সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

 

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা একটি শপথ নিলেন, আরেকটি নিলেন না। গণভোটকে তারা অস্বীকার করলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেয় তাহলে রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?

 

জামায়াতের আমির বলেন, দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সরকার আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করেছে। গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার দলিল কোথাও নেই। এবারই প্রথম বিপত্তি ঘটলো। আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, এখন তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সমাজে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবাদিক সমস্ত জায়গায় আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমরা বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের। আমরা যে প্রস্তাবনা জনগণের সামনে পেশ করবো এটার শর্ত আছে। সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা থাকলে এটা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর একাউন্টটিবিলিটি না থাকলে যে বাজেট সরকার দেবে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার জুলাই টু জুন। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা-খরা-সাইক্লোনে আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণ লুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না।

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে রাজনীতি থেকে অবসরের কথাই এক সময়ে ভেবেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখন সেই ভাবনা নাকচ।

 

দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ সেই চিন্তা সরিয়ে রেখে ‘নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকা’-র সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) নয়াদিল্লি থেকে ‘এই সময়’-কে দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

 

একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১-তে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামী লিগের কর্মীরাই ছিলেন আমার পরিবার। আজ সেই নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত। আমি কী ভাবে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাই?’

 

তিনি বলেন, ‘তরুণ নেতৃত্বের বিষয়ে আমি সর্বদাই উৎসাহী। আমাদের অনেক তরুণ নেতারা আজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে দৃঢ়তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন। এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’

 

একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, মাথা উঁচু করে খুব দ্রুত আপনি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আপনার ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতি শুরু করাটা কতটা বাস্তবসম্মত?’

 

এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি, ষড়যন্ত্রকারীরা পারেনি, আজকের বিএনপি সরকারও আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারবে না। আমার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় তো নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত।’ তার সংযোজন, ‘

 

জনগণ বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরবো।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার সিদ্ধান্ত বদলালেন পলাতক শেখ হাসিনা

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম: জামায়াত আমির

সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের বক্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কারও কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য শোনা জাতির জন্য লজ্জার।’  

 

শনিবার (৬ জুন) ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তিকে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নাহিদ বলেন, ‘তিনদিন পার হলেও সালাহ উদ্দীন আহমদ তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। সরকারের পক্ষ থেকেও এই ধরনের বক্তব্যের কোনও নিন্দা জানানো হয়নি। এজন্য আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে, সালাহ উদ্দীন আহমদের এই বক্তব্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।’

 

নাহিদ উল্লেখ করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি আপনারা বিস্তারিত জানেন, তাহলে খুশি হবো। বর্ডার কিলিং হচ্ছে— যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনও রকমের অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে, তা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।

 

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তার এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি সহজাত অধিকার। রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন দ্বারা এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জাতিসংঘের নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন নিজের বা অন্যের জীবন বাঁচানোর অন্য কোনও উপায় থাকবে না। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন‍্য কোনও অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব‍্যব্যবহারের সুযোগ নেই।’

 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে ইতোপূর্বে এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ফ‍্যাসিবাদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ভারতের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতি এবং এর পরিণতি সর্বজনবিদিত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী কোনও সরকারের এমন অবস্থান অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’

 

তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার’: নাহিদ ইসলাম

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আটক হওয়ার পর গোপনে মুক্তি পাওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে (রিমুভ) ফেলেছেন কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রোকনউজ্জামান খান (রোকন)।

 

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে কচুয়ার জরিনা বাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকন খানকে আটক করেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিৎ। কিন্তু আটকের পর তাকে ফাঁড়িতে বা আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে রহস্যজনক কারণে মাঝপথ থেকেই গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

গোপনে মুক্তি পেয়েই ছাত্রলীগ নেতা ‘Rokon Khan’ নামের নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে ‘ছোট ভাইয়ের’ চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে তিনি ছাড়া পান।

 

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকে আটকের পর পুলিশের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই নেতার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে পুলিশ ও সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগ নেতা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় পাঠানোর নাম করে মাঝপথের রাজারহাটে এনে ছেড়ে দেন এই এএসআই বিশ্বজিৎ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

এ বিষয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিশ্বজিৎ বলেন, ‘একটি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য আমরা জরিনাবাজারে গিয়েছিলাম। রোকনুজ্জামান খানকে হেফাজতে নিয়ে তার ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওয়ারেন্টে থাকা আসামির পিতার নামের সাথে তার পিতার নামের মিল না থাকায় আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ খানের শরণাপন্ন হই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা যাকে খুঁজছি এই রোকন সেই ব্যক্তি নন। ভুল ভাঙার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের সময় আমি জানতাম না যে রোকনুজ্জামান রোকন একজন ছাত্রলীগ নেতা, তাকে আমি আগে থেকে চিনতামও না। পরে শুনেছি তিনি নাকি এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমিও এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’

আটকের পরেই মুক্তি—পুলিশ কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সস্তায় ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত এক চীনা নাগরিকের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে এক ব্যক্তি চীনে বহুতল ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর পর জানতে পারেন, ভবনটিতে আছেই মাত্র ৩২টি তলা। অর্থাৎ যে ফ্ল্যাটের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছিলেন ওই ব্যক্তি, বাস্তবে সেটির কোনও অস্তিত্বই নেই। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও ফ্ল্যাট পাননি, ফেরত পাননি অর্থও।

 

 

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেন পদবির ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শি’আনের কাছাকাছি একটি গ্রামে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, তিনি তথাকথিত ‘গ্রে মার্কেট’ আবাসন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

 

শেন ৯০ বর্গমিটার আয়তনের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এবং সেটি ভবনের ৩৪তম তলায় থাকার কথা। প্রতি বর্গমিটারের দাম ছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান, যা ওই এলাকার গড় বাজারদরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এত কম দামের কারণ ছিল প্রকল্পটির তথাকথিত ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ বা ‘লিমিটেড প্রোপার্টি রাইটস’ মর্যাদা।

 

অর্থাৎ এটি এমন এক ধরনের আবাসন ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রীয় নগর জমির পরিবর্তে গ্রামীণ সমষ্টিগত মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়। এসব প্রকল্প সাধারণত প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয় এবং নিয়মিত আবাসন প্রকল্পের মতো আইনি সুরক্ষা পায় না। এগুলো আইনিভাবে পুনরায় বিক্রি করাও যায় না এবং চীনের সম্পত্তি আইনে তা স্বীকৃতও নয়। তবে কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এখনও এসব প্রকল্পে আগ্রহ দেখান।

 

 

২০১৩ সালে শেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করেন। তার দাবি, প্রকল্পের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছিল যে পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদ সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পে সাধারণত সেই আইনি নথি পাওয়া সম্ভব হয় না।

 

 

ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যায়। ২০১৭ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, নির্মিত ভবনটিতে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। ফলে তিনি যে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেটি বাস্তবে নেই।

 

প্রথমে কোম্পানিটি তাকে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাট দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। দুই মাস পর সেই ফ্ল্যাটও অন্য এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। অন্যদিকে ফ্ল্যাট না পেয়ে শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানান। তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুরো অর্থ ফেরত দিতে পারবে না।

 

 

২০২০ সালে তিনি ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। এরপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি সালিসি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তার ডাউন পেমেন্টের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। এর সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদও পরিশোধ করতে বলা হয়।

 

 

রায়ে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন ওই বকেয়া অর্থ পাননি।

 

মূলত ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পরও শেন এখনও থাকার জায়গা পাননি এবং সম্পূর্ণ অর্থও ফেরত পাননি। ঘটনাটি চীনে আবারও কম দামের কিন্তু আইনি সুরক্ষাবিহীন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে ক্রেতা জানলেন ভবনই ৩২ তলা

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পতত্যাগের দাবিতে আজ নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

ইসলামী ব্যাংকের সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলমের অপসারণ ও গ্রাহকদের উপর পুলিশ হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার

(৯ জুন) সকাল ১১ টায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার সদস্য ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের যুগ্ন আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব আরিফ আল মামুন, সদস্য মাওলানা নাজমুল হুদা, নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন ইসলামী ব্যাংকের

শতশত গ্রাহক মরতে রাজি আছে, কিন্তু ব্যাংক লুটেরাদের হাতে গ্রাহকদের আমানত তুলে দিতে রাজি নয়। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ফ্যাসিবাদের দোসর খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পতত্যাগের দাবিতে আজ নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি 

কাশিমপুরে অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর ।

 

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর বাগবাড়ি এলাকার আলোচিত মতিন অপহরণের ঘটনায় ৩ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা এস.কে রানা ওরফে সোহেল রানাকে আটক করছে থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ দুপুরের দিকে মহানগরীর সুরাবাড়ি এলাকা থেকে মতিন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে সারদাগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করে অপহরণ চক্রটি। পরে চক্রর সদস্যরা অপহৃত মতিনকে মুক্তির বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে মুঠোফোনে ফোন দেয়।

এসময় অপর এক মামলার আসামীকে আটকের উদ্দেশ্যে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মোঃ খালিদ হোসেন একই এলাকায় গেলে নির্জন স্থানে প্রাইভেটকার ও অপহরণকারীদের দেখে সন্দেহ হলে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। পরে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, অপহরণকারী চক্রটি ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিবে বলে পরিবারকে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। কিন্তু থানা পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের হলে এজাহারভুক্ত আসামী ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল দেওয়ানকে আটক করে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

সোমবার (৮ জুন) একই ঘটনায় ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস.কে রানা ওরফে সোহেল রানাকে হাতীমারার বর্ষাডাঙা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মোঃ খালিদ হোসেন জানান, অপহরণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল রানা সহ অপর দুটি মামলায় আরও দুইজন আসামীকে আটক করে আজ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কাশিমপুরে অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক চাকরিজীবীর বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতির পর গৃহকর্তার স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণির মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনতার যৌথ অভিযানে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

গত সোমবার (৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। এরপর ঘরে থাকা মা ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

 

পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা জানান— আমার বোন ও ভাগ্নিকে পাশবিক অত্যাচার করেছে ডাকাতদল। বর্তমানে ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

 

ঘটনার পর চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন, মাতামুহুরী উপজেলার ডলুনিঘোনা এলাকার রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও তাঁর ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), সাহারবিল ইউনিয়নের কদ্দাছড়া এলাকার মেহেদী হাসান (২৪) এবং কোরালখালী এলাকার মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন এবং মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে একই রাতে ১টার দিকে উপজেলার কদ্দার ছড়া এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতেও হানা দেয় ডাকাত দল। সেখান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

এর আগে ঈদুল আজহার আগের দিন অলির বাপের পাড়ায় জনৈক চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি এবং পরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ‘গ্রিল-কাটা’ ডাকাত চক্র তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একের পর এক চুরি, ডাকাতি ও সর্বশেষ পাশবিক ধর্ষণের এই ঘটনায় পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ডাকাতির পর মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, সেবার মানোন্নয়নে দিলেন নির্দেশনা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি দুটি থানার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার থানার বিভিন্ন শাখার দাপ্তরিক কার্যক্রম, নথিপত্র ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এ সময় তিনি থানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং সেবার মান উন্নয়নে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সুপারের এ ধরনের পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কাজে আরও উৎসাহিত করবে এবং থানার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, সেবার মানোন্নয়নে দিলেন নির্দেশনা

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বিদ্যমান সব ৩১ ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

স্বাস্থ্য খাতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিগত সপ্তাহের মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।

 

সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু রয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বাড়াতে এর বাইরে থাকা দেশের বাকি সব ৩১ শয্যা ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার।

 

তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো তৈরি করা হবে। গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

দেশের ডেঙ্গু রোগজনিত পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৭ জুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চিকিৎসকদের নিয়ে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বাইরে দেশের বাকি সাতটি বিভাগে এবং সবগুলো জেলায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

 

ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের গ্রিড ব্যবস্থা আধুনিকায়নের সমীক্ষা চলছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়েছে। লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যহার স্থগিত রেখে পূর্বের দাম বহাল রাখা হয়েছে।

 

উপদেষ্টা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলে দেশের ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সারা দেশে ১ হাজার ১০০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচিতে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি চলছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এছাড়া দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবারের ঈদুল আজহার শতভাগ চাহিদা পূরণ হয়েছে।

সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে সরকার

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ যুবকদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ১১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম শিফটের শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফ (১৭)। সোমবার (৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেকের ছেলে।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পরদিন ২৯ মে বিকেল চারটার দিকে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন সাইফ। এ সময় নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০), স্বপন (২১) ও আরমান (২০) নামের কয়েকজন যুবক সেখানে ছবি তোলার জন্য তাকে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। সাইফ এতে রাজি না হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

 

একপর্যায়ে ওই যুবকরা সাইফকে মারধর করেন। পরে মোবাইল ফোনে আরও ১০-১৫ জনকে ডেকে এনে দেশি অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা সাইফকে মারধরের পাশাপাশি রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সাইফের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনায় গত ৬ জুন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

 

শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুর ঘটনায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে হামলা, ১১ দিন পর পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

সাভারের ছায়াবিথি এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রিয়া মনি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলামের স্ত্রী।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত রিয়া মনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের ছায়াবিথি এলাকার ওই ফ্ল্যাটে রনি ইসলাম ও তার স্ত্রী রিয়া মনি ভাড়া থাকতেন। গত কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াকে হত্যার পর ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে রনি ইসলাম পালিয়ে যান।

 

নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর থেকে রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি রিয়াকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনোভাবে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে তাদের দাবি।

 

তিনি জানান, ঘটনার পর রনি তার মাকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন।

 

নিহতের নানি জাহানারা বেগম জানান, রিয়ার বাবা ও মা দুজনেই প্রবাসে থাকেন। তাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপ পরিদর্শক রমজান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d