
সিলেটে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের তিন চাওয়া প্রশাসনের কাছে। এরমধ্যে মাদককারবারিদের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, এখানে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না। এ সময় এসএমপি কমিশনার এসব সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধ নির্মূলে আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক কেবল বাংলাদেশের ওপর নয় বরং বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ ধরা হয়েছে, যা বৈশ্বিক বিচারে সর্বনিম্ন হারের অন্যতম।
এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন এবং তারা দুদেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বন্দর বন্ধ থাকায় কাঁচামালের পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের কাছে পরিকাঠামো খাত ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে যৌথ টাস্কফোর্স ও ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সরকার স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পরিবেশ তৈরিতে তাদের দেওয়া কিছু পরামর্শ সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান।
বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি এবং এটি বিশ্বের অনেক অর্থনীতির জন্যই একটি স্বাভাবিক চিত্র। তবে অর্থনীতির আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্যের মোট পরিধি বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ভিয়েতনামের ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য আয়তনের উদাহরণ দেন, যার বিপরীতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জানান যে, এ প্রশ্নটি মূলত অর্থমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং অর্থমন্ত্রী মুদ্রাস্ফীতির সার্বিক চাপ বিবেচনায় নিয়েই নীতি নির্ধারণ করবেন বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply