কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিয়েছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কাইয়ার হাট এলাকার কৃতি সন্তান মোঃ শরিফুল ইসলাম।

 

কৃষক পরিবারের সন্তান শরিফুলের বাবা মোঃ আঃ মজিদ সরকার একজন কৃষক। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শরিফুল ২০০৭ সালে পিইসি, ২০১০ সালে জেএসসি এবং ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেন। তিনি গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন।

 

পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় মেধাক্রমে প্রথম ও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন বঙ্গবন্ধু মেরিট স্কলারশিপ।

 

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের সর্বশেষ অর্জন—সম্পূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কাইয়ার হাটের মাটি থেকে বেইজিংয়ের পথে শরিফুলের এই যাত্রা শুধু তাঁর পরিবারের নয়, পুরো গাইবান্ধার জন্য গর্বের। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন, মেধা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।


ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করতে গিয়ে সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

 

মসজিদের ইমাম আতাউল্লাহ প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেন। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর আর ওঠেননি তিনি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

 

হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের ওই বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। নামাজ পড়ানো ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নম্র স্বভাব ও সুন্দর আচরণের জন্য মুসল্লিদের কাছে তিনি ছিলেন পছন্দের মানুষ।

 

এক প্রতিবেশী বলেন, আতাউল্লাহ খুবই শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। তাকে কখনও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। এভাবে হঠাৎ তার মৃত্যু হবে, তা কেউ ভাবেননি।

 

মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, আতাউল্লাহ তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত। ছোট ছোট সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।

 

আতাউল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মুসল্লি, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়ি ও মসজিদে ভিড় করেন অনেকে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আসরের নামাজের পর তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ফজরের নামাজের সিজদায় গিয়ে আর উঠলেন না ইমাম

“শ্যামনগরের কৈখালীর রাস্তা সংস্কার না করার প্রতিবাদে রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুব সমা”

মো: জাহাঙ্গীর আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি :

 

কৈখালী ইউনিয়নের অবহেলিত আলহাজ্ব মরহুম আদম গাজীর কেয়ার রাস্তা নামে পরিচিত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রচণ্ড কাদার। ফলে পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবশেষে স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তাটির কাদাময় অংশে ধানের চারা রোপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হোক। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শ্যামনগরের কৈখালীর রাস্তা সংস্কার না করার প্রতিবাদে রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুব সমাজ

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে।

 

গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে নুর অভিযোগ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘রগকাটা জামাত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে। কুষ্টিয়া গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি নিয়ে উপর্যুপরি হামলা করেছে।’

 

নুর আরও বলেন, ‘জামাত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে জামাত-শিবিরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে গুপ্ত ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’

 

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টায় দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিনেত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একজনের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা নেয়া হচ্ছে । পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। প্রসঙ্গত, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।

রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার

২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ দ্রব্য জব্দ করেছে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মেহেদী হাসান।

 

তিনি জানান, বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং আন্ত:নগর এক্সপ্রেস, মেইল ও লোকাল ট্রেনে এইসব অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা ৪১ কেজি, হেরোইন ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম, ইয়াবা ৫২৮ পিস, নেশাজাতীয় ইনজেকশন (এ্যাম্পল) ১ হাজার ১২৬ পিস, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ৪০২ পিস, কোডিনযুক্ত এসকপ ৬৪০ বোতল, ফেন্সিডিল ১৫০ বোতল, দেশিয় মদ ১৩ বোতল, কোডিন ফসফেট ৩০ বোতল এবং ৩০ বোতল কোডিনযুক্ত এমকে ড্রিল।

 

এ সময় রেলওয়ে পুলিশের পাকশী জেলার পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের মধ্যে সাধারণত রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ, টিকিট কালোবাজারি ও অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মাহাতাব আলী ও রুহুল আমিন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক ও পাকশী রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে পৌনে ৪ কোটি টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।জানাে গেছে, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস (৩৭)। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়েছে।

 

এদিন ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভেঙে দেওয়ার বাড়ির সামনে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা যায়। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছেধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

ফুল দিতে এসে ধানমন্ডি থেকে যুবলীগ কর্মী আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার: ‘টেমি’ হাফিজ ও মাছুরাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে জনজীবন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্য ও সংবাদকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় জনজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

 

আইজিপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিতুন, ডি-১ হাফিজুর রহমান, ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. নিজামুদ্দিন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ থানার এসআই কামাল হোসেন, এসআই সুদীপ, এসআই পিংকু, এএসআই রফিকসহ ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ডেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসআই কামাল হোসেন ও এসআই সুদীপ মহিলা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁর বৈধভাবে ক্রয়কৃত একটি OPPO মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাঁকে আটক করে মিথ্যা মামলায় চালান করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁকে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

 

জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং জেলার আলোচিত মাদক, অস্ত্র ও ডাকাত চক্রের সদস্য ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউ ও রফিকুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসাম ‘টেমি’ হাফিজুর রহমান (৪৮), পিতা: মৃত এলাইবাক্স গাজী, সাং: বাজারগ্রাম, থানা: কালিগঞ্জ অভিযোগ লিখে নিজে স্বাক্ষরে দাখিল করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত জেলার আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ব্ল্যাকমেইলার ‘লেডি ডাকাত’ মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫), স্বামী: ছুবাহান (কুখ্যাত চোর), পিতা: আবু বক্কার সিদ্দীক গাজী, সাং: চন্ডিপুর, থানা: শ্যামনগর, বর্তমান ঠিকানা: মঞ্জিতপুর, থানা ও জেলা: সাতক্ষীরা কে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

ওই অভিযোগে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী এস. এম. নাসির উদ্দীনকেও জড়ানো হয়েছে। অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন। সততা, সুনাম, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান, সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্যগত সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। এ কারণেই স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং নিজেদের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, পুলিশকে হয়রানি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

তাঁদের আরও দাবি, টেমি হাফিজ, মাছুরা খাতুন, ইয়াবা ব্যবসায়ী তানভীর এবং তাঁদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

 

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাতে সশস্ত্র ডাকাত দল মধুসূদন কর্মকারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার নং-০৪ (তারিখ: ০৬/০৭/২০২৫), পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, উক্ত ঘটনার তদন্তকালে পুলিশি কলাকৌশল প্রয়োগ এবং মোবাইল প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা যায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ওই আসামির কাছে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত স্থানে বিক্রি করা হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাতক্ষীরা শহর থেকে মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

স্থানীয়দের তথ্যমতে, শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকার বাসিন্দা, কুখ্যাত চোর ছুবানের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী মাছুরার এর আগে ডজনখানেক বিয়ে হয়েছে। ছুবান একসময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত হয়ে পঙ্গু হন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

 

এ ছাড়া মাছুরা ২০১৮ সালে শ্যামনগর বিআরটিসি কাউন্টার মালিক মতির সঙ্গে তাঁর দেবর, সুন্দরবন-ডাকাতদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ভেটখালী এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০২৩ সালে নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় দায়ের করা দুটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে—মামলা নং-৩১, তারিখ: ৩০/০১/২০২৩ এবং মামলা নং-০৬, তারিখ: ১০/১২/২০১৮।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাছুরা খাতুন ও টেমি হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে সক্রিয় থাকা, চুরি, ডাকাতি, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, ভুয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাঁরা বারবার আইনি সুবিধা পেয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পরও স্বল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

প্রতিবেদনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও সংযুক্ত করা যেতে পারে।

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার: ‘টেমি’ হাফিজ ও মাছুরাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে জনজীবন

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল পাটোয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচি*।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামনগর থানার ওসি *মো. শাফিউল পাটোয়ারী*।

 

সোমবার ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় জুলাই মাসের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখাসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওসি শাফিউল পাটোয়ারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার *আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম* আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

 

এছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় এসআই আনোয়ার, এসআই সুদীপ, এএসআই নবী ও এএসআই জাফরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সহ সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ায় শ্যামনগর থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

সম্মাননা পাওয়ার পর ওসি শাফিউল পাটোয়ারী বলেন, “এই অর্জন শ্যামনগর থানার সকল পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সেবায় আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবো।

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল পাটোয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিয়েছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কাইয়ার হাট এলাকার কৃতি সন্তান মোঃ শরিফুল ইসলাম।

 

কৃষক পরিবারের সন্তান শরিফুলের বাবা মোঃ আঃ মজিদ সরকার একজন কৃষক। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শরিফুল ২০০৭ সালে পিইসি, ২০১০ সালে জেএসসি এবং ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেন। তিনি গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন।

 

পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় মেধাক্রমে প্রথম ও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন বঙ্গবন্ধু মেরিট স্কলারশিপ।

 

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের সর্বশেষ অর্জন—সম্পূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কাইয়ার হাটের মাটি থেকে বেইজিংয়ের পথে শরিফুলের এই যাত্রা শুধু তাঁর পরিবারের নয়, পুরো গাইবান্ধার জন্য গর্বের। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন, মেধা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পছন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ফালানকে

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু

:

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থী বাছাই ও নানা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত এখন এলাকার ভোটাররা। তবে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল-মত নির্বিশেষে সকলের পছন্দ বর্তমানে অত্র ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ফালান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি সর্বস্তরের জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তার মেধা, দক্ষতা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বসাধারণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

 

আমিন বাজার ইউনিয়নের ভোটাররা মনে করছেন, আগামী দিনে ইউনিয়নের অব্যাহত উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হাজী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ফালানের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন ঘড়ির কাঁটা যত এগিয়ে আসছে, স্থানীয়দের মাঝে তাকে ঘিরে সমর্থন ও আগ্রহ তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন জানান। হাজী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ফালান সাধারণ মানুষের সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারেন, এবং সকলের বিপদে আপদে পাশে থাকেন, একজন নির অহংকারী মানুষ হিসেবে তার জুরি নেই, আর এই সমস্ত গুণের কারণেই মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে।

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পছন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ফালানকে

ছয় বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

 

ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বোর্ডার এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় বড় গর্তে গাছের ডাল পুঁতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংস্কারের পর থেকে বোর্ডার এলাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কোথাও বিটুমিন উঠে গেছে, কোথাও ঢালাই নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও বিটুমিন ও ঢালাই উঠে এক জায়গায় জমে ‘টিলা’র মতো উঁচু অংশ তৈরি হয়েছে।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামের অনেক পরিবহণ চাঁদপুর হয়ে চলাচল করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ওপর প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন নির্ভরশীল। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চাঁদপুর থেকে নোয়াখালী যেতে স্বাভাবিকভাবে যেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এখন প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

মোটরসাইকেল চালক জায়েদ হোসেন বলেন, রায়পুরের বোর্ডার বাজার থেকে লক্ষ্মীপুর সদরের দালাল বাজার পর্যন্ত সড়কের যে অবস্থা, একজন যাত্রীর লক্ষ্য থাকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু এখন সেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

 

ট্রাকচালক মাহমুদ হোসেন বলেন, রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। বড় বড় হাইড্রোলিক ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঢালাই দেওয়া হয়নি। এ কারণে দিনে গাড়ি চালিয়ে রাতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

 

কক্সবাজারগামী জোনাকি পরিবহণের চালক মো. রুবেল বলেন, জায়গায় জায়গায় এমন অবস্থা যে গাড়িতে প্রচণ্ড ঝাঁকি লাগে। কখন গাড়ি উলটে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এতে গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়, গাড়ির বেয়ারিং নষ্ট হয়ে যায়। শরীরেও মারাত্মক ক্ষতি হয়। ফলে টানা দুই দিনও গাড়ি চালাতে পারি না।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত সড়কটির গর্তে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

 

সিএনজিচালক মো. বেলাল হোসেন বলেন, সড়কটি চার লেন করা হলে খুব ভালো হয়। ছোট গাড়িগুলো চালানোই যাচ্ছে না। রায়পুর, দালাল বাজার, জকশিন ও হাজিরপাড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে।

 

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই সড়কের বোর্ডার অংশের দুই কিলোমিটার সংস্কার করা হবে।

৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্ত-খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

বরিশালের বাবুগঞ্জে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে আড়িয়াল খাঁ নদে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। নদীতীরবর্তী আতঙ্কিত মানুষ গাছপালা কেটে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার আগেই সেগুলো ভেঙে নদীতে ভেসে যাচ্ছে। বসতভিটা ও সম্পদ হারিয়ে বিলাপ করছেন ভাঙনকবলিত মানুষ।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে চোখের পলকে ১০টি বসতঘর, ফসলি জমি ও গাছপালাসহ সড়কের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একদিনে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা ও ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরের মানুষ।

 

শনিবার থেকে এ অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়েছে। চোখের পলকে ভেঙে যাচ্ছে বসতঘর, গাছপালা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

রহমতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, রোববার সন্ধ্যায় চোখের পলকে আড়িয়াল খাঁ নদে লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়কের অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একদিনে নদীভাঙনে মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ অনেকের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

 

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ভাঙন রোধে এসব এলাকায় দ্রুত কাজ করা হবে।

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে একদিনে ১০টি বাড়ি বিলীন

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

 

অর্থের অভাবে যখন তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণ হাজংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিবারণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিবারণ হাজং। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

নিবারণের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একদিকে শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

 

রোববার রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু চিকিৎসা করানোতেই নয়, নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা, গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

অগ্নিদগ্ধ নিবারণ হাজংয়ের পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, ছয় মাসে অবসান হয়েছে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির। সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এখন কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন গড়ে তোলা হয়েছে।

 

গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন দেখা গেছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি জানান, ২০০টি ইলেকট্রনিক বাস আনা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে সংস্কার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজও অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে।

 

মাহদী আমিন আরও বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসে সরকার সবার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।

৬ মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে: মাহদী আমিন

কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কয়েকজন সামান্য আহত হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।

 

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার নিশান মোড় থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সুহাইল’ নামের বাসটি বটতৈল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নিশান মোড় থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয়। বটতৈল এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। পরে বিভাজকে সজোরে ধাক্কা লাগে।

এ সময় বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর পেছনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও ডাবল ডেকার বাসের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। তারা নারী শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। পরে তাদের অন্য বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হলেও শিক্ষার্থী কম থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস চালানোর সময় চালকদের আরও সতর্কতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালানো উচিত। ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে সবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসের সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার খবর শুনেছি। এটি আমাদের ভাড়াকরা বাস। ওই বাসের পেছনেই আমাদের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাস ছিলো, তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেছে। কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে বলে জেনেছি তবে কেও গুরুতর আহত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে।

সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা ইবির বাসের, প্রাণে বাঁচলেন ২৫ শিক্ষার্থী

ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করতে গিয়ে সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

 

মসজিদের ইমাম আতাউল্লাহ প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেন। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর আর ওঠেননি তিনি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

 

হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের ওই বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। নামাজ পড়ানো ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নম্র স্বভাব ও সুন্দর আচরণের জন্য মুসল্লিদের কাছে তিনি ছিলেন পছন্দের মানুষ।

 

এক প্রতিবেশী বলেন, আতাউল্লাহ খুবই শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। তাকে কখনও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। এভাবে হঠাৎ তার মৃত্যু হবে, তা কেউ ভাবেননি।

 

মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, আতাউল্লাহ তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত। ছোট ছোট সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।

 

আতাউল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মুসল্লি, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়ি ও মসজিদে ভিড় করেন অনেকে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আসরের নামাজের পর তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ফজরের নামাজের সিজদায় গিয়ে আর উঠলেন না ইমাম

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d