
রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে মন্দির থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার; গ্রেফতার ১
চট্টগ্রামের রাউজান থানাধীন একটি পারিবারিক মন্দির থেকে চোরাইকৃত ০২ ভরি ০১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ০৪ ভরি ওজনের রৌপ্য উদ্ধার করেছে রাউজান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২:১৩ থেকে ১২:১৬ ঘটিকার মধ্যে রাউজান থানার চিকদাইর এলাকায় রাউজান টেকনিক্যাল স্কুলের উত্তর পাশে অবস্থিত মনসা মন্দির (পারিবারিক মন্দির) থেকে মনসা দেবীর পরিহিত বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ছিল ০২ ভরি ০৮ আনা, যার আনুমানিক মূল্য ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা এবং রৌপ্যের মোট ওজন ০৪ ভরি, যার আনুমানিক মূল্য ১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা।
ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয় চোরাইকৃত মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আমিন, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন এবং এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রবিউল আলমের সমন্বয়ে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় জড়িত মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮)-কে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯:০০ ঘটিকায় রাউজান থানাধীন ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ কাগতিয়া এলাকার মীর কাশেমের নতুন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা স্টিলের আলমিরা থেকে চোরাইকৃত ০১ জোড়া কানের দুল, ০১টি মাথার টিকলী, ০১টি লকেট ও ০২টি বেলপাতাসহ মোট ০২ ভরি ০১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ০১টি গলার চেইন ও ০১ জোড়া নুপুরসহ ০৪ ভরি ওজনের রৌপ্য উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি কয়েক দিন ধরে উক্ত মন্দিরে যাতায়াত করত এবং পূজা-অর্চনা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের সময় মন্দিরের ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেয়। পরবর্তীতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন সুযোগ বুঝে সকলের অগোচরে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জনাব আশুতোষ সিংহ-এর দায়েরকৃত এজাহারের ভিত্তিতে রাউজান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
Leave a Reply