
মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত সেলিম খন্দকার।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে পুলিশ সেলিম খন্দকারকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে পরিবার জানতে পারে, পার্শ্ববর্তী এলাকার দীর্ঘদিন বিরোধে থাকা মোঃ লোকমান তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেফতারের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তির ছেলে শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়—জাতীয় যুবশক্তি ও এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার এবং ভোলা-৪ আসনের এমপি প্রার্থীর বাবাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এনসিপির নেতা মঞ্জুর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে প্রচার ও ব্যবহার করেছে।
থানায় আটকের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টির শুরু থেকেই নানা অসঙ্গতি আমাদের সন্দেহের জন্ম দেয়।
মামলার তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্টে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও অসঙ্গতি উঠে আসে বলে আমরা দাবি করছি। এছাড়া এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সময় ও তারিখের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যেরও অসামঞ্জস্য রয়েছে। আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট মেয়েটির মাদ্রাসায় উপস্থিতি এবং একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টিও নথিপত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে এবং বিভিন্ন বিষয় গোপন বা উপেক্ষা করে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগ আনা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক মুরুব্বি জানান রাজনৈতিকভাবে তাদের কে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
পরবর্তীতে মামলার ডিএনএ রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালত সেলিম খন্দকারকে জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথিপত্র ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনার সময় আদালত মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
উচ্চ আদালতের জামিন আদেশের পর গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভোলা জেলা কারাগার থেকে সেলিম খন্দকার মুক্তি লাভ করেন।
মিথ্যা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একজন মানুষকে প্রায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু বলেন এই সময়টিতে বাবা, আমাদের পরিবার ও স্বজনরা মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে অসংখ্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি।
আমরা বিশ্বাস করি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মামলাটির সম্পূর্ণ নিষ্পত্তির পর সকল নথি, তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হবে।
আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।
— শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু
সাংগঠনিক সম্পাদকঃ (বরিশাল বিভাগ)
জাতীয় যুবশক্তি – এনসিপি।
Leave a Reply