
পরিত্যক্ত দশা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউএইচএফপিও ডা. জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রাণ ফিরছে হাসপাতালে।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: জিয়াউর রহমান জিয়া,
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,
“দৈনিক আমাদের দেশ”।
দীর্ঘদিন যাবত অবকাঠামোগতভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ভবন জরাজীর্ণ থাকায় আগত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছিল। ফলে বিগত কয়েক বছর এই উপকূলীয় এলাকার মানুষজন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল।
অবশেষে সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে শ্যামনগরবাসীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা. জিয়াউর রহমান নিজে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ভবনটি পুনঃনির্মাণের কার্যক্রম শুরু করিয়েছেন। অতি শীঘ্রই বিল্ডিংটির কাজ শেষে খুব দ্রুত রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শুধু ভবন নির্মাণই নয়, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তন এনেছেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন এরিয়ায় থাকা বন-জঙ্গল নিজে দায়িত্বে থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। বর্তমান বিদ্যুতের যে অবস্থা তা নিরসনের জন্য তিনি জরুরি বিভাগ, ডেলিভারি ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড সহ সব জায়গায় আইপিএস ব্যবস্থা করেছেন। নিজ উদ্যোগে জরুরি বিভাগের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থাও করেছেন।
ডা. জিয়াউর রহমান মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় হাসপাতালটি নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী আশা করছে অতি শীঘ্রই বিল্ডিংটি চালু হলে সকলে একটু উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শ্যামনগর উপজেলা আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তম উপজেলা এবং আইলা-দুর্গম উপকূলীয় এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে মাত্র ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে, যা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য অপ্রতুল।
তাই হাসপাতালটির সেবার মান টেকসই করতে নতুন ভবন নির্মাণ, শয্যা সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের পাশাপাশি *প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানোর* জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শ্যামনগরবাসী। পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হলে উপকূলের এই অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।
বিল্ডিংটি নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়ায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে শ্যামনগরবাসী।
Leave a Reply