প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়া।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন।

 

প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

 

এই সফরের পেছনে সরকারের বড়ো একটা স্ট্রেটেজি রয়েছে, যে বিষয়ে গতকালকে মালেশিয়ার শীর্ষ গণমাধ্যম দ্য এইজ মালেশিয়া একটা বিগ স্টোরি করেছে।

 

মালেশিয়াতে এস আলমের সকল সম্পত্তির ওপর নজরদারি করছে সরকার। মালেশিয়ার পত্রিকার ওই রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, এস আলম সংশ্লিষ্ট দুই হোটেলের দিকে নজর সরকারের। একটা ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর আরেকটি রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার। দুটোতেই আছে অন্তত দেড়শো কোটি টাকার বিনিয়োগ। তারেক রহমান এগুলো জব্দের জন্য ট্রাই করতেছেন। সেদিকে নজর তার সরকারের।

 

মালেশিয়াতে এস আলমের সাম্রাজ্য ঘিরে তদন্ত চলতেছে। দ্য এইজ মালেশিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত মালেশিয়াতেই এস আলমের প্রকাশ্যে সম্পত্তি বেশি।

 

দুই দিনের সফরে ২য় দিন তারেক রহমান এবং মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ওয়ান-টু-ওয়ান একটা বৈঠক করবেন।

 

বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা এবং এক্সটেন্ড করা। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য কিছু বিষয় সমঝোতা চুক্তি হবে এবং অভিবাসন নিয়েও চুক্তি হবে।

 

বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উঠে আসা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের ঋণে অবব্ধ হওয়া, কাজ না পাওয়া, ফোর্সড লেবার এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ সহ অবৈধদের বৈধতার বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচনা করার অহ্বান মালয়েশিয়া প্রবাসীদের।

 

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বিশাল শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। তাই এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে:

শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা

নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি

রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রবাসী কল্যাণে নতুন দ্বার উন্মোচন

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে এই সফর ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।


কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি।

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে ১৯০ টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ টি ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতিত্ব এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ড. খলিলুর রহমান।

 

এবারের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসলো বাংলাদেশ।

 

এর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ হাজি দেশে পৌঁছেছেন। এদিকে চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহণ করেছে।

 

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

 

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

 

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

 

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

 

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

 

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

 

হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়

গত সোমবার শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। এরপর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি।

 

আজ ১০ জিলহজ, বুধবার। ফজরের নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তারা জামারাত আল-আকাবায় বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করবেন হাজিরা।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালন করতে এসেছেন।

 

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ।

 

এবারের হজ মৌসুমে, পবিত্র নগরী মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের বেশি বেশি পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ

আজ শয়তানকে ‘পাথর’ নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরর্মেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেজিলেশনস ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়ন ভূমিকা রাখছে। শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ,ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দি। একইসঙ্গে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আইসা মান্দি বলেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

মূলত সিমন মারচিনিয়াকের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির ট্যাকলটি অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাটি খেলার অংশ এবং রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

 

এ বিষয়ে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও ম্যাচ শেষে বলেন, তাদের দল কিছু ভুল করেছে, যা মেসির মতো খেলোয়াড়কে আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে।

 

যদিও ট্যাকল প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

 

আশিকুরের ছোট ভাই জানান, দুপুর পর্যন্ত তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। পরে আশিকুর নিজের মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে যান। মোবাইলটিতে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে আশিকুরের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নিয়ে গেছে। সে এখন কোথায় আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

 

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

 

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সব বাস একক কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকদের সমন্বয়ে একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মান, অভিন্ন রঙ, বৈধ ফিটনেস এবং প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজ এড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে।

 

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলবে এবং কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না।

 

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়কে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বাস মালিকরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

 

 

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

এর আগে মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা যেতে পারে। ঘটনাটি আমিও দেখেছি। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘটনাটি সত্য।

 

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

 

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন গোলাম সাকলায়েন। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ পরীমনি ডিবির কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের মধুমতি ভবনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে গ্রেফতারের পর পরীমনি অকপটে স্বীকার করেন সবকিছু।

পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অভিন্ন (একই) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার আমরা অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি, দেখি কী হয়। প্রতিটি বোর্ডের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে, মূলত সেই উদ্দেশ্য থেকেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।

 

পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আপৎকালীন পরিস্থিতির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় দুর্যোগ হলে তা মোকাবিলার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশ্নপত্র যথাসময়ে আগেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। যেকোনো সমস্যা এড়াতে আমাদের আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

২ জুলাই থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

অনেক দিক থেকে দেখলে, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দোষ নয়।

 

যখন বছরের পর বছর আপনাকে বলা হয় আপনি এখনো আগের মতোই সেরা, যখন কোচ আপনাকে নিয়মিত একাদশে রাখেন, যখন হাজারো দর্শক শুধুমাত্র আপনাকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে আসে, তখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে বিশ্বাস হারানো কঠিন। বরং স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে, সেই পুরোনো জাদু এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

 

কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত অনুভূতির নয়, বাস্তবতার খেলা। আর বাস্তবতা বলছে, রোনালদো আর আগের রোনালদো নন।

 

হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার আরেকটি নির্মম স্মারক। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাঠে থেকেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। এমন নয় যে তিনি ভয়াবহ খেলেছেন। বরং সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—তিনি যেন খেলাতেই ছিলেন না।

 

পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল বিরতির পর পাওয়া দুটি সুযোগ। দুটিই কাছের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। প্রথমটি কঠিন সুযোগ ছিল, দ্বিতীয়টিতে তিনি বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেস আরও ভালো অবস্থানে শট নিতে পারতেন।

 

ফক্স স্পোর্টসে ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছিলেন, “দলের গোল দরকার। গোলটা তোমাকেই করতে হবে এমন নয়।”

 

ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট—রোনালদো যেন দলের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের গোলের হিসাবেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

 

এরপর ম্যাচে তার অবদান প্রায় শূন্য। একসময় যেসব ক্রসে তিনি অবিশ্বাস্য উচ্চতায় লাফিয়ে হেড করতেন, সেসব পরিস্থিতিতেও এবার তাকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। একটি দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ভেসে এলে তিনি লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। শেষ পর্যন্ত সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেন চান্সেল এমবেমবা।

 

একসময় প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিলেন রোনালদো। এখন তিনি বেশি পরিচিত নিজের অতীতের জন্য।

 

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, তিনি এখনো প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি বলেছিলেন, রোনালদোর অফসাইড অবস্থানে থাকা অনেক সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, সেই ফাঁকা জায়গা তৈরি করলেও রোনালদো নিজে আর আগের মতো হুমকি হয়ে উঠতে পারছেন না।

 

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউও ম্যাচ শেষে পরোক্ষভাবে সেটিই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, রোনালদো আর আগের মতো দৌড়ান না এবং বয়সের প্রভাব তার খেলায় স্পষ্ট।

 

তবু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যে ম্যাচে আমাদের গোল দরকার, সেখানে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”

 

সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল—‘ইতিহাস’।

নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

 

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান।

 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

 

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

 

 

 

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩