ইয়াছিন মোড়ল, শ্যামনগর
সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় আট জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। এ সময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দুটি ডিঙি নৌকা ও আনুমানিক ২৫ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনস্থ কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন নোয়াবেকী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম (ডেপুটি রেঞ্জার) ও স্টাফ রায়মঙ্গল নদীর বাওন এলাকায় টহল দেওয়ার সময় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় জেলেদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. জাহিদ হাসান (৪২), মো. মফিজুল গাজী (২৮), মো. রবিউল ইসলাম (৪৫), মো. ইছা সরদার (৩৫), মো. রিজাউল গাজী (৪৫), মো. রহুলুল ইসলাম (৩২), মো. নাহিদ হাসান (২৮) ও মো. কওছার গাজী (৩৯)। আটক ব্যক্তিদের সবার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার পূর্বকৈখালী গ্রামে।
কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে ওই এলাকায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ধরছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনবিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় জব্দ করা নৌকা ও মাছসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকাগুলো মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অবৈধভাবে মাছ ধরা সামুদ্রিক ও নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অভয়ারণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply