থালাপতির শপথের পর অভিনেত্রী তৃষার রহস্যময় বার্তা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
থালাপতির শপথের পর অভিনেত্রী তৃষার রহস্যময় বার্তা

থালাপতির শপথের পর অভিনেত্রী তৃষার রহস্যময় বার্তা

থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানের পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান–এর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

 

সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তৃষা লেখেন, “ভালোবাসা সবসময় সোচ্চার”—সেই সঙ্গে নিজের কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে ফের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

 

গত ১০ মে চেন্নাইয়ে শপথ অনুষ্ঠানে থালাপতির সঙ্গে তার মায়ের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে বিজয়ের প্রথম ভাষণের সময় তৃষাকে আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। অনুষ্ঠানে থালাপতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই থালাপতি বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। ২০০৪ সালের ‘ঘিল্লি’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘লিও’ পর্যন্ত একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন।

 

২০২৪ সালে থালাপতির জন্মদিনে তৃষার একটি পোস্টও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে তিনি তাকে “সবচেয়ে ভালো মানুষ” বলে উল্লেখ করেছিলেন।

 

এদিকে থালাপতি বিজয় ও তার স্ত্রী সঙ্গীতা সর্ণালিঙ্গমের মধ্যে বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতিও এ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।


মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

ভারতের হরিয়ানার সোনিপতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ বিদায়ে তিন মেয়ের কেউ উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখেছেন। পরে তাদের একজন অনলাইনে পাঁচ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত ব্যক্তির নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। মুম্বাইয়ের সাবেক এই ব্যবসায়ী প্রায় দুই বছর ধরে সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী মীনা গুপ্তও তার সঙ্গে সেখানে ছিলেন। তবে তিনি আগেই মারা যান।

 

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরণ গুপ্ত মারা যান। এরপর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার তিন মেয়েকে বিষয়টি জানায়।

 

কর্তৃপক্ষের জানানোর পরও মেয়েরা কেউ সোনিপতে আসতে পারেননি। একজন ছিলেন নেপালে, একজন উত্তর প্রদেশে এবং আরেকজন মুম্বাইয়ে। তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন। পরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ গুপ্ত আশ্রমে থাকা একটি মোবাইল ফোন দিয়ে নিয়মিত মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে অসুস্থ হওয়ার পর মেয়েদের ফোন আসা অনেক কমে যায়। তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে মেয়েদেরকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা তাকে দেখতে আসেননি।

 

শিবচরণের মৃত্যুর পর আবারও মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, চাইলে তারা সোনিপতে এসে শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু তারা সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

নেপালে বসবাসকারী এবং পেশায় শিক্ষক বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে বাবার শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

শেষকৃত্য শেষে মেয়েরা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও পাঠানোর অনুরোধও করেন। ভিডিও কলে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের খেতে হবে, তারপর গোসল করতে হবে।’

 

বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, শিবচরণ গুপ্ত তার তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। বড় মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে থাকেন এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করেন। তিনজনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে থাকেন।

বাবার শেষ বিদায়ে ভিডিও কল দিয়ে মেয়ে বললেন, ‘আর কতক্ষণ লাগবে, খেতে হবে’

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে

যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।। কুয়ালালামপুরে ৫ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ হাইকমিশন,

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত “জুলাইয়ের চিঠি এবং ছাদ আকাশের গল্প” শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুটি প্রদর্শন করা হয়।

 

পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ -এর তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার জনাব মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণঅভ্যুত্থানে আহত সহ সকল অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’কে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন ।তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেন। হাইকমিশনার গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন ।

 

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যথাক্রমে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট; জনাব তালহা মাহমুদ, সহ সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট , মো: জসিম উদ্দিন, সভাপতি,যুবদল,মালয়েশিয়া ইউনিট, এস এম রহমান তনু, সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দল, মালয়েশিয়া ইউনিট, শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম,আহবায়ক, জাসাস,মালয়েশিয়া ইউনিট,মো: ইউসুফ আলী, কো-অর্ডিনেটর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম, জনাব ফয়সাল শেখ, সিনিয়র সহ সভাপতি, গণ অধিকার পরিষদ, জনাব আলম মো: রওশন, সদস্য সচিব, এনসিপি ডায়াসপোরা আলায়েন্স, জনাব আমিনুল ইসলাম রতন, প্রবাসী সাংবাদিক, সাইদুর রহমান ফরাজী, প্রধান নির্বাহী, সিবিএল মানি ট্রান্সফার এবং শিক্ষার্থী জার্জিস আলম ও আদিবা আহমেদ।

 

আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক,রিক্সাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী,গৃহবধু,নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকগণ বাংলাদেশর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহবান জানান।

 

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়র দুইজন ছাত্র সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় ।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

★ প্রারম্ভিক জীবন: এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের প্রদীপ

 

১৯৬৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার শান্ত, সবুজে মোড়া গ্রাম গ্রেদলক্ষীপুরায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক—পূর্ণ নাম আবুল খায়ের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক। পিতা মরহুম মাওলানা আব্দুল গনি এবং মাতা মরহুমা মরিয়ম খানমের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা এই শিশুটির চোখে হয়তো তখনো ধরা পড়েনি ভবিষ্যতের বিশাল ক্যানভাস, কিন্তু তাঁর ভেতরে নিঃশব্দে বেড়ে উঠছিল এক মহান শিক্ষা-সাধকের বীজ, যা কালক্রমে রূপ নেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দেওয়া এক মহীরুহে। ১৯৯৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফয়রা দরবারের প্রসিদ্ধ পীর আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের দ্বিতীয় কন্যার সাথে এই মিলন কেবল দুটি পরিবারের বন্ধনই ছিল না, বরং তা তাঁর জীবনে যুক্ত করে দেয় এক গভীর আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতাও। তাঁদের দাম্পত্য জীবন আলোকিত দুই পুত্রসন্তানে তানভীর আহমদ ও তাওকীর আহমদ, যাঁরা আজ পিতারই প্রতিষ্ঠিত দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় ইলম অর্জনে নিমগ্ন, যেন বাবার স্বপ্নের এক জীবন্ত ধারাবাহিকতা।

 

★ শিক্ষাজীবন: প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে

 

তাঁর শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু হয় নিজ গ্রামের গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ বেঞ্চিতে বসে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পা রাখেন রহমতপুর আলিম মাদরাসায়, যেখানে এক বছর অধ্যয়নের পর তিনি ভর্তি হন উত্তর তালগাছিয়া ফাযিল মাদরাসায়, সপ্তম শ্রেণিতে। সপ্তম শ্রেণি সমাপনান্তে তাঁর জীবনে আসে এক মোড়-ঘোরানো, নিয়তি-নির্ধারক অধ্যায় তিনি প্রবেশ করেন বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা, আল্লামা শাহ নেছারউদ্দীন আহমদ প্রতিষ্ঠিত ছারছিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসায়, ইলমে দ্বীনের সেই শ্রেষ্ঠ মারকাযে। সেখানেই ধাপে ধাপে তিনি ১৯৮৩ সালে দাখিল, ১৯৮৫ সালে আলিম, ১৯৮৭ সালে ফাযিল কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করেন, আর ১৯৮৯ সালে কামিল হাদীস পরীক্ষায় অর্জন করেন প্রথম বিভাগের গৌরব।

 

ইলম অর্জনের এই অক্লান্ত তৃষ্ণা তাঁকে থামতে দেয়নি সেখানেই। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধ্যয়ন করেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। এভাবেই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাশিক্ষার গভীরতা আর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়িক জ্ঞানের বিস্তৃতি একত্র হয়ে গড়ে তোলে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক বিরল, সুসমন্বিত রূপ, যা পরবর্তীতে তাঁকে সাহায্য করবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সুনিপুণ ভারসাম্যে গড়ে তুলতে।

 

এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় যাঁদের হাতের স্পর্শ তাঁকে গড়ে তুলেছে, সেই তালিকা দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল—আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী, শরীফ মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব খান, মুফতী আ.ম.ম আহমাদুল্লাহ, মুফতী মুহা: মুস্তফা হামীদি, মাওলানা মুহা: আমজাদ হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল করীম, ছুফি মাওলানা আব্দুর রশিদ, মাওলানা রুহুল আমিন ফরায়েজি, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার ছালেহী, ড. আ. র. ম. আলী হায়দার মুর্শেদী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আনসার উদ্দীন এবং ড. আ.ন.ম. রইস উদ্দীনের মতো বরেণ্য আলেম ও শিক্ষাবিদগণ। আধ্যাত্মিক পথের সন্ধানে তিনি সম্পৃক্ত হন বাংলার হক দরবার ছারছিনার সাথে, যা তাঁর জ্ঞানসাধনায় যোগ করে দেয় হৃদয়ের গভীরতা।

 

★ কর্মজীবন: এক মক্তব থেকে বিশ্বমানের ইলমি মারকায

 

কামিল সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি যোগ দেন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বে—ডেমরার শুকুরশী গোরস্থান সংলগ্ন আজকের ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান হিসেবে। সেই থেকে যে অক্লান্ত, নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শুরু, তা আজও থামেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা ছিল নিতান্তই বিনম্র, প্রায় অদৃশ্য এক সূচনাবিন্দু থেকে। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে পার্শ্ববর্তী হুসাইনিয়া জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্জ মৌলভী নূরুল হক সাহেবের হাতে পরিচালিত একটি ক্ষুদ্র মক্তব এখানে স্থানান্তরিত হয়ে শুরু করে একাডেমিক কার্যক্রম। ১৯৯০-৯১ সালে দুই বছর চলে কেবল ইবতেদায়ী স্তর, আর এই স্বল্প সময়েই পরিবর্তন হয় তিনজন ইবতেদায়ী প্রধান। অবশেষে ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, মাত্র সাতশো টাকা বেতনে ইবতেদায়ী প্রধান হিসেবে দারুননাজাতের খেদমতে শরীক হন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক আর সেই দিনটিই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্য চিরতরে বদলে দেওয়া এক টার্নিং পয়েন্ট।

 

আল্লাহর রহমতের ওপর অবিচল ভরসা রেখে তিনি ১৯৯২ সালে মাত্র এগারো জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেন দাখিল স্তরের কার্যক্রম দশম শ্রেণিতে একজন, নবম শ্রেণিতে একজন, অষ্টম শ্রেণিতে তিনজন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ছয়জন। এই ক্ষুদ্র বীজ থেকেই ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় এক বিশাল মহীরুহ। সর্বসাধারণের আস্থা ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে উন্নীত হয় ১৯৯৪ সালে আলিম, ১৯৯৬ সালে ফাযিল এবং ২০০৪ সালে কামিল পর্যায়ে, লাভ করে মাদরাসা বোর্ডের একাডেমিক অনুমতি, মঞ্জুরি এবং ফাযিল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ। এরপর একের পর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে থাকে ২০১০ সালে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ও আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স কোর্স, ২০০৪ সালে কামিল হাদিস, ২০১৬ সালে ফিকহ, ২০১৭ সালে কামিল মাস্টার্স এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাফসির বিভাগ।

 

★ ফলাফলের ধারাবাহিকতা: এক যুগ নিরবচ্ছিন্ন শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস

 

তবে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রকৃত পরিচয় বোধহয় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার একাডেমিক ফলাফলের ধারাবাহিকতায়। দীর্ঘ যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার ফলাফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসছে অবিচলভাবে, বছরের পর বছর, এক ধরনের বিরল ধারাবাহিকতায় যা কোনো সাময়িক সাফল্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গেঁথে থাকা এক নিরলস শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার ফলাফল। এই ধারাবাহিক কৃতিত্বের কারণেই আজ সারা বাংলাদেশে দারুননাজাত পরিচিত ও আলোচিত এক নাম, যার ফলাফল প্রকাশের দিনে দেশের মাদরাসাশিক্ষা অঙ্গনের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে এই প্রতিষ্ঠানের দিকেই।

 

এই দীর্ঘ পরিশ্রমেরই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসাকে “সেরা প্রতিষ্ঠান” হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক স্বয়ং এই সম্মাননা তুলে দেন অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের হাতে এক আবেগঘন মুহূর্ত, যা যেন প্রতিফলিত করে তিন দশকেরও বেশি সময়ের নিরলস শ্রম, ত্যাগ ও প্রতিশ্রুতির যথার্থ প্রতিদান। সেই সাতশো টাকা বেতনের ইবতেদায়ী প্রধান থেকে আজকের এই জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পর্যন্ত এই যাত্রাপথ যেন একটি জাতির শিক্ষা-ইতিহাসেরই এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

 

আজ সেই দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা প্রায় বারো হাজারেরও অধিক ইলমপিপাসু শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত, বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত এক সম্মানিত ইলমি মারকায হিসেবে। অসংখ্য প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি কখনো ছাড়েননি নিজ হাতে দরস দেওয়ার অভ্যাস আজও তিনি নিয়মিত পড়ান সহীহ বুখারী ও জামে তিরমিযীর দরস, যেন প্রমাণ করেন, প্রকৃত শিক্ষক কখনো কেবল প্রশাসক হয়ে ওঠেন না, তিনি থেকে যান চিরকাল একজন শিক্ষকই।

 

★ ছাত্রদের সাফল্য: শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয়

 

একজন শিক্ষকের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর ছাত্রদের অর্জনে, আর এই মানদণ্ডে আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের সাফল্য এক বিস্ময়কর ভাষ্য। তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় নিমগ্ন বিশ্বখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইলমের কাবা খ্যাত মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন করিডরে, সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে, ইরাকের কারবালা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারেও আজ শোভা পাচ্ছেন তাঁরই সন্তানতুল্য ছাত্ররা। শুধু ইলমে দ্বীনের অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁদের পরিচয়—তাঁর ছাত্ররা আজ ছড়িয়ে আছেন দায়ী, লেখক, গবেষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ বহু মর্যাদাপূর্ণ পেশায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেখে চলেছেন নিজেদের স্বতন্ত্র, উজ্জ্বল স্বাক্ষর।

 

এই বিস্ময়কর সাফল্যের রহস্য কী, জানতে চাইলে তিনি নিজেই এক গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেন ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক চিরদিনের, এই বন্ধন কোনো ক্লাসরুমের চার দেয়ালে বা সময়ের সীমানায় বাঁধা নয়, বরং তা এক আজীবনের আত্মিক সংযোগ। ছাত্রদের কীভাবে সফলতার সোনালি ছোঁয়া দিতে হয়, তা তিনি কেবল কথায় নয়, নিজের প্রতিটি কর্মে বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আর তাই তাঁর ভাষায় ফুটে ওঠে এক গভীর শিক্ষা-উপলব্ধি ছাত্রের সফলতাই শিক্ষকের দৃষ্টির প্রকৃত ঠিকানা।

 

★ প্রকাশিত গ্রন্থাবলি: কালির আঁচড়ে ধারণ করা এক জীবনদর্শন

 

লেখনীর জগতেও তাঁর পদচারণা কম উজ্জ্বল নয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানীর জীবনী এবং চার খণ্ডে বিন্যস্ত জীবনের পাথেয় সিরিজ (১-২, ৩ ও ৪) যেখানে তিনি ধারণ করেছেন নিজের চিন্তা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির নির্যাস।

 

এক নিভৃত গ্রামের মক্তব থেকে শুরু হওয়া একটি যাত্রা আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বদরবারের প্রতিটি কোণে আল-আজহারের প্রাচীন গম্বুজ থেকে মদিনার পবিত্র চত্বর পর্যন্ত, জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা মঞ্চ থেকে দেশের প্রতিটি জেলার আলোচিত ফলাফল-তালিকা পর্যন্ত। আর এই বিশাল যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে অবিচল দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানুষ, যিনি বিশ্বাস করেন একজন শিক্ষকের জীবন সার্থক তখনই, যখন তাঁর প্রতিষ্ঠান আর তাঁর ছাত্ররা তাঁর চেয়েও দূরে, তাঁর চেয়েও উঁচুতে পৌঁছাতে পারেন। আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের জীবন তাই কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্যগাথা নয়, বরং তা এক জাতির শিক্ষা-ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য, স্থায়ী অধ্যায়।

 

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া যাবে। ”

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ হাইকমিশনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আরো যা বললেন..

 

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

 

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) বেলা ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

 

মাহদী আমিন আরও বলেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ায় ফের শ্রমবাজার খুললো। শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদ মন্ত্রী আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

 

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিক ভাই-বোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।

 

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাই কমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি যেন প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ইশতেহারেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সবসময় একটি প্রবাসীবান্ধব দল হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থ, আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।

 

মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

 

দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

 

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

 

জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।

 

এর আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

 

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে মালয়েশিয়ায় এই শ্রমবাজারের সূচনা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সাথে এই বাজারের একটি গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহদী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।

 

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পূর্বের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সাথে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।

 

গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিল দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।

 

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন শুরু হতে পারে।

 

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামিকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে মন্ত্রী-উপদেষ্টার।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়া যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি

পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদা

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান। প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গরুর ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease-FMD) এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ (Peste des Petits Ruminants-PPR) প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর হাটখোলায় Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে Local Development Agriculture and Research Society (LEDARS)। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN)।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় খামারিদের তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে FMD ও PPR টিকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রয়োগের গুরুত্ব, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৈখালী ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব শাহীনুর রহমান, এআইটি অনিমেষ পরামান্য, ভ্যাকসিনেটর সিকান্দার, ইউনিয়ন MSP কমিটির সদস্য জনাব দিপক কুমার মন্ডল, যাদবপুর জলবায়ু সহনশীল দলের সভাপতি তাছলিমা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া CALL প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব সুব্রত কুমার গাইন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করেন CALL প্রকল্পের মাঠ সহায়ক মোঃ কানিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষুরা রোগ (FMD) ও পিপিআর (PPR) প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম ক্ষতিকর সংক্রামক রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। এতে খামারিরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে টিকাদান করা এসব রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণিসম্পদের রোগঝুঁকি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় CALL প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে খামারিদের বিনামূল্যে টিকাদান, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এম এ হাকিম সবুজের বিরুদ্ধে সাজা হয়। ওই মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, এম এ হাকিম সবুজের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

 

তবে মামলার বিস্তারিত ধারা, আদালতের রায়ের তারিখ এবং সাজার মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি যাচাই করে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে নাঈম (২৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা আটক হয়েছেন। আটকের আগে ওই যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশীসহ তিনজন আহত হন।

 

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক নাঈম একই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দস্যুতার সময় স্থানীয়রা নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে ছু/রি/কাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়েকে জখম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সোহাগ মিয়া। শুনানি শেষে শেরপুর সদর সিআর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে মোছা. লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানের জন্ম হয়।

 

লাকী আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের যৌতুক দেওয়ার পরও সোহাগ মিয়া আরও যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন। গত ২৪ জুন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে লাকী আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন সোহাগ মিয়া।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুন স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫-এর ১১(গ) ধারায় মামলা করেন লাকী আক্তার। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যৌতুক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ সদস্য কারাগারে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিএমপি সদর দপ্তরে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

 

জুলাই-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় স্থান বাড্ডা থানা।

 

অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম।

 

শ্রেষ্ঠ এসআই প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।

 

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম পিপিএম-সেবা।

 

আরও পড়ুন: সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

 

ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।

 

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো কাজের স্বীকৃতিতে ডিএমপির কর্মকর্তাদের পুরস্কার

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d