মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাননি। এ কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা এখনও যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি, সেগুলো এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে এবং সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে ও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সৈনিক জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সম-অধিকার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

 

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে- কীভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল। তারা যেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আমাদের অভিযোগ। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।

 

সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।

 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দেওয়া ও অপরিকল্পিত নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’

 

তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’

 

শিক্ষকদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

 

প্রথাগত রাজনীতির বাহিরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

 

চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর যে পরিমাণ নির্যাতন অত্যাচার চালিয়েছে। তাদের ক্ষমতা থেকে নামাতে বিএনপি’র যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

 

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেল পরশুদিন পতিত ফ্যাসিট সরকার ভারতে বসে প্রেস কনফারেন্সের চেষ্টা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে ধরনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সে ধরনের প্রতিবাদ এর আগে কোন সরকার জানাতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যে সর্তকতা জারি করা হচ্ছে, তার পেছনে অন্য কোন কারণ নেই। এটি কেবলমাত্র রুটিন ওয়ার্ক।

 

মিরপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, মহিলা সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আগামী রোববার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরকালে বাঁশখালীতে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে এসব ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন।

 

বন্যার পানির তোড়ে গৃহহারা পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে যখন অসহায় অবস্থায় ছিলেন ঠিক সেই সময়ে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগে তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। নিজের ভিটায় ভেঙে যাওয়া বাড়ি সরকার নির্মাণ করে দিচ্ছে ও সেই বাড়ি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে তুলে দেবেন-এমন প্রাপ্তিতে তারা আনন্দে উদ্বেলিত।

 

তারা প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে এক নজর দেখতে পাওয়া ও নতুন ঘরের চাবি বুঝে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি খরচে তাদের বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে আরসিসি পিলার, কাঠ এবং টিন।

 

টিনের ঘেরা ও ছাউনি দেওয়ার কারণে বাড়িগুলো ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি করে কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।

 

বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী জানান, ‘বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া যে পরিবারগুলোর নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

 

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ইতোমধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।’

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বাঁশখালী সফর ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক সেখানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি বাঁশখালীর বাহারছড়ায় অনুস্থানস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি।’

 

ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচানায় রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায় সেভাবে দেশ চালানো। আপনার চিন্তা ভাবনা, চলাফেরা সব কিছুতে গণতন্ত্র না থাকলে মনে করতে হবে তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যার্থ বলে তাকে ৫ বছর যেতে দিবো না বলছি। এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তো গণতন্ত্র যাই না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র কিন্তু কাজ করেছে উল্টো।

 

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।’

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।

 

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই

হবে।’

 

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করে এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

 

এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দলটি।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

 

এছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। ফরিদার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

 

স্বজনেরা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। তাই সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

 

এর মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে সেগুলোর মধ্যে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনে প্যাকেট করা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়।

 

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করেন। তাকে মারধরের পর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

 

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের টুকরা করা মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকেও পুলিশ চেষ্টা করছে।

টুকরা করে ১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলো মোছা. রিনা আক্তার (২৫) উপজেলার ৬ নং বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা। ও প্রেমিক আল আমিন। প্রেমিকের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রেমিক আল আমিন স্থানীয় হ্যামস গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রত্না বেগম জানান, দুপুরের পর থেকে দুজন রেলপথ ধরে হাঁটাহাঁটি, গল্প ও খুনসুটি করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে বসে সময় কাটান। হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে তাঁদের মৃত্যুর খবর পাই।

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, বিকাল ৫টার দিকে রেলপথে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুজন ছেলে ডাকাডাকি করে জানায় সিগন্যালের পাশে দুজন মানুষের লাশ রেলপথে পড়ে আছে। এরপর আশপাশের লোকজন গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পায়।

 

নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন বলেন, পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে চলে এসে প্রেমিক আল আমিনকে বিয়ে করে বোন। বিয়ের পর থেকে তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। কী কারণে আত্মহত্যা করছে তা বলতে পারবো না।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সিরাজী বলেন, বিকালের দিকে এক ছেলে এক মেয়ে ময়মনসিংহগামী কমিউটার আপ-ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এরপর ট্রেনের নিচে পড়ে তাদের মরদেহ অনেক দূর নিয়ে যায়। মরদেহের অংশ ছিঁড়ে ছিঁড়ে রেলপথের প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক জুড়ে পড়ে রয়েছে।

 

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে নিয়ে ট্রেনের নি/চে ঝাঁ/প দিলেন ত/রুণী

ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে যশোরে আসা এক যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন, যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবক ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে রাজা ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপটি কিনবেন জানিয়ে তাকে যশোরে আসতে বলেন। পরে ওই যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে এলে রাজা তাকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

 

সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজাকে আটক করা হয়। পরে একই স্থান থেকে বৃষ্টি ও জারাকেও আটক করা হয়।

 

কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক থানায় মামলা করবেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের দাবি, চক্রটি নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হতো। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগেও তারা আটক হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখাতেন বৃষ্টি ও জারা

পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

০৮ই আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার,বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি , বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম সুজন।সভায় বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, মোঃ আবু কালাম ,সহ সাধারন সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, শিক্ষা ও সমাজ কল্যান সম্পাদক, রাশিদা আক্তার,বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর খান,সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি , হাসিনা খানম প্রমুখ।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন পোশাক শিল্পের সংকট সমাধানে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কারনে শ্রমিক ছাটাই, কর্মচ্যুত বেড়েই চলছে। মালিক -শ্রমিক উভয়েই হতাশ। উক্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন,দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধোগতি,শ্রমিক- কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাহিরে। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন, শ্রমিকদের মাঝে ব্যপক অসন্তোষ বিরাজমান করছে। অবিলম্বে মজুরী বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের পূর্ণমজুরী নির্ধারন এর দাবি, শ্রমিক – কর্মচারীদের বকেয়া বেতন -ভাতা, ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুর্নবহাল, হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত এ্যালিয়েন্স নীট কম্পোজিট লিঃ এর বে আইনীভাবে ৫৬৫ জন ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে পুর্নবহালের দাবি করেন,বকেয় বেতন ,ভাতা পরিশোধ করতে হবে এবং বেক নীট লিঃ,তান্যাম ডিজাইন লিঃ (লুসাকা গ্রুপ), এর ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কাজে পুর্নবহালের দাবী জানাই।

 

তিনি আরো বলেন গাজীপুরে লিথী গ্রুপের ০৫টি কারখানার ৩৫০০জন শ্রমিককে সমস্যা সমাধানের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। ম্যাক্সন্স স্পিনিং মিলস, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক বন্ধ কারখানা চালু, হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ না করা হলে শ্রমিক – কর্মচারীগন বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে। প্রাইড গ্রুপ,রিজাইনকৃত ও ছাটাইকৃত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ করতে হবে।,বেক্সিমকো গ্রুপ বন্ধ কারখানা চালু কর, বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ কর,

 

বক্তারা বলেন বেলকুচি নীটিং এন্ড ডায়িং, সহ সকল কারখানার শ্রমিক – কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ, শ্রমিকদের রেশনিং চালু, শ্রমিক ছাটাই- নির্যাতন,বিভিন্ন শিল্প অঞ্চলের চলমান শ্রম অসন্তোষ দ্রুত নিরসন,মামলা- হামলা বন্ধ,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মচারীদের নামে হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী জানান।দাবী বাস্তবায়ন না হলে যে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিক -কর্মচারীদের বকেয়া বেতন- ভাতা পরিশোধ না করেন বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

 

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধশপার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। পাহাড়ের একাধিক সূত্র বলছে, আদিবাসীরা নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি পাননি। অভাব, অবহেলা, বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটছে জীবন। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর সামনে বাস করতে হচ্ছে তাদের।

 

পার্বত্যাঞ্চলের এই পরিবেশে আগামীকাল রোববার পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। জাতিসংঘের এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: অধিকার এগিয়ে নেওয়া, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্মের কল্যাণ প্রচার’।

 

দেশের বিশেষায়িত তিন জেলা বান্দরবার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২৮ বছরে পাহাড়ে শান্তি আসেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে তাদের জীবন। দীর্ঘ সময়েও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

 

আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, পরের জমিতে বাস

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঘনমোড় মৌজার শিলকাটা গ্রামের জ্ঞান লাল চাকমা ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন অফিসে তার পাঁচ একর বসতভিটা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে ওই জমিতে পুনর্বাসন করা লোকজন বসবাস করছেন। বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়ায় জ্ঞান লালকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার দেবাছড়ি গ্রামে অন্যের ভূমিতে বসবাস করতে হচ্ছে।

 

জমি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন

কৃষক ন্যালশন চাকমা পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাবলাখালি থেকে পাশ্ববর্তী দেশে শরনার্থীর জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি নিজ ভূমে ফিরে আসেন। তবে নিজের জমিজমা ফেরত পাননি। তিনি বর্তমানে একই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবন কাটাচ্ছেন। জ্ঞান লাল ও ন্যালশনের মতো আরো অনেক পবিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন।

 

আদিবাসী ফেরামের কর্মসূচি

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য জগদীশ চন্দ্র বর্মন।

 

অতিথি হিসেবে থাকবেন মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (নাটোর-নওগাঁ) আন্না মিনজ, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

 

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান— তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসীরা দিবসটি পালন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হবে।

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যকারিতা নেই

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করে ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এ লক্ষে ভূমি সমস্যা সমাধানে ১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে সরকার। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এ কমিশনের আইনটি সংশোধনী আকারে জাতীয় সংসদে পাস হলে কমিশন পুর্নগঠিত হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্যর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে পার্বত্য চুক্তির কিছু ধারা সাংঘর্ষিক হওয়ায় আইন সংশোধনে দীর্ঘ ১৬ বছর লেগে যায় কমিশনের। পরে ২০১৬ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদে সংশোধনী আকারে পাস হয়। এ কমিশনে তিন বছর মেয়াদে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। এ কমিশনে যষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ।

 

ভারত ফেরত শরণার্থীরা ভূমি ফিরে পাননি

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত থেকে ফিরে আসা উপজাতীয় শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত ও পুনর্বাসনের লক্ষে উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিতে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। সর্বশেষ ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় সুদত্ত চাকমা চলতি বছরে ১০ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করায় বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে। অভ্যন্তরীন উদ্ধাস্তু হিসেবে ৮০ হাজারের অধিক পরিবার তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভারত প্রত্যাগত প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ২০ দফা প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা নিয়মিত রেশন পেলেও অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ফেরত পাননি।

 

টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, বর্তমানে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদটি খালি। এর আগে কমিটির ২৮টি বৈঠক হয়েছিল। তবে কোনো সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্ষন্ত এক পক্ষীয়ভাবে পাহাড়িদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ২৯টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভাব ছাড়াও উপরন্তু উদ্ধাস্তু হওয়া লোকজন তাদের নিজদের জমি ফেরত পাননি।

 

সন্তোষিত চাকমার মতে, জাতিসংঘের ঘোষিত আদিবাসী ঘোষনাপত্র বাস্তবায়ন, পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিললে এ অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভূমি অধিকার জড়িত। ভূমি অধিকার হচ্ছে সমষ্টিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে প্রথাগত রীতিনীতির ভিত্তিতে আদিবাসীরা এ ভূমি অধিকার ভোগ করে আসছে। কিন্তু এ ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রেহানা বেগম (২৯)। ঘর ভাড়ার টাকা পরিশোধে বিক্রি করতে হয়েছে মাথার চুল। এখন ঠাঁই হয়েছে খুলনার মংলা রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে।

 

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে চলে রেহানা ও তার শিশু দুই সন্তানের জীবন। স্বামীর নির্যাতন, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই রেললাইনের পাশে কাটে তাদের দিন।

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই নারী এখন চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রেললাইনের পাশে। রেহানা বেগম তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তার ছোট বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার। নিত্যদিনের অভাবে রেহানাকে বাবার রোজগারে অনেক সময় ভাগ বসাতে হয়।

 

রেহানার স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রেহানার ভাষ্য, স্বামী মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায়ই তাকে মারধর করেন। কখনো ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে যে টাকা পান, সেটিও স্বামী নিয়ে যান।

 

সংসারে অভাব এতটাই প্রকট যে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং নিজের মাথার চুল বিক্রি করে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করে বাড়িভাড়া পরিশোধ করেন। যার মধ্যে নিজের চুল মাত্র ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

 

এখন তার ঠিকানা রেললাইনের পাশে। স্থানীয় কয়েকজন মানুষের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু টিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।

 

রেহানা বেগম বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাবারও নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়ে যা পাই, তা দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। স্বামী মাদক খেয়ে আমাকে মারধর করে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া দিতে নিজের চুলও বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই—সন্তান দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন খুব ক্ষুধা লাগে, তখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ থাকে না। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে খালের পানি পান করি। মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে খাই, সেই কাপড়ই পরি। মানুষ আমার জন্য একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এখনো ছাউনি দিতে পারিনি। এভাবেই চলছে আমার জীবন।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘর। সেখানে রেহানার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে থাকার চেষ্টা। পাশেই তার ছোট বোনও অবস্থান করছেন। ঘরের ওপর কোনো টিন নেই। চারপাশে নেই পর্যাপ্ত বেড়া। বৃষ্টি এলে সেখানে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়রা জানান, রেহানার মতো অসহায় একজন নারীর দুই সন্তান নিয়ে এভাবে বসবাস অত্যন্ত মানবেতর। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জরুরি।

ঘর ভাড়া পরিশোধে অসহায় মায়ের মাথার চুল বিক্রি

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

 

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী

(০৮/আগস্ট/২৬ইং)

বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ আজও হাতে পানি স্ত্রী। অথচ রংপুরের তারাগঞ্জ থানার ওসি একদল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালাক হয়ে গেছে জানিয়ে সেই স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি হতে জোড়পূর্বক বের করে দিয়েছিলেন। এমন বাস্তবতার ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। ভুক্তভোগী সেই নারী পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে পুলিশের

মহাপরিদর্শক (আইজিপি)

ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল বলেছেন। দাম্পত্য জীবনে থানার ওসির এমন আচরণ কোনভাবে কাম্য নয়। এখানে তিনি একপক্ষ অবলম্বন করে হয়তো আর্থিক ফায়দা লুটে ওই নারীর দাম্পত্য জীবনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কিসমত ডাঙ্গি হেডপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মাহাতাব উদ্দিন সরকারের মেয়ে একটি স্কুলের শিক্ষিকা মমতা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়ে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার ভম্বলের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। শিক্ষিকার স্বামী আতিকুল ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর তারাগঞ্জ বাড়ি হতেই যাতায়াতের মাধ্যমে স্কুলে চাকরি করতেন। স্বামীর বাড়ির বসত ঘর মেরামত ও নতুন করে তিনি (মমতা) সাজিয়ে তুলেন কিন্তু হঠাৎ করে গত ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মমতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মমতাকে জানায়, তোমার স্বামী আতিকুল তোমাকে তালাক দিয়েছে তুমি শ্বশুর বাড়ি হতে বের হয়ে যাও। তালাক কিসের কারনে হল আমি তো কিছুই জানিনা বা তালাকের কোন নোটিশ হাতে পেলাম না। তাহলে তালাক হয় কেমন করে এমন প্রশ্ন তুললে মমতাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে মেজ ভাসুর ও তার ভাসুরের স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এমনকি স্বামীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে গিয়েও মমতা ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয় মমতা তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চায়। কিন্তু ওসি সহযোগিতা না করে মমতাকে শ্বশুরবাড়ি হতে বের হয়ে যেতে বলেন। মমতা শশুর বাড়িতে নির্যাতন সহ্য করে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় পরের দিন ( ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ) বিকালে তারাগঞ্জ থানার উক্ত ওসি একদল ফোর্স নিয়ে মমতার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে মমতাকে বাড়ি ছাড়া নির্দেশ দেন। মমতা রাজি না হলে ওসি জানায় তালাক হয়ে গেছে আপনি বাড়ি ছাড়েন। এখানেও মমতা প্রতিবাদ করে জানান কিভাবে তালাক হয় আমি কোন তালাকের নোটিশ পাইনি। আমার স্বামীকে নিয়ে আসেন আমি তার মুখে জানতে চাই। ওসি কোন কথার কর্ণপাত না করে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মমতাকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ির হতে বের করে তারা থানায় নিয়ে আসেন এ সময় ওসি মমতা বেগমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মমতার আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে এনে মমতাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে আনলেন কি করে। পরে এ ঘটনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও কয়েকজন সাক্ষী। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা বেগমের দাবি, তারাগঞ্জ থানার তৎকালিন ওসি পুলিশ নিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে যান সেখানে তাকে বলা হয়,”তোমার স্বামী তোমাকে তালাক দিয়েছে, তুমি এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। না হলে তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।”এরপর মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে থানায় নেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বেগমের ভাষ্য, তিনি ওসিকে বারবার জানান যে তিনি কোন তালাকনামার নোটিশের কপি পান নি এবং তার সামনেও স্বামী তাকে তালাক দেননি। তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় স্বামীর বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে। এরপরও তাকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ শিক্ষিকাকে ভয় দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে লিখিত নিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা সেই ওসি অন্যায় ভাবে করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এসআই মাসুদ আলমপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমানকে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা জানাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তার স্বামীর বাড়ির শয়ন কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। তিনি দুইদিন এক রাত বারান্দায় বসে ছিলেন। নিজের কক্ষের তালা খুলে দেওয়ার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং থানার তৎকালীন ওসির কাছে ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি বলে মমতা অভিযোগ করেন। মমতার অভিযোগ, পহেলা অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নিজে পুলিশ সদস্যদের একটি বহর নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যান এবং তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন। মমতা বেগমের অভিযোগ, তার পক্ষে যেসব সাক্ষী ছিলেন, তদন্তের সময় তাদেরকে ডাকা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি। একই গ্রামের বাসিন্দা আরজিনা বেগম বলেন, মহিলা পুলিশ দিয়েই শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,”মেয়েটি বলছিল, সে কোন তালাকের কাগজ পায়নি এবং স্বামী তার সামনে তালাক দেয়নি। অন্যদিকে ছেলের দাবি ছিল, সে তালাক দিয়েছে। এ অবস্থায় আমার করার তেমন কিছুই ছিল না।”তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম অভিযোগ করেন, ওই ইউপি সদস্য এবং তার স্বামীর মেজ ভাই ও ভাবি সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পরামর্শেই তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পুলিশ এসে তাকে থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ বিষয়ে মমতা বেগমের বড় ভাসুর আখতারুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওসি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না।” এ ঘটনা রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতা বেগম। অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে না গিয়ে অফিসে বসেই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ না করে একসঙ্গে বসিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান ও অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন,”আমার জীবনেও এ ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণেও দেখিনি ওসির দোষ ঢাকতে চারজনকে একসঙ্গে বসিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা পুরোপুরি তদন্ত কমিটি লিপিবদ্ধ করেনি। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। অথচ তারা মেয়েটিকে নির্যাতন করে উল্টো মিথ্যা অজুহাত দেয় মেয়েটা আত্মহত্যা করবে। তিনি আরো বলেন,”যদি পুলিশ ঐদিন মেয়েটিকে (মমতা বেগম) বাড়ি থেকে জোর করে বের করে নিয়ে না যেত তাহলে হয়তো তার সংসারটা টিকে যেতো। এখানে ওসির সঙ্গে মমতার স্বামীর মেজ ভাই ও তার ফুটচাল করে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”মমতা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে জানায়, হে আত্মহত্যা করতে চাইছে। এজন্য আমি তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেই। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়” অন্যদিকে স্কুল শিক্ষিকা মমতা বেগমের স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম (আতিক) বলেন,”আমি মমতা বেগমকে তালাক দিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন ওই ওসিকে তারাগঞ্জ থানা হতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ওসিকে নির্দোষ হিসাবে প্রতিবেদন দেয়। তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম তদন্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের মতে পারিবারিক বিরোধ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোন পক্ষের আইনগত অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরী বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক ও সি এম এ ফারুকের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। এদিকে শিক্ষিকার তালাকের নোটিশ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার ষ

কাশীরামবেলপুকুর সাব পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি রেজিস্ট্রি চিঠি মমতা বেগমের নামে এসেছিল কিন্তু চিঠিটি মমতা বেগম গ্রহণ না করায় তা প্রাপকের নিকট ফেরত পাঠানো হয় এই চিঠির বিষয়টি তদন্ত করতে মমতা বেগম রংপুর বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলের নিকট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে তা তদন্ত করা হয়। তদন্ত করেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপবিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক মোঃ মঞ্জুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় উক্ত পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন চিঠির প্রাপক মমতার বেগমের সাথে দেখা না করেই নোটিশ লিখে দেন প্রাপক চিঠি গ্রহণ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় মমতা বেগমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নের সাথে আঁতাত করে তালাকের চিঠি বিলি করাননি। যাতে করে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে তারা কার্যকর হয়ে যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত ডাক পিয়ন কে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মমতা বেগম জানান, তিনি আজ পর্যন্ত তালাকের নোটিশ হাতে পাননি। অথচ তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ও সীতাকে তালাক হয়েছে জানিয়ে হেনস্তা করে শ্বশুরবাড়ি হতে বের করে আনেন। মমতা বেগম সেই ওসির কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d