আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বুধবার তিনি সংসদে যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না।

 

তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য শেষে কেউ পাল্টা বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু গতকাল সংসদে আমার আশপাশ থেকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। এটা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।’

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সংসদে সরকারি দল, বিরোধীদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকেন। একেক জনের এক ধরনের মত থাকবে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংসদে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও জঘন্যভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছি। সংসদে শুধু না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধীদল সেজে বসে থাকার কোনো মানে দেখছি না।’

 

এর আগে বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ দেখে মনে হচ্ছে আমরা যেন আবার আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন এসব কথা বলতাম, তখন তারাও সংসদে হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে।’


মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন, সময়মতো চার্জশিট দাখিল, মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহ এবং আদালত ও পুলিশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্সে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেয়া হয়।

 

ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম।

 

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের সঞ্চালনায় কনফারেন্সে জেলার মামলার নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।

 

এসময় ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পিপি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কনফারেন্সে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনা এবং নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পৌঁছানো, আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আসামিদের সময়মতো আদালতে উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার তদন্তে গতি:

 

কনফারেন্সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, ঢাকা জেলা জজ আদালতে এ ধরনের মাত্র চারটি মামলা বিচারের জন্য এসেছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনানুগভাবে চার্জশিট দাখিলের জন্য জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তকালে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

 

মেডিকেল-ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়ার তাগিদ:

 

ভিকটিমদের মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রাপ্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মেডিকেল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। চিকিৎসাদানকারী চিকিৎসক বর্তমানে কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বোর্ড গঠন করে যথাযথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

হত্যা মামলায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে না আসার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দ তালিকা এবং পরবর্তীতে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

ডিজিটাল আলামত জব্দে সতর্কতার নির্দেশ:

 

ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য যথাযথভাবে জব্দ, সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস যথাযথভাবে জব্দ এবং মোবাইল ফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য ও আইএমইআই নম্বর সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি ও নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের

ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ঢাকায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ায় গভীর রাতে এক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

 

পরিবারসূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হাজির বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

 

চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

 

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দুই এসিল্যান্ড বদলি

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার একটি ঘরে জুয়া খেলার সময় তাদের আটক করা হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন—টেংগাপাড়া এলাকার দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম (৪৩), মো. জিয়া উদ্দিন (৪০), হারুন অর রশিদ ওরফে তরুনুর রশিদ খান (৪৩), দৌলতপুরের মোহাম্মদ আলী রুবেল (৪৪), পাবই গ্রামের মো. আমীন (৪২), মো. সোহেল রানা (৪৪), ঝিকরওয়ালা গ্রামের মিনামুল (৩৫) ও সহিলদেও গ্রামের কমল মিয়া (৪৩)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি চাকরিতে কর্মরত। তাদের মধ্যে তরুনুর রশিদ ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসে লিডার পদে, সোহেল রানা বিজিবিতে এবং জিয়া উদ্দিন নির্বাচন অফিসে কর্মরত বলে জানা গেছে। এছাড়া কমল মিয়া উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদে রয়েছেন।

 

পুলিশ জানায়, উপজেলার একটি স্থানে টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসানোর খবর পেয়ে গোপনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জুয়া খেলারত অবস্থায় আটজনকে আটক করা হয়।

 

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী কেউ আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এমন কাউকে পাওয়া গেলে তার পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হবে।

নেত্রকোণায় জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি সদস্যসহ আটক ৮

নওগাঁয় শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর, টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

 

 

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মিডিয়া সেলে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

 

 

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

 

 

 

জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তাঁর বাসায় আসতে বলেন। জরুরি বিষয়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর মিলিসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানের পর চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। নওগাঁ সদর থানার অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন। পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ  শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন, সময়মতো চার্জশিট দাখিল, মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহ এবং আদালত ও পুলিশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্সে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেয়া হয়।

 

ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম।

 

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের সঞ্চালনায় কনফারেন্সে জেলার মামলার নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।

 

এসময় ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পিপি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কনফারেন্সে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনা এবং নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পৌঁছানো, আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আসামিদের সময়মতো আদালতে উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার তদন্তে গতি:

 

কনফারেন্সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, ঢাকা জেলা জজ আদালতে এ ধরনের মাত্র চারটি মামলা বিচারের জন্য এসেছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনানুগভাবে চার্জশিট দাখিলের জন্য জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তকালে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

 

মেডিকেল-ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়ার তাগিদ:

 

ভিকটিমদের মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রাপ্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মেডিকেল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। চিকিৎসাদানকারী চিকিৎসক বর্তমানে কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বোর্ড গঠন করে যথাযথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

হত্যা মামলায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে না আসার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দ তালিকা এবং পরবর্তীতে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

ডিজিটাল আলামত জব্দে সতর্কতার নির্দেশ:

 

ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য যথাযথভাবে জব্দ, সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস যথাযথভাবে জব্দ এবং মোবাইল ফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য ও আইএমইআই নম্বর সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি ও নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের

ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ঢাকায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যুর পর ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। লাইসেন্স না থাকা এবং স্বাস্থ্যসেবার নিয়ম অমান্য করায় জরিমানা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজার করার ৪ দিন পর এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার দুপুরে ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই।

 

লাইসেন্স না থাকা ও স্বাস্থ্যসেবার শর্ত অমান্য করায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী ক্লিনিকের মালিক সুজা উদ্দিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ক্লিনিকের রোগীদের দ্রুত নিরাপদে বের করে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

 

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে।

(more…)

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিকে সিলগালা

সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরের দুঃশাসনে দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তার দাবি, ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি টানা ছয়বার সংসদ সদস্য (এমপি) থাকলেও দেশে এ ধরনের মাদক সমস্যা, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির চিত্র ছিল না।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, শেখ হাসিনাসহ তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এমনকি প্রধান বিচারপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমামও পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ক্যান্টনমেন্টে ৬০০ পুলিশ কর্মকর্তা আশ্রয় নিয়েছেন। ৬২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। মানুষ পেলে তাদের ছিঁড়ে ফেলতো।

 

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করতে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছেন। তার দাবি, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন-চাপরাশি পর্যন্ত সবাই পালিয়ে যাচ্ছে।

 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, কিছুদিন আগে বেনজীর আহমেদের কাহিনি দেখেছেন। তিনি কত বড় চোর! বাংলাদেশের জায়গা-জমির বড় একটি অংশ নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে নিয়েছেন। বনাঞ্চল দখলে নিয়েছেন। কত জায়গায় বাড়িঘর করেছেন, তার কোনো সীমা নেই।

 

তিনি আর বলেন, এসব ঘটনার কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশে মাদক ছড়িয়েছে: স্পিকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর আয়োজন করতে যাওয়া কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

 

গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি।

 

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যেবোধের এক সমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষ্যে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি।

 

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হাতে পারে, তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়- এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

 

অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

 

এর আগে, গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

 

তারও আগে, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয় কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক পলাশ, সদস্য সচিব গোল্ডেন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজের ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শ্রমিক নেতা, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কমিটি গঠনের মূল লক্ষ্য। কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পাল, সমন্বয় হিসেবে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। নবগঠিত কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক বায়োজিত হোসেন পলাশ এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক খায়রুল আলম গোল্ডেন। কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন এ্যাড: সাব্বির আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল মজিদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ডাঃ এবারত আলী, মাহমুদুন নবী বেলাল, তারেক রহমান, আমজাদ হোসেন, আবু জাহেদ মাসুদ, মহিলা সদস্য শবনম মোস্তারী কলি, লাকী আক্তার, শ্যামলী বেগম। নবগঠিত এ আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে নওগাঁ জেলার পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক পলাশ, সদস্য সচিব গোল্ডেন 

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে আটক ১

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মোঃ আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার মোঃ আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে। র‌্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, রংপুরের সদর কোম্পানি এবং র‌্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে সেখানে অবস্থানরত আল আমিন তার গলা ধরে তাকে পুনরায় বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

এ সময় জনি ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আল আমিনও ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

 

র‌্যাব জানায়, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর আসামিরা তা সংরক্ষণ ও অন্যত্র স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহার অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান এবং পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নেন।

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর-২৮। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

 

মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩-এর একটি গোয়েন্দা দল আসামিদের অবস্থান শনাক্তে নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামি মোঃ আল আমিন গাজীপুর এলাকায় অবস্থান করছে।

 

পরে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও আইনগত প্রক্রিয়া ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে আটক ১

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের এর উদ্যোগে এক বিশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এনসিপি মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক আহমেদ এর সঞ্চালনায়

উক্ত উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

 

আজকের উঠান বৈঠক ছিলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রোগ্রাম।

এখানে মালয়েশিয়া এনসিপির বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেশ গঠনে,নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে,দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এনসিপির পরবর্তী ভাবনা ভিশন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।

 

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান দুই আলোচক সবার প্রশ্নের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা কেন এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে?

 

এই প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক বলেন—

 

“প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা গর্ববোধ করবে এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে পারবে। তারা চায়, তাদের আগামী প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে পারে।

 

প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে থাকবে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—এনসিপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সংস্কার, মৌলিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

প্রবাসীরা আরও চায়, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য রয়েছে, তার অবসান হোক। প্রবাসীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাক।

 

এই প্রত্যাশা থেকেই প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হবে—একটি নতুন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

 

ফরিদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন—

 

“প্রধানমন্ত্রীকে দশবার ‘মাননীয়’ বলতেও আমরা রাজি আছি, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন, অনিয়ম বন্ধ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে পারেন।

 

একজন প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকার কাজ হবে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তি ফি বাবদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ টেপ বল ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সারোয়ার হোসেন আকুল প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

 

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

 

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

পাশাপাশি পূর্ব চন্দ্র স্পোর্টিং ক্লাব ও গণপাঠাগারের সদস্য হওয়ার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ায় গভীর রাতে এক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

 

পরিবারসূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হাজির বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিবিহীন কষ্টিপাথরের মূর্তি, প্রাচীন আমলের সামগ্রী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সিজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার লক্ষীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ বিজিবি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি, ২২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দুটি স্ট্যাম্প এবং একটি শঙ্খ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের সামগ্রীর মোট ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

 

উদ্ধার করা সামগ্রীর সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে ৫০ বিজিবি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেকোনো তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d