
মাদারীপুরের রাজৈরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে একের পর দুভাইকে মামলা আর অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে আপন আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুইভাই।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজৈরের টেকেরহাট আবাসিক এলাকার একটি ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত শমশের খানের ছেলে কাজেল খান ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এবং ভাই-বোন ও মায়ের কাছ থেকে ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আটটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমির মালিক হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিজের মালিকানাধীন জমির বাইরে অতিরিক্ত জমিও দাবি করছেন তিনি।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালে কাজেল তার দুই ভাই তাজেল ও ফজেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তাজেল ও ফজেলের অভিযোগ, সর্বশেষ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে তারা নিজেদের জায়গায় টিনশেড ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে কাজেলের পক্ষ থেকে পুলিশ দিয়ে তাতে বাধা দেওয়া হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তাজেল ও ফজেল। তারা জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
ভুক্তভোগী ফজেল খান বলেন, ‘কাজল যতটুকু জমি পাবে, তার থেকে বেশি ভোগ করতে চায়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না। আমরা আইনি সহায়তা চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী তাজেল খান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কয়েকবার এটি নিয়ে বসা হয়েছিল। মীমাংসার কথা বলা হলে মামলা তুলে নেয়ার কথা হয়। কিন্তু আবার শুনি মামলা চলমান। আমরা কয়েক বছর ধরে হয়রানীর শিকার হচ্ছি। এর বিচার চাই।’
অভিযুক্ত কাজেল খান বলেন, ‘আমি ৬৬.৮৪ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আমার আপন দুইভাই জোরপূর্বক আমাকে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বাধাগ্রস্ত করছে। আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছি। মামলা চলমান। নিষেধাজ্ঞা জারি করা, তারপরও তারা জোরপূর্বক আমার জায়গায় ঘর তুলছে। আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।’
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুপক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। থানায় আসলে কাগজপত্র দেখে দ্রুত একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
Leave a Reply