বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের

বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে (২১) জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবতি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আছেন বলে মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় কবিরহাটের চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোঃ ইউছুফকে (২৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম একজন হতদরিদ্র ও বিধবা নারী। তার এক মেয়ে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাদী মাঝে মাঝে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুপারি বাগানের পাশে ইউছুফ ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীর মুখে গামছা চেপে ধরে টেনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইউছুপ। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে আরও একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।

 

এ দিকে মেয়েটির মা জাহানারা বেগম তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ফার্মেসী ও পরবর্তীতে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ভুক্তভোগী যুবতী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানান।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আসামির বিচারের দাবিতে গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল আসামিকে রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে এ ঘটনায় প্রকৃত আসামীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে জড়িয়ে বিচারকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

ভুক্তভোগীর সঠিক চিকিৎসা সংক্রান্ত ও প্রসূতি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত বাদী পক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী আদালতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

 

নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেয়ার চেষ্টা চালান।


পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনের দাবি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত নেতা মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রেরণ করেন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান।

 

এর আগে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে আরিফুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে ভুয়া (ফেক) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক (সমকামিতা) প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো. ফারদিন ইসলাম অভিযোগ করেন, আরিফুল ইসলাম মোল্লা মেয়েদের নামে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করতেন। পরে তাদের অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন।

 

তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে জোরপূর্বক সমকামিতার চেষ্টাও করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রদল নেতা মো. ইশতিয়াক দাবি করেন, বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

অপর ছাত্রনেতা মো. আরিফুল ইসলাম মুবিন অভিযোগ করেন, একটি ফেসবুক আইডি থেকে আরিফুল ইসলাম মোল্লার ছবি ব্যবহার করে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. আরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদল শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না।

সমকামিতার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সাভারে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ওই বাসটি থামানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পরে বাসটি থেকে ওই নারীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বাসের চালক, তার সহকারী এবং আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, বাসের চালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান (২০) ও মো. সুমন প্রামাণিক (৩০) নামে চালকের পরিচিত এক ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তার সহকারী মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেয়।

 

পরে ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ইমরানও বাস থেকে নেমে যায়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমন প্রামাণিক বাসে ছিল।

 

পরে সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাস থেকে নামার পর ওই নারীর পরিচিত ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

 

জানতে পেরে আশুলিয়া থানা পুলিশ আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তায় একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এভাবে সাভার পরিবহনের বাসটি থামানো হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, থামানোর পর বাসটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী। পরে রবিবার বিকালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেফাতর করে।

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামবলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মুসফেকুর ও সুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে উপজেলার সদকি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত রিফাত প্রামাণিক (১৭) ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসএসসি (সমমান) পরীক্ষা দিয়েছেন।

 

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী সকালে বাড়ির পাশে একটি মসজিদের মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। পড়া শেষে প্রবল বৃষ্টির কারণে সে মক্তবেই আটকে পড়ে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত রিফাতের বোন ও মক্তবে পড়ে। রিফাত প্রথমে মক্তব থেকে নিজের বোনকে বাড়িতে দিয়ে আসে। পরে সে আবারও মক্তবে ফিরে গিয়ে ওই ছাত্রীকে পাশের একটি জরাজীর্ণ ঘরে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এসময় ওই ছাত্রীর কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্ত রিফাত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। খুব দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মক্তব থেকে ডেকে এনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আসমা আক্তার (৫) নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার জেঠাতো ভাই শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহতের জেঠাতো ভাই।

 

নারীও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদেশে আরও বলা হয়েছে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার নয় দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকি থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে।

 

এরপর ৬ এপ্রিল নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান বাদী হয়ে চাটখিল সদর থানায় শাহাদাতকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন।

আসমা ধর্ষণ-হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ মামলায় একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ‘ট্রাইব্যুনাল-১’-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জুয়েল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, জসিম ও আছমত।

 

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, গত বছরের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

 

 

জামালপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর বাজারে ভারসাম্যহীন ভাসমান এক ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ল্যাংরা খোকনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকার ওই ভারসাম্যহীন নারী সারা দিন বাজারে ঘোরাঘুরি করে আশপাশের দোকানগুলোর সামনে কিংবা ফুটপাতে রাতযাপন করত।

 

সম্প্রতি ভারসাম্যহীন ওই নারী বিজয়পুর বাজারস্থ একটি কনফেকশনারী দোকানের সামনে রাতযাপন করছিল। গভীর রাতে দুর্গাপুর গ্রামের ল্যাংরা খোকন ওরফে জুয়ারি খোকন ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে।

 

পরে আজ শনিবার সকাল থেকে ধর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত খোকনকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। পরে সন্ধ্যায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ল্যাংরা খোকন জুয়া, নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এগুলো ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় খোকন একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে শিকারপুর নামক স্থান থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ধর্ষণের খবরের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।

কুমিল্লায় ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জামায়াত নির্বাচন চায়নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে- এমপি রানু

স্টাফ রিপোর্টার

৩০/জুলাই/২০২৬ইং: নীলফামারী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি রেহেনা আক্তার রানু বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি’র ভূমিধস জয় পেয়েছে কিন্তু আপনার এলাকায় ধানের শীষ বিজয়ী হতে পারেনি। এতে ক্ষতি ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের কোন ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার মানুষের। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী শহরের মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজে মসজিদ ও একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উদ্ধারমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রেহেনা আক্তার রানু বলেন, জামায়াত নির্বাচন চাই নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের আগে ধোকাবাজি করেছে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল ওই সমস্ত গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহবায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। সকাল ৯ টায় সচিবালয় যান আর বাড়িতে ফেরেন রাত ১১ টায়। তিনি যেভাবে হাল ধরেছেন আপনাদের সকলের দাবি সমর্থন থাকে তাহলে আগামী পাঁচ বছর পর দেশের

অর্থসামাজিক ব্যবস্থার বিরাট পরিবর্তন ঘটবে। সাবেক সংসদ সদস্য তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার যে ব্যবস্থা করছেন এগুলো তৃণমূল একেবারেই নিচের স্তরের গরিব মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করেই করেছেন। বেশির ভাগ সময় গরীব মেহনতি মানুষের কথা রাজনীতিবিদ রাষ্ট্র চিন্তা করেনা কিন্তু এই ব্যবস্থা করেছেন তারেক রহমান। বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী হাজেরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন এর সহধর্মিনী তামান্না ইয়াসমিন। মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের গভনিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজ সভায়

সভাপতিত্ব করেন। মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩লাখ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হলো আজ।

জামায়াত নির্বাচন চায়নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে- এমপি রানু 

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া যাবে। ”

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ হাইকমিশনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আরো যা বললেন..

 

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

 

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) বেলা ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

 

মাহদী আমিন আরও বলেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ায় ফের শ্রমবাজার খুললো। শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদ মন্ত্রী আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

 

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিক ভাই-বোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।

 

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাই কমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি যেন প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ইশতেহারেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সবসময় একটি প্রবাসীবান্ধব দল হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থ, আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।

 

মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

 

দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

 

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

 

জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।

 

এর আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

 

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে মালয়েশিয়ায় এই শ্রমবাজারের সূচনা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সাথে এই বাজারের একটি গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহদী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।

 

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পূর্বের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সাথে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।

 

গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিল দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।

 

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন শুরু হতে পারে।

 

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামিকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে মন্ত্রী-উপদেষ্টার।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া যাবে

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে (২১) জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবতি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আছেন বলে মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় কবিরহাটের চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোঃ ইউছুফকে (২৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম একজন হতদরিদ্র ও বিধবা নারী। তার এক মেয়ে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাদী মাঝে মাঝে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুপারি বাগানের পাশে ইউছুফ ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীর মুখে গামছা চেপে ধরে টেনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইউছুপ। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে আরও একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।

 

এ দিকে মেয়েটির মা জাহানারা বেগম তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ফার্মেসী ও পরবর্তীতে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ভুক্তভোগী যুবতী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানান।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আসামির বিচারের দাবিতে গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল আসামিকে রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে এ ঘটনায় প্রকৃত আসামীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে জড়িয়ে বিচারকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

ভুক্তভোগীর সঠিক চিকিৎসা সংক্রান্ত ও প্রসূতি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত বাদী পক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী আদালতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

 

নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেয়ার চেষ্টা চালান।

বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের

এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে নতুন ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে। এনসিপিকে বলবো, গঠনমূলক রাজনীতি করুন। এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিলেটের ঘটনাটি ঘটেছে জনপ্রিয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে এনসিপির নেতৃবৃন্দের বাজে কথা বলায়। গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা আছে বলেই তাদের অপরাধ ক্ষমা হয়ে যায় না। তাই এনসিপির নেতৃবৃন্দকে সুস্থ ধারার রাজনীতি করার আহ্বানও জানান তিনি। না হলে তার উত্তম জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

 

আলোচনা সভায় সরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের নামে ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি করছে: রাশেদ খাঁন

সিলেটের হবিগঞ্জের পর এবার গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

 

এক ফেসবুক পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের সাথে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়িতে আমি, সার্জিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম।

 

মিতু বলছেন, এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে। আমাদের গাড়ির ডান পাশের, পিছনের গ্লাসগুলো গুড়ো গুড়ো করে ফেলছে। পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না তাতে আবার নাকি বেয়াদবি হবে।

 

ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুক পোস্টে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙা।

 

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়।

 

ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে: মাহমুদা মিতু

অপরাধী যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, কোনো ধরনের অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

 

তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে কারো রাজনৈতিক পরিচয় লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র ও সরকার অপরাধ দমনে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হাটহাজারী অঞ্চল ঐতিহ্যগতভাবেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। সম্প্রতি হাটহাজারীর একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে ৪ অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অপরাধীদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা আমার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ ধারণা ও আস্থা রয়েছে। তবে কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় অপব্যবহার করে অন্যায় বা অপরাধে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, দলীয় কিংবা আইনি—কোনোভাবেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ সন্ত্রাস ও অপরাধীর কোনো দল, বর্ণ বা সমাজ নেই। তাদের পরিচয় কেবলই অপরাধী।

 

বিভিন্ন দল ও সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে যারা অপকর্ম ও দুর্বৃত্তায়ন চালানোর অপচেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, রাজনৈতিক দল বা সামাজিক পরিচয় ভাঙিয়ে যারা শান্ত জনপদকে অশান্ত করার চেষ্টা করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তৎপর থাকার আহ্বান জানান।

 

হাটহাজারীবাসীর প্রতি গভীর আবেগ ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ বছর ধরে যেমন হাটহাজারীর মানুষের সুখে-দুঃখে ও বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ, আমৃত্যু আপনাদের একজন সন্তান ও ভাই হিসেবে যে কোনো প্রয়োজনে পাশে পাবেন।

 

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, হাটহাজারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহাম্মদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলম ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি প্রমুখ।

অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুইটি সমঝতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তার প্রত্যাবর্তন হলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে কেউ কীভাবে দেশে আসবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়। তিনি বাংলাদেশের আইনগত আওতায় প্রবেশ করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তাঁর বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

 

তিনি বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজনে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।

 

মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না। তিনি বলেন, তারা যদি কোনো পর্যবেক্ষণ বা অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমাদের দায়িত্ব সেটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখব।

 

এর আগে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) ব্র্যাকের এই সমঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

হাসিনা দেশের সীমানায় পা রাখলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।

 

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।

 

আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি। তাঁকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পেরে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি দোলায় চার দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমনদীতে তিন দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ১২ মে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের কাজ ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধুমনদী খালে ৭৫ শতাংশ এবং সিঙ্গামারি দোলায় ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে খননকাজ, শ্রমিকের মজুরি, বৃক্ষরোপণ, পরিবহন ও অন্যান্য যাবতীয় ব্যয় পরিশোধের পর অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

 

এদিকে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল পুরোপুরি পুনঃখনন করা হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেত এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

 

কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি এলাকার কৃষক করিম মিয়া বলেন, ‘খাল খনন দেখি মনে করছিনো এবার হামার দুঃখের দিন শেষ। আর ফসল বন্যাত ডুববার নয়। কিন্তু কাজ শেষ না করিয়ায় টাকা ফেরত দেইল। হামার দুঃখ কষ্ট কেউ দেখে নাহ।’

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা ব্যয় হয়নি, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্যই নিয়ম অনুযায়ী বাকি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ ও নতুন করে বরাদ্দ পেলে পরবর্তী অর্থবছরের শুকনো মৌসুমে খালের বাকি অংশ খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ, প্রায় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ভুয়া আইডি, ছবি ও সাইবার প্রতারণা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মেটা।

 

এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন অ্যাকাউন্টটি কোনো বাস্তব মানুষের নাকি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া আইডি। তবে মেটার পেইড সার্ভিস ‘মেটা ভেরিফায়েড’-এর মতো টাকা দিয়ে এই ব্যাজ কিনতে হবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যাজটি পাবেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা।

 

নতুন এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। ফেসবুক উক্ত ভিডিওটি অ্যাকাউন্টের মূল ছবি ও তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করবে।

 

তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। ব্যাজটি পেতে হলে অ্যাকাউন্টধারীকে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হবে:

 

শর্তগুলো হলো

 

১. ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সীরা এই সুবিধা পাবেন না।

 

২. ফেসবুকের ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ মেনে অ্যাকাউন্টটি সচল অবস্থায় না থাকলে পাওয়া যাবে না এই ব্যাজ।

 

৩. অ্যাকাউন্টে পূর্বে কোনো প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় উপস্থাপন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে এই ব্যাজ পাওয়া যাবে না।

 

৪. ফেসবুক পেজ এবং প্রোফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনামূল্যের এই ব্যাজ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

৪. মেটার সেলফি ভিডিওভিত্তিক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে নতুবা ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়া যাবে না।

 

পরিচয় যাচাই সফল হলে এই ভেরিফায়েড ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছাড়াও মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে।

 

মেটা বলছে এই ব্যাজটি কেবল একজন ব্যবহারকারী বাস্তব মানুষ কি না সেই প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা ব্যক্তিগত আচরণের কোনো নিশ্চয়তা মেটা দেয় না। ফলে অনলাইনে যেকোনো লেনদেন, তথ্য আদান-প্রদান বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সচেতনতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বর্তমানে এই ফিচারটি বিশ্বের নির্বাচিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করবে মেটা।

 

সূত্র: এনগ্যাজেট

বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ দিচ্ছে ফেসবুক, পাবেন না যারা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d