চিকিৎসক-জনবল সংকটে ধুঁকছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চিকিৎসক-জনবল সংকটে ধুঁকছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ধুঁকছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তঘেঁষা জনপদ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ২০ শয্যার হাসপাতালটি ২০১০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত হলেও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি উল্টো। চিকিৎসকের ৩৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছাড়া কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। যার ফলে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চাপ সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন বিশ্বাস এবং জরুরি বিভাগে ১ জন মহিলা উপস্বাস্থ্য সহকারী ছাড়া আর কোনো ডাক্তার নেই। ওই সময় শত শত নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারিবদ্ধ লাইন সামলাতে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা হলেন ডা. সুজায়েত হোসেন, ডা. সাইদুর রহমান, ডা. হাবিবুর রহমান (আরএমও), ডা. সাইফুল ইসলাম।

একইভাবে ৩৬ জন সেবিকার পদে আছেন মাত্র ২০ জন এবং মাতৃস্বাস্থ্যের নিরাপদ প্রসবের জন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মিডওয়াইফ পদের বিপরীতে ৫টি মিডওয়াইফ পদ শূন্য পড়ে আছে। বাকি নার্সিং সুপারভাইজার ও সিনিয়র স্টাফ নার্স ২৬টি পদের মধ্যে সুপারভাইজারসহ ১৭টি পদ শূন্য পড়ে আছে। বাকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রথম শ্রেণির ৪ ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী সার্জন ৮ জনসহ ১২টি পদে কোনো ডাক্তার নেই। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির ১৪২ জনের মধ্যে ৬৮ জন কর্মচারী কর্মরত আছে, বাকি ৭৪টি পদ শূন্য। চতুর্থ শ্রেণির ২৩ জন কর্মচারীর মধ্যে ১২ জন থাকায় ১১টি পদ খালি আছে। আউটসোর্সিংয়ে ১১টি পদের বিপরীতে ১৮ জনের পরিবর্তে ১ জন আয়া, ১ জন কুক, ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ৩ জন ছাড়া বাকি ১৫টি পদ শূন্য।

হাসপাতালটির অন্যতম বড় বিড়ম্বনা হলো, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও গাইনি বা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। একইভাবে সার্জারি টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে রুম তালাবদ্ধ, আল্ট্রাসোনো রুম বন্ধ; এখানে কোটি টাকার আধুনিক ওটি সুবিধা থাকলেও শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গাইনোকোলজি ও সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ কনসালট্যান্ট পদ শূন্য থাকায় গর্ভবতী মা ও রোগীদের সিজারিয়ান সেকশন কিংবা যেকোনো জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়ে প্রসূতি মা ও মুমূর্ষু রোগীদের ৩৫-৪০ মাইল দূরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দায় সারা হচ্ছে। অন্যদিকে জরুরি মুহূর্তে ঝুঁকিতে পড়ছে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন। ফলে বাধ্য হয়ে আশেপাশের কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চড়া মূল্যে টাকা গোনতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার সোনোলজিস্ট পদ শূন্য, ইসিজি টেকনিশিয়ান নেই, এক্স-রে টেকনিশিয়ান পদ ফাঁকা। লোকবল ও ব্যবহারের অভাবে কোটি টাকার আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ও এক্স-রে মেশিন এবং ওটির মূল্যবান সরঞ্জামাদি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থেকে ধুলাবালিতে ও মরচে ধরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দন্ত বিভাগে অনুরূপ যন্ত্রপাতি থাকলেও ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নেই। চোখের ডাক্তার না থাকায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি লাগালেও শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে যশোর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে দীর্ঘ ৬ মাস আগে বদলি করলেও তিনি এখনো কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার গত ১২ অক্টোবর বদলি হলে তার জায়গায় ডা. নাসির উদ্দিনকে বদলি করা হলেও তিনি মফস্বলের উপজেলা বলে যোগদান না করায় বর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য থাকায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবিবুর রহমান অতিরিক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার ডা. রুপা রানী পাল মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় চিকিৎসাসেবা আরও সংকটে পড়েছে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আলপনা গোস্বামী, সাকিনা খাতুন, মনিরা বেগম, হালিমা খাতুন, মনোয়ারা খাতুন এ প্রতিনিধিকে জানান, ডাক্তার না থাকায় একজন ডাক্তারের কাছে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। শুধুমাত্র প্যারাসিটামল, গ্যাসের ওষুধ, এলার্জির ট্যাবলেট, ভিটামিন ট্যাবলেট নিয়ে চলে যেতে হচ্ছে। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা মিলছে না। সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এর কোনো সমাধান মেলেনি। নতুনভাবে যদি কোনো ডাক্তার দেয়, তাহলে কিছুটা সমস্যার সমাধান হবে। নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার যোগদানের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে জানান, যোগদান না করলে আমার কিছু করার নেই। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহলসহ উপজেলাবাসী।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩