
গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায় সেভাবে দেশ চালানো। আপনার চিন্তা ভাবনা, চলাফেরা সব কিছুতে গণতন্ত্র না থাকলে মনে করতে হবে তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যার্থ বলে তাকে ৫ বছর যেতে দিবো না বলছি। এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তো গণতন্ত্র যাই না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র কিন্তু কাজ করেছে উল্টো।
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।
ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই
হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আমাদের অভিযোগ। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।
সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।
তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দেওয়া ও অপরিকল্পিত নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’
শিক্ষকদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’
প্রথাগত রাজনীতির বাহিরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’
চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাননি। এ কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা এখনও যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি, সেগুলো এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে এবং সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে ও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সৈনিক জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সম-অধিকার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে- কীভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল। তারা যেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর যে পরিমাণ নির্যাতন অত্যাচার চালিয়েছে। তাদের ক্ষমতা থেকে নামাতে বিএনপি’র যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেল পরশুদিন পতিত ফ্যাসিট সরকার ভারতে বসে প্রেস কনফারেন্সের চেষ্টা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে ধরনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সে ধরনের প্রতিবাদ এর আগে কোন সরকার জানাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যে সর্তকতা জারি করা হচ্ছে, তার পেছনে অন্য কোন কারণ নেই। এটি কেবলমাত্র রুটিন ওয়ার্ক।
মিরপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, মহিলা সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আগামী রোববার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরকালে বাঁশখালীতে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে এসব ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন।
বন্যার পানির তোড়ে গৃহহারা পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে যখন অসহায় অবস্থায় ছিলেন ঠিক সেই সময়ে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগে তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। নিজের ভিটায় ভেঙে যাওয়া বাড়ি সরকার নির্মাণ করে দিচ্ছে ও সেই বাড়ি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে তুলে দেবেন-এমন প্রাপ্তিতে তারা আনন্দে উদ্বেলিত।
তারা প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে এক নজর দেখতে পাওয়া ও নতুন ঘরের চাবি বুঝে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি খরচে তাদের বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে আরসিসি পিলার, কাঠ এবং টিন।
টিনের ঘেরা ও ছাউনি দেওয়ার কারণে বাড়িগুলো ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি করে কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী জানান, ‘বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া যে পরিবারগুলোর নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ইতোমধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বাঁশখালী সফর ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক সেখানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি বাঁশখালীর বাহারছড়ায় অনুস্থানস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি।’
ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচানায় রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


Leave a Reply