জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।

স্ত্রী-শাশুড়িকে হ/ত্যা করে পালানো যুবকের থানায় আত্মসমর্পণ

রাজধানীর কলাবাগানে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানিয়েছে নিহতের পরিবার। মূলত গ্রামে বিয়েবাড়িতে হওয়া তর্কের জের ধরে ঢাকার বাসায় আবারও একই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী বিস্তারিত

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগীর চাপ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

 

রোববার (২ আগস্ট) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। একজন চিকিৎসককে অনেক রোগী সামলাতে হচ্ছে, ফলে রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেখা গেছে। শয্যাসংকট থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

 

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা না পেয়েই ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

 

এদিকে রোববার সকাল থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় প্রশাসনিক দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তাড়াহুড়ো করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

এ বিষয়ে সমাজকর্মী হোসেন আলী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এতে অবহেলা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

পতাকা না তোলা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। আমার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

গত ২৬ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। সে সময় তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সেই পরিদর্শনের এক সপ্তাহের মাথাতেই হাসপাতালের তীব্র চিকিৎসক সংকট ও প্রশাসনিক উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠল।

চিকিৎসক সংকটে নাকাল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগীর চাপ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক বিস্তারিত

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতাররা হলেন—দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা, রংপুর কার্যালয়ের কর্মচারী মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং নুরুল ইসলাম (২০)। একই মামলায় মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনকালে ডিবি সদস্যদের কাছে আশরাফুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। একই সময় প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে আসা তাজমিলুর রহমানকেও আটক করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মচারী বাদশা মাসউদ আলম ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। অথচ তিনি নিয়োগের বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় কখনোই অংশ নেননি। সেই জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে।

 

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র প্রস্তুত ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন, পলাতক নুরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছেন। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।

 

কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৭ লাখ টাকায় চাকরির প্রতিশ্রুতি, ৪ জন গ্রেফতার

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে রেললাইনের পাশ থেকে ৯ বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশে পারিবারিক কবরস্থানের কাছ থেকে শিশু মাহমুদা আক্তারের (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার মেয়ে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৫টার দিকে মাহমুদা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান চালায়। একপর্যায়ে রেললাইনের পাশের পারিবারিক কবরস্থানের কাছে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতের ভাবি শাহনাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। তার পরনের পোশাকও পাওয়া যায়নি। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ।

 

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল ফাহাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অন্য একটি শিশুর সঙ্গে খেলতে গিয়ে আঘাতে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরকান্দায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে রেললাইনের পাশ থেকে ৯ বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা শুরু হয়।

 

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই সভায়। এছাড়া আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

 

নৌপথ সচল করার পাশাপাশি কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

 

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর চারপাশের নৌপথ সচল করার সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা শুরু হয়। বিস্তারিত

যশোরের চৌগাছায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফাত হোসেন রাব্বি নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেয়।

গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন রাব্বি স্থানীয় চৌগাছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সহযোগিতার জন্য প্রতিবেশী সম্পর্কের মামাতো ভাই রাব্বির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাব্বি ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে চৌগাছা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীকে ভুল বুঝিয়ে চৌগাছা পৌরসভার আওতাধীন এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে পুরো বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ করেন। ঘটনা জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল (রোববার) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার বিষয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরু/ণীকে ধ/ র্ষ/ণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

যশোরের চৌগাছায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফাত হোসেন রাব্বি নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

 

সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

 

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

 

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।

নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন পথচলায় তাদের উৎসাহিত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

 

নবীনবরণ উপলক্ষে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে নবীন শিক্ষার্থীরা গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া সঙ্গীত দল ‘কোরাস’ গান পরিবেশন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন, অংকুর কর্মকার ও জয়িতা চাকমাও সংগীত পরিবেশন করেন।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খিজির আল সিফাত, সুমাইয়া আবেদীন ঋতিকা ও এনা। শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ছাত্রনেতা রিদি জাফরাত। তিনি নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

আয়োজকরা বলেন, নবীনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরোনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘মিছিলে নতুন মুখ’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মনুষ্যত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

বক্তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশ, জাতি, রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় সংকটের দিকে নজর রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্ষরিক অর্থ অর্থাৎ বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বি সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসিব।

 

ইভান তাহসিব বলেন, “আপনারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দেশের একজন নাগরিক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়েও কথা বলা জরুরি।”

 

অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

জবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ

বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ

 

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের একজন মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তারে সাভারে অভিযান চলছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। ভবনটির ভেতর বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ। অপরজন মূলহোতা বোমারু মামুন।

 

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ভবনটির কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি। আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় পুলিশকে অভিযানের কারণ আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে অভিযানে সহায়তা করতে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সিটিটিসি বিস্তারিত জানাবে।

 

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে তালা দেওয়া ছিল। সিটিটিসি সদস্যরা ভেতরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযানে সিটিটিসি ও স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

ওসি বলেন, বাড়িটি চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পরে রাত ১২টার দিকে ওসি জানান, আটক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।

 

রাত ১২টার দিকে একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবন থেকে উদ্ধার করা পাইপ বোমার মূল উপাদান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড।

 

এসব ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক।

বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে সমকামিতার অভিযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ। এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

বিবৃতিতে হল সংসদের জিএস জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫–২৬ সেশনের দুইজন আবাসিক ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা) প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় উভয়কে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করা যায়।

 

এই ব্যাপারে প্রথম অভিযোগ আসলে অভিযোগকারী ছাত্রের পক্ষে আদিষ্ট হয়ে প্রশাসন বরাবর শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার ফলে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়।

 

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ। আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।

ঢাবিতে ফের সমকামিতার অভিযোগ, দুই ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার

চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম ও সাগর খানসহ অন্তত আটজন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদা তোলার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেন। খবর পেয়ে কে. এম. চঞ্চল ৪০-৫০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তারা প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের গালাগালি করেন। পরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হামলার শিকার সুমন সিকদার বলেন, ‘বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নিউমার্কেট এলাকায় কয়েকজনকে দোকানদার ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায়। এতে বাধা দিলে তারা প্রথমে আমাদের সঙ্গে গালাগালি ও বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এর ১০–১৫ মিনিট পর নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন লাঠিসোঁটা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমরা ১০–১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছি। আহতদের মধ্যে ৮–১০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজন পপুলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আত্মরক্ষার সময় আমার ডান হাতে কোপ লাগে।’

 

হামলার পর ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে তারা কলেজের সামনের মিরপুর সড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, নিউমার্কেট এলাকার প্রায় ৩৫০টির বেশি দোকান থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ জন্য কে. এম. চঞ্চলের একটি বাহিনী রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে বাধা দিলে তার ওপর হামলা করা হয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহসিন উদ্দিন আতিক বলেন, ‘ওদের মধ্যে মারামারি হয়েছে সে বিষয়ে অবগত আছি কিন্তু কতজন আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলায় আহত ৮

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩