১৪ বছর ধরে কাজ করছি একটা শাড়ি মেরে দেওয়ার জন্য: তানজিন তিশা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
১৪ বছর ধরে কাজ করছি একটা শাড়ি মেরে দেওয়ার জন্য: তানজিন তিশা

১৪ বছর ধরে কাজ করছি একটা শাড়ি মেরে দেওয়ার জন্য: তানজিন তিশা

অনলাইন শপ থেকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা।

 

গত বছরের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক মামলার প্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই ঢাকার আদালত একটি সমন জারি করেন। এতে আগামী ১৩ আগস্ট তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এতদিন বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। মামলা প্রসঙ্গে তানজিন তিশা জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তিনি এতদিন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এবং অনেক কষ্ট করে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

 

পুরো বিষয়টিকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তিশা। তিনি জানান, তার নতুন সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার ঠিক দ্বিতীয় দিনেই তিনি লিগ্যাল নোটিশ পান এবং এর কয়েকদিনের মাথায় মামলা হয়ে যায়।

 

তার মতে, মানুষ যখন ক্যারিয়ারে ওপরের দিকে উঠতে চায়, তখন কিছু মানুষ পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা করে, এখানেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে।

 

তিশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাৎ করার জন্য তিনি ১৪ বছর ধরে কষ্ট করে এই অবস্থানে আসেননি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন মেয়ের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা যে কতটা কঠিন, তা উল্লেখ করে তিনি নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করার এই চেষ্টাকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শর্ত ছিল, তিনি শাড়িটির প্রচারণা (প্রোমোশন) করবেন অথবা মূল্য পরিশোধ করবেন।

 

কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এর ফলেই পেজের অ্যাডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন।


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে পুলিশের কাছে না দিয়ে ব্যতিক্রমী উপায়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিমের (৩৫) বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে তওবা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়। ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এ মর্মে তার কাছ থেকে অঙ্গীকারও নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির চেষ্টা করলে স্থানীয়রা রেজাউল করিমকে হাতেনাতে আটক করেন। আমাদের উদ্দেশ্য তাকে অপমান করা নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া। তাই তার কাছ থেকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেননি। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে তাকে অবশ্যই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

পুলিশে নয়, ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়ে দিলেন ‘শাস্তি’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকত (ডাকনাম টুনা)কে নিয়ে তার বোনের লেখা একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শহীদ সৈকতকে স্মরণ করে পোস্টটি শেয়ার করছেন।

 

পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাহামুদুর রহমান সৈকত। পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, গুলিটি তার মাথায় আঘাত করে।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে সৈকতের বোন লিখেছিলেন, ‘ছবির ছেলেটা আমার ভাই। আমাদের দুই বোনের একমাত্র আদরের ভাই। আমরা ওকে কতটা ভালোবাসতাম, সেটা হয়তো আর কখনো বলা হবে না।’

 

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবাই তাকে ‘টুনা’ নামে ডাকতেন। বয়স বাড়লেও পরিবারের কাছে তিনি ‘টুনা’ই ছিলেন। জন্মদিন ঘনিয়ে এলেই কেক নিয়ে নানা আবদার করতেন। তার উপস্থিতিতে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দে ভরা।

 

ভাইকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘এখন বুকে শুধু হাহাকার। মনে হয় কী যেন নেই। আমাদের কলিজাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমার ফুলের মতো ভাইটাকে ঠান্ডা মাথায় মাথায় গুলি করা হয়েছে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী এই পৃথিবীতে আর কিছু আছে?’

 

বিচারের আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিচার কাকে দেব? আল্লাহর কাছেই বিচার দিলাম। আমার আল্লাহ কখনো কারও সঙ্গে অবিচার করেন না। হাশরের ময়দানে বিচার করবেন আমার আল্লাহ।’

 

ভাইয়ের মানবিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছোট্ট ভাইটা নির্দোষ ছিল। সে বীরের মতো একজন বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কারণ, আমাদের পারিবারিক শিক্ষা ছিল—বিপদে কাউকে দেখলে সাহায্য করতে হয়।’

 

আরও লেখেন, ‘কখনো আর ভাইকে দেখতে পারব না, জড়িয়ে ধরতে পারব না, গালে-কপালে চুমু দিতে পারব না। আর কখনো বলতে পারব না—“টুনা, পানি দে”, “টুনা, কয়েলটা ধরিয়ে দে”।’

 

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই শহীদ। শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। সবাইকে জানাতে চাই, আমার ভাই শহীদ ও নিষ্পাপ। সে কখনো কারও ক্ষতি করেনি।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শহীদ সৈকতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

জুলাইয়ে নিহত সৈকতকে নিয়ে বোনের আবেগঘন পোস্ট ফের ভাইরাল

হাজার, কাউকে দিয়েছিল ১৭ হাজার টাকা। কোনো এতিমখানায় ১ হাজার কেজি (১ টন) চালের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল ৫শ থেকে ৬শ কেজি চাল। কিন্তু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ১-২ দিনের মধ্যেই যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে আরো ১০-১২ হাজার করে টাকা পৌঁছে দিতে বাধ্য হয়েছে। ভবিষ্যতে এতিমদের চাল নিয়ে যেন ছিনিমিনি খেলা না হয় সেজন্য তারা স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমীন মাষ্টার জানান, তিনি ক্ষমতাসীন দলের বড় পদে থেকেও বিষয়টি যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে সুফল পাননি। কিন্তু সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

 

কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাহাউদ্দিন বলেন, আমার এতিমখানার এতিমদের জন্য এ মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি বরাদ্দকৃত ১ টন চালের পরিবর্তে দিয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে তখন আর কিছু দিবে না বললেও গতকাল আমাকে আরো ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। যাদের হস্তক্ষেপে আরো ১৫ হাজার টাকা পেলাম তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা। এই টাকায় এতিমদের অনেক উপকার হবে।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যদিও গত দুইদিনে উপজেলার ২০ এর অধিক এতিমখানায় গিয়ে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে টাকা দিয়ে আসার ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে রয়েছে।

 

এতিমখানায় চাল বিতরণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

 

চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চাল বিতরণ কমিটির মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষমা চেয়ে এতিমখানার চালের টাকা ফেরত দিলেন যুবদল নেতা

প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলের অদূরে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

 

এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় নিজেদের পন্টুনের সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ২৬ বছর বয়সী সাদিক।

 

সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারই ছিল তাঁর দায়িত্ব। গত মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কাজেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

 

সাদিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজার এলাকার কুমরাকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।

 

সহকর্মীরা জানান, গত বছর তিনি ফায়ার সার্ভিসের ‘সেরা ডুবুরি’ হিসেবে পদক পেয়েছিলেন।

 

ঘটনার বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে নিয়মিত কচুরিপানা জমে থাকে। সেগুলো পরিষ্কার করতে নিখোঁজ সদস্যসহ তিনজন স্পিডবোটে কাজ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।

 

তিনি বলেন, “সঙ্গে থাকা অপর দুই সদস্যের বর্ণনা অনুযায়ী সামনের দিকে থাকা সাদিক পড়ার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে ধারণা করছি। কেননা, তিনি প্রশিক্ষিত ডুবুরি, কোনো আঘাত না পেলে তিনি এভাবে নিখোঁজ হতেন না।”

 

নিখোঁজ সহকর্মীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান।

৮ ঘণ্টা পর শীতলক্ষ্যায় উদ্ধার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিকের মরদেহ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের চীন থেকে মেহেরপুরে আসেন এক চীনা নাগরিক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে নিয়ে কয়েক মাস চীনে বসবাসের পর আবার গোপনে মেহেরপুরে ফিরে এসেছেন বলেও দাবি করেন তারা।

 

তবে তাদের উপস্থাপিত বিয়ের কাগজপত্র, আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি এখন রহস্যে ঘেরা। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, আইনজীবী মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

জানা গেছে, চীনের নাগরিক ডং জে যিনি বর্তমানে নিজের নাম মোহাম্মদ আলী বলে পরিচয় দিচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেরপুর পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার বাসিন্দা শরিফ ড্রাইভারের মেয়ে কেয়া খাতুনের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

কেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রেমের টানে ডং জে মেহেরপুরে এসে প্রথমবার শহরের সেভেন সেন্স রেস্টুরেন্টে কেয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রায় ১৭ দিন শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার জাহাঙ্গীর ইন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কেয়াকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর দুজন চীনে চলে যান এবং সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর সম্প্রতি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন।’

 

এদিকে ডং জে এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে কেয়া তাকে পরামর্শ দেন চাইনিজ ভাষায় বলতে। বিষয়টি সেখানে উপস্থিত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে।

 

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, কেয়ার বিয়ে কিংবা চীনে যাওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। বুধবার রাতে চীনা নাগরিককে নিয়ে কেয়া গোপনে বাবার বাড়িতে ওঠেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরদিন সকালেই তারা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যান।

 

খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কেয়ার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

 

পরে কেয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও ঢাকার পথেই যাচ্ছেন বলে জানান। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে জানা যায়, তারা মেহেরপুর শহরের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার একটি পাঁচতলা ভবনে ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে যেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের খুঁজে পান।

 

সাংবাদিকদের সামনে মোহাম্মদ আলী ও কেয়া দাবি করেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা বৈধভাবে বিয়ে করেছেন এবং বিয়ের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি নজরে আসে।

 

এদিকে দম্পতির দেখানো হলফনামা, নিকাহনামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত এফিডেভিটে নোটারি পাবলিক ও মেহেরপুর জজ আদালতের আইনজীবী রূতসোভা মণ্ডলের নাম, সিলমোহর ও স্বাক্ষর রয়েছে।

ধর্মান্তরের দাবি, প্রেমের টানে মেহেরপুরে চিনা নাগরিক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয় সারজিস আলম বলেছেন, যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে চাঁদাবাজির ভয়াবহতা তুলে ধরে দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্যে করে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন গাইবান্ধায় আসি, যখন এই সাদুল্লাপুরে আসি। তখন ভ্যান চালক ভাইয়ের কাছে, অটোচালক চাচার সঙ্গে কথা বললে আমাদের শুনতে হয় একটা ভ্যান-একটা অটো চালানোর জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তখন সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারেনা।’

 

তিনি বলেন, ‘তুমি যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো-তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেটা যদি তুমি না নিতে পারো, সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও। আর যদি তুমি ক্ষমতাও না ছাড়ো, ব্যবস্থাও না নাও। তাহলে বুঝবো, তুমি দিনের বেলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গল্প করো আর রাতে বেলা অটোর টাকা, ভ্যানের চাঁদাবাজির টাকার তুমি ভাগ নাও।’

 

এনসিপির সাদুল্লপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শফিজল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন– এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি।

 

এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, শহীদ পরিবার সোসাইটি ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জেলার সাত উপজেলাতেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সারজিস আলম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর স্কুল সংলগ্ন মাঠে উক্ত টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়, রাজারবাগ তরুণ ও যুব সংঘের আয়োজনে, জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়, এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ,আমির শিরালী, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মির সাব্বির, এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা ওলামা দলের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাভার থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান, বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য , বিল্লাল হোসেন মোল্লা, বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাওন শিরালী, সহ আরো অনেকেই ।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর স্কুল সংলগ্ন মাঠে উক্ত টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়, রাজারবাগ তরুণ ও যুব সংঘের আয়োজনে, জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়, এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ,আমির শিরালী, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মির সাব্বির, এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা ওলামা দলের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাভার থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান, বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য , বিল্লাল হোসেন মোল্লা, বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাওন শিরালী, সহ আরো অনেকেই ।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাজারে রয়েছে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের এক রোমহর্ষক অধ্যায়। এই নির্যাতন প্রক্রিয়ার মূল হোতা মাজারের প্রভাবশালী হেড বাবুর্চি সোহেল। তার অধীনে রয়েছে ফয়েজসহ কয়েকজন। মাজারে আসা কোনো সাধারণ মানুষ যদি এই সিন্ডিকেটের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তবে তাকে ‘জুতাচোর’ বা ‘মোবাইল চোর’ সাব্যস্ত করে চক্রের সদস্যরা। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারকে খবর দিয়ে থানা-পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

 

মানতের গরু জবাইয়ের পর মাংস রান্না করা বাবদ বাবুর্চির বিল দুই হাজার টাকা এবং খাসির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু গরুতে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং খাসিতে নেওয়া হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এছাড়া গরু-খাসির মাংস, মাথা, ভুঁড়ি, চামড়া ও পা নিয়ে যান বাবুর্চিরা।

 

পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় সিন্ডিকেটের কসাইরা সুকৌশলে চামড়ার গায়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি আস্ত মাংস রেখে দেন। এছাড়া কয়েকটি ধাপে মাংস গায়েব করা হয়। ফলে একটি গরুর তিন ভাগের এক ভাগও রান্না করা হয় না। এছাড়া শিন্নি পাকের পর অর্ধেকই নিয়ে যান বাবুর্চিরা।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোটি টাকার সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খুলে মাত্র ২৫ দিনে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও মানতের পশু পাওয়ার পর মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা, দান সংগ্রহ ও বণ্টন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবে প্রায় ৭০০ বছর ধরে চলা মাজারের দানবাক্সগুলোর দানের অর্থ সরাসরি বস্তায় ভরে মাজারের প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। এ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হলে ১৮ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসন মাজারের তিনটি ডেক ও চারটি দানবাক্স সিলগালা করে দেয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন দানবাক্স সিলগালা করে সিসিটিভির নজরদারিতে তা খোলার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র; মাত্র ২৫ দিনেই মেলে ৬৪ লাখ টাকারও বেশি নগদ, সঙ্গে ১২ দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও ৬৫টি ছাগল। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাজারে দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব রাখার নিয়ম ছিল না। টাকা কোথায় যাচ্ছে বা কত জমা হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারতেন না। এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সম্প্রতি দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে পুলিশের কাছে না দিয়ে ব্যতিক্রমী উপায়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিমের (৩৫) বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে তওবা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়। ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এ মর্মে তার কাছ থেকে অঙ্গীকারও নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির চেষ্টা করলে স্থানীয়রা রেজাউল করিমকে হাতেনাতে আটক করেন। আমাদের উদ্দেশ্য তাকে অপমান করা নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া। তাই তার কাছ থেকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেননি। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে তাকে অবশ্যই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

পুলিশে নয়, ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়ে দিলেন ‘শাস্তি’

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সময়ে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি। তাই এসব প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই করা অপরিহার্য।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন পিআইবির মহাপরিচালক।

 

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে। এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং সাংবাদিকতার সহায়ক প্রযুক্তি, তাই এগুলোর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রতিটি তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই করা অপরিহার্য। ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতা আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে সরকার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, কল্যাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এসব উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ ও প্রযুক্তি-সচেতন সাংবাদিকরাই জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

 

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) তত্ত্বাবধানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এখন সময়ের অপরিহার্য দক্ষতা, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাস যোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান দায়িত্বশীল ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, দৈনিক রাজশাহীর সংবাদ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ডা. নাজিব ওয়াদুদ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪০ জন সাংবাদিক গ্ৰহণ করেন। পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন জানান, এআই সাংবাদিকের বিকল্প নয়; বরং তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রস্তুতিতে এটি একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি। তবে এআই থেকে পাওয়া প্রতিটি তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, সাংবাদিকতায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার, কার্যকর প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, সংবাদ লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, অনুবাদ, সারসংক্ষেপ তৈরি এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এআই ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও যাচাই, রিভার্স ইমেজ সার্চ, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স, মেটাডেটা বিশ্লেষণ, জিওলোকেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও যাচাইয়ের আধুনিক কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা, কপি রাইট, তথ্যের গোপনীয়তা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে: পিআইবি মহাপরিচালক

ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের ‘গুপ্ত কৌশলের’ কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছিল। একইসঙ্গে তার অভিযোগ, গত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের ভেতরে গুপ্তভাবে না থেকে যদি শিবির প্রকাশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলত, তাহলে ছাত্রলীগ এত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত না এবং শেখ হাসিনাও এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারতেন না।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।

 

পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘লীগ ধর’ শীর্ষক প্রতীকী ম্যারাথন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আজকে ঢাবিতে শিবির যে “লীগ ধর” নামে ম্যারাথন দৌড় দিয়ে প্রতীকীভাবে লীগকে পেটালো, ঠিক বিগত ১৬ বছর ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত না থেকে সত্যিই যদি লীগকে পেটাতো, তাহলে ছাত্রলীগ দানব হয়ে উঠতে পারত না। শেখ হাসিনাও এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারতেন না।’

 

পোস্টে রাশেদ খান আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, শিবিরের ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশই একসময় ঠিক এভাবেই লীগের পেছনে দৌড়ঝাঁপ করেছে।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত কৌশলের কারণেই ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যদি লীগের পতন না হতো, তাহলে শিবির তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের মধ্যেই থেকে যেত। আজ যাদের অনেককে শিবিরের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে, তাদের অনেককেই তখন ছাত্রলীগের বড় বড় পদে দেখা যেত।’

 

শিবিরের গুপ্ত কৌশল’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকত (ডাকনাম টুনা)কে নিয়ে তার বোনের লেখা একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শহীদ সৈকতকে স্মরণ করে পোস্টটি শেয়ার করছেন।

 

পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাহামুদুর রহমান সৈকত। পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, গুলিটি তার মাথায় আঘাত করে।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে সৈকতের বোন লিখেছিলেন, ‘ছবির ছেলেটা আমার ভাই। আমাদের দুই বোনের একমাত্র আদরের ভাই। আমরা ওকে কতটা ভালোবাসতাম, সেটা হয়তো আর কখনো বলা হবে না।’

 

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবাই তাকে ‘টুনা’ নামে ডাকতেন। বয়স বাড়লেও পরিবারের কাছে তিনি ‘টুনা’ই ছিলেন। জন্মদিন ঘনিয়ে এলেই কেক নিয়ে নানা আবদার করতেন। তার উপস্থিতিতে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দে ভরা।

 

ভাইকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘এখন বুকে শুধু হাহাকার। মনে হয় কী যেন নেই। আমাদের কলিজাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমার ফুলের মতো ভাইটাকে ঠান্ডা মাথায় মাথায় গুলি করা হয়েছে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী এই পৃথিবীতে আর কিছু আছে?’

 

বিচারের আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিচার কাকে দেব? আল্লাহর কাছেই বিচার দিলাম। আমার আল্লাহ কখনো কারও সঙ্গে অবিচার করেন না। হাশরের ময়দানে বিচার করবেন আমার আল্লাহ।’

 

ভাইয়ের মানবিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছোট্ট ভাইটা নির্দোষ ছিল। সে বীরের মতো একজন বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কারণ, আমাদের পারিবারিক শিক্ষা ছিল—বিপদে কাউকে দেখলে সাহায্য করতে হয়।’

 

আরও লেখেন, ‘কখনো আর ভাইকে দেখতে পারব না, জড়িয়ে ধরতে পারব না, গালে-কপালে চুমু দিতে পারব না। আর কখনো বলতে পারব না—“টুনা, পানি দে”, “টুনা, কয়েলটা ধরিয়ে দে”।’

 

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই শহীদ। শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। সবাইকে জানাতে চাই, আমার ভাই শহীদ ও নিষ্পাপ। সে কখনো কারও ক্ষতি করেনি।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শহীদ সৈকতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

জুলাইয়ে নিহত সৈকতকে নিয়ে বোনের আবেগঘন পোস্ট ফের ভাইরাল

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হলেও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে ছিল মৃদু দমকা হাওয়া।

 

দুপুরের জোয়ারে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা কম ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি বাড়লেই এসব এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, আইডব্লিউএমের মাধ্যমে নতুন একটি প্রকল্পের সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জমা দেওয়া হবে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।

তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি মনে করি যে, বিরোধী দল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) তারা ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যা হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, আমরা লিবারাল ডেমোক্রেসির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেই লিবারেল ডেমোক্রেসির পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমার প্রায় একটা কথা মনে হয় যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? ডেমোক্রেসি থাকতে আমাদের প্রবলেমটা কোথায়? আমরা ডেমোক্রেসিতে থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি। আমরা সবাই মিলে যেভাবে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪শে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই মিলে আমরা এটাকে যদি সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আমাদের সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব।

 

অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আবুল কাশেম হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল প্রমুখ।

ক্ষমতায় যেতে তারা জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়: বিএনপি মহাসচিব

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও একাধিকবার মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তা অমান্য করে সেখানে বর্জ্য ফেলছিলেন। ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

 

জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

 

এ কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে বর্ষাকালে মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডিসির নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d