কলকাতার হোটেলে আগুন: আজ দেশে আসছে ৬ মরদেহ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কলকাতার হোটেলে আগুন: আজ দেশে আসছে ৬ মরদেহ

কলকাতার হোটেলে আগুন: আজ দেশে আসছে ৬ মরদেহ

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে ফিরছে। প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

 

অন্যদিকে, নিহত আরেক বাংলাদেশি নাগরিক রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের আবেদনের পর কলকাতাতেই সৎকার করা হবে।

 

বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ সংরক্ষণ থেকে দেশে পাঠানো পর্যন্ত সব ব্যয় তারা বহন করছে। এ কারণে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘরে রাখা হয়।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, তাদের সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং মো. আকরাম আলীর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এ ছাড়া সাভারের আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এসএম আলিমুজ্জামানের মরদেহও ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে যান। শুক্রবার রাতেই বাংলাদেশ মিশন এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ইস্যু করে।

 

উপহাইকমিশন জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, সরকারি অনুমতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহগুলো যত দ্রুত সম্ভব স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

 

অর্থের অভাবে যখন তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণ হাজংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিবারণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিবারণ হাজং। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

নিবারণের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একদিকে শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

 

রোববার রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু চিকিৎসা করানোতেই নয়, নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা, গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

অগ্নিদগ্ধ নিবারণ হাজংয়ের পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

ভারতের হরিয়ানার সোনিপতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ বিদায়ে তিন মেয়ের কেউ উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখেছেন। পরে তাদের একজন অনলাইনে পাঁচ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত ব্যক্তির নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। মুম্বাইয়ের সাবেক এই ব্যবসায়ী প্রায় দুই বছর ধরে সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী মীনা গুপ্তও তার সঙ্গে সেখানে ছিলেন। তবে তিনি আগেই মারা যান।

 

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরণ গুপ্ত মারা যান। এরপর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার তিন মেয়েকে বিষয়টি জানায়।

 

কর্তৃপক্ষের জানানোর পরও মেয়েরা কেউ সোনিপতে আসতে পারেননি। একজন ছিলেন নেপালে, একজন উত্তর প্রদেশে এবং আরেকজন মুম্বাইয়ে। তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন। পরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ গুপ্ত আশ্রমে থাকা একটি মোবাইল ফোন দিয়ে নিয়মিত মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে অসুস্থ হওয়ার পর মেয়েদের ফোন আসা অনেক কমে যায়। তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে মেয়েদেরকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা তাকে দেখতে আসেননি।

 

শিবচরণের মৃত্যুর পর আবারও মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, চাইলে তারা সোনিপতে এসে শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু তারা সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

নেপালে বসবাসকারী এবং পেশায় শিক্ষক বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে বাবার শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

শেষকৃত্য শেষে মেয়েরা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও পাঠানোর অনুরোধও করেন। ভিডিও কলে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের খেতে হবে, তারপর গোসল করতে হবে।’

 

বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, শিবচরণ গুপ্ত তার তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। বড় মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে থাকেন এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করেন। তিনজনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে থাকেন।

বাবার শেষ বিদায়ে ভিডিও কল দিয়ে মেয়ে বললেন, ‘আর কতক্ষণ লাগবে, খেতে হবে’

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে

যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।। কুয়ালালামপুরে ৫ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ হাইকমিশন,

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত “জুলাইয়ের চিঠি এবং ছাদ আকাশের গল্প” শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুটি প্রদর্শন করা হয়।

 

পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ -এর তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার জনাব মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণঅভ্যুত্থানে আহত সহ সকল অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’কে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন ।তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেন। হাইকমিশনার গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন ।

 

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যথাক্রমে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট; জনাব তালহা মাহমুদ, সহ সভাপতি, বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিট , মো: জসিম উদ্দিন, সভাপতি,যুবদল,মালয়েশিয়া ইউনিট, এস এম রহমান তনু, সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দল, মালয়েশিয়া ইউনিট, শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম,আহবায়ক, জাসাস,মালয়েশিয়া ইউনিট,মো: ইউসুফ আলী, কো-অর্ডিনেটর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম, জনাব ফয়সাল শেখ, সিনিয়র সহ সভাপতি, গণ অধিকার পরিষদ, জনাব আলম মো: রওশন, সদস্য সচিব, এনসিপি ডায়াসপোরা আলায়েন্স, জনাব আমিনুল ইসলাম রতন, প্রবাসী সাংবাদিক, সাইদুর রহমান ফরাজী, প্রধান নির্বাহী, সিবিএল মানি ট্রান্সফার এবং শিক্ষার্থী জার্জিস আলম ও আদিবা আহমেদ।

 

আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক,রিক্সাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী,গৃহবধু,নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকগণ বাংলাদেশর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহবান জানান।

 

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়র দুইজন ছাত্র সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় ।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

★ প্রারম্ভিক জীবন: এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের প্রদীপ

 

১৯৬৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার শান্ত, সবুজে মোড়া গ্রাম গ্রেদলক্ষীপুরায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক—পূর্ণ নাম আবুল খায়ের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক। পিতা মরহুম মাওলানা আব্দুল গনি এবং মাতা মরহুমা মরিয়ম খানমের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা এই শিশুটির চোখে হয়তো তখনো ধরা পড়েনি ভবিষ্যতের বিশাল ক্যানভাস, কিন্তু তাঁর ভেতরে নিঃশব্দে বেড়ে উঠছিল এক মহান শিক্ষা-সাধকের বীজ, যা কালক্রমে রূপ নেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দেওয়া এক মহীরুহে। ১৯৯৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফয়রা দরবারের প্রসিদ্ধ পীর আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের দ্বিতীয় কন্যার সাথে এই মিলন কেবল দুটি পরিবারের বন্ধনই ছিল না, বরং তা তাঁর জীবনে যুক্ত করে দেয় এক গভীর আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতাও। তাঁদের দাম্পত্য জীবন আলোকিত দুই পুত্রসন্তানে তানভীর আহমদ ও তাওকীর আহমদ, যাঁরা আজ পিতারই প্রতিষ্ঠিত দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় ইলম অর্জনে নিমগ্ন, যেন বাবার স্বপ্নের এক জীবন্ত ধারাবাহিকতা।

 

★ শিক্ষাজীবন: প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে

 

তাঁর শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু হয় নিজ গ্রামের গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ বেঞ্চিতে বসে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পা রাখেন রহমতপুর আলিম মাদরাসায়, যেখানে এক বছর অধ্যয়নের পর তিনি ভর্তি হন উত্তর তালগাছিয়া ফাযিল মাদরাসায়, সপ্তম শ্রেণিতে। সপ্তম শ্রেণি সমাপনান্তে তাঁর জীবনে আসে এক মোড়-ঘোরানো, নিয়তি-নির্ধারক অধ্যায় তিনি প্রবেশ করেন বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা, আল্লামা শাহ নেছারউদ্দীন আহমদ প্রতিষ্ঠিত ছারছিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসায়, ইলমে দ্বীনের সেই শ্রেষ্ঠ মারকাযে। সেখানেই ধাপে ধাপে তিনি ১৯৮৩ সালে দাখিল, ১৯৮৫ সালে আলিম, ১৯৮৭ সালে ফাযিল কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করেন, আর ১৯৮৯ সালে কামিল হাদীস পরীক্ষায় অর্জন করেন প্রথম বিভাগের গৌরব।

 

ইলম অর্জনের এই অক্লান্ত তৃষ্ণা তাঁকে থামতে দেয়নি সেখানেই। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধ্যয়ন করেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। এভাবেই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাশিক্ষার গভীরতা আর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়িক জ্ঞানের বিস্তৃতি একত্র হয়ে গড়ে তোলে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক বিরল, সুসমন্বিত রূপ, যা পরবর্তীতে তাঁকে সাহায্য করবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সুনিপুণ ভারসাম্যে গড়ে তুলতে।

 

এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় যাঁদের হাতের স্পর্শ তাঁকে গড়ে তুলেছে, সেই তালিকা দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল—আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী, শরীফ মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব খান, মুফতী আ.ম.ম আহমাদুল্লাহ, মুফতী মুহা: মুস্তফা হামীদি, মাওলানা মুহা: আমজাদ হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল করীম, ছুফি মাওলানা আব্দুর রশিদ, মাওলানা রুহুল আমিন ফরায়েজি, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার ছালেহী, ড. আ. র. ম. আলী হায়দার মুর্শেদী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আনসার উদ্দীন এবং ড. আ.ন.ম. রইস উদ্দীনের মতো বরেণ্য আলেম ও শিক্ষাবিদগণ। আধ্যাত্মিক পথের সন্ধানে তিনি সম্পৃক্ত হন বাংলার হক দরবার ছারছিনার সাথে, যা তাঁর জ্ঞানসাধনায় যোগ করে দেয় হৃদয়ের গভীরতা।

 

★ কর্মজীবন: এক মক্তব থেকে বিশ্বমানের ইলমি মারকায

 

কামিল সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি যোগ দেন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বে—ডেমরার শুকুরশী গোরস্থান সংলগ্ন আজকের ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান হিসেবে। সেই থেকে যে অক্লান্ত, নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শুরু, তা আজও থামেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা ছিল নিতান্তই বিনম্র, প্রায় অদৃশ্য এক সূচনাবিন্দু থেকে। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে পার্শ্ববর্তী হুসাইনিয়া জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্জ মৌলভী নূরুল হক সাহেবের হাতে পরিচালিত একটি ক্ষুদ্র মক্তব এখানে স্থানান্তরিত হয়ে শুরু করে একাডেমিক কার্যক্রম। ১৯৯০-৯১ সালে দুই বছর চলে কেবল ইবতেদায়ী স্তর, আর এই স্বল্প সময়েই পরিবর্তন হয় তিনজন ইবতেদায়ী প্রধান। অবশেষে ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, মাত্র সাতশো টাকা বেতনে ইবতেদায়ী প্রধান হিসেবে দারুননাজাতের খেদমতে শরীক হন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক আর সেই দিনটিই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্য চিরতরে বদলে দেওয়া এক টার্নিং পয়েন্ট।

 

আল্লাহর রহমতের ওপর অবিচল ভরসা রেখে তিনি ১৯৯২ সালে মাত্র এগারো জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেন দাখিল স্তরের কার্যক্রম দশম শ্রেণিতে একজন, নবম শ্রেণিতে একজন, অষ্টম শ্রেণিতে তিনজন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ছয়জন। এই ক্ষুদ্র বীজ থেকেই ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় এক বিশাল মহীরুহ। সর্বসাধারণের আস্থা ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে উন্নীত হয় ১৯৯৪ সালে আলিম, ১৯৯৬ সালে ফাযিল এবং ২০০৪ সালে কামিল পর্যায়ে, লাভ করে মাদরাসা বোর্ডের একাডেমিক অনুমতি, মঞ্জুরি এবং ফাযিল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ। এরপর একের পর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে থাকে ২০১০ সালে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ও আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স কোর্স, ২০০৪ সালে কামিল হাদিস, ২০১৬ সালে ফিকহ, ২০১৭ সালে কামিল মাস্টার্স এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাফসির বিভাগ।

 

★ ফলাফলের ধারাবাহিকতা: এক যুগ নিরবচ্ছিন্ন শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস

 

তবে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রকৃত পরিচয় বোধহয় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার একাডেমিক ফলাফলের ধারাবাহিকতায়। দীর্ঘ যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার ফলাফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসছে অবিচলভাবে, বছরের পর বছর, এক ধরনের বিরল ধারাবাহিকতায় যা কোনো সাময়িক সাফল্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গেঁথে থাকা এক নিরলস শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার ফলাফল। এই ধারাবাহিক কৃতিত্বের কারণেই আজ সারা বাংলাদেশে দারুননাজাত পরিচিত ও আলোচিত এক নাম, যার ফলাফল প্রকাশের দিনে দেশের মাদরাসাশিক্ষা অঙ্গনের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে এই প্রতিষ্ঠানের দিকেই।

 

এই দীর্ঘ পরিশ্রমেরই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসাকে “সেরা প্রতিষ্ঠান” হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক স্বয়ং এই সম্মাননা তুলে দেন অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের হাতে এক আবেগঘন মুহূর্ত, যা যেন প্রতিফলিত করে তিন দশকেরও বেশি সময়ের নিরলস শ্রম, ত্যাগ ও প্রতিশ্রুতির যথার্থ প্রতিদান। সেই সাতশো টাকা বেতনের ইবতেদায়ী প্রধান থেকে আজকের এই জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পর্যন্ত এই যাত্রাপথ যেন একটি জাতির শিক্ষা-ইতিহাসেরই এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

 

আজ সেই দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা প্রায় বারো হাজারেরও অধিক ইলমপিপাসু শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত, বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত এক সম্মানিত ইলমি মারকায হিসেবে। অসংখ্য প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি কখনো ছাড়েননি নিজ হাতে দরস দেওয়ার অভ্যাস আজও তিনি নিয়মিত পড়ান সহীহ বুখারী ও জামে তিরমিযীর দরস, যেন প্রমাণ করেন, প্রকৃত শিক্ষক কখনো কেবল প্রশাসক হয়ে ওঠেন না, তিনি থেকে যান চিরকাল একজন শিক্ষকই।

 

★ ছাত্রদের সাফল্য: শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয়

 

একজন শিক্ষকের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর ছাত্রদের অর্জনে, আর এই মানদণ্ডে আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের সাফল্য এক বিস্ময়কর ভাষ্য। তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় নিমগ্ন বিশ্বখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইলমের কাবা খ্যাত মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন করিডরে, সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে, ইরাকের কারবালা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারেও আজ শোভা পাচ্ছেন তাঁরই সন্তানতুল্য ছাত্ররা। শুধু ইলমে দ্বীনের অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁদের পরিচয়—তাঁর ছাত্ররা আজ ছড়িয়ে আছেন দায়ী, লেখক, গবেষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ বহু মর্যাদাপূর্ণ পেশায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেখে চলেছেন নিজেদের স্বতন্ত্র, উজ্জ্বল স্বাক্ষর।

 

এই বিস্ময়কর সাফল্যের রহস্য কী, জানতে চাইলে তিনি নিজেই এক গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেন ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক চিরদিনের, এই বন্ধন কোনো ক্লাসরুমের চার দেয়ালে বা সময়ের সীমানায় বাঁধা নয়, বরং তা এক আজীবনের আত্মিক সংযোগ। ছাত্রদের কীভাবে সফলতার সোনালি ছোঁয়া দিতে হয়, তা তিনি কেবল কথায় নয়, নিজের প্রতিটি কর্মে বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আর তাই তাঁর ভাষায় ফুটে ওঠে এক গভীর শিক্ষা-উপলব্ধি ছাত্রের সফলতাই শিক্ষকের দৃষ্টির প্রকৃত ঠিকানা।

 

★ প্রকাশিত গ্রন্থাবলি: কালির আঁচড়ে ধারণ করা এক জীবনদর্শন

 

লেখনীর জগতেও তাঁর পদচারণা কম উজ্জ্বল নয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানীর জীবনী এবং চার খণ্ডে বিন্যস্ত জীবনের পাথেয় সিরিজ (১-২, ৩ ও ৪) যেখানে তিনি ধারণ করেছেন নিজের চিন্তা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির নির্যাস।

 

এক নিভৃত গ্রামের মক্তব থেকে শুরু হওয়া একটি যাত্রা আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বদরবারের প্রতিটি কোণে আল-আজহারের প্রাচীন গম্বুজ থেকে মদিনার পবিত্র চত্বর পর্যন্ত, জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা মঞ্চ থেকে দেশের প্রতিটি জেলার আলোচিত ফলাফল-তালিকা পর্যন্ত। আর এই বিশাল যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে অবিচল দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানুষ, যিনি বিশ্বাস করেন একজন শিক্ষকের জীবন সার্থক তখনই, যখন তাঁর প্রতিষ্ঠান আর তাঁর ছাত্ররা তাঁর চেয়েও দূরে, তাঁর চেয়েও উঁচুতে পৌঁছাতে পারেন। আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের জীবন তাই কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্যগাথা নয়, বরং তা এক জাতির শিক্ষা-ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য, স্থায়ী অধ্যায়।

 

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সিলেটে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের তিন চাওয়া প্রশাসনের কাছে। এরমধ্যে মাদককারবারিদের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

 

শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, এখানে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চাই না।

 

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না। এ সময় এসএমপি কমিশনার এসব সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধ নির্মূলে আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

 

মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক কেবল বাংলাদেশের ওপর নয় বরং বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ ধরা হয়েছে, যা বৈশ্বিক বিচারে সর্বনিম্ন হারের অন্যতম।

 

এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন এবং তারা দুদেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বন্দর বন্ধ থাকায় কাঁচামালের পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের কাছে পরিকাঠামো খাত ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে যৌথ টাস্কফোর্স ও ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সরকার স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পরিবেশ তৈরিতে তাদের দেওয়া কিছু পরামর্শ সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান।

 

বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি এবং এটি বিশ্বের অনেক অর্থনীতির জন্যই একটি স্বাভাবিক চিত্র। তবে অর্থনীতির আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্যের মোট পরিধি বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ভিয়েতনামের ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য আয়তনের উদাহরণ দেন, যার বিপরীতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জানান যে, এ প্রশ্নটি মূলত অর্থমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং অর্থমন্ত্রী মুদ্রাস্ফীতির সার্বিক চাপ বিবেচনায় নিয়েই নীতি নির্ধারণ করবেন বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।

সিলেটে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে মুক্তাদিরের তিন চাওয়া

ফরিদপুরের সালথায় ১০ থেকে ১২টি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে মুরাটিয়া, সজনকান্দা ও জুগিকান্দা গ্রামের লোকজন ওই হামলায় অংশ নেন। এতে কয়েকটি বসতঘর ও একটি মুদি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

 

জুগিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ধলেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঘরের ভেতরে যা কিছু ছিল, সব ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। মেয়েকে খাটের নিচ থেকে টেনে বের করে আনা হয়েছে। স্বামী অনেক দিন ধরে গ্রামছাড়া। আমি একা থাকি। এখন রাতে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

তিনি আরও বলেন, তাদের মুদি দোকান থেকেও টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগেও তাদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। তখন ভিডিও ধারণ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।

 

আরেক ভুক্তভোগী রওসান মাতুব্বরের স্ত্রী সখিনা বলেন, আগের একটি বিরোধের জেরে তার স্বামী বাড়িতে থাকেন না। জাহিদ নামে একজন তার স্বামীকে গালিগালাজ ও বাজারে গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন। স্বামীকে মারধরের আশঙ্কায় তাকে বাড়ির বাইরে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

সখিনা বলেন, মুরাটিয়া, সজনকান্দা ও জুগিকান্দা গ্রামের লোকজন এসে বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। আমার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। ঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেনের সঙ্গে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হেমায়েত হোসেন, জাহিদ, রফিক ও ইবাদতসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

 

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বশির মাতবরের দুটি, বাবলু মাতবরের একটি, আবুল খায়েরের একটি, ইদ্রিস মাতবরের একটি, মিজান মাতবরের একটি, আজিজুল মাতবরের একটি, রওসান মাতবরের একটি এবং তুরাপ মাতবরের একটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া মামুন মাতবরের একটি ঘর ও একটি খড়ের গাদা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেন বলেন, জাহিদ নামের একজন লোক খেলা দেখতে যাওয়ার পথে রওসানের বাড়ির সামনে মারধরের শিকার হয়। খবর পেয়ে গ্রামের কিছু লোক এসে এই কাজ করেছে। ওই দলের নেতৃত্বে আমি থাকায় আমার নাম হয়েছে। কিন্তু আমি সরাসরি এ কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

 

এ ঘটনা নিয়ে সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলুর রহমান বলেন, ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সালথায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর এলাকায় ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ সংগঠনের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

 

বক্তারা বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে বর্তমানে সম্প্রসারণ বা উন্নয়নের কোনো কাজ নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে ইতোমধ্যে এক হাজারের অধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে উজাড় করছে। সওজের বক্তব্য এবং বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের এই সুস্পষ্ট বৈপরীত্য প্রমাণ করে যে, এটি উন্নয়নমূলক কোনো প্রয়োজন নয় বরং বন বিভাগের একটি অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বৃক্ষ নিধনে মেতে উঠেছে।

 

বক্তারা বলেন, দুই বছর আগেও একইভাবে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন মানুষের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। এবার সড়ক সম্প্রসারণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে গাছ কাটা হচ্ছে।

 

অযৌক্তিকভাবে সাড়ে ৪ হাজার বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বক্তারা।

 

সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জের সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষ নিধনে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।

 

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এমডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিরা।

 

গাছগুলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছিল জানিয়ে বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় লোকজন এসব গাছের পরিচর্যা করেছেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। পরে সড়কের দুপাশে আবার গাছ লাগানো হবে।

 

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলে দুই বছর আগে গাছগুলো রক্ষা পেয়েছিল। আবার গোপনে কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এখন নির্বিচারে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ না করলে আরও বৃহৎ পরিসরে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

 

ক্যাপশন: সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন।

সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ভূল্লী উপজেলার ১ নং বড়গাঁও ইউনিয়নের কাচারি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে কাচারি বাজার যুব সংঘের উদ্দ্যোগে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টকে ঘিরে সকাল থেকেই খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকার ফুটবল দল এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।

 

খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

আয়োজকরা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি হবে এবং যুবসমাজ খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

 

টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নুর আলম বাবু, বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও স্বপ্ন গ্রুপ এর পরিচালক মামুনুর রশিদ মামুন, ছাত্রদল নেতা সুবাহান।

 

এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, খেলোয়াড় ও বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।

 

টুর্নামেন্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হয় আসিফ একাদশ (ভূল্লী) ও রানার্সআপ হয় কাচারি বাজার একাদশ।

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ভূল্লীতে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লু।

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার নাবালক ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত মা-ছেলে বর্তমানে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

ঘটনা ঘটেছে গত *২১ আগস্ট ২০২৬, রাত আনুমানিক ৮টার পর*।

 

স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, রুদ্রপুর গ্রামের মোসাম্মৎ সকিনা খাতুন স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই গ্রামের মোঃ আফজাল, পিতা- রুহুল আমিন; মোঃ হাসান, পিতা- মোঃ হবি; মোঃ হবি, পিতা- রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আরাফাত, পিতা- আনিসুর রহমান সহ ৮/১০ জনের একটি দল দেশীয় লাঠি ও রড নিয়ে সকিনার বসতঘরে প্রবেশ করে।

 

এসময় নামাজরত অবস্থায় সকিনা খাতুনের চুলের মুঠি ধরে “আমাদের মেয়ে কই” বলে চিৎকার করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মাকে বাঁচাতে ১২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা।

 

হামলাকারীরা ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, সকিনার কানের দুল ও গলার চেন লুট করে নেয়। পরে মা ও ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে টেনে হিজড়ে তাদের বাড়িতে আটকে রেখে পুনরায় নির্যাতন করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।

 

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সকিনা ও ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিল হোসেন জানান, “রোগী দুইজনই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা লাগতে পারে।

 

সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত নায়েব মনসুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

 

এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিম

 

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সহযোগিতা চান। প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফুর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু।

 

মতবিনিময় সভায় ওসি শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন কালিগঞ্জে আছি, ততদিন সর্বস্তরের মানুষ যেন নির্ভয়ে ঘুমাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করব। অযথা কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

 

ওসি বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করছেন। তবে কালিগঞ্জে এসে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য তাঁর দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সমস্যায় থানায় আসবেন। আমি তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ নিজের কর্মদক্ষতার মাধ্যমে পরিচিত হতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃক্ষ, তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়। কথায় নয়, আমি আমার কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিতে চাই।’

 

মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে ওসি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একার পক্ষে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ কালিগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সভায় সাংবাদিকরা কালিগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

 

সভায় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুর রহমান শিমুল, সিনিয়র সদস্য শেখ লুৎফর রহমান, সহসভাপতি ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, কাজী মুজাহিদ ইসলাম তরুণ, লুৎফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী আল মামুন, তথ্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম আহম্মদ উল্ল্যাহ বাচ্চু, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম ফারুক, ইশারাত আলী, শেখ নাজমুল হোসেন, আব্দুল করিম, মামুন হাসান, ফজলুল হক, আতিকুর রহমান, মাসুদ পারভেজ ক্যাপ্টেন, শিমুল হোসেন, আল নুর ইমন, শাহাদাত হোসেন, আলমগীর হোসেন, আবুল কালাম বিন আকবর, সোলায়মান মামুন, আব্দুল হামিদ, মো. শফিক, মো. আব্দুল জব্বার ও মাওলানা আব্দুল গফুরসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিময়

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত সেলিম খন্দকার।

গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে পুলিশ সেলিম খন্দকারকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে পরিবার জানতে পারে, পার্শ্ববর্তী এলাকার দীর্ঘদিন বিরোধে থাকা মোঃ লোকমান তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

 

গ্রেফতারের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তির ছেলে শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়—জাতীয় যুবশক্তি ও এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার এবং ভোলা-৪ আসনের এমপি প্রার্থীর বাবাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এনসিপির নেতা মঞ্জুর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে প্রচার ও ব্যবহার করেছে।

 

থানায় আটকের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টির শুরু থেকেই নানা অসঙ্গতি আমাদের সন্দেহের জন্ম দেয়।

 

মামলার তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্টে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও অসঙ্গতি উঠে আসে বলে আমরা দাবি করছি। এছাড়া এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সময় ও তারিখের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যেরও অসামঞ্জস্য রয়েছে। আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট মেয়েটির মাদ্রাসায় উপস্থিতি এবং একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টিও নথিপত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে এবং বিভিন্ন বিষয় গোপন বা উপেক্ষা করে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগ আনা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক মুরুব্বি জানান রাজনৈতিকভাবে তাদের কে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

 

পরবর্তীতে মামলার ডিএনএ রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালত সেলিম খন্দকারকে জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথিপত্র ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনার সময় আদালত মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

 

উচ্চ আদালতের জামিন আদেশের পর গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভোলা জেলা কারাগার থেকে সেলিম খন্দকার মুক্তি লাভ করেন।

 

মিথ্যা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একজন মানুষকে প্রায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু বলেন এই সময়টিতে বাবা, আমাদের পরিবার ও স্বজনরা মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে অসংখ্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি।

 

আমরা বিশ্বাস করি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মামলাটির সম্পূর্ণ নিষ্পত্তির পর সকল নথি, তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হবে।

 

আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।

 

— শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু

সাংগঠনিক সম্পাদকঃ (বরিশাল বিভাগ)

জাতীয় যুবশক্তি – এনসিপি।

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত সেলিম খন্দকার

মাদারীপুরের রাজৈরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে একের পর দুভাইকে মামলা আর অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে আপন আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুইভাই।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজৈরের টেকেরহাট আবাসিক এলাকার একটি ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

জানা যায়, রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত শমশের খানের ছেলে কাজেল খান ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এবং ভাই-বোন ও মায়ের কাছ থেকে ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আটটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমির মালিক হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিজের মালিকানাধীন জমির বাইরে অতিরিক্ত জমিও দাবি করছেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ২০১৯ সালে কাজেল তার দুই ভাই তাজেল ও ফজেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

তাজেল ও ফজেলের অভিযোগ, সর্বশেষ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে তারা নিজেদের জায়গায় টিনশেড ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে কাজেলের পক্ষ থেকে পুলিশ দিয়ে তাতে বাধা দেওয়া হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তাজেল ও ফজেল। তারা জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

ভুক্তভোগী ফজেল খান বলেন, ‘কাজল যতটুকু জমি পাবে, তার থেকে বেশি ভোগ করতে চায়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না। আমরা আইনি সহায়তা চাই।’

 

আরেক ভুক্তভোগী তাজেল খান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কয়েকবার এটি নিয়ে বসা হয়েছিল। মীমাংসার কথা বলা হলে মামলা তুলে নেয়ার কথা হয়। কিন্তু আবার শুনি মামলা চলমান। আমরা কয়েক বছর ধরে হয়রানীর শিকার হচ্ছি। এর বিচার চাই।’

 

অভিযুক্ত কাজেল খান বলেন, ‘আমি ৬৬.৮৪ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আমার আপন দুইভাই জোরপূর্বক আমাকে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বাধাগ্রস্ত করছে। আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছি। মামলা চলমান। নিষেধাজ্ঞা জারি করা, তারপরও তারা জোরপূর্বক আমার জায়গায় ঘর তুলছে। আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।’

 

মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুপক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। থানায় আসলে কাগজপত্র দেখে দ্রুত একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

রাজৈরে জমি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ, মামলা-হয়রানির অভিযোগ

শুক্রবার (২১ আগষ্ট) রাতে ফেনীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ মামলার বাদী আবুল কাশেম মিলন মারা গেছেন।আবুল কাশেমের জামাতা জসিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শনিবার বাদ জোহর মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় যমুনা পরিবহনের বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

ঘটনার সাত বছর পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নির্দেশ দেন।

 

আবুল কাশেম মিলনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান।

 

তিনি বলেন, আবুল কাশেম মিলন দলের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তার দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে; বাদী মারা গেলেও আইনি প্রক্রিয়ায় বা মামলা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। তবে অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, তিনি নিজের মামলার বিচার ও রায় দেখে যেতে পারলেন না।

ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার বাদী মিলন মারা গেছেন

ঝিনাইদহে মেসে বাজার করাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে কাউসার আলী (২১) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেটকে আটক করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত কাউসার আলী হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বৈঠাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউসার ও অভিযুক্ত লিখন শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি মেসে একসঙ্গে থাকতেন। সন্ধ্যায় মেসের বাজার করা নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার আলী লিখনকে থাপ্পড় দেন।

 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিখন পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে কাউসারের পিঠে আঘাত করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হলে লিখনও আহত হন।

 

পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক কাউসার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিখন বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

আটক লিখন বাড়িবাথান মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সদর উপজেলার শৈলমারী গ্রামের বাসিন্দা।

 

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিখনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মেসে বাজার করা নিয়ে বিরোধ, রুমমেটের ছু/রি/কাঘাতে প্রাণ গেল অপরজনের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d