
শ্যামনগরে ১৩ ইটভাটার মধ্যে ১০টির নেই পরিবেশগত ছাড়পত্।
ইয়াছিন মোড়ল- (শ্যামনগর সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন মোট ১৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন ২০২৫ পর্যন্ত রয়েছে, আর বাকি ১০টি ইটভাটা অবৈধ, নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন। পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এসব অধিকাংশ অবৈধ ইটভাটার কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্সও নেই। সম্প্রতি উচ্চ আদালত এক আদেশে দেশের সব অবৈধ ইটভাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব অবৈধ ইটভাটা পুরোদমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা এ সকল অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ক্লাস করে থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার রামজীবনপুর দাখিল মাদ্রাসার
শিক্ষার্থীরা জানান, চলতি মৌসুমে ক্লাসের সময় ইটভাটার কালো ধোঁয়া সরাসরি তাদের নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। চোখে বালু ও ধোঁয়া ঢুকে যায়। ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখেও সমস্যা হয়। ইটভাটার ট্রাক ও ভেকুসহ বিভিন্ন মেশিনের শব্দে ক্লাসের সময় তারা শিক্ষকদের কথা শুনতে পারে না।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় অবৈধ এসব ভাটায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে কাঠ, সোয়াবিনের গাঁথ, তুষকাঠ ও টায়ার বিষাক্ত কালি জ্বালানিতে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের।
উপজেলার মৎস্য আড়ৎ এবং বাজারের নিকটবর্তী বসবাসকারী কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, আমাদের ৩০ বছরের বসতভিটা এখানে। আগে একটি ভাটা ছিল। এখন চারপাশে চারটি ইটভাটা। ধুলাবালি আর ধোয়ায় ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বাস করছি। ইটভাটার ধোঁয়া ও বালুকণার কারণে বাড়িতে কোন গাছ-গাছালি বা খেতে ফসল ফলানো যাচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নথিতেই যখন শ্যামনগরের ১০টি ইটভাটার হালনাগাদ পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন নেই, অবৈধ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তখন এসব ইটভাটার মধ্যে যেগুলো এখনও চালু রয়েছে—সেগুলোর কার্যক্রম কীভাবে চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত ইট ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়। এতে বৃদ্ধ এবং শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। ফলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।
বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা ইটের ভাটা গুলো সরিয়ে নিলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে যাবে।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, ফোন রিসিভ করেননি তিনি ।
Leave a Reply