টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও

টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও

টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে নাকাল সাধারণ মানুষ। বাজারে ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

 

বাজারে কোনো পণ্যে স্বস্তি না মেলায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় অনেকের ভরসা এখন সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল। তবে ক্রেতার চাপ বাড়ায় এবং চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলের সামনে প্রতিদিনই বাড়ছে নিরুপায় মানুষের ভিড়।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকসেলে বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই কয়েক শ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে।

 

নারী, বয়স্ক মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে চাকরিজীবী মানুষ স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে লাইনে অপেক্ষায়। অনেকের অভিযোগ, সীমিত সরবরাহের কারণে সবাই পণ্য পাচ্ছেন না। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিলেন টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠি জেনারেল স্টোর। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহিণী শান্তা আক্তার বলেন, ‘আগে বাজার থেকে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেকও কিনতে পারি না।

 

সব কিছুর দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে তেল, ডাল কিনতে এই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

 

রিকশাচালক মো. বেলাল বলেন, ‘দিনে যা আয় করি, তার বড় অংশ খাবারের পেছনে চলে যায়। বাজারে গেলে মনে হয় সব কিছুর দাম আগুন।

 

বাজার থেকে দুই লিটার তেল কিনতে ৪০০ টাকা এবং দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মতো লাগে। এখান থেকে দুই লিটার তেল ২৬০ টাকা এবং দুই কেজি ডাল ১৪০ টাকায় পাচ্ছি। টিসিবি না থাকলে পরিবার নিয়ে চলা আরও কঠিন হতো।’

 

টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠি জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা নওশাদ নাসির বলেন, ‘আজ (গতকাল) পণ্য নিতে প্রচুর মানুষ এসেছিল। দুপুর ২টার মধ্যে সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। আমরা ৪০০ জনের বেশি মানুষকে পণ্য দিতে পারিনি। অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রত্যাশিত পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন। এতে আমাদের অনেক খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, এলাকাভেদে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো হোক।’

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১১ মে থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে টিসিবি। এই কার্যক্রম চলবে ১০ দিন। ট্রাকসেল থেকে একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন। এক কেজি চিনি ৮০ টাকা, দুই কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনটি পণ্যের এই প্যাকেজ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪৮০ টাকা।

 

টিসিবি সূত্র জানায়, একই পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে কিনতে প্রায় ৭৩০ টাকার মতো খরচ হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকসেল পয়েন্টে অন্তত ৪০০ জন ক্রেতার হাতে এসব পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে। কম দামে পণ্য পাওয়ায় প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি ও হুড়াহুড়ির ঘটনাও ঘটছে।

 

রাজধানীর আসাদগেটে সেন্ট জোসেফ স্কুলের সামনে টিসিবির ডিলার ও সাজেদা জেনারেল স্টোর ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিল। মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে পণ্য নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত রতন সরকার।

 

তিনি বলেন, ‘লাজ-লজ্জা রেখে কী হবে? সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্যই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

 

এদিকে বাজারে মাছ-মাংস, ডিম, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও বাজারে বাড়তি খরচের চাপ থামছেই না। বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। মুরগির বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজার তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


রাজশাহীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল কাদের ওরফে সজীব (৩১) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। তার বাবার নাম কামরুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়িতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে যাওয়ার সময় মাঝপথে থেমে ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়।

 

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেটি সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।

 

পরে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি মূলত মজার ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণেই রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও ‘ফানি ভিডিও’ করেছিলেন।

 

এদিকে বুধবার রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুল কাদেরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের দাবি, একজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে হেয় করে কথা বলা হয়েছে, তা মানহানিকর।

 

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় সোপর্দ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভুল স্বীকার করায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও বাদী না থাকায় এবং আমলযোগ্য অপরাধ না হওয়ায় তাকে কোনো ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ ভিডিও, ধরা খেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সবজির বাজারে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির জন্য গুণতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ পাওয়া যেত ১২০ টাকায়, আজ ছুটির দিনে এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। পেপে, বেগুন, শসার দামও শতকের ঘরে।

 

দোকানদারদের দাবি, বৃষ্টিতে দেশের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সবজির যোগান কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

 

মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া আর চাষের পাঙ্গাস মিলছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা কেজিতে। চাষের রুই-কাতলার দাম হাকা হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা। মিঠা পানির মাছের জন্য গুণতে হবে ৬শ’ থেকে হাজার টাকা কেজি। মানভেদে চিংড়ি মিলছে ৮শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজিতে।

 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজার ইলিশের দেখা মিলছে। তবে, খুব কম ক্রেতারই এই মাছ কেনার সামর্থ্য আছে। এক কেজি আকারের নদীর ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ নিতে চাইলে, দিতে হবে দুই হাজার টাকা বেশি।

 

বিক্রেতারা বলছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে। তখন দামও নাগালের মধ্যে আসবে।

 

এদিকে, ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

 

এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সমিতি। এছাড়া উৎপাদন কম আর বৃষ্টির অজুহাত তো রয়েছেই।

 

ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৪০ টাকা আর দেশি মুরগী বিকোচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকাতেই।

বেড়েছে সবজি-ডিম-মুরগির দাম, ভোক্তার নাভিশ্বাস

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আগামী ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

 

তবে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও জানানো হয়।

 

এছাড়া, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী ২-৩ দিনে আরও বাড়তে পারে।

 

বুধবার (১৩ মে) আবহাওয়া অধিদফতরের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস তথ্যে এটি জানানো হয়েছে।

 

এ তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা কুশিয়ারার পানি আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ২৪ ঘন্টায় নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তা ৩ দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

 

তথ্যে আরও বলা হয়েছে, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদী সমূহের পানি সমতলে আগামী ২ দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতলে আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

এদিকে, পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ঢুকছে গাজীর ভিটা ও ভূবন কূড়া এলাকায়। ভোড়াঘাট নদীর পানিতে তলিয়েছে আশপাশের লোকালয় ও কৃষিজমি। ভেঙে গেছে দুই ইউনিয়নের কাচা দুটি সড়ক। পানি প্রবেশ বন্ধ না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

 

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

নেতা নয়, সেবক হয়ে সাভার পৌরবাসীর পাশে থাকতে চাই”: ওবায়দুর রহমান অভি।

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। এই নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, সাভার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, সাভার বাজার রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি, সাভার সিটি সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি, ওবায়দুর রহমান অভি। গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহ নয় বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হতে চান তিনি। ওবায়দুর রহমান অভি আরো বলেন

“আমি নিজেকে নেতা হিসেবে নয়, বরং সাভার পৌরবাসীর সেবক হিসেবে দেখতে চাই। এই পৌরসভা আমাদের সবার। এখানকার ড্রেনেজ সমস্যা, যানজট এবং নাগরিক সেবার যে ঘাটতি রয়েছে, তা নিরসনে আমি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।” আধুনিক ও স্মার্ট পৌরসভা: প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবা হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া।

মাদকমুক্ত সমাজ: তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা।

যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন: সাভারের প্রধান সমস্যাগুলোর পরিকল্পিত ও স্থায়ী সমাধান।

নারীদের নিরাপত্তা: নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

 

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ওবায়দুর রহমান অভিকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা একজন সৃজনশীল ও জনবান্ধব নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। সাধারণ মানুষের মতে, অভি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন, তাই তাকে মেয়র হিসেবে পেলে পৌরসভার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

 

সেবক হিসেবে আগামীর পথচলা

ওবায়দুর রহমান অভি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচিত হওয়া বা না হওয়া বড় কথা নয়, তিনি সাভারের মাটির সন্তান হিসেবে সব সময় জনগণের পাশে ছিলেন এবং থাকবেন। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

নেতা নয়, সেবক হয়ে সাভার পৌরবাসীর পাশে থাকতে চাই”: ওবায়দুর রহমান অভি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ও রাজনীতি অঙ্গন নিয়েই সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে থাকা এই ক্রিকেটার সম্প্রতি ‘সিম্পলি সাঈদ’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা, ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘একটা সময় দেখতাম যে সবাই আওয়ামী লীগ করে, আর এখন দেখি যে কেউই আওয়ামী লীগ করে না। এরকম একটা অবস্থা।’

 

আগামীতে দেশে ফিরলে প্রথমে কোথায় যাবেন, মিরপুর স্টেডিয়াম নাকি নিজ জেলা মাগুরা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন তো ঢাকায় পা রাখাটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

 

সাক্ষাৎকারে ‘আপনার সাবেক টিমমেট, আপনার বন্ধু তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি। তিনি নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা?’ এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন করার পরে আসলে যে বোর্ডটা আসবে, তাদের হয়তো হাতে চিন্তাভাবনা করে ডিসিশনটা নেওয়ার অনেক সময় থাকবে।’

 

রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি যে আমি ভুল কিছু করি নাই।’ খেলোয়াড়ি জীবনেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কখনো মাগুরাতে সাকিব আল হাসান হইনি। আমি সবসময় মাগুরাতে ফয়সালেই ছিলাম।’

একটা সময় দেখতাম সবাই আওয়ামী লীগ করে, এখন দেখি কেউই করে না’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজশাহীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল কাদের ওরফে সজীব (৩১) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। তার বাবার নাম কামরুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়িতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে যাওয়ার সময় মাঝপথে থেমে ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়।

 

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেটি সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।

 

পরে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি মূলত মজার ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণেই রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও ‘ফানি ভিডিও’ করেছিলেন।

 

এদিকে বুধবার রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুল কাদেরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের দাবি, একজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে হেয় করে কথা বলা হয়েছে, তা মানহানিকর।

 

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় সোপর্দ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভুল স্বীকার করায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও বাদী না থাকায় এবং আমলযোগ্য অপরাধ না হওয়ায় তাকে কোনো ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ ভিডিও, ধরা খেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সবজির বাজারে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির জন্য গুণতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ পাওয়া যেত ১২০ টাকায়, আজ ছুটির দিনে এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। পেপে, বেগুন, শসার দামও শতকের ঘরে।

 

দোকানদারদের দাবি, বৃষ্টিতে দেশের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সবজির যোগান কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

 

মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া আর চাষের পাঙ্গাস মিলছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা কেজিতে। চাষের রুই-কাতলার দাম হাকা হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা। মিঠা পানির মাছের জন্য গুণতে হবে ৬শ’ থেকে হাজার টাকা কেজি। মানভেদে চিংড়ি মিলছে ৮শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজিতে।

 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজার ইলিশের দেখা মিলছে। তবে, খুব কম ক্রেতারই এই মাছ কেনার সামর্থ্য আছে। এক কেজি আকারের নদীর ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ নিতে চাইলে, দিতে হবে দুই হাজার টাকা বেশি।

 

বিক্রেতারা বলছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে। তখন দামও নাগালের মধ্যে আসবে।

 

এদিকে, ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

 

এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সমিতি। এছাড়া উৎপাদন কম আর বৃষ্টির অজুহাত তো রয়েছেই।

 

ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৪০ টাকা আর দেশি মুরগী বিকোচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকাতেই।

বেড়েছে সবজি-ডিম-মুরগির দাম, ভোক্তার নাভিশ্বাস

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জমি কেনার স্বপ্ন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আবুল বাসার। জীবনের পুরো সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের কামারিয়া এলাকার হানিফ আলী ও আলী হোসেনের কাছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১৫ শতাংশ জমি কেনার জন্য বায়না বাবদ মোট ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য মোঃ আবুল বাসার। দীর্ঘদিন ধরে টাকা লেনদেনের পর ২০২০ সালের ১৫ মে জমি রেজিস্ট্রির দিন নির্ধারণ করা হয়।

 

কিন্তু নির্ধারিত দিনে অভিযুক্ত আলী হোসেন, হানিফ আলী, নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন দলিল লেখক আব্দুর রহমানের অফিস থেকে হঠাৎ কৌশলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

 

পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তরা আবুল বাসারকে ১৫ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দিলেও কিছুদিন পর জানায়, তাকে পুরো ১৫ শতাংশ নয়, দেওয়া হবে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ জমি। এরপর আরও সময় পার হলে পুরো জমি রেজিস্ট্রি করে দিতেও অস্বীকৃতি জানায় তারা।

 

ভুক্তভোগী আবুল বাসার জানান, দেশের নিরাপত্তায় চাকরি করে জীবনের সব সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা জমিয়ে শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আশায় জমি কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন প্রতারণার শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগকে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।

 

তিনি আজ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘দুইটি দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রচার করছেন যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমি কিছু বলি নি, কিছু করি নি। আমি নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছের মানুষ ছিলাম – এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বাঁচাতে এখন চুপ থাকছি।’

 

তিনি জানান, ভিন্ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড বহু আগেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল তাকে। তার ভাষ্য, ‘তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলি। তখনকার বিষয় ছিলো জুলাই গণঅভুথানে আহতদের চিকিৎসায় ধীরগতি ও অবহেলা।’

 

ডা. জারা বলেন, তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিওগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে।

 

তার কথা, ‘হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে দায় কার, তা খুঁজে বের করতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, সেই দাবীও জানিয়েছি প্রায় একমাস আগে – এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে। আর এক মাসেরও বেশি আগে থেকে আমি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমি হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছি, সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আমার মতামত দিয়েছি। এসব ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে সার্চ করলেই দেখা যায়। কিছু স্ক্রিনশটও দিচ্ছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর এই চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে: এই সময়ে দলীয় কর্মীদের কাজ হওয়া উচিত ছিলো সমাধানে অংশ নেওয়া। কিন্তু তারা বরাবরের মতই বেছে নিয়েছে মিথ্যা প্রচার করা।’

উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:মামুন হাওলাদার

 

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্যাডে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল দায়িত্ব পেয়েছেন।

এদিকে, এই কমিটিতে শামীম শিকদারকে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করায় শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা শামীম শিকদারের ছবি পোস্ট করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে দলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। শামীম শিকদারের মতো নেতৃত্ব জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দল আরও সুসংগঠিত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শেখ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানালেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদবঞ্চিতদের মাঝে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সাধারণ কর্মীদের প্রত্যাশা, আতিকুর রহমান রাসেল ও নিয়ামুল কবির রাহুলের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদল দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজপথে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

 

 

এসময় তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

 

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেফতারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।

 

এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন যে, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

 

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

 

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

 

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে তিন শিশুকন্যা, মা শারমিন এবং শ্যালক রসুলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।

 

মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের

টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে নাকাল সাধারণ মানুষ। বাজারে ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

 

বাজারে কোনো পণ্যে স্বস্তি না মেলায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় অনেকের ভরসা এখন সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল। তবে ক্রেতার চাপ বাড়ায় এবং চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলের সামনে প্রতিদিনই বাড়ছে নিরুপায় মানুষের ভিড়।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকসেলে বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই কয়েক শ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে।

 

নারী, বয়স্ক মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে চাকরিজীবী মানুষ স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে লাইনে অপেক্ষায়। অনেকের অভিযোগ, সীমিত সরবরাহের কারণে সবাই পণ্য পাচ্ছেন না। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিলেন টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠি জেনারেল স্টোর। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহিণী শান্তা আক্তার বলেন, ‘আগে বাজার থেকে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেকও কিনতে পারি না।

 

সব কিছুর দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে তেল, ডাল কিনতে এই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

 

রিকশাচালক মো. বেলাল বলেন, ‘দিনে যা আয় করি, তার বড় অংশ খাবারের পেছনে চলে যায়। বাজারে গেলে মনে হয় সব কিছুর দাম আগুন।

 

বাজার থেকে দুই লিটার তেল কিনতে ৪০০ টাকা এবং দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মতো লাগে। এখান থেকে দুই লিটার তেল ২৬০ টাকা এবং দুই কেজি ডাল ১৪০ টাকায় পাচ্ছি। টিসিবি না থাকলে পরিবার নিয়ে চলা আরও কঠিন হতো।’

 

টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠি জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা নওশাদ নাসির বলেন, ‘আজ (গতকাল) পণ্য নিতে প্রচুর মানুষ এসেছিল। দুপুর ২টার মধ্যে সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। আমরা ৪০০ জনের বেশি মানুষকে পণ্য দিতে পারিনি। অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রত্যাশিত পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন। এতে আমাদের অনেক খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, এলাকাভেদে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো হোক।’

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১১ মে থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে টিসিবি। এই কার্যক্রম চলবে ১০ দিন। ট্রাকসেল থেকে একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন। এক কেজি চিনি ৮০ টাকা, দুই কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনটি পণ্যের এই প্যাকেজ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪৮০ টাকা।

 

টিসিবি সূত্র জানায়, একই পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে কিনতে প্রায় ৭৩০ টাকার মতো খরচ হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকসেল পয়েন্টে অন্তত ৪০০ জন ক্রেতার হাতে এসব পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে। কম দামে পণ্য পাওয়ায় প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি ও হুড়াহুড়ির ঘটনাও ঘটছে।

 

রাজধানীর আসাদগেটে সেন্ট জোসেফ স্কুলের সামনে টিসিবির ডিলার ও সাজেদা জেনারেল স্টোর ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিল। মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে পণ্য নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত রতন সরকার।

 

তিনি বলেন, ‘লাজ-লজ্জা রেখে কী হবে? সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্যই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

 

এদিকে বাজারে মাছ-মাংস, ডিম, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও বাজারে বাড়তি খরচের চাপ থামছেই না। বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। মুরগির বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজার তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

টিসিবিমুখী এখন নিরুপায় মধ্যবিত্তরাও

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আগামী ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

 

তবে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও জানানো হয়।

 

এছাড়া, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

 

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

 

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্যনিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

 

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d