
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে সাভার পৌর এলাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন শাহীন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এদিকে এ হামলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাতে সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য প্রদানকালে সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় মঞ্চে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল থানার ভেতরে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে সরকার ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। এছাড়া মামলা থেকে আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করেছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফাটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সরকারকে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য আপনাদের জবাব দিতে হবে।
এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব।
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসিÑ কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? তিনি এ সময় এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।
সাভার থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেন। তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
Leave a Reply