নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার বাস্তবায়নে ইউএন উইমেনের আরও ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে দেশে নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণসহ নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

 

ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস নারীর ক্ষমতায়নে ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভিনন্দন জানান এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইউএন উইমেনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

এছাড়াও, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।


কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়া।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন।

 

প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

 

এই সফরের পেছনে সরকারের বড়ো একটা স্ট্রেটেজি রয়েছে, যে বিষয়ে গতকালকে মালেশিয়ার শীর্ষ গণমাধ্যম দ্য এইজ মালেশিয়া একটা বিগ স্টোরি করেছে।

 

মালেশিয়াতে এস আলমের সকল সম্পত্তির ওপর নজরদারি করছে সরকার। মালেশিয়ার পত্রিকার ওই রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, এস আলম সংশ্লিষ্ট দুই হোটেলের দিকে নজর সরকারের। একটা ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর আরেকটি রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার। দুটোতেই আছে অন্তত দেড়শো কোটি টাকার বিনিয়োগ। তারেক রহমান এগুলো জব্দের জন্য ট্রাই করতেছেন। সেদিকে নজর তার সরকারের।

 

মালেশিয়াতে এস আলমের সাম্রাজ্য ঘিরে তদন্ত চলতেছে। দ্য এইজ মালেশিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত মালেশিয়াতেই এস আলমের প্রকাশ্যে সম্পত্তি বেশি।

 

দুই দিনের সফরে ২য় দিন তারেক রহমান এবং মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ওয়ান-টু-ওয়ান একটা বৈঠক করবেন।

 

বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা এবং এক্সটেন্ড করা। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য কিছু বিষয় সমঝোতা চুক্তি হবে এবং অভিবাসন নিয়েও চুক্তি হবে।

 

বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উঠে আসা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের ঋণে অবব্ধ হওয়া, কাজ না পাওয়া, ফোর্সড লেবার এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ সহ অবৈধদের বৈধতার বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচনা করার অহ্বান মালয়েশিয়া প্রবাসীদের।

 

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বিশাল শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। তাই এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে:

শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা

নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি

রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রবাসী কল্যাণে নতুন দ্বার উন্মোচন

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে এই সফর ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে- মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি।

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে ১৯০ টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ টি ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতিত্ব এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ড. খলিলুর রহমান।

 

এবারের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসলো বাংলাদেশ।

 

এর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ হাজি দেশে পৌঁছেছেন। এদিকে চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহণ করেছে।

 

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

 

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

 

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

 

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

 

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

 

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

 

হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বসবাসের ক্ষেত্র পরিধি দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। তবুও মানুষের জীবনের পথ চলায় অতীত স্মৃতিগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। অতীত স্মৃতিগুলোকে জীবনের সঙ্গী করেই মানুষের পথচলা সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধময় হয়ে ওঠে। সাতক্ষীরায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর খুবই জনপ্রিয়। পরিবারের পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতার বংশ পরম্পরায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বর্তমানে তুলনামূলক খুব কমই মাটির ঘরে বসবাস করে। তবে এখনো সাতক্ষীরা জেলার কিছু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু কিছু মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করছে। মাটির ঘরে বসবাসরত এমন পরিবার বর্তমান সময়ে খুব কমই চোখে পড়ে।

সাতক্ষীরায় কিছু মানুষ এখনো মাটির ঘরে বসবাস করছেন পরিবারের স্মৃতি আঁকরে ধরে। তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির ঘরে বসবাস করছেন এ সংখ্যা খুবই কম। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের পূর্বপুরুষগণ মাটির ঘরেই বসবাস করতো। মাটির ঘর মূলত গ্রামের মানুষের কাছে ‘কোঠা ঘর’ নামেই বেশ প্রচলিত ছিল। মাটির ঘরেই কেটে গেছে রহিমা খাতুনের প্রায় এক জীবন। এখনো স্বামীর রেখে যাওয়া সেই মাটির ঘরই তার জগৎ। তার সাজানো গোছানো সংসারের সবকিছুর মধ্যে মাটির ঘরটিই যেনো তার কাছে শান্তিনীড়। রহিমা খাতুনের (৬৮) ভাষ্য মতে, প্রায় ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মাটির ঘরে বসবাস করছেন। এই মাটির ঘরটিই তার সুখ দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু।

ঠিক একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে সাতক্ষীরায় কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মুড়াগাছায় গ্রামের সেলিনা বেগমের (৬০) সারা জীবন ধরেই মাটির ঘরে বসবাস করে আসছে। এখনো তিনি তার জীবনের শেষ সময়টুকু মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে পার করছেন। জীবনের সকল সুখ দুঃখের আলো ছায়ার সঙ্গী যেনো এই মাটির ঘর। তার মেয়ে বলেন ‘‘মাটির ঘরটিই হলো আমার মায়ের কাছে আনন্দ বেদনার সঙ্গী।’’

কিন্তু মাটির ঘরগুলোর সেই রূপ-সৌন্দর্য খুব একটা অনুভব করা যায় না। কেউ কেউ হয়তো পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঘরগুলো এখনো রেখে দিয়েছেন। কিছু কিছু ঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো ঘরে বসবাস করছেন এখনো। তবে বেশির ভাগই ঘরই এখন পরিবারের স্বজনদের স্মৃতি অটুট রাখতে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এক সময় প্রচুর মাটির ঘর দেখতে পাওয়া যেত। তখন একমাত্র ঠিকানা ছিল মাটির ঘর। ঘরগুলো মজবুত, টেকসই ও বসবাসের উপযোগী ছিল। ঘরগুলোর পুরুত্ব ছিল অনেক। এই ঘর তৈরিতে ব্যবহার হতো তুষ, চুনা ও মাটি। মাটির সঙ্গে ভালোভাবে তুষ ও চুনাকে মিশিয়ে তারপর কাঠের তৈরি খুঁটিগুলোর উপর দিয়ে মাটি লেপে লেপে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হতো ঘর। রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক জি এম রাজু আহমেদ বলেন, ‘‘বাপ-দাদার আমল থেকেই মাটির ঘরে আমরা বসবাস করতাম। তবে বর্তমানে টিনের ঘরে বাস করি। বাপ-দাদার স্মৃতি রক্ষার্থে মাটির ঘর রেখে দিয়েছি। ভেঙ্গে নতুন ঘর দেইনি। ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মাটির ঘরে বসবাস করেছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম আমার বাবা মাটির ঘরেই বসবাস করত। তীব্র গরমের দিনে মাটির ঘর প্রচন্ড শীতল থাকে।’’ এক কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকেই দেখে আসছিবাবা-মা মাটির ঘরে বসবাস করতো। আমাদের পারিবারিক ও সংসারের সকল সুখ-দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘর। যখন ঈদের সময় ঘনিয়ে আসতো তখন আম্মা-আব্বাকে দেখতাম সম্পূর্ণ মাটির ঘরটি পুনরায় লেপে দিত। প্রতিবছরের ঈদের আনন্দের সাথে মাটির ঘরের নিখুঁত চাকচিক্যপূর্ণ অপরুপ দৃশ্য আমাদের ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তুলতো।’’

সাংবাদিক কাজী মারুফ হোসেন বলেন, ‘‘মাটির ঘর আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আগেকার দিনে যখন টিনের ঘর এবং দালান কোঠার প্রচলন ছিল না তখন মাটির ঘরেই মানুষ বসবাস করতো। আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রবাহমান জীবনের গতিধারায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হল মাটির ঘর। বর্তমানে মাটির ঘর তেমন একটা খুব চোখে না পড়লেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় মাটির ঘরেই এখনো কেউ কেউ বসবাস করছে। গ্রামাঞ্চলে মাটির ঘরে বসবাসরত মানুষের মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে জীবনের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি মিশে রয়েছে।’’

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা ব্যারেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডালিয়া- পাগলাপীর সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য মাওলানা আস্তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মোখলেছার রহমান, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল কাদিম, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংবাদিক কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের দুইজন সদস্য তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এর কয়েক ঘণ্টা পর তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সংসদে কথা উঠাতে হবে। কি কারনে উজানে ভারী বর্ষণ ছাড়াই তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ল। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্যই মামলা করতে হবে। তা না হলে ভারতকে সামলানো যাবে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধু নয়। তিনি আরো বলেন তিস্তা নদী কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই কোটি লোক উপকৃত হবে। নদী শাসন হবে, নদী সুশৃংখল হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রংপুর-বগুড়া অঞ্চলের জনপদ উপকৃত হবে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে সর্বপরি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ১৭৭/২এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ শিশু, ১১ নারী ও ৫ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়।

 

চৌকা বিওপির হাবিরদার আশরাফ আলি জানান, পুশইন ঘটনার টের পেয়ে আমরা প্রতিরোধ করি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টার দিকে ২০/২৫জন বিএসএফ আবারও তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়র তাদেরকে ধাওয়া করলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আমরা সীমান্তে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে নেমে বাবা-ছেলেসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলেন- বাবা বাবুল হাদিমা(৪৮), তার ছেলে নেইমার, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক(২৬) ও বোন জামাই গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধারের জন্য বাবুল হাদিমার ছেলে নেইমার সেপটিক ট্যাংকে নামে। কিন্তু তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার মামা রতন সাংমা সেপটিক ট্যাংকে নামেন। একইভাবে গ্রাবিয়াল এবং শেষে রতন।

 

একে একে সেপটিক ট্যাংকে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক জানান, পুরোনো সেপটিক ট্যাংকটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩