বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া শাখার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিন বছরের জন্য গঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হুমায়ূন কবির ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে নির্বাচিত করা হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর খান। এই কমিটির অন্যরা হলেন- কার্যকরী সভাপতি নুরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি-১ লেহাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি-২ রমজান আলী, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, দপ্তর সম্পাদক আজহার উল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তাহের হোসেন, সড়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ শরীফ, সহ-সড়ক সম্পাদক শ্রী সুব্রত চন্দ্র বর্মণসহ ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিনার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, গাজীপুর জেলা অটো টেম্পু মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর ইসলাম, গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম দেওয়ানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ।


গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা ।

 

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে অনুমোদনহীন দুটি চায়না মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

জেলা এনএসআই গাজীপুর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

প্রথমে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাশিমপুর থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় ‘টংগুইদা’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ সময় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(২৭) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪০, ২৪ ও ৫৫ ধারায় আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 

পরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত একই থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকায় ‘টাইগার ব্যাটারী’ নামের আরেকটি চাইনিজ মালিকানাধীন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ ঘটনায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানের মাধ্যমে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ।

গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে সুলতান ও পারভেজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ধারালো ডেগার, খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই গ্যাংয়ে স্থানীয় কিশোরদের যোগ দিতে বাধ্য করা হতো। কেউ তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে সুলতান ও পারভেজসহ তাদের সহযোগীরা তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল জাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা পুনরায় গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রানীনগর থানা এবং মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রানীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হয়।

 

পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে জানা যায়, সুলতান ও পারভেজ ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অন্যান্য জেলার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজের সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।

 

পরে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এরপর ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে সুলতান ও পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার জব্দ করা হয়।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান, উভয় পাশে ধারালো একটি ডেগার, একটি খেলনা পিস্তল, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু ও একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডেগারটির হাতলসহ দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি এবং হাতল ছাড়া দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তরা প্রায়ই নিজেদের কাছে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন এবং তা দিয়ে মানুষকে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং- ০১-০৯-২০২৬

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে হরিপুর থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধারসহ ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ১৬০ সিসি হোন্ডা এক্সব্লেড মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সময় রাত ১১.৩০ ঘটিকায় জানতে পারে যে, হরিপুর থানাধীন ০৬ নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) গ্রাম হতে মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাঁশ নামক স্থানে একটি মোটরসাইকেলসহ এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবস্থানরত ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি ১। মোঃ নাজির হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আঃ সামাদ, সাং-রাউতনগর (মিশনপাড়া), ৩নং হোসেনগাঁও ইউনিয়ন, থানা-রানীশংকৈল, জেলা-ঠাকুরগাঁওকে আটক করেন।

 

আটকের পর বিধি মোতাবেক তল্লাশি করে আটককৃত আসামির হেফাজত হতে সর্বমোট ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে আটক আসামি মোঃ নাজির হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কৌশল নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত মোঃ নাজির হোসেন ও মোছাঃ নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে হরিপুর থানা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রয় করে আসছিল। এছাড়া, মোছাঃ নাজমা বেগম মাদক বিক্রয়ের জন্য অর্থের যোগান, পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করে আসছিল বলে জানা যায়। তাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী, মাদক সরবরাহকারী ও মাদক ক্রেতাসহ একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উক্ত ঘটনায় পলাতক ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক

কক্সবাজারে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ইয়াবা বড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’ নামের বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লিংক রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন বাসের চালক আকতার হোসেন (২৩), তিনি রামুর খুনিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা এবং হেলপার ইয়াছিন আরাফাত (১৩), সে উখিয়ার টিএনটি কলেজ এলাকার আমগাছতলার বাসিন্দা।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া থেকে কক্সবাজার সদরে আসা ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাসের চালক ও হেলপারের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির পিছনের সিটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

অভিযানের সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত পালং স্পেশাল সার্ভিস নামের বাসটি জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ।

কক্সবাজারে বাস থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, চালক-হেলপার আটক

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

পরিবহন নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। অথচ এসব খাতসহ সরকারি পরিপত্রে অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

 

সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে পরিবহন, আইসিটি, চিকিৎসা, অতিথি শিক্ষক, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নিরাপত্তা ও কর্মচারী খাতে এসব অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের ৩৭.০০.০০০০.১৫১.০৯.০০৩.২৩.১২৩ নম্বর স্মারকে ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই পরিপত্রের তফসিল ‘খ’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলেজটিতে অনুমোদন না থাকা কয়েকটি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৬৮৫ জন। সম্মান, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স মিলিয়ে এইচএসসি বাদে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ২

 

২২ জন।

পরিবহন নেই, তবু ২২ লাখ টাকা

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ফি নিয়ে। পরিপত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেই কেবল এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ হিসাবে কলেজের প্রায় ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিবহন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

 

অনুমোদন নেই, তবুও আইসিটি ফি

সরকারি পরিপত্রে ‘আইসিটি ফি’ নামে কোনো অনুমোদিত খাত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ষ ও কোর্স মিলিয়ে এ খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাস নেই, তবু পরিবহন ফি, আছে ‘অতিথি শিক্ষক ফি’—বছরে অতিরিক্ত ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া শাখার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিন বছরের জন্য গঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হুমায়ূন কবির ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে নির্বাচিত করা হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর খান। এই কমিটির অন্যরা হলেন- কার্যকরী সভাপতি নুরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি-১ লেহাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি-২ রমজান আলী, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, দপ্তর সম্পাদক আজহার উল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তাহের হোসেন, সড়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ শরীফ, সহ-সড়ক সম্পাদক শ্রী সুব্রত চন্দ্র বর্মণসহ ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিনার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, গাজীপুর জেলা অটো টেম্পু মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর ইসলাম, গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম দেওয়ানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ।

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল

গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা ।

 

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে অনুমোদনহীন দুটি চায়না মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

জেলা এনএসআই গাজীপুর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

প্রথমে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাশিমপুর থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় ‘টংগুইদা’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ সময় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(২৭) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪০, ২৪ ও ৫৫ ধারায় আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 

পরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত একই থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকায় ‘টাইগার ব্যাটারী’ নামের আরেকটি চাইনিজ মালিকানাধীন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ ঘটনায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানের মাধ্যমে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ।

গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা

গাইবান্ধায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পাল

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় উৎসব মুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক মাহমুদুন নবী টিটুলের সভাপতিত্বে ও শহর বিএনপির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সদস্য সচিব শহিদুজ্জামান শহিদের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ড. মো. শামীম কায়সার লিংকন(এমপি)।

 

প্রধান বক্তা ছিলেন গাইবান্ধা ১, ২, ৩ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদল,তাতীদল,কৃষকদল সহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। দীর্ঘ ১৭বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

 

আরও বলেন, সংগঠনকে ঐক্য এবং শক্তিশালী করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

 

আলোচনা শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিন করে পুনোরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলটির চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

গাইবান্ধায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে সুলতান ও পারভেজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ধারালো ডেগার, খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই গ্যাংয়ে স্থানীয় কিশোরদের যোগ দিতে বাধ্য করা হতো। কেউ তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে সুলতান ও পারভেজসহ তাদের সহযোগীরা তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল জাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা পুনরায় গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রানীনগর থানা এবং মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রানীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হয়।

 

পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে জানা যায়, সুলতান ও পারভেজ ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অন্যান্য জেলার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজের সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।

 

পরে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এরপর ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে সুলতান ও পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার জব্দ করা হয়।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান, উভয় পাশে ধারালো একটি ডেগার, একটি খেলনা পিস্তল, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু ও একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডেগারটির হাতলসহ দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি এবং হাতল ছাড়া দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তরা প্রায়ই নিজেদের কাছে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন এবং তা দিয়ে মানুষকে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং- ০১-০৯-২০২৬

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে হরিপুর থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধারসহ ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ১৬০ সিসি হোন্ডা এক্সব্লেড মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সময় রাত ১১.৩০ ঘটিকায় জানতে পারে যে, হরিপুর থানাধীন ০৬ নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) গ্রাম হতে মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাঁশ নামক স্থানে একটি মোটরসাইকেলসহ এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবস্থানরত ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি ১। মোঃ নাজির হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আঃ সামাদ, সাং-রাউতনগর (মিশনপাড়া), ৩নং হোসেনগাঁও ইউনিয়ন, থানা-রানীশংকৈল, জেলা-ঠাকুরগাঁওকে আটক করেন।

 

আটকের পর বিধি মোতাবেক তল্লাশি করে আটককৃত আসামির হেফাজত হতে সর্বমোট ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে আটক আসামি মোঃ নাজির হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কৌশল নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত মোঃ নাজির হোসেন ও মোছাঃ নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে হরিপুর থানা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রয় করে আসছিল। এছাড়া, মোছাঃ নাজমা বেগম মাদক বিক্রয়ের জন্য অর্থের যোগান, পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করে আসছিল বলে জানা যায়। তাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী, মাদক সরবরাহকারী ও মাদক ক্রেতাসহ একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উক্ত ঘটনায় পলাতক ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক

নীলফামারীতে ড্যাবের তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম,জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মীনি তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্যসচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

নীলফামারীতে ড্যাবের তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে

ডাকাত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা, এবার ‘টার্গেট’ দুই বিএনপি নেতা

 

প্রাণনাশের হুমকি, অপপ্রচার ও উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ; এসপির কাছে নিরাপত্তা দাবি

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, অপপ্রচার এবং উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা মো. ইদ্রিস আলী ও মো. রওশন আলী।

 

আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, তারা কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও স্থানীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বশীল কর্মী। মো. ইদ্রিস আলী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং মো. রওশন আলী সংগঠনটির সদস্য ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

 

আবেদনকারীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব ও পুলিশকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় তারা আইনানুগ সাক্ষী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

 

আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে র‍্যাব-৬ পরিচালিত একটি অভিযানে ইয়ার আলী তরফদার নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, ওই অভিযানে জব্দতালিকা প্রস্তুত ও মামলা রুজুর সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

 

এছাড়া গত ১২ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে বোমাবাজি ও নাশকতার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দে পুলিশকে সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ১৩ জুন ২০২৬ দায়ের হয়। ওই মামলায় তারা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবেদনকারীদের অভিযোগ, এসব মামলায় সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই মামলার আসামি ও তাদের সহযোগী-পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়া এবং সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের ওপর অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

আবেদনে মো. তৌফিক আলম রায়হান, ‘টেমি’ মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং মো. তানভীর নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীরা তাদের বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

আবেদনকারীদের আরও দাবি, ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউল, রফিকুল ও বিল্লাল নামে কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন কাল্পনিক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, মো. তৌফিক আলম রায়হানের সঙ্গে দোকানঘর বিক্রয়কে কেন্দ্র করে আবেদনকারীদের আর্থিক বিরোধ রয়েছে। ওই দোকানঘর বেআইনিভাবে দখলে রেখে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়েরের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবেদনকারীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণে তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা, ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকিদাতা ও চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে তদন্তসহ মোট সাত দফা প্রতিকার দাবি করেছেন।

 

আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র‍্যাব সদর দপ্তর, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য:

আবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃততা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ডাকাত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা, এবার ‘টার্গেট’ দুই বিএনপি নেতা!

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা নিজেই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে সোমবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি। আশা করছি, আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার পাব।রাজবাড়ী কাপড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শনিবার জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের সুরক্ষায় ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও তথ্যের সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার দুপুরে দোকানপাট বন্ধ রেখে সমাবেশ করেছেন রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীরা। সমাবেশ থেকে শনিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ভিডিও প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ‘মিথ্যা গুজব’ ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা।

 

সমাবেশে রাজবাড়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজির আহমেদসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। কাজী বেনজির আহমেদ বলেন, অভ্যন্তরীণ সভার কারণেই ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। শনিবারের ঘটনার পর আইনগতভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি।

 

তিনি আরও জানান, যে দুজন ব্যক্তি ওই নারীকে লাথি মেরেছেন, তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

নারী উদ্যোক্তাকে লাথির ঘটনায় মামলা, শনাক্ত দুই

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

 

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

 

আবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে দুদক জানতে পারে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন।

 

অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে আটক রয়েছেন। গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ভারতের একটি কারাগারে

আটক আছেন।

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল ভারতের কারাগারে, জানে না দুদক; দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে সেই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, তৎকালীন ডাকসুর জিএস গোলাম রব্বানীর এমফিল ভর্তি একটি ‘নির্দিষ্ট প্রতারণার অভিযোগে’ বাতিল করা হয়েছিল। “যেহেতু তার ভর্তিই বাতিল হয়ে গেছে, তাই ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে তার প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে এবং ফল অবৈধ হয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাশেদ খানকে সেই মেয়াদের জন্য এককভাবে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”

 

২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হন। রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

 

গোলাম রব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এখন সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে রাশেদ খানকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছে।

পদ্মা সেতুর ঢালে বাস দুর্ঘটনা: ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত?

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d