বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৪

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৪

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

 

উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহতরা হলেন—কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তাঁর ছোট বোন মিমতাহ (১৭), তাদের মামা মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. মুন্না।

 

নিহত ফেরদৌস আলমের আত্মীয় মো. ওমর ফারুক জানান, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মিমতাহর বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে শিকলবাহা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

 

পুলিশ জানায়, শিকলবাহা এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি কাভার্ডভ্যান ইউটার্ন নেওয়ার সময় মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই ফেরদৌস আলম ও মিমতাহ নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও দুজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালান।

 

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী ও দুই পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কাচোর ইউনিয়নের কাটিহার বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে ডিবির একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীশংকৈল থানাধীন ৫ নম্বর কাচোর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিহার বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

 

অভিযানটি কাটিহার বাজারস্থ জনৈক আনসারুল ইসলামের বসতবাড়িতে পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোছা. লিলি আক্তার (৪২), মো. নয়ন আলী (২৮) ও মো. রওশন জামিল (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ২৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার মোছা. লিলি আক্তার ও মো. নয়ন আলী কাটিহার এলাকার বাসিন্দা। লিলি আক্তারের পিতার নাম মৃত মোহাম্মদ আনসারুল ইসলাম এবং নয়ন আলীর পিতার নাম মো. আনসারুল ইসলাম। অপর গ্রেপ্তার মো. রওশন জামিলের পিতার নাম মো. আব্বাস ওরফে ডাবলু। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার রাজোর এলাকার বাসিন্দা।

 

ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

নীলফামারী জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারী সার্কিট হাউসে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অতীতের সব কথা ভুলে দলকে সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় অংশ নেন।

নীলফামারীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

এক বছর মেয়াদি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে আরও তিন মাস দায়িত্বে থাকতে পারবে বর্তমান ডাকসু। অর্থাৎ তফসিল না হলে সর্বোচ্চ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে তাদের।

 

ডাকসু নির্বাচনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যুক্ত করতে প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় খসড়া প্রস্তাব তোলা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে তারা বারবার অনুরোধ করলেও কানে তুলছে না প্রশাসন। আশা করেন, তাদের মেয়াদ শেষের পর ডাকসুর চলমান কাজগুলো এগিয়ে নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

আমরা নিয়মিত নির্বাচন চাই উল্লেখ করে ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই, ক্ষমতা পেলে আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। আর আমরা যারা আছি, আমরা কেউ এখানে ক্ষমতা ছেড়ে বসে থাকতে চাই না। আমরা চাই, নির্বাচন নিয়মিত হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পাসে তারা নেতৃত্ব দেবে। যে অগ্রগতি দেখার কথা, সেটা আমরা দেখি নাই। ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী নির্বাচনের জন্য যে বাজেট থাকা দরকার, সে বাজেটটা তারা এবারের যে অর্থবছরের যে বাজেট ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার একত্রিশ কোটি টাকা, সেখানে তারা রাখে নাই।

 

আমরা নিয়মিত নির্বাচন চাই উল্লেখ করে ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই, ক্ষমতা পেলে আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। আর আমরা যারা আছি, আমরা কেউ এখানে ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকতে চাই না। আমরা চাই, নির্বাচন নিয়মিত হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে। যে অগ্রগতি দেখার কথা, সেটা আমরা দেখিনি। ডাকসু নির্বাচন-পরবর্তী নির্বাচনের জন্য ১ হাজার ৩১ কোটি টাকার যে বাজেট দরকার, সেটি তারা রাখেনি।

 

দ্রুত তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান ছাত্রদলের সাবেক জিএস প্রার্থী।

 

তবে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, আমরা যখনই নির্বাচন হোক, সেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের আশা-প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যে ডাকসু নির্বাচন হবে, সেই ডাকসু নির্বাচন যেন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রশ্নবিহীন ডাকসু হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। তবে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

 

তিনি আরও জানান, সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা সরকারের মহলে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, হ্যাঁ, প্রক্রিয়া হাতে নাও। তা হাতে নিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সব ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে বসে, এক টেবিলে বসে, তাদেরকে আনতে পারলেই আমার সেটা সাকসেস।

 

তিনি আরও জানান, সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা সরকারের মহলে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, হ্যাঁ, প্রক্রিয়া হাতে নাও। তা হাতে নিয়েছি; পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সব ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে বসে, এক টেবিলে বসে, তাদেরকে আনতে পারলেই আমার সেটা সাকসেস।

 

এক বছর আগে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজে সরব ছিল পুরো ক্যাম্পাস। এবারও নতুন করে সেই উৎসবের অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কবে, আর কবে হবে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে নির্লিপ্ত প্রশাসন, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে গত ১২ ঘণ্টায় বন্যার উন্নতি হয়েছে। পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার। তবে জেলার অপর দুই নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা নদীর পাঙ্খা পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৬ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। বর্তমানে পাঙ্খা পয়েন্টে পানির স্তর ২১ দশমিক ৭৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল পাঙ্খা পয়েন্টে পানির স্তর ছিল ২১ দশমিক ৭৯ মিটার।

 

তবে এখনও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মহানন্দা নদীতে তিন সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবা নদীতে চার সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে।

 

ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দী। তার মধ্যে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ ঘরের ভেতর হাঁটুপানির মধ্যেই বসবাস করছেন। পানিবন্দী এসব মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।

 

বন্যার পানি শুধু মানুষের বসতবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিকল্প স্থানে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পাঠদান ব্যাহত। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না।

 

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দুই দিন ধরে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দুইদিনে প্রায় ২৬ মেট্রিকটন চাল প্রদান করা হয়েছে। খাবার স্যালাইন ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত তাদের সেখানে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, আজকের পর থেকে পদ্মা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করবে। বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা নেই।

পদ্মা নদীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার

দৈনিক সংবাদ মোহনা পত্রিকার ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও প্রতিনিধি সন্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে নয়াপল্টনস্থ দৈনিক সংবাদ মোহনা পত্রিকার অফিসে উক্ত প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়, দৈনিক সংবাদ মোহনা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ ফখরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহাদাত হোসেন মুছা, সহকারী সম্পাদক কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর , মোঃ তাওহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ব্যুরোচীফ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শুভ, স্টাফ রিপোর্টার রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু, সহ পরামর্শক, উপদেষ্টা সম্পাদক যুগ্ম সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক, সহ সম্পাদক, বিভাগীয় ব্যুরোচীফ ও সম্পাদকীয় সদস্যবৃন্দ।

সভায় দির্ঘ আলোচনার মাধ্যমে শরীয়তপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ নূরউদ্দিন আহমেদ অপুকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়, এছাড়াও সংসদ সদস্য, সাংবাদিক নেতা, ব্যাবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গকে অতিথি করার ব্যাপারে আলোচনা করেন।

সেই সাথে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও প্রতিনিধি সন্মেলন উপলক্ষে ম্যাগাজিন, বিশেষ ক্রোড়পত্র ও প্রতিনিধিদেী সন্মাননা ক্রেষ্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

দৈনিক সংবাদ মোহনা পত্রিকার ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও প্রতিনিধি সন্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বগুলাডাঙ্গী ঢাডির হাট যুব সমাজের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার সকাল থেকে বগুলাডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লিটন, স্বপ্ন গ্রুপ এর পরিচালক সাংবাদিক মামুনুর রশিদ মামুন, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির অর্থ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং মহিলা ইউপি সদস্য নার্গিস আরা বেগম, বালিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি লুৎফর রহমান বাবু, যুবদল নেতা লিটন।

 

টুর্নামেন্টে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।

দিনব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ম্যাচে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ভূল্লী অলস্টার একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর রায়হান ফিড স্টোর তরুকপথা একাদশ রানার্সআপ হয়।

 

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় আয়োজকরা বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

আয়োজক যুব সমাজের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে।

টুর্নামেন্টটির সৌজন্যে ছিল মিনিস্টার ও কনকা শোরুম (স্বপ্ন ইলেকট্রনিক্স), হানিফ কাউন্টার সংলগ্ন, ভূল্লী বাজার, ঠাকুরগাঁও এবং রয়েল ফার্নিচার, সোনার বাংলা হোটেল সংলগ্ন, ভূল্লী, ঠাকুরগাঁও।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভূল্লীতে শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধীক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুকুরের মালিক মোঃ আব্দুল কাদেরের আনুমানিক তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূল্লী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাদেরের একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুকুরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পুকুরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে ওঠে। এতে মাছের বাজারমূল্য ও চাষের অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, পুকুরে মাছ চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বিষ প্রয়োগের কারণে মাছ মারা যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

স্থানীয়রা জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুকুরে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক ও স্থানীয়রা।

ভূল্লীতে শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধীক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ।

শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের খালে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৫

 

বিশেষ প্রতিনিধি: মামুন হাওলাদার

 

 

 

শরণখোলা নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হয়েছে রাফি আকন (৯) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় এলাকাবাসী পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে। শিশুটি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জসিম আকন ও লাকি বেগম দম্পত্তির ছেলে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর বাবা ও দাদা-দাদীর কাছে থাকতো রাফি। সে স্থানীয় দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।

 

 

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীসহ সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

শিশুর বাবা জসিম আকন অভিযোগ করে বলেন, রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়। আমার ছেলে সাঁতার জানতো, খালে পড়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার ছেলে হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই।

 

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

মেরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসবে। সন্দেহভাজন আটকদের জিজ্ঞসাবাদ করা হবে।

শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের খালে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৫

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে, নীলফামারীতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নাছরিন নাহারকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীলফামারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় নীলফামারী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহত নাছরিন নাহারের বাবা মো. আব্দুল জব্বার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতের মা, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জব্বার বলেন, নাছরিনের প্রথম স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর নীলফামারীর ফকিরগঞ্জ লালপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখ-শান্তির কথা বিবেচনা করে উপহারসামগ্রীর পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

 

তবে বিয়ের পর থেকেই মান্নানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে ও তার স্বজনরা নাছরিনের ওপর যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও কয়েক দফা নির্যাতনের পর নাছরিনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও নাছরিনের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।

 

আব্দুল জব্বারের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট তিন লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য নাছরিনকে বাবার বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করেন তার স্বামী ও স্বজনরা। এতে নাছরিন রাজি না হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে নাছরিনের মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নাছরিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

 

এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় জিআর-৩৩৯/২৬ নম্বর মামলা (জিআর-৩৩৯/২৬) দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে মামলার আসামিগণ এখনো পলাতক রয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

 

এ সময় নীলফামারী জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে, নীলফামারীতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী ও দুই পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কাচোর ইউনিয়নের কাটিহার বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে ডিবির একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীশংকৈল থানাধীন ৫ নম্বর কাচোর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিহার বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

 

অভিযানটি কাটিহার বাজারস্থ জনৈক আনসারুল ইসলামের বসতবাড়িতে পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোছা. লিলি আক্তার (৪২), মো. নয়ন আলী (২৮) ও মো. রওশন জামিল (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ২৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার মোছা. লিলি আক্তার ও মো. নয়ন আলী কাটিহার এলাকার বাসিন্দা। লিলি আক্তারের পিতার নাম মৃত মোহাম্মদ আনসারুল ইসলাম এবং নয়ন আলীর পিতার নাম মো. আনসারুল ইসলাম। অপর গ্রেপ্তার মো. রওশন জামিলের পিতার নাম মো. আব্বাস ওরফে ডাবলু। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার রাজোর এলাকার বাসিন্দা।

 

ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

২৫০০ জন বিদেশিকে তল্লাশি করে ৪৭২ জনকে আটক করেছে মালশশিয়া ইমিগ্রেশন ভিভাগ।তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি।

 

 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় এই মেগা অভিযানে চালানো হয়।

 

বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’।

 

কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সী ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

 

আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

 

শনাক্তকৃত অপরাধগুলোর মধ্যে ছিল বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অভিবাসন আইনের অধীনে অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধ।

 

অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

 

অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

 

আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র। ছবিটি স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

 

ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

 

না।’

ডাকসুতে থাকা জিন্নাহর সেই ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ছাত্রনেতা তৈয়ব হাবিলদার

সারাদেশে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদারকি এবং আদালতের রায়, সবকিছুকে পাশ কাটিয়েই চলছে এসব অনিয়ম। তবে বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের দাবি, লোকবল ঘাটতির কারণে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

 

অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অভিযোগ, আইন ও সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করছে না তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো। কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলে ফৌজদারি অপরাধ করা এসব ভুয়া চিকিৎসকদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব।

 

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বিএমডিসির সনদ ছাড়াই দিনের পর দিন চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

দেশজুড়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য, নেই তদারকি

পঞ্চগড়ে গভীর রাতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, রোববার জেলা বিএনপি আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভা ছিলো। সেখানে, বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

পুলিশ জানায়, রাতে তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে উভয়পক্ষের সদস্যরা আহত হন। পরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

 

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে গভীর রাতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল নেতার ফোন না ধরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা রেলপথে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন, তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকেট কাউন্টার ম্যানেজার মহিউদ্দিন আহমেদ সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন।

 

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশীপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না। সকালে যুবদল নেতা সানি বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেনকে ফোন করে তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে দুটি টিকেট দেওয়ার কথা বলেন।

 

পরে বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ রুম থেকে টিকিট কাউন্টারে আসার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্ল্যাকার টিকিটের জন্য তাকে মারধর ও হেনস্তা করে। এর কিছুক্ষণ পর আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেশ কয়েকবার ওই বুকিং সহকারীকে ফোন দেয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এতে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা সানি রেলওয়ে স্টেশনে এসে তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারে গিয়ে ক্ষুব্ধ হয়।

 

তারা আরও অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে কাউন্টারে থাকা বুকিং সহকারী ও ম্যানেজারকে চড় থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার পর কাউন্টারের লোকজন নিরাপত্তহীনতায় সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর কাউন্টারের কার্যক্রম ফের শুরু হয়। এতে তিতাস কমিউটার ট্রেনের যাত্রীরা টিকেটের জন্য দুর্ভোগে পড়েন।

 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভূক্তভোগীরা ফাঁড়িতে এসেছেন। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী হামলাকারীদের সনাক্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি মুঠোফোনে জানান, মূলত তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের লোকজন অতিরিক্ত দামে কালোবাজারিদের কাছে টিকেট বিক্রি করছিল। স্টেশনে থাকা একজনের মাধ্যমে জানতে পেরে বিষয়টির খোঁজ খবর নিতে স্টেশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন।

যুবদল নেতার ফোন না ধরায় ট্রেনের টিকিট কাউন্টার স্টাফকে মারধরের অভিযোগ

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শিল্প কারখানায় চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের আশ্বাস মিলেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান সংগঠনের নেতারা।

 

এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চায়। একইসঙ্গে, সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চায়।

 

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ সালের আগে নতুন আরেকটি এফএসআরসি চালু নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটি এবং আগের দুটি সহ সরকারের মোট ৫টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আরও বলেন, এর পাশাপাশি স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

কাল থেকে কারখানায় চাহিদানুযায়ী মিলবে গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যবসায়ীদের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d