
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকত (ডাকনাম টুনা)কে নিয়ে তার বোনের লেখা একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শহীদ সৈকতকে স্মরণ করে পোস্টটি শেয়ার করছেন।
পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাহামুদুর রহমান সৈকত। পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, গুলিটি তার মাথায় আঘাত করে।
জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে সৈকতের বোন লিখেছিলেন, ‘ছবির ছেলেটা আমার ভাই। আমাদের দুই বোনের একমাত্র আদরের ভাই। আমরা ওকে কতটা ভালোবাসতাম, সেটা হয়তো আর কখনো বলা হবে না।’
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবাই তাকে ‘টুনা’ নামে ডাকতেন। বয়স বাড়লেও পরিবারের কাছে তিনি ‘টুনা’ই ছিলেন। জন্মদিন ঘনিয়ে এলেই কেক নিয়ে নানা আবদার করতেন। তার উপস্থিতিতে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দে ভরা।
ভাইকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘এখন বুকে শুধু হাহাকার। মনে হয় কী যেন নেই। আমাদের কলিজাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমার ফুলের মতো ভাইটাকে ঠান্ডা মাথায় মাথায় গুলি করা হয়েছে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী এই পৃথিবীতে আর কিছু আছে?’
বিচারের আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিচার কাকে দেব? আল্লাহর কাছেই বিচার দিলাম। আমার আল্লাহ কখনো কারও সঙ্গে অবিচার করেন না। হাশরের ময়দানে বিচার করবেন আমার আল্লাহ।’
ভাইয়ের মানবিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছোট্ট ভাইটা নির্দোষ ছিল। সে বীরের মতো একজন বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কারণ, আমাদের পারিবারিক শিক্ষা ছিল—বিপদে কাউকে দেখলে সাহায্য করতে হয়।’
আরও লেখেন, ‘কখনো আর ভাইকে দেখতে পারব না, জড়িয়ে ধরতে পারব না, গালে-কপালে চুমু দিতে পারব না। আর কখনো বলতে পারব না—“টুনা, পানি দে”, “টুনা, কয়েলটা ধরিয়ে দে”।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই শহীদ। শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। সবাইকে জানাতে চাই, আমার ভাই শহীদ ও নিষ্পাপ। সে কখনো কারও ক্ষতি করেনি।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শহীদ সৈকতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
Leave a Reply